১. আল কোরআন কী গভীর চিন্তা-ভাবনা করার বিষয়?
তাদাব্বুর (Tadabbur): এর অর্থ হলো কোরআনের আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, এর অন্তর্নিহিত অর্থ, উদ্দেশ্য এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ নিয়ে অনুধাবন করা।তাফাক্কুর (Tafakkur): এর অর্থ হলো আল্লাহর সৃষ্টি—যেমন আকাশ, পৃথিবী, মানুষ, প্রকৃতি—নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে স্রষ্টার মহত্ত্ব ও জ্ঞান উপলব্ধি করা। কোরআন এই ধরনের চিন্তার প্রতি আহ্বান জানায়।
৩. কি বলে এর আয়াতসমূহ?
অন্তর তালাবদ্ধ বা মোহরযুক্ত হয়ে যাওয়া: যারা আল্লাহর আয়াত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং চিন্তা করে না, তাদের অন্তর সত্য গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا অর্থ: "তারা কি কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?"(সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪)
"এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞানবান লোকেরা উপদেশ গ্রহণ করে।" (সূরা সাদ, আয়াত: 38:২৯)
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান:
"নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০)
সাধারণ পর্যবেক্ষণ থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান:
"তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না, কিভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে, কিভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে? এবং পাহাড়ের দিকে, কিভাবে তাকে স্থাপন করা হয়েছে? এবং পৃথিবীর দিকে, কিভাবে তাকে বিস্তৃত করা হয়েছে?" (সূরা আল-গাশিয়াহ, আয়াত: ১৭-২০)
চিন্তা না করার পরিণতি: জাহান্নামে অনুশোচনা ও আত্মগ্লানি:
"(জাহান্নামীরা) বলবে, 'যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামের অধিবাসী হতাম না'।" (সূরা আল-মুলক, আয়াত: 67:১০)
পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট স্তরে নেমে যাওয়া:
কোরআন বলছে, যে মানুষ তার বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি ব্যবহার করে না, সে চতুষ্পদ জন্তুর মতো, তার চেয়েও নিকৃষ্ট। কারণ আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান ও বিবেক দিয়েছেন, যা পশুদের নেই। এই শ্রেষ্ঠত্ব ব্যবহার না করলে সে তার মর্যাদা হারায়।
➥ "আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। ওরাই পশুর মতো, বরং তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট। তারাই হলো গাফেল (উদাসীন)।" (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৭৯)
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, বুদ্ধি ও চিন্তা ব্যবহার করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
৪. সংকীর্ণ ও দুঃখময় জীবন এবং পরকালে অন্ধত্ব:
যে ব্যক্তি কোরআন (আল্লাহর স্মরণ) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অর্থাৎ এটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে না, তার জীবনকে আল্লাহ সংকীর্ণ করে দেন।
"এবং যে আমার স্মরণ (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উঠাব।" (সূরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪)
সারসংক্ষেপ:
...ওয়াল্লাহু ইয়া'লামু ওয়া আন্তুম লা তা'লামুন
"...আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।" (আয়াত ২:২১৬, ২:২৩১, ৩:৬৬)
"সদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ" (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২২
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
