শুধু ঈমানই কি যথেষ্ট? ভালো কাজ-কারবার, সততা-সৎকর্ম-সৎ আমাল লাগবে না? সৎকর্ম কি?– কী বলে আল কোরআন? Only Iman? Need Good Deeds Must – Insights from the Quran.

 

ঈমান (বিশ্বাস) এবং আমাল সালিহ (সৎ আমল) উভয়ই দুনিয়া আখিরাতে সফলতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য আল কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ঈমানই যথেষ্ট নয়; একজন মুসলিমের দায়িত্ব পালনের জন্য এর সাথে অবশ্যই ভালো কাজ করতে হবে এই সংযোগটি কুরআনে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে ঈমান এবং সৎকর্ম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

১. সূরা আল-আসর: সফলতার সূত্র

সূরা আল-আসরে আল্লাহ তা'আলা সফলতার একটি শক্তিশালী সূত্র দিয়েছেন:

সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে তারা নয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে” (কুরআন ১০৩:-)

এই সূরা স্পষ্ট করে দেয় যে কেবলমাত্র বিশ্বাস যথেষ্ট নয়। প্রকৃত সফলতার জন্য প্রয়োজন:

  • ঈমান (বিশ্বাস),
  • সৎকর্ম (আমাল সলিহ),
  • সত্যকে সমর্থন [আর ’সত্য (হক্ক)’ আসে একমাত্র রবের পক্ষ থেকেই বাকীসব ভ্রষ্টতা/বাতিল-(দ্র:২:১৪৭, ২:১৭৬, ১৮:২৯, ১০:৩২, ১৭:৮১)], এবং
  • ধৈর্য/ দৃঢ়তা (সবর) প্রদর্শন।



. কুরআনের আয়াতগুলো: সৎকর্ম এবং ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব:

কুরআনে সৎকর্ম এবং ঈমানের সম্পর্ক এবং এর মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে যেমন:

  • "নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকর্ম করেছে, সলাত প্রতিষ্ঠা করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কৃত হবে, তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।" – সুরা আল-বাকারা (২:২৭৭)
  • "যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করবেন পূর্ণরূপে এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের আরও বৃদ্ধি করবেন।" – সুরা আল-ইমরান (৩:৫৭)
  • "এবং যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, পুরুষ বা নারী যে-হোক, যখন সে বিশ্বাসী হবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের সাথে অন্যায় করা হবে না।" – সুরা আন-নিসা (৪:১২৪)
  • "এবং যদি শহরগুলোর মানুষ বিশ্বাস করত এবং আল্লাহর প্রতি সচেতন হত, তবে আমরা তাদের জন্য আকাশ পৃথিবী থেকে বরকত উন্মুক্ত করতাম।" – সুরা আল-আ'রাফ (৭:৯৬)

২. . মুত্তাকীদের সৎকর্মের সংজ্ঞা

আল কোরআন সৎকর্মের একটি বিস্তারিত সংজ্ঞা দিয়েছে

"উদয়াচলের অস্তাচলের দিকে তোমাদের চেহারা ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই বরং পুণ্য হলো, যে ঈমান আনে আল্লাহতে, শেষ দিনে, মালাকগণে, কিতাবসমূহে, নবীগণ এবং যে নিকটাত্মীয়, ইয়াতিম, মিসকিন, পথিক, যাচনাকারী এবং দাসত্বমুক্তির খাতে সম্পদ দান করে, সেটার ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও, যারা সলাত প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে এবং তারা, যারা তাদের অঙ্গীকারের বিষয়ে পূর্ণকারী, যখন তারা অঙ্গীকার করে এবং অভাব, অসুস্থতা এবং সঙ্কটের সময় ধৈর্য ধারণকারী"সুরা আল-বাকারা (:১৭৭)

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সৃষ্টির সেরা হ্যান্ডসাম ব্যক্তি কে বা কারা?  সব মানুষই কী সৃষ্টি সেরা?

  • কুরআন অনুসারে, সৃষ্টির সেরা ব্যক্তি তারা যারা ঈমান সৎকর্মে বিশ্বাসী: "নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তারা সৃষ্টির সেরা তাদের রবের কাছে তাদের প্রতিদান জান্নাতু আদন, যেখানে নদী প্রবাহিত হয় তারা সেখানে চিরকাল থাকবে আল্লাহ তাদের সাথে সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর সাথে সন্তুষ্ট"সুরা আল-ব্যায়্যিনাহ (৯৮:-)

  • এছাড়া, "নিশ্চয় আমরা আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি এবং তাদেরকে স্থলে জলে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উপযোগী বস্তুসমূহ থেকে রিজিক দিয়েছি এবং তাদের মধ্যে অনেককে বিশেষ সম্মান দিয়েছি"সুরা আল-ইসরা (১৭:৭০)




. আমালের ভিত্তিতে পুরস্কার শাস্তি

কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, পুরস্কার বা শাস্তি মানুষের কর্মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে:

  • "যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ ভালো কাজ করে, সে তা দেখতে পাবেএবং যে ব্যক্তি এক কণা পরিমাণ মন্দ কাজ করে, সেও তা দেখতে পাবে।" – সুরা আল-জালযালা (৯৯:৭-৮)
  • "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, যেখানে নদী প্রবাহিত হয়এটি তাদের কর্মের প্রতিদান।" – সুরা আল-হাজ্জ (২২:২৩)
  • "প্রত্যেক মানুষকে তার কর্মের ভিত্তিতে পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, এবং কেউ কোনো অন্যায়ের শিকার হবে না।" – সুরা আল-জাথিয়া (৪৫:২২)

. ঈমান কর্মের গুরুত্ব

ঈমান এবং সৎকর্ম একে অপরের পরিপূরক আল্লাহ বলেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য সুখময় জীবন হবে এবং তাদের পুরস্কার তাদের কর্ম অনুযায়ী দেওয়া হবে"সুরা আন-নাহল (১৬:৯৭)


উপসংহার: আল কোরআনিল কারীম আমাদের জানায় যে, সফলতার জন্য ঈমান এবং সৎকর্ম উভয়ই অপরিহার্য আমাদের কর্মের উপর ভিত্তি করেই পুরস্কার বা শাস্তি নির্ধারিত হবে সুতরাং, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমাদের ঈমানকে সৎকর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে

আসুন আমরা আমাদের কর্মগুলোকে সৎকর্মে পরিণত করি এবং আল্লাহর কাছে সফলতা লাভের জন্য প্রার্থনা/দুআ-দরখাস্ত করি এভাবে, যেভাবে আমাদের রব শিখিয়েছেন: 

আর আমরা মানুষকে অসিয়ত করেছি তার বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করতে| তার মা তাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছিল এবং তাকে কষ্ট করে প্রসব করেছিল। আর তার গর্ভধারণ এবং তার দুগ্ধত্যাগ ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তি-সামর্থ্যে পৌঁছল এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হলো, সে বলল!

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

রব্বি আওযি’নী- আন্ আশ্কুরা নি’মাতাকাল্লাতী- আন্‘আম্তা ‘আলাইয়্যা অ‘আলা-ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ ‘আমালা ছোয়া-লিহান তারদ্বোয়া-হু অআছ্লিহ্ লী ফী যুররিয়্যাতী; ইন্নী তুব্তু ইলাইকা অইন্নী মিনাল্ মুসলিমীন।  

অর্থ:  হে আমার রব!  আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজন্মকে পরিশুদ্ধ করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত-আল কুরআন ৪৬:১৫-১৬।

إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ ۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ

ইন্না অলিয়্যিয়া ল্লা-হু ল্লাযী নায্যালাল্ কিতা-বা অহুঅ ইয়াতাওয়াল্লাছ্ ছোয়া-লিহীন্। 

অর্থ: নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল/অবতীর্ন করেছেন, আর তিনিই সৎকর্মশীলদের অভিভাবকত্ব করেন (He is the protecting friend of the righteous)-আল কুরআন ৭:১৯৬।

 

رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِّنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

(Rabbana taqabbal minna innaka antas samiul alim)

"Our Lord, accept [this] from us. Indeed, You are the Hearing, the Knowing."Quran 2:127

 

 

 

 

 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post