দান (Charity) এবং সাদাকা (Sadaqah) শব্দ দুটিকে সাধারণত একই অর্থে ব্যবহার করা হলেও, ইসলামী পরিভাষায়/ কোরআনের দৃষ্টিতে এগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য রয়েছে। তবে, অনেক সময় কোরআনে এগুলোকে বিনিময়যোগ্য শব্দ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্বারা সাধারণ দানকেই বোঝানো হয়েছে।
আসুন, কোরআনের দৃষ্টিতে এই দুটি শব্দের পার্থক্য ও সাদৃশ্যগুলো পর্যালোচনা করি:
সাদাকা (صدقة - Sadaqah)
আভিধানিক অর্থ: 'সিদক' (صدق) ধাতু থেকে সাদাকা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ সত্যতা বা সত্যনিষ্ঠা। একজন ব্যক্তি যখন আল্লাহর প্রতি তার ঈমানের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য আল্লাহর পথে কিছু ব্যয় করে, তখন তাকে সাদাকা বলা হয়। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দেওয়া হয়।
কোরআনে সাদাকার বৈশিষ্ট্য:
➥ ঈমানের সত্যতার প্রমাণ: সাদাকা মূলত একজন মুমিনের ঈমানের সত্যতা ও আল্লাহর প্রতি তার নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।
সূরা হাদীদ (৫৭:১৮): নিশ্চয় যারা সাদাকাহকারী পুরুষ ও সাদাকাহকারী নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, তাদেরকে কয়েকগুণ বেশি দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহৎ পুরস্কার।
কোরআনে সাদাকার বৈশিষ্ট্য:
➥
➥ যাকাতের ব্যাপকতর অর্থ: অনেক সময় সাদাকা শব্দটি যাকাতসহ সব ধরনের দানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যাকাত হলো ফরয সাদাকা।
সূরা তওবা (৯:১০৩): "তাদের ধন-সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করো, এর দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশুদ্ধ করবে।" এখানে সাদাকা বলতে ফরয যাকাতকে বোঝানো হয়েছে।
বিশেষ/নফল দান: ফরয যাকাত ছাড়াও যেকোনো নফল বা বিশেষ দানকেও সাদাকা বলা হয়। এই দান যে কোনো পরিমাণ হতে পারে এবং যে কোনো সময় করা যেতে পারে।
সূরা বাকারা (২:২৭৬): "আল্লাহ রিবাকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সাদাকাকে বৃদ্ধি করেন।"
সূরা বাকারা (২:২৭৪): "যারা তাদের ধন-সম্পদ রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে।"
দান (Charity - সাধারণত 'ইনফাক' বা 'আতা' শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ)
আরবিতে 'দান' (Charity) এর জন্য 'ইনফাক' (إنفاق - ব্যয় করা), 'আতা' (عطاء - প্রদান করা) বা 'ইহসান' (إحسان - অনুগ্রহ করা) এর মতো শব্দগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। এই শব্দগুলো সাদাকার চেয়ে কিছুটা ব্যাপকতর অর্থ ধারণ করতে পারে।
কোরআনে 'ইনফাক' (ব্যয় করা) এর বৈশিষ্ট্য:
আল্লাহর পথে ব্যয়: ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ (আল্লাহর পথে ব্যয়) একটি ব্যাপক ধারণা, যা সাদাকাসহ সমস্ত আর্থিক ত্যাগকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যেকোনো ধরনের ব্যয় হতে পারে, যেমন—জিহাদের জন্য অর্থ ব্যয়, অভাবীদের সাহায্য, নাযিলকৃত অহী তথা আল-কোরআনের আয়াত প্রচার ইত্যাদি।
সূরা বাকারা (২:২৬১): "যারা আল্লাহর পথে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা হলো একটি শস্যবীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রতিটি শীষে একশ দানা থাকে।"অবশ্যই প্রদানীয় নয়: ইনফাক সব সময় ফরয হয় না, আবার কিছু ইনফাক অবশ্যই ফরজ আবার অপশনালও।
উত্তম বস্তু ব্যয় করা: কোরআন ইনফাকের ক্ষেত্রে উত্তম ও প্রিয় বস্তু ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে।
সূরা আলে ইমরান (৩:৯২): "তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।"
অভাবীদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য: ইনফাক বা দান করার ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সূরা বাকারা (২:২১৫): "তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বলো, যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে, তা পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য।"
অবশ্যই প্রদানীয় নয়: ইনফাক সব সময় ফরয হয় না, আবার কিছু ইনফাক অবশ্যই ফরজ আবার অপশনালও। উত্তম বস্তু ব্যয় করা: কোরআন ইনফাকের ক্ষেত্রে উত্তম ও প্রিয় বস্তু ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছে।সূরা আলে ইমরান (৩:৯২): "তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।"
অভাবীদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য: ইনফাক বা দান করার ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
