কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে তাকি মানুষ বলতে পারে? আয়াত কি বলে?
byঅনুধাবনের আয়োজনে: মতিউর রহমান খান
0
যেহেতু আমাদের তাঁর দিকেই চলে যেতে হচ্ছে:
❝নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাব❞ -আয়াত ২:১৫৬
স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে পরামর্শ, আদেশ, সতর্কতা ও হুশিয়ারী এভাবেই:
❝হে সতর্কবাণীর প্রতি মনোযোগী/ঈমানদারগণ! তোমরা সত্যিকার অর্থে আল্লাহ সম্পর্কে সতর্ক/সাবধান/হুশিয়ার হও। আর তোমরা মুসলিম/পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যু বরণ করনা❞ -কুরআন ৩:১০২, ২:১৩২
➤ মুসলিমের বিপরীত হলো মুজরিমিন (অপরাধী): আয়াত: ৬৮:৩৫, ১০:৮২
একটি ভিডিও: নিচের দিকে দেখুন!
আন্দাজ- অনুমান নির্ভর মন্তব্য করা, কমেন্টস করা কত বড় অপরাধ-গুনাহ তাকি আমরা জানি-বুঝি? দেখুন, আমাদের রব কি বলেন?
আল-কুরআন অনুমান নির্ভর কথা বলা বা জ্ঞান ছাড়া কথা বলার নিন্দা করেছে। এটিকে প্রায়শই মিথ্যাচার এবং ভুল পথে চালিত করার কারণ হিসেবে দেখা হয়। কয়েকটি আয়াত নিচে উল্লেখ করা হলো:
সূরা আল-হুজুরাতের আয়াত ১১ ও ১২ তে আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, যা অনুমান নির্ভর কথা বলা, অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং পরনিন্দা থেকে বিরত থাকতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।
একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কতটুকুইবা আমরা জানি?
👉 আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি সেটার পিছু নিও না। নিশ্চয় কান ও চোখ ও অন্তর, সেগুলোর প্রত্যেকটি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে- সূরা বনি ইসরাইল ১৭:৩৬
আমিও যে আসছি....! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রজেউন! (সূত্র: আয়াত ২:১৫৬, আর দ্র: ৫:১০৬)
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২:
"ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা বেশি বেশি অনুমান করা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর দোষ খুঁজে বেড়াবে না এবং তোমাদের একজন অপরজনের পিছনে নিন্দা করবে না। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাবে? তখন তোমরা তা অপছন্দ করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, দয়ালু।"
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১:
"ওহে যারা ঈমান এনেছ! কোনো জনগোষ্ঠী যেন কোনো জনগোষ্ঠীকে উপহাস না করে, হতে পারে যে, তারা তাদের থেকে উত্তম হবে। আর না নারীরা কোনো নারীদেরকে, হতে পারে যে, তারা তাদের থেকে উত্তম হবে। আর তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে নিন্দা কোরো না এবং তোমরা পরস্পরকে ব্যঙ্গাত্মক উপাধিসমূহ দিয়ে ডাকবে না। ঈমান আনার পর মন্দ নাম কতই না খারাপ! আর যারা তওবা করে না, তাহলে ওরাই জালিম।"
এই আয়াতগুলোর অনুধাবন:
আয়াত ১২:এখানে আল্লাহ তা'আলা "অধিকাংশ অনুমান" থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ "কোনো কোনো অনুমান পাপ"। এর অর্থ হলো, মানুষের সম্পর্কে নেতিবাচক বা খারাপ ধারণা পোষণ করা এবং সেই ধারণার ভিত্তিতে কথা বলা বা কাজ করা গুনাহের কারণ হয়। এর পরেই গোপন বিষয় অনুসন্ধান (তাজাসসুস) এবং গীবত (পরনিন্দা) থেকে নিষেধ করা হয়েছে। গীবতকে এখানে এতটাই জঘন্যভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা মানব প্রকৃতিগতভাবেই চরম ঘৃণ্য কাজ।
আয়াত ১১:এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা উপহাস করা, একে অপরের প্রতি দোষারোপ করা এবং মন্দ নামে ডাকার মতো ঘৃণ্য সামাজিক আচরণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর কারণ হলো, বাহ্যিকভাবে যাকে ছোট মনে হচ্ছে, সে হয়তো আল্লাহর কাছে অনেক উত্তম হতে পারে। উপহাস ও দোষারোপ করার প্রবণতা প্রায়শই অন্যের সম্পর্কে অনুমান নির্ভর নেতিবাচক ধারণা থেকেই জন্ম নেয়।
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, অনুমান নির্ভর কথা বলা, অন্যের সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করা, উপহাস করা, দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং পরনিন্দা করা—এগুলো সবই ইসলামে গুরুতর পাপ। এগুলো শুধু ব্যক্তির নৈতিকতাকেই নষ্ট করে না, বরং সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতিও বিনষ্ট করে।
সূরা ইউনুস, আয়াত ৩৬: "তাদের অধিকাংশই কেবল অনুমানের অনুসরণ করে। নিঃসন্দেহে অনুমান সত্যের মোকাবিলায় কোনই কাজে আসে না। তারা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক পরিজ্ঞাত।"
সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩৬: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তর – এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২: "হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান পাপ।"
সূরা আন-নূর, আয়াত ১৫: "যখন তোমরা মুখে মুখে সে কথা ছড়াচ্ছিলে, যার কিছুমাত্র জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা একে সাধারণ বিষয় মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর কাছে তা ছিল গুরুতর।"
এগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, জ্ঞান ছাড়া বা নিছক অনুমানের উপর ভিত্তি করে কথা বলা আল্লাহ তা'আলার কাছে অপছন্দনীয় এবং অনেক সময় তা পাপের কারণ হয়। বিশেষত যখন তা অন্যের সম্মানহানি করে বা সমাজে ফেতনা সৃষ্টি করে।
── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ──
কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে তাকি মানুষ বলতে পারে? আয়াত কি বলে?
কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, এটি একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন। মানুষ এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ফয়সালা দিতে পারে না। আল-কুরআন পরিষ্কারভাবে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে:
সূরা আল-কাহফ, আয়াত ২৯: "বলো, সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে ঈমান আনুক এবং যে ইচ্ছা করে কুফরি করুক।
সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১০৮: "আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা শির্ক করত না। আমি তোমাকে তাদের উপর রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের কর্মবিধায়কও নও।"
সূরা লুকমান, আয়াত ৩৪: "নিশ্চয় কিয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন যা মায়ের গর্ভে আছে। আর কোনো প্রাণ জানে না যে, সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে এবং কোনো প্রাণ জানে না যে, সে কোন ভূমিতে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সবকিছুর খবর রাখেন।"
এগুলো থেকে বোঝা যায় যে, প্রতিটি ব্যক্তির শেষ পরিণতি কী হবে, তা একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন। মানুষ শুধু সাধ্যমতো ভালো কাজ করতে পারে, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারে এবং আল্লাহর রহমতের আশা করতে পারে। কোনো ব্যক্তি দুনিয়াতে যত বড় পাপীই হোক না কেন, যদি সে sincerely তওবা করে এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, তবে সে জান্নাতে যেতে পারে। আবার, আপাতদৃষ্টিতে নেককার ব্যক্তিও হয়তো কোনো ভুলের কারণে বা আল্লাহর ইচ্ছায় জান্নাত থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই এই বিষয়ে কোনো মানুষের পক্ষে মন্তব্য করা সম্পূর্ণ অনুচিত।
এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর উপর ভিত্তি করে কাউকে জান্নাতি বা জাহান্নামী বলে মন্তব্য করা বড় ধরনের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে পারি।