আমি কেন Boss? Why am I the boss?

BCS ক্যাডার, কর্মকর্তা, নেতা, CEO, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- এমন মর্যাদাবান! আসল পরীক্ষা, ভয় লাগে- পাশ করতে পারব তো?

জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা নিজেদের কাছে একটি প্রশ্ন করি- আমি কি সত্যিই এই জায়গার জন্য উপযুক্ত? আমি কি সেই ‘Boss’, যিনি আল্লাহর দেওয়া পরীক্ষা সফলভাবে পাস করতে পারবো? আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য, আর এই পরীক্ষা কেবল আমাদের কর্ম এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন হবে।

(রব-এর শিখিয়ে দেয়া দুআ’ শুনুন পোষ্টের নীচের দিকে-)

Surah Al-An'am (6:165):

“আর তিনিই, যিনি তোমাদেরকে পৃথিবীর প্রতিনিধি (khalifa) করেছেন এবং তিনি তোমাদের একে অপরের ওপর মর্যাদায় সমুন্নত করেছেন, যেন তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সেটার ক্ষেত্রে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন। নিশ্চয়ই তোমার রব শাস্তিদানে দ্রুত আর তিনি তো অবশ্যই ক্ষমাশীল, দয়ালু।”-6:165

এই আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, আমরা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্বকারী -একটি বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আমাদের জীবনের সবকিছু, যেমন ক্ষমতা, সম্পদ, বা প্রতিভা, সবই একটি পরীক্ষা। আমরা কতটা ভালোভাবে এগুলো পরিচালনা করতে পারি, সেটাই মূল বিষয়।

আর অবশ্যই আমরা আদম সন্তানদেরকে সম্মানিত করেছি এবং তাদেরকে স্থলের ও জলের মধ্যে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উপযোগী বস্তুসমূহ থেকে রিযিক দিয়েছি এবং আমরা যা সৃষ্টি করেছি, তার মধ্য থেকে অনেকের উপর তাদেরকে বিশেষত্ব দিয়েছি, যথাযথ বিশেষণে-7:70

মানুষ সৃষ্টির অন্যান্য অনেক কিছুর উপর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এর পেছনে কারণ হলো, মানুষকে বুদ্ধিমত্তা, ইচ্ছাশক্তি, এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এই মর্যাদা দায়িত্ব বহন করে—ন্যায়বিচার করা, সৃষ্টির যত্ন নেওয়া এবং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করা।


পরীক্ষার ভয়? তবে কি করব?

আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন বিভিন্নভাবে — কখনও ভয়, কখনও ক্ষুধা, কখনও সম্পদের অভাব দিয়ে। কিন্তু তিনি সবসময় ধৈর্যশীলদের জন্য আশার আলো জ্বালিয়ে দেন।

Surah Al-Baqarah (2:155-156):

“আর আমরা অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয় ও ক্ষুধা-এর এবং সম্পদ ও জীবন আর ফলফসলাদি-এর ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যধারণকারীদেরকে সুসংবাদ দাও; যারা, যখন বিপদ তাদের আক্রান্ত করে, তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।”

পরীক্ষার ভেতর ধৈর্য ধরে থাকাই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ একটি সুযোগ — নিজেকে প্রমাণ করার এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের।


Boss হওয়ার জন্য যে ধৈর্য প্রয়োজন:

Boss বা নেতা হওয়া মানে শুধু শক্তি আর কর্তৃত্ব নয়। এটি দায়িত্ব এবং ত্যাগের একটি পরীক্ষা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবন এবং সম্পদ দিয়েছেন আমাদের কাজের জন্য। তবে আমরা যদি এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চাই, আমাদের অবশ্যই এই সম্পদ এবং জীবনের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

Surah Al-Anfal (8:28):
“আর জেনে রাখো, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি হলো কেবল একটি পরীক্ষা, এবং আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার।”

এই আয়াতটি আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, যে কোনো ধরনের সম্পদ বা সম্পর্ক যদি আমাদের আল্লাহর নির্দেশ থেকে বিচ্যুত করে, তবে সেটি আমাদের জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। Boss বা নেতা হওয়ার অর্থ নিজের কাজ এবং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের দায়িত্ব পালন করা।


A World Exam Hall

কেন পরীক্ষা?

প্রতিটি পরীক্ষার পেছনে একটি উদ্দেশ্য থাকে। আমরা নিজেদের যাচাই করতে পারি, শিখতে পারি, এবং উন্নতি করতে পারি।

Surah Al-Mulk (67:2):

“যিনি মৃত্যু এবং জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদের মধ্যে কে কর্মে উত্তম; আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”

Boss বা নেতা হওয়া মানে কখনোই ক্ষমতার অপব্যবহার করা নয়। বরং এটি একটি সুযোগ, যেখানে আমরা নিজের দক্ষতা এবং ইমানের মাধ্যমে ভালো কর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।


পৃথিবী কি শুধুই অলঙ্কার?

আমরা প্রায়ই পৃথিবীর জিনিসপত্র নিয়ে মোহিত হয়ে যাই। কিন্তু আল্লাহ এই জগতের অলঙ্কার বা চাকচিক্য দিয়েও আমাদের পরীক্ষা করেন।

Surah Al-Kahf (18:7):

“নিশ্চয়ই আমরা যা পৃথিবীতে আছে তা অলঙ্কাররূপে সৃষ্টি করেছি, যাতে তাদের পরীক্ষা করতে পারি—তাদের মধ্যে কে কর্মে উত্তম।”

Surah Al-A’raf (7:32):

“বলো! কে হারাম করেছে আল্লাহর সেসব সৌন্দর্য-উপকরণকে, যেসব তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং রিযিকের মধ্য থেকে উপযুক্ত বস্তুসমূহকেও? বলো! সেগুলো তাদের জন্য যারা ঈমান আনে; দুনিয়ার জীবনের মধ্যে, বিশেষ করে কিয়ামত দিবসেও।”

Boss হওয়ার অর্থ হলো এই অলঙ্কারগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং এগুলোর পেছনে অযথা দৌড়ানো থেকে নিজেকে বিরত রাখা।


তবে দুআ-তে যে চাওয়া-পাওয়া:শুকরিয়া-

৪০ বছর বয়সে যখন স্বয়ংসম্পূর্ন, যে দুআ: (নেয়ামত প্রাপ্তিতে শোকরিয়া: নিজের জন্য, পিতা-মাতা-নিজ সন্তানের পরিশুদ্ধির জন্য) দেখুন, আল কোরআনের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকার ফলে আমাদের রবের শিখিয়ে দেয়া যে বিউটিফুল দু’আটি এতদিন আমরা অনেকেই মিস করেছি: 

আর আমরা মানুষকে অসিয়ত করেছি তার বাবা-মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করতে। তার মা তাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছিল এবং তাকে কষ্ট করে প্রসব করেছিল। আর তার গর্ভধারণ এবং তার দুগ্ধত্যাগ ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তি-সামর্থ্যে পৌঁছল এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হলো, সে বলল! 
رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰہُ وَ اَصۡلِحۡ لِیۡ فِیۡ ذُرِّیَّتِیۡ ۚؕ اِنِّیۡ تُبۡتُ اِلَیۡکَ وَ اِنِّیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۵

হে আমার রব! আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি এবং আমার বাবা-মায়ের প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজন্মের মধ্যে পরিশুদ্ধি দান করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত-সূরা আল আহকাফ, আয়াত ৪৬:১৫  

(ভিডিও-1 খুলুন এখানে): 
- - - - - - - - - - - - - 
সূরা আল বাকারা, আয়াত ২:২০০-২০১:

“তবে মানুষের মধ্য থেকে যারা বলে, হে আমাদের রব! আপনি দুনিয়ার মধ্যেই আমাদেরকে দিন। আর আখিরাতের মধ্যে তার জন্য কোনো অংশ নেই। আর তাদের মধ্যে থেকে যারা বলে-

 رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ 

হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়ার মধ্যে কল্যাণ ও আখিরাতের মধ্যে কল্যাণ দিন। এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন-2:201” 

দুআটির জন্য এখানে ক্লিক করুন- দুআ: ভিডিও-2



সূরা আল বাকারা, আয়াত ২:২৮৬,  দুআ-ভিডিও-2

হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার চাপিয়ে দিবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু চাপিয়ে দিবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন!-2:286

Video-3

উপসংহার

পরীক্ষার ভয় আমাদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায়, কিন্তু সেই ভয় কখনোই আমাদের থামিয়ে দিতে পারে না। Boss হওয়া মানে হলো আত্মবিশ্বাসের সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা।

আসুন আমরা সকলে আল্লাহর পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝি এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করি। আমাদের সম্পদ, জীবন, ক্ষমতা — সবই একদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। সেই দিন যেন আমরা বলতে পারি, হ্যাঁ, আমি Boss ছিলাম কারণ আমি আল্লাহর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছি।




Post a Comment (0)
Previous Post Next Post