শিশুর নাম রাখা। রবের নাযিলকৃত কিতাব আল কোরআনে এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা কিংবা তথ্য পাওয়া যায় কি? Naming the newborn baby. Is there any guidance or information about this in the book revealed by our Rab?

প্রসঙ্গ: নবজাতক-শিশুর নাম রাখা। রবের নাযিলকৃত কিতাব আল কোরআনে এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা কিংবা তথ্য পাওয়া যায় কি? 

যেহেতু আল্লাহ বলেন- আমরা কিতাবের মধ্যে (আল কোরআনে) কোন কিছু বাদ রাখি নাই-সূরা আল আনআম ৬:৩৮।  অতএব তালাশ করে দেখি মানুষের নামের প্রসঙ্গে সবার একমাত্র রবের নাযিলকৃত কিতাব থেকে আমরা কোনো  শিক্ষা, উদাহরণ খুজেঁ পাই কি-না? কারন, আমাদের রব বলেন- তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা সেটার অনুসরণ করো এবং তাঁর পরিবর্তে বহু অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না-সূরা ৭:৩ 

নাম রাখার ব্যাপারে আল কোরআনে যদিও সরাসরি কোনো বিশেষ বিধান নেই বা নামের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে আল কুরআনিল হাকীমে কিছু সাধারণ নীতি এবং মূল্যবোধ উল্লেখ করা হয়েছে, যা নামকরণের ক্ষেত্রে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ইসলামিক শিক্ষায় নামের অর্থের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নামের মাধ্যমে মানুষের পরিচয় ও গুণাবলী ফুটিয়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।  ইসলামে খারাপ বা অশ্লীল অর্থবোধক নাম রাখা উচিৎ নয় তাহোক প্রতক্ষ বা পরোক্ষ।  যেমন, এমন নাম রাখা যা আল্লাহর সাথে শিরক বা কোনো অন্যায় বা খারাপ ধারণার প্রতীক হয়। 

[দুআর জন্য অডিও/ ভিডিও পোষ্টের নিচের দিকে-] 

এখানে কিছু মূল ধারণা ও আয়াতের রেফারেন্স তুলে ধরা হলো: 

কোরআনে নামের প্রাসঙ্গিকতা ও উদাহরণ: 

১. নামের ভালো অর্থ থাকা উচিত:  নাম রাখার ক্ষেত্রে অর্থপূর্ণ ও ভালো অর্থবোধক নাম রাখার বিষয়ে ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছে। সঠিক অর্থবোধক নাম রাখার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কোরআনে নবী ও প্রিয় ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা সবসময় অর্থবহ এবং ইতিবাচক অর্থ বহন করে। 

উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া ত’য়ালা নবী ইয়াহইয়া (সালামুন আলাইহে)-এর নাম নিজেই নির্ধারণ করেছেন: 

"হে জাকারিয়া! আমরা তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। এর আগে আমরা তার জন্য এ নাম কারো রাখিনি" (সূরা মারইয়াম: ১৯:৭) 

এখানে আল্লাহর নির্দেশে নবী ইয়াহইয়া (সালামুন আলাইহে)-এর নাম রাখা হয়েছে, যা একটি অর্থবোধক এবং মহৎ নাম।

আল কোরআনে  নবী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম সাধারণত ইতিবাচক এবং মহৎ অর্থের সাথে সম্পর্কিত।


২. নবীদের এবং সৎ ব্যক্তিদের নাম রাখার গুরুত্ব/  ভালো মানুষের নাম রাখা একটি উত্তম কাজ: 

ইসলামিক শিক্ষা অনুযায়ী, নবী-রাসূলদের নাম রাখা একটি উত্তম কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে সন্তানকে একজন সৎ ও মহান ব্যক্তির নৈতিকতা এবং গুণাবলি গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। 

"আর স্মরণ কর ইব্রাহিম এবং ইসমাইলকে, যারা আমার ঘরকে (কাবা) তাওয়াফকারী এবং ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পরিচ্ছন্ন করে দিত।" (সূরা আল-বাকারা: ২:১২৫) 

এখানে আল্লাহ তাঁর নবী সালামুন আলা ইব্রাহিম এবং ইসমাইল (সালামুন আলাইহে)-এর নাম উল্লেখ করেছেন, যারা অত্যন্ত সৎ এবং আল্লাহর জন্য নিবেদিত। 

৪. বংশ পরিচয় উল্লেখ করা/ কোরআনের নির্দেশনা বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে:

"তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, সেটাই আল্লাহর কাছে অধিক সঙ্গত। তবে যদি তোমরা তাদের পিতৃপরিচয় না জানো, তাহলে দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের ভাই ও তোমাদের আপনজন। আর তোমরা যে বিষয়ে ভুল করো তার মধ্যে তোমাদের ওপর কোনো পাপ নেই, কিন্তু যা তোমাদের অন্তরসমূহ ইচ্ছাকৃতভাবে করে। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল, দয়ালু"(সূরা আহযাব: ৩৩:৫) 


  1. সন্তানের পরিচয় পিতার মাধ্যমে:
    • এই আয়াত থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায় যে সন্তানদের পরিচয় তাদের পিতার নামের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। এটি ন্যায়বিচারের একটি অংশ এবং সঠিক পরিচয় বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
    • এটি পরিবারের শৃঙ্খলা এবং বংশপরম্পরার স্বীকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 
  1. অজানা পিতার ক্ষেত্রে:
    • যদি সন্তানের পিতার পরিচয় অজানা হয়, তবে তাদের মুসলিম ভাই বা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এটি একটি বিকল্প সমাধান, যাতে কারও পরিচয় লুকানো বা বিকৃত না হয়। 
  1. অন্তরের ইচ্ছা:
    • কেউ যদি ভুলক্রমে পিতার পরিচয় প্রকাশে ভুল করে, তবে এতে কোনো গুনাহ হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা পরিচয় দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 

এই আয়াত থেকে জানা যায় যে, ইসলামে বংশ পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ এবং সন্তানের নামের সঙ্গে তার পিতার নাম উল্লেখ করা উচিত। এটি আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত এবং সমাজে পরিচয়গত স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।


৫. মায়ের নাম রাখারও বিকল্প/ মায়ের নাম যুক্ত করার বিষয়: 

কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন, পিতার নাম অজানা থাকলে, সন্তানের নাম মায়ের নামের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো: 

  • ঈসা ইবনে মরিয়ম (মরিয়মের পুত্র ঈসা):  "আর আমি মরিয়মের পুত্র ঈসা এবং তার মাকে একটি নিদর্শন বানিয়েছি..." (সূরা আল-মুমিনুন: ২৩:৫০) 

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে, পিতার নাম প্রযোজ্য না হলে মায়ের নাম ব্যবহার করা করা উচিৎ। 

সালামুন আলা মরিয়ম-এর নাম রাখা প্রসঙ্গে আল কোরআনের তথ্য ও একটি বিশেষ দুআ: 

এরপর যখন সে তাকে প্রসব করল সে বলল, হে আমার রব! … আর নিশ্চয়ই আমি তার নাম রেখেছি মারইয়াম এবং 

وَ اِنِّیۡۤ اُعِیۡذُہَا بِکَ وَ ذُرِّیَّتَہَا مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ ﴿۳۶

নিশ্চয়ই আমি তাকে ও তার বংশধরকে বিতাড়িত শয়তান হতে আপনার কাছে আশ্রয়ে দিচ্ছি (সূরা: ৩:৩৬) 

এখানে মরিয়মের নাম দেওয়ার প্রেক্ষিতে তাঁর মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে তাঁর সন্তান এবং তাঁর বংশ আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে এবং শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। 


নামের শুদ্ধতা এবং মহত্ব:

মরিয়ম (সালামুন আলাইহে)-এর নাম রাখা এবং তাঁর পবিত্রতা আল কোরআনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নাম একটি পবিত্র, শুদ্ধ এবং সৎ চরিত্রের পরিচায়ক (দ্র: ৬৬:১২)।  মরিয়ম (সালামুন আলাইহে)-এর নাম পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক মহান আদর্শ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আশীর্বাদ ও দয়াবান মর্যাদার প্রতীক। 

আল কোরআনে বিশেষ উপাধি বা গুণবাচক নাম মানুষের জন্য: 

কোরআনে বিভিন্ন নবী ও বিশেষ ব্যক্তিদের গুণবাচক নাম বা উপাধি দেওয়া হয়েছে। যেমন:


  • আল-মাসিহ (ঈসা আ.) (সূরা আলে ইমরান: ৩:৪৫)
  • সিদ্দীক (সত্যবাদী) (সূরা ইউসুফ: ১২:৪৬)
  • উলুল আযম (ধৈর্যশীল নবী)

·         الْخَلِيلُ (Al-Khalil) - প্রিয় বন্ধু, আয়াত: "وَاتَّخَذَ اللّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا"
(সূরা আন-নিসা, ৪:১২5)"আর আল্লাহ ইব্রাহিমকে তাঁর প্রিয় বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।"

  • الصَّدِّيقُ (As-Siddiq) - সত্যবাদী, আয়াত: (সূরা আল-ইমরান, ৩:٣٦)
  • الشَّهِيدُ (Ash-Shahid) - সাক্ষী:  "إِنَّ اللَّهَ شَهِيدٌ عَلَىٰ مَا تَعْمَلُونَ"
    (সূরা আল-নিসা, ৪:১۷৬) "নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তোমরা যা কিছু করো, তার সাক্ষী"
     

এগুলো থেকে বোঝা যায়, নাম এমন হওয়া উচিত যা ভালো গুণ বা গুণাবলি প্রকাশ করে। 

নামের ব্যঙ্গাত্মক উপাধিসমূহে ডাকা এবং সম্মান সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিকতা/ নাম নিয়ে অবজ্ঞা বা তামাশা না করার নির্দেশনা: অসম্মান করা থেকে বিরত থাকা: 

মানুষের নাম বা পরিচয় নিয়ে উপহাস করা বা অবমাননা করা ইসলামের শিষ্টাচারের বিরুদ্ধে। কোরআনে এমন আয়াত রয়েছে যা আমাদেরকে অন্যদের নাম বা সম্মান নিয়ে তামাশা বা অমর্যাদা করার নিষেধাজ্ঞা দেয়। এটি পরিষ্কার করে যে, আমরা যেন অন্যদের সম্মান রক্ষা করি এবং তাদের নাম বা পরিচয়ের প্রতি অবমাননা না করি। কারও নাম বা পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, যাতে উপহাস বা তামাশা করা থেকে বিরত থাকা যায়। 

·  ওহে যারা ঈমান এনেছ! কোনো জনগোষ্ঠী/ জাতি যেন কোনো জনগোষ্ঠীকে/ জাতিকে উপহাস না করে, হতে পারে যে, তারা তাদের থেকে উত্তম হবে। আর না নারীরা কোনো নারীদেরকে, হতে পারে যে, তারা তাদের থেকে উত্তম হবে। আর তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে নিন্দা কোরো না এবং তোমরা পরস্পরকে ব্যঙ্গাত্মক  উপাধিসমূহে ডাকবে না। ঈমান আনার পর মন্দ নাম কতই না খারাপ! আর যারা তওবা করে না, তাহলে তারাই জালিম। 

·         আর যারা মুমিন পুরুষদের ও মুমিন নারীদের কষ্ট দেয়, সেটা ছাড়াই যা তারা অর্জন করেছে, তাহলে অবশ্যই তারা বহন করে অপবাদ ও স্পষ্ট পাপ-33:58 

ইবনে’ বা ‘বিনতে’ ব্যবহার করে বংশ পরিচয়:

‘ইবনে’ (ابن): এর অর্থ "পুত্র।" এটি ব্যবহার করা হয় কারও পিতার পরিচয়ে।

o    উদাহরণ: জাকারিয়া ইবনে রেজওয়ান অথবা আইউব ইবনে রেজওয়ান (জাকারিয়া রেজওয়ান- এর পুত্র)।

ঈসা ইবনে মরিয়ম (মরিয়মের পুত্র ঈসা)- (দ্র: ২৩:৫০)

  • ‘বিনতে’ (بنت): এর অর্থ "কন্যা।" এটি ব্যবহার করা হয় কারও পিতার পরিচয়ে।

  • উদাহরণ: জেরিন বিনতে শাহ আলম (জেরিন, শাহ আলম-এর কন্যা)।

এই নামকরণ রীতি বংশপরিচয় ধরে রাখার একটি পদ্ধতি হিসাবে চিন্তা করা যেতে পারে। 


মনে রাখার বিষয়:

  1. নাম রাখার ব্যাপারে আল কোরআন তথা আহসানুল হাদিসে মূলত যে দিকগুলোর উদাহরন ও শিক্ষা পাই তা হলো:
  2. নামের অর্থ অবশ্যই ভালো এবং ইতিবাচক হওয়া উচিত।
  3. নবীদের বা সৎ ব্যক্তিদের নাম রাখা উত্তম।
  4. খারাপ বা অশ্লীল অর্থের নাম থেকে বিরত থাকা উচিত।
  5. বংশ পরিচয় উল্লেখ করা যেতে পারে (যেমন, ইবনে বা বিনতে ব্যবহার)।
  6. বিশেষ পরিস্থিতিতে মায়ের নাম ব্যবহার করা যেতে পারে। 

নামের উদাহরন: [এটি ফিক্সড নয়, তবে উদাহরণ হিসাবে ভাবনায় আনা যেতে পারে: (নামের সঙ্গে তার পিতা বা বংশ পরিচয় যুক্তকরণ/ ইবনে বা বিনতে ব্যবহার)] যেমন-

জাকারিয়া ইবনে রেজওয়ান  কিংবা  আইউব ইবনে রেজওয়ান  

একটি বংশ বা পরিবারের ইবনেবিনতে ব্যবহার সম্বলিত বাংলাদেশী নামের উদাহরন পাওয়া যায় এভাবে- 

উম্মে হানি বিনতে মোশাররফ, মূসা খান ইবনে মাসুম, সালেহ খান ইবনে মোশাররফ, ইমরান খান ইবনে মঈনুল, তানহা বিনতে মহসিন খান, মীম বিনতে মহসিন খান, উম্মে হানি বিনতে মোশাররফ, মুনা বিনতে মঈনুল খান, আবদুল্লাহ ইবনে শাহ আলম, জেরিন বিনতে শাহ আলম, জেমি বিনতে শাহ আলম, মহিউদ্দিন গোলেমদাজ ইবনে মারুফ, মাহি খান ইবনে মাসুম, তাসফিয়া বিনতে মাসুম খান ইত্যাদি। 


দুআ-দরখাস্ত-আবেদন-নিবেদন:

(সন্তান গর্ভকালীন সময় বা সন্তান জন্মের আগে -পরে পিতা-মাতার জন্য বিশেষ কিছু দোয়া) 

সন্তান গর্ভকালীন সময় বা সন্তান জন্মের আগে পিতা-মাতার জন্য আল কোরআনে বিশেষ কিছু দোয়ার উল্লেখ রয়েছে, যা আল্লাহর কাছে সন্তানের কল্যাণ, নেকি এবং সৎচরিত্র প্রার্থনার জন্য প্রাসঙ্গিক। এ দোয়াগুলো গর্ভাবস্থায় পিতা-মাতার মনোভাব, প্রত্যাশা এবং আল্লাহর কাছে আস্থা প্রকাশ করে। 

নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত এবং দোয়া উল্লেখ করা হলো:


মাতৃত্বকালীন/ গর্ভবতী মা-এর দুআ/ আলোকিত সন্তানের জন্য দোয়া- 

رَبِّ إِنِّى نَذَرْتُ لَكَ مَا فِى بَطْنِى مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّىٓ إِنَّكَ أَنتَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْعَلِيمُ

রব্বি ইন্নী  নাযার্তু লাকা মা- ফী বাত্ব্নী মুর্হারারান্ ফাতাক্বাব্বাল্ মিন্নী, ইন্নাকা আন্তাস্ সামীউল্ ‘আলীম্। 

অর্থ: হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি আমার গর্ভে যা আছে তা আপনার জন্য একনিষ্ঠভাবে নিবেদন করলাম, সুতরাং আপনি আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন, অবশ্যই আপনি,  আপনিই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন- আল কুরআন ৩:৩৫ (১৮:৮১)।


2. সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যা পাঠ করতে হবে-সন্তান প্রাপ্তিতে শুকরিয়া-ধন্যবাদ জ্ঞাপন: 

الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاء

আল্হামদু লিল্লা-হিল্লাযী অহাবালী ‘আলাল্ কিবারি ইস্মা-‘ঈলা অইস্হা-ক্ব; ইন্না রব্বী লাসামী‘ঊদ্ দু‘আ। 

অর্থ: প্রশংসাসমূহ আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাকে বৃদ্ধ অবস্থায় দান করেছেন ইসমাঈল ও ইসহাককে। নিশ্চয়ই আমার রব অবশ্যই দুআ শ্রবণকারী-আল কুরআন ১৪:৩৯ (১৮:৮১)। 

৩. শয়তানের প্রভাব থেকে সন্তানদের মুক্তির জন্য দুআ: 

" وَإِنِّىٓ أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ ٱلشَّيْطَٰنِ ٱلرَّجِيمِ"

ইন্নী- উ‘ঈযুহা-বিকা অর্যুরিয়্যাতাহা-মিনাশ্ শাইত্বোয়া-র্নি রাজ্বীম্। 

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি তাকে ও তার বংশধরকে বিতাড়িত শয়তান হতে আপনার নিকট আশ্রয়ে দিচ্ছি- আল কুরআন ৩:৩৬। (সন্তান বা বংশধরদের ওপর শয়তানের প্রভাব সম্পর্কে জানতে দ্র: ১৭:৬২, ১৭:৬৪) 

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ  وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ

রব্বী- আঊ’যুবিকা মিন হামাঝা-তিশ্ শাইয়া-তীন, অ-আঊ’-যুবিকা রব্বী- আইঁ-ইয়াহ্দ্বুরূন। 

4. অর্থ: হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব শুধুমাত্র আপনার কাছে শয়তানদের  ষড়যন্ত্রসমূহ সমূহ থেকে, এবং আমি আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি-করব হে আমার রব-সর্বমহাব্যবস্থাপক! শুধুমাত্র আপনার কাছে সেসব শয়তান তথা খারাপ কাজের প্রধানদের-নেতাদের থেকে যারা আমার কাছে উপস্থিত হয়-হবে- আল কুরআন ২৩:৯৭-৯৮ 

সূরা আল ফালাক্ক ও সূরা আন নাস (সূরা নং ১১৩ ও ১১৪)


رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ

রব্বি হাবলী- মিনাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে দান করুন- আল কুরআন ৩৭:১০০

6. সালামুন আলা জাকারিয়া বংশধর চেয়ে দোয়া করেছিলেন, যা সন্তান গর্ভকালে এবং পূর্বে পিতা-মাতার জন্য একটি অনুপ্রেরণা হতে পারে।

" رَبِّ هَبْ لِى مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةًۭ طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ"
রব্বি হাবলি মিল্লাদুন্কা র্যুরিয়্যাতান্ ত্বোয়াইয়িবাতান্, ইন্নাকা সামী ‘উদ্ দু‘আ-

অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম এক বংশধর দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দুআ শ্রবণকারী- আল কুরআন ৩:৩৮ (১৮:৮১)।


7. দোয়া: সূরা ফুরকান: ২৫:৭৪-এ দোয়া পিতা-মাতার জন্য একটি সাধারণ দোয়া, যা সৎ এবং কল্যাণময় সন্তান কামনায় করা হয়।

"رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍۢ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا"

রব্বানা-হাবনা-মিন্ আয্ওয়া-জ্বিনা-অর্যুরিয়্যা-তিনা-র্ক্বুরতা আইয়ুনিঁও অজ্ব্আল্না-লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা- 

অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের দাম্পত্যসাথীদের ও আমাদের প্রজন্মের মধ্য থেকে আমাদের জন্যে চক্ষুসমূহ শীতলকারী দান করুন। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে ইমাম বানিয়ে দিন- কুরআনুল কারীম ২৫:৭৪ 

رَبِّ ٱجْعَلْنِى مُقِيمَ ٱلصَّلَوٰةِ وَمِن ذُرِّيَّتِى رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَآءِ. رَبَّنَا ٱغْفِرْ لِى وَلِوَٰلِدَىَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ ٱلْحِسَابُ

রব্বিজ্‘আল্নী মুক্বীমাছ্ ছলা-তি ওয়া মিন র্যুরিইয়াতি, রব্বানা- ওয়া তাক্বাব্বাল্ দু‘আ-, রব্বানা-র্গ্ফিলী ওয়া লিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিলমু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব।  

অর্থ: হে আমার রব!  আমাকে ও আমার বংশধরদের মধ্য থেকে সলাত কায়েমকারী (প্রতিষ্ঠাকারী) বানান। হে আমাদের রব! আর আপনি আমার দুআ কবুল করুন। হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে    আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিন!- আল কুরআন ১৪:৪০-৪1 

সালাত কায়েমকারী (রবের কানেক্টীভিটিতে থাকা), মানুষকে তাদের প্রতি অনুরাগী, রিজকের ব্যবস্থা ও শোকর গোজারকারী বানানোর জন্য দু’আ:

رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

রব্বানা-লিইয়ুক্বীমুছ্ ছলা-তা ফাজ্ব্‘আল্ আফ্য়িদাতাম্ মিনান্না-সি তাহ্ওয়ী য় ইলাইহিম্ র্অযুক্ব্হুম্ মিনাস্সামারা-তি লা‘আল্লাহুম্ ইয়াশ্কুরূন্। 

অর্থ: হে আমাদের রব! যাতে তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে। অতএব, আপনি কিছু লোকের অন্তরগুলোকে তাদের দিকে অনুরাগী করে দিন এবং তাদেরকে ফল-ফলাদি থেকে জীবিকা দান করুন, যাতে  তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে- আল কুরআন ১৪:৩৭ 

رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ

"Rabbi najjinee wa ahlee mimmaa ya'maloon."

“হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পরিবারকে তাদের কাজকর্ম থেকে রক্ষা করুন” (সূরা আশ-শু'আরা: 26:১৬৯)


সন্তানাদি ও আবাসস্থল নিরাপদের জন্য দো’আ:

رَبِّ اجْعَلْ هَـٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ

রব্বিজ্ব ‘আল্ হা-যা- বালাদান্ আ-মিনাওঁ র্অযুক্ব আহ্লাহূ মিনাছ্ ছামারা-তি মান্ আ-মানা মিন্হুম্ বিল্লা-হি অল্ইয়াওমিল্ আ-খির।   

অর্থ: হে আমার রব! এই স্থানকে আপনি নিরাপদ/ শান্তির স্থান বানান এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে তাদেরকে ফল-মুলের রিযিক দান করুন- আল কুরআন ২:১২৬ 

فَاِنَّ اللّٰهَ هُوَ الۡغَنِىُّ الۡحَمِيۡدُ

আল্লাহ অমুখাপক্ষেী, প্রশংসতি-৬০:৬ 

رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ ۚ رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ ۖ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي ۖ وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

রব্বিজ্ব‘আল্ হা-যাল্ বালাদা আ-মিনাঁও অজ্বনুব্নী- অ বানিয়্যা আন্ না’বুদাল্ আছ্না-ম্।  রব্বী ইন্নাহুন্না আদ্ব্লাল্না কাছীরাম্ মিনান্না-সি ফামান্ তাবি‘আনী ফাইন্নাহূ মিন্নী অমান্ ‘আছোয়া-নী ফাইন্নাকা গফূর্রু রহীম্-।  

অর্থ: হে আমার রব! এই নগরীকে আপনি নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিসমূহের উপাসনা করার ক্ষেত্রে দূরে রাখুন।  হে আমার রব! নিশ্চয়ই সেগুলো মানুষের মধ্য থেকে অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, অতএব যে আমার অনুসরণ করবে, তবে নিশ্চয়ই সে আমার অন্তর্ভুক্ত, আর যে আমার অবাধ্য হবে, তবে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু- আল কুরআন ১৪:৩৫-১৪:৩৬ (দুআর প্রেক্ষিত: ৬:৭৪, ৭:১৩৮, ২১:৫৭, ২৬:৭১)


উপসংহার:

আল কোরআনে সন্তানের গর্ভাবস্থার সময় পিতা-মাতার দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দোয়াগুলো আল্লাহর কাছে সন্তানের জন্য কল্যাণ, সৎ চরিত্র, এবং শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়।  পিতা-মাতারা এই আয়াতগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং সন্তানের জন্য কল্যাণ কামনা করতে পারেন। 

ভাবনা-অনুধাবন: সংগ্রহ, সংকলন ও বিন্যাস - মতিউর রহমান খান 

দুআ ভিডিও-1



দুআ ভিডিও-2





Post a Comment (0)
Previous Post Next Post