- ঘুষ: দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট- আল কোরআনের দৃষ্টিতে কে বা কারা
এটি করে থাকে?
- ঘুষ-দুর্নীতির ভয়াবহতা ও উত্তরণের উপায়: মূল দায়িত্ব কাদের উপর?
- উপহার-উপঢৌকন-বকসিশ ইত্যাদি কখন ঘুষ হিসেবে চিহ্নিত হবে?
- সুপারিশ-তদবির?
ঘুষ-উৎকোচ (Bribery): ঘুষ অর্থ উৎকোচ। এর আরবি প্রতিশব্দ ‘রেশওয়াত’ (الرشوة)। অবৈধ সহায়তার জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিকই ঘুষ। কর্তব্যরত কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে কাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে কিছু দেওয়া ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। "রিশওয়া" শব্দটি আল কোরআনে উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে এটি আরবী অন্যান্য কিতাবে পাওয়া যায়।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কুরআনুল কারিমে অন্যায়ভাবে (ঘুষ-দুর্নীতি যে অবৈধ উপায়ে তা হোক) আয়-উপার্জন করাকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন-
|
وَلَا تَأْكُلُوا
أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ
لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ
تَعْلَمُونَ |
আর
না তোমরা তোমাদের মধ্যে অবৈধভাবে তোমাদের সম্পদ গ্রাস করবে এবং মানুষের সম্পদ থেকে
অনৈতিকভাবে কোনো অংশ গ্রাসের উদ্দেশে বিচারকদের সামনে তা নিয়ে উপস্থাপন করবে, অথচ
তোমরা জানো-আল কোরআন 2:188 (প্রজ্ঞাময় কোরআন অনুবাদ)
অন্য একটি অনুবাদ: ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারককে উৎকোচ দিও-আল কোরআন 2:188
|
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ
آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ
تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ
كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا وَمَن يَفْعَلْ
ذَٰلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا ۚ وَكَانَ ذَٰلِكَ
عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا |
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা তোমাদের মাঝে তোমাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না, তোমাদের পক্ষ থেকে পারস্পরিক কোনো সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা থাকা ছাড়া। আর তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে হত্যা কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে সীমালঙ্ঘনবশত ও অন্যায়ভাবে সেটা করবে, তাহলে অচিরেই আমরা তাকে আগুনে নিক্ষেপ করব। আর আল্লাহর পক্ষে সেটা হলো অত্যন্ত সহজ-4:29-30
তোমরা জুলুম করবে
না আর তোমরা জুলুমের শিকার হবে না- আল কোরআন 2:27
অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা এটাও এক প্রকার যুলুম। ঘুষের হারাম উপার্জন এবং এ অর্থের মাধ্যমে খাবার খাওয়া ব্যক্তির কোনো ইবাদত কবুল হয় না। ঘুষের অর্থে জাকাত, দান-সাদকাও কবুল হয় না। ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো নেক কাজ এবং দোয়াও কবুল হয় না। এমকনি হজ ও ওমরাহ পালনও কবুল হয় না। ঘুষের সম্পদ রেখে মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য এ সম্পদই জাহান্নামের অন্যতম উপকরণে পরিণত হয়। [দ্র: ৫:৪৭, ৫:৪৯, (৯:৮৪, ৯:৮০ (৩:৭৯,২:৯৯) ফাসিকদের স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোন অর্থ ব্যয় গ্রহনযোগ্যতা পাবে না- ৯:৫৩-৫৪]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা
বলেন-‘তাদের অনেককেই তুমি দেখবে পাপে, সীমালংঘনে ও অবৈধ ভক্ষণে তৎপর; তারা যা করে নিশ্চয়
তা নিকৃষ্ট-5:62
