- রোজা ও সিয়াম—পার্থক্য কোথায়?
- সিয়ামের
উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব – কেন সিয়াম পালন করবো? এতে কী আছে?
- রাতের সালাত ও আল-কুরআন – রাতে কীভাবে কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব?
- তাকওয়া কী ও কারা মুত্তাকী? – মুত্তাকীর সংজ্ঞা ও পরিচয়-
- কীভাবে মুত্তাকী হওয়া যায়? – মুত্তাকীদের করণীয় ও আমল-
- তাকওয়ার ফজিলত – মুত্তাকীদের জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুত পুরস্কার-
- দুআ, যিকির ও তাসবিহ – হৃদয়ের প্রশান্তির আমল:
রোজা ও সিয়াম—পার্থক্য কোথায়?
সিয়াম পালনের উদ্দেশ্য কী? কেন সিয়াম? এতে কী আছ?
আল-কোরআনে বলা হয়েছে:
তাকওয়া কী? কিভাবে এটি অর্জন করা যায়?
সিয়ামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার পর স্বাভাবিকভাবেই
প্রশ্ন আসে—তাকওয়া আসলে কী? এটি কীভাবে অর্জন করা যায়? (তাকওয়া ও মুত্তাকির
সংজ্ঞা জন্য নিচে দেখুন)
তাকওয়ার উৎস: আল-কুরআন:
তাকওয়া সম্পর্কে জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য
উৎস হলো আল-কুরআন।
📖"রমাদান
মাসই
হল
সে
মাস,
যাতে
কুরআন
অবতীর্ণ
করা
হয়েছে—এটি
মানুষের
জন্য
পথনির্দেশ,
সত্যপথের
স্পষ্ট
প্রমাণ
ও
সত্য-মিথ্যার
পার্থক্যকারী..."-
📖আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া বৃদ্ধি করে না-17:82
[সাওম (সিয়াম) পালনের বিস্তারিত বিধি-বিধান যেমন- (১.সাওম ফরজ হওয়ার বিধান ২.কারা সাওম পালন করবে এবং কারা ছাড় পাবে? ৩. রমজান মাস ও সিয়াম ফরজ হওয়ার কারণ ৪.সাওম পালনের সময়সীমা ও রাতে বৈধ বিষয় ৫.সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য ও তাকওয়া অর্জন) ইত্যাদির জন্য দ্র: আল কোরআন, সুরা আল-বাকারা:২: ১৮৩- ১৮৭]
রমাদানের প্রতিটি রাতের গুরুত্ব সমান মর্যাদার:
📖 "নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাতে কুরআন অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমরা সতর্ককারী"-
📖 "নিশ্চয়ই
আমি
কুরআন
নাজিল
করেছি
কদরের
রাতে"-
📖 "আর তুমি কীভাবে জানবে, কী হল লাইলাতুল কদর?
📖 "এই রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাঈল আ.) তাদের রবের আদেশক্রমে প্রত্যেক বিষয়ের জন্য অবতরণ করেন।
এ রাত সম্পূর্ণ শান্তি, যা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত বিরাজ করে -সূরা আল-কদর (৯৭:৪-৫)
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পুরো রমাদান মাসের কথা উল্লেখ করেছেন, শুধুমাত্র শেষ দশকের বিজোড় রাত নয়। তাই আমাদের
উচিত রমাদানের প্রতিটি রাতের গুরুত্ব বোঝা এবং সে অনুযায়ী
আমল করা।
রমাদান, কুরআন ও তাকওয়ার সম্পর্ক:
📖"রমাদান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে—মানুষের জন্য পথনির্দেশ (হিদায়াত), স্পষ্ট প্রমাণ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (ফুরকান)"-
এই
আয়াত
থেকে
আমরা
জানতে
পারি
যে
রমাদান কুরআনের মাস এবং
কুরআনই
আমাদের
জন্য
সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার
মাপকাঠি। এখন
প্রশ্ন
হলো—আমি ব্যক্তিগতভাবে
এই হিদায়াত ও ফুরকান কিভাবে অর্জন করতে পারি?
✅
সত্য-মিথ্যা বুঝার ক্ষমতা (ফুরকান) কখন পাওয়া যাবে?
📖"হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো (তাকওয়া অবলম্বন করো), তবে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী ক্ষমতা) দান করবেন"-আল-আনফাল (৮:২৯)
🔹 এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ফুরকান অর্জনের জন্য তাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক। তাকওয়া হল আল্লাহর প্রতি সচেতনতা, ভয় এবং তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
✅ রাতের ইবাদতের গুরুত্ব:
রাতে
ইবাদত—বিশেষত তাহাজ্জুদ সালাত ও কুরআন অধ্যয়ন—আল্লাহর বিশেষ
নেয়ামত
ও
নৈকট্য
লাভের
গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
📖"আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, এটি তোমার জন্য বিশেষ মর্যাদার ব্যবস্থা। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন" -
📖"নিশ্চয়ই রাতের বেলায় ওঠা অন্তরের জন্য অধিক দৃঢ়সংযত এবং তিলাওয়াতের জন্য অধিক উপযোগী"-
✅ রাতের কুরআন অধ্যয়নের বিশেষত্ব:
নিশ্চয়ই
দিনের মধ্যে তোমার জন্য দীর্ঘ ব্যস্ততা রয়েছে-73:7। নিশ্চয়ই রাত্রিজাগরণ, সেটা আত্মসংযমে
অধিক প্রভাবশালী এবং উচ্চারণের জন্য অধিক উপযোগী-73:6
- রাতের নীরবতা কুরআনের
গভীর প্রভাব অনুভব করতে সাহায্য করে।
- একাগ্রতা
বেশি থাকায় কুরআনের আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা সহজ হয়।
- মুত্তাকীরা
রাতে কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
📖"এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে তারা এর আয়াত নিয়ে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে"-
✅
মুত্তাকীদের রাতের আমল:
📖"হে আবৃতকারী! রাতের কিছু অংশ ছাড়া জাগ্রত থাকো—অর্ধেক বা কিছু কম-বেশি। আর কুরআন তিলাওয়াত করো, তারতীলের সাথে" -আল-মুজ্জাম্মিল (৭৩:১-৫)
📖 আর দয়াময়ের বান্দারা, যারা পৃথিবীর ওপর শান্তভাবে চলাফেরা করে এবং যখন নির্বোধরা তাদের সাথে বাক্যালাপ করে, তারা বলে, ‘সালাম’! আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও দাঁড়ান অবস্থায় রাতযাপন করে। এবং তারা, যারা বলে! হে আমাদের রব! আপনি আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি ফিরিয়ে নিন। নিশ্চয়ই সেখানকার শাস্তি হলো সর্বনাশা। নিশ্চয়ই সেটা আবাসস্থল ও অবস্থানস্থল হিসাবে অতি নিকৃষ্ট। আর যারা, যখন তারা ব্যয় করে, তারা না করে অপব্যয় এবং না করে কার্পণ্য। আর তা হয়ে থাকে সেটার মাঝে মধ্যম পন্থায়।আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না এবং তারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো প্রাণকে হত্যা করে না। এবং তারা ব্যভিচার করে না। আর যে সেসব করে সে পাপের শাস্তির সম্মুখীন হবে-25:63-68
📖তারা সবাই একরকম
নয়। আহলে কিতাবের
মধ্য থেকে প্রতিষ্ঠিত একদল,
যারা রাতের প্রহরগুলোতে আল্লাহর
আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে আর তারা
সিজদা করে। তারা
আল্লাহর ও শেষ দিনের
প্রতি ঈমান রাখে এবং
ন্যায়ের আদেশ করে ও
অন্যায় থেকে নিষেধ করে
এবং কল্যাণকর কাজের মধ্যে ঝাঁপিয়ে
পড়ে। আর ওরাই
সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। আর তারা
ভাল থেকে যা করে,
তখন সেটা কখনও অস্বীকার
করা হবে না।
আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ব্যাপারে
বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন-3:113-115
🔹"রাত্রে কুরআন পাঠ করো এবং দিনের একটি অংশেও" -(সুরা আল-আলাক: ১৭)
✅সেহরির সময় (রাতের শেষ প্রহরে) মুত্তাকীদের ক্ষমা প্রার্থনা:
📖"মুত্তাকীরা জান্নাত ও ঝর্ণাধারায় থাকবে। তারা রাতের সামান্য অংশে নিদ্রা যেত এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করত"
📖 নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতগুলোর ও ঝর্ণাধারাসমূহের মধ্যে; তাদের রব তাদেরকে যা দিবেন তা গ্রহণকারী হয়ে। তারা তো ইতোপূর্বে সৎকর্মপরায়ণ ছিল। তারা এমন ছিল, যারা রাতের সামান্য কিছু অংশ, যাতে নিদ্রা যেত। এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত। আর তাদের সম্পদের মধ্যে রয়েছে যাচনাকারীদের ও বঞ্চিতের জন্য অধিকার-51:15-19
📖 "আর যারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী" (সুরা আলে ইমরান:3:১৭)
✅ ফজরের কুরআন তিলাওয়াত:
📖মূলত
তারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান রাখে, যাদেরকে সেগুলোর ব্যাপারে যখনই স্মরণ
করিয়ে দেয়া হয়, তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং প্রশংসাসহ তাদের রবের তাসবিহ
করে। আর তারা অহংকার করে না। তাদের পার্শ্বগুলো বিছানাসমূহ থেকে আলাদা হয়, তারা
ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে এবং আমরা তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা হতে ব্যয়
করে-32:15-16
📖"বলুন! হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু"(সুরা যুমার: ৫৩)
📖ফজর-এ ঘুম!: "এ রাত সম্পূর্ণ শান্তি, যা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত বিরাজ করে"-৯৭:৫
এবং ফজরের কুরআন পাঠ;
নিশ্চয়ই ফজরের কুরআনপাঠ সাক্ষ্য হয়ে থাকে- বনি ইসরাইল 17:78
✅ মুত্তাকীরা যা চাইবে, তা পাবে: দ্র: ৩৯:৩৩-৩৪
- সিয়াম পালনকারীর জন্য পুরস্কার ঘোসণা:: এতে বলা হয়েছে যে সিয়াম
পালনকারী পুরুষ ও নারীদের জন্য আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার
প্রস্তুত করে রেখেছেন-সুরা আহযাব ৩৩:৩৫
- বলো! আমি কি তোমাদেরকে সেগুলোর
চেয়ে উৎকৃষ্টতর কিছুর সংবাদ দিব? যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য তাদের
রবের কাছে রয়েছে এমন জান্নাতসমূহ, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত
হয়, তারা স্থায়ীভাবে সেখানে থাকবে আর পবিত্র দাম্পত্যসাথীরা এবং আল্লাহর
পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি। আর আল্লাহ বান্দাদের ব্যাপারে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন-3:15
📌সিয়াম বা রোজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই শুধু উপবাস নয়, বরং সিয়ামের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
✨ আসুন, আমরা সিয়াম পালনের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি।
তাকওয়া (تقوى) কাকে বলে?
তাকওয়া (تقوى) শব্দের অর্থ বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, নিষ্কৃতি লাভ করা, নিজেকে রক্ষা করা। ব্যবহারিক অর্থে: আত্মশুদ্ধি , আল্লাহ ও সত্যের প্রতি সচেতন/ সতর্ক be aware of/ conscious থাকা। এবং পরিজ্ঞাত হওয়া, সহনশীলতা ইত্যাদি বোঝায়। প্রমাণ: দ্র: 2:48, 2:123, ২:১৮৯, ১৯৪, ২০৩, ২০৬, ৭:৩৫।
📌আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তারাই মুত্তাকী: দ্র: ১৬:৩০
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে
আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন, অন্তর্নিহিত
জ্ঞানসম্পন্ন-49:13
মুত্তাকির সংজ্ঞা: মুত্তাকী কে বা কারা?
📖২:১৭৭ উদয়াচলের ও
অস্তাচলের দিকে তোমাদের চেহারা ফেরানোতে কোনো পুণ্য নেই। বরং পুণ্য হলো, যে ঈমান
আনে আল্লাহতে ও শেষ দিনে ও মালাকগণে ও কিতাবসমূহে ও নবীগণে এবং যে নিকটাত্মীয় ও
ইয়াতিম ও মিসকিন ও পথিক ও যাচনাকারী ও দাসত্বমুক্তির খাতে সম্পদ দান করে সেটার
ভালবাসা থাকা সত্ত্বেও এবং যারা সলাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে আর তারা,
যারা তাদের অঙ্গীকারের বিষয়ে পূর্ণকারী, যখন তারা অঙ্গীকার করে এবং অভাবের ও
অসুস্থতার মধ্যে ও সঙ্কটের সময় ধৈর্যধারণকারী। ওরাই তারা, যারা সত্য বলে এবং তারাই মুত্তাকী/ তারাই সজাগ-সচেতন মানুষ।
📖৩৯:৩৩ আর যে সত্য (আল কোরআন,
17:81-82) নিয়ে এসেছে এবং সেটাকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই মুত্তাকী।
📖3:133-134: আর তোমরা
দ্রুত এগিয়ে যাও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার এবং এমন জান্নাতের দিকে, যার
প্রশস্ততা হলো আকাশসমূহ ও পৃথিবী; যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; যারা ব্যয় করে, সচ্ছলতার ও অসচ্ছলতার মধ্যে
এবং ক্রোধ সংবরণকারীরা আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীলরা। আর আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের
ভালবাসেন।
মুত্তাকীর
বিপরীত যে শব্ধ রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলেও মুত্তাকী সম্মর্কে ধারনা আরও
স্পষ্ট হয়:
38:28 (71:7): “আমরা কি
তাদের, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের মতো করে দেব, যারা পৃথিবীতে ফাসাদ
সৃষ্টি করে? অথবা মুত্তাকীদের আমরা কি ফুজ্জারদের (পাপিষ্ঠদের) মতো গণ্য করব?
এখানে “মুত্তাকী”
(المُتَّقِين) ও “ফুজ্জার” (الفُجَّارُ)
-কে পরস্পর বিপরীত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিয়াম তাকওয়ার সাথে কেন সংযুক্ত:
জ্ঞানীরা
ও চিন্তাভাবনা করতে পারা মানুষরাই যে সজাগ-সতর্ক-সচেতন (মুত্তাকি) হয় সে কথাও বলে দেওয়া হলো:
২:১৭৯ …..হে বোধসম্পন্নরা!
(يّٰٓاُولِى الْاَلْبَابِ)! আশা করা যায় তোমরা সজাগ-সতর্ক-সচেতন হবে (لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ)! / যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।
কীভাবে এমন সজাগ-সচেতন চিন্তাভাবনা
করতে পারা মানুষ তৈরি করা যাবে? তার উত্তরও আছে প্রথম সুরাতেই:
২:১৭৯ …..হে বোধসম্পন্নরা! (يّٰٓاُولِى الْاَلْبَابِ)! আশা করা যায় তোমরা সজাগ-সতর্ক-সচেতন হবে (لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ)! / যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করো।
কীভাবে এমন সজাগ-সচেতন চিন্তাভাবনা করতে পারা মানুষ তৈরি করা যাবে? তার উত্তরও আছে প্রথম সুরাতেই:
২:১৮৩ ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের উপর আস-সিয়াম
(الصِّيَامُ) জোরালো তাড়না-প্রেরণা-উৎসাহ দেওয়া হয়েছে (كُتِبَ) যেমন জোরালো তাড়না-প্রেরণা (كُتِبَ) করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর- যাতে
তোমরা সচেতন (تَتَّقُونَ) হও।
|
সিয়াম পালনকারী (রোজাদার) তথা মুত্তাক্বীদের দু’আ-যিকির-তাসবীহ: আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে আমি তো তখন নিকটেই। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা আমার জন্য সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আনুক। তাহলেই তারা আলোকিত হবে-২:১৮৬ ইতোমধ্যে কুরআন থেকে সিয়াম পালনকারী তথা মুত্তাক্বীদের সংজ্ঞা-বৈশিষ্ট্য-আমল-কার্যক্রম ইত্যাদি জেনেছি। এতে মুত্তাক্বীদের ক্ষমা প্রার্থনা করা, দু’আর সময়সূচিও আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন। খুঁজে পেতে সুবিধার জন্য নি¤েœ কুরআন থেকে সংকলিত দু’আর রেফারেন্স উল্লেখ করা হলো: |
||
|
কুরআন রেফারেন্স সূরা নং - আয়াত নং |
বিষয় |
স্ব-মূল্যায়ন (self-assesment & action plan þ) |
|
২৩:১১৮ |
ক্ষমা চাওয়া-রহমত চেয়ে দুআ-আবেদন-নিবেদন- |
|
|
২৩:১০৯ |
ঈমান-ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত- |
|
|
২৮:১৬ |
ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত- |
|
|
২:২০১ |
দুনিয়া আখেরাতের সর্বোত্তমটা চাওয়া- |
|
|
৩:১৬ |
ঈমান-ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত- |
|
|
৬৬:৮ |
নূরের পূর্নতা- ক্ষমা চেয়ে দু’আ- |
|
|
২৫:৬৫-৬৬ |
জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ চেয়ে- |
|
|
৩৮:৩৫ |
ক্ষমা-ক্ষমতা-এস্তেগফার- |
|
|
১৪:৪১ |
ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার- |
|
|
৭:১৫৫ |
ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার- |
|
|
৭:১৫১ |
ক্ষমা চাওয়া- রহমত- |
|
|
২৫:৭৪ |
সন্তান-সন্ততি স্বামী-স্ত্রী বংশাবলী-পরিবারের জন্য দুআ - |
|
|
১৭:৮০ (প্রেক্ষিত ৩৯:৩৩) |
সত্যের সাথে চলার জন্য
দুআ |
|
|
৩:১৮৯-১৯৩ |
ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-মুক্তির জন্য আবেদন- |
|
|
৪০:৭-৯ |
মালাইকাদের দুআ/ ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-ক্ষতি থেকে রক্ষার আবেদন |
|
|
২৬:১৬৯ (প্রেক্ষিত
৬:৬) |
সৃষ্ট বিপদ-জুলম থেকে
আহলে পরিবারসহ সুরক্ষায় আবেদন |
|
|
৫২:২৬-২৮ |
সুরক্ষায় শোকর প্রকাশ- |
|
|
১৯:১৮/ ১১৩:১-৫, ১১৪:১-৬/ ২৩:৯৭-৯৮/ ২:৬৭ |
আশ্রয় চেয়ে- |
|
|
৭:২৩ |
অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার- |
|
|
২৮:১৬ |
অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার- |
|
|
২১:৮৭ |
অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার- |
|
|
৭:৪৭/ ২৩:৯৩-৯৪ |
জুলমকারীদের সঙ্গী না করার আবেদন- |
|
|
১২:১০১ |
ধৈর্য ও মুসলিম হিসাবে
মৃত্যু কামনা করে দুআ- |
|
|
৭:১২৫-১২৬ |
ধৈর্য ও মুসলিম হিসাবে
মৃত্যু কামনা করে দুআ- |
|
|
২:১২৭-১২৮ |
দু’আ মঞ্জুরের
আবেদন |
|
|
আল কুরআন থেকে আরও যে সকল দু’আ/যিকির/তাসবীহ ..দ্র: |
||
প্রাসঙ্গিক আরেকটু তথ্য:
রাতের ইবাদত, বিশেষত কুরআন অধ্যয়ন ও তাহাজ্জুদ, মুত্তাকীদের অন্যতম গুণ। যারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং তাকওয়া অবলম্বন করেন, আল্লাহ তাদের ফুরকান দান করেন, তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেন।
📖"বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করেন-"সুরা যুমার (৩৯:৫৩)
👉 তাই, যদি আল্লাহর রহমত, আরোগ্য, (আল কোরআন রহমতের উৎস-দ্র: ১৭:৮২) ক্ষমা ও নৈকট্য চান, তবে রমাদান মাস বিশেষত রাতে সেই আল কোরআন গভীর উপলব্ধিতে নেয়ার বিরাট সুযোগ। রাতের ইবাদতকে জীবনের অংশ বানানোয় প্রশিক্ষণের সুযোগ গ্রহন করুন!এটাই মূলত রমাদানের অন্যতম লক্ষ্য। এবং তাকওয়া অবলম্বন করুন।
📌 কথিত রোজা শুধুমাত্র উপবাস থাকা। আর সিয়াম যা আল কোরআনে বলা হয়েছে তা বরং অন্তর, বাক্য ও কর্ম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বিশেষ ইবাদত। ✨


