বেঁচে থাকা আর জীবিত থাকা কি এক জিনিস? কী বলেন আমাদের রব! What is sleep? Is living and being alive the same thing? What does our Rabb (Lord) say!

 

  • ঘুম কী?
  • বেঁচে থাকা আর জীবিত থাকা কি এক জিনিস?
  • ঘুমের আগে এবং পরে  দোয়া/তাসবীহ/ প্রার্থনা:

ঘুম ! ! 

আগে জানার চেষ্টা করি ঘুম জিনিসটা কী? রাত যত গভীর হতে থাকে তত ঘুমের টেনডেনসি বৃদ্ধি পেতে থাকে কেন! ঘুমের মধ্যে আমার কি লাভ হয় এবং আমাদের যিনি এভাবে দৈহিক রিচার্যের ব্যবস্থা করলেন, ইত্যোবসরে তিনি তখন আমাদের প্রত্যেকের ব্যপারে কি কর্ম সম্পাদন করেন? 


ঘুমের প্রয়োজনীয়তা ঠিক যেন কম্পিউটারের "স্লিপ মোডে" থাকার মতো—যেখানে এটি কাজ করার প্রস্তুতিতে পুনরায় নিজেকে প্রস্তুত করে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আমাদের শারীরিক, মানসিক এবং আবেগগত স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Here's an image representing the human biological clock, also known as the circadian rhythm:

ঘুম: একটি রহস্যময় প্রক্রিয়া

ঘুম মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ এবং এটি শুধুমাত্র বিশ্রাম নেওয়ার মাধ্যম নয়, বরং শরীর ও মনের পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঘুমের সাথে আমাদের শরীর ও আত্মার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ঘুম কী?

ঘুম হল এমন একটি শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যেখানে মস্তিষ্কের সচেতনতা হ্রাস পায় এবং শরীর বিশ্রামের অবস্থায় চলে যায়। এই সময় আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর বিভিন্ন ধরণের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

রাত যত গভীর হয়, ঘুমের প্রবণতা কেন বাড়ে?

ঘুমের প্রবণতা বাড়ার পেছনে কিছু শারীরিক ও প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে:

  1. সার্কাডিয়ান রিদম (দৈনন্দিন জৈব ঘড়ি):
    আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি রয়েছে যা দিনের আলোর পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা ঘুমের ইচ্ছা তৈরি করে।

  2. শরীরের ক্লান্তি:
    সারাদিন কাজ করার ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সংকেত পাঠায় এবং ঘুমের প্রস্তুতি নেয়।

  3. আলোর প্রভাব:
    দিনের আলো কমে যাওয়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে বিশ্রামের সময় হয়েছে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে এই প্রভাব আরও প্রবল হয়।

ঘুমের মধ্যে আমাদের কী লাভ হয়? (রিচার্জ হয়):

ঘুম শুধু বিশ্রামের সময় নয়; এটি শারীরিক ও মানসিক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। 

  1. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার:
    ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারা দিনের তথ্য সংগঠিত করে এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলে। এতে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়।

  2. শরীরের কোষ মেরামত:
    ঘুমের সময় শরীরের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হয় এবং টিস্যু ক্ষতি মেরামত হয়।

  3. ইমিউন সিস্টেমের উন্নয়ন:
    ঘুমের মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়, যা আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

  4. মানসিক সুস্থতা:
    পর্যাপ্ত ঘুম উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখে।


ঘুমের সময় আমাদের রব যে কর্ম সম্পাদন করে থাকেন, আমরা কি তা জানি? 

আল-কুরআনে ঘুমকে "ছোট মৃত্যু" বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন:
"আল্লাহ মানুষকে মৃত্যুর সময় তাঁর প্রাণ পুরোপুরি গ্রহণ করেন এবং যারা মারা যায়নি তাদের ঘুমের সময় আত্মা গ্রহণ করেন।" — সূরা যুমার (৩৯:৪২)।

ঘুমের সময় আল্লাহ:

  1. আমাদের আত্মা ফিরিয়ে নেন:
    ঘুমের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের আত্মা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফিরিয়ে নেন এবং এটি মৃত্যুর একটি ক্ষণস্থায়ী রূপ।

  2. কর্ম রেকর্ড করেন:
    ঘুমের সময়ও আমাদের কর্মের রেকর্ড আল্লাহর কাছেই থাকে।

  3. শরীর পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা করেন:
    ঘুমের মাধ্যমে আমাদের দেহকে পুনরায় শক্তি ও কার্যক্ষমতা প্রদান করেন।

  4. পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত করেন:
    ঘুমের পর জাগ্রত হওয়াটাই আল্লাহর দানের একটি নিদর্শন। এটি আমাদের জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি এবং পুনরুত্থানের (আখিরাত) প্রতি ইঙ্গিত করে।

ঘুম শুধু শারীরিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আধ্যাত্মিক দিক থেকেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। যারা ঘুমের রহস্য ও এর পেছনের মহান স্রষ্টার কর্ম বোঝার চেষ্টা করেন, তারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের মহত্ব উপলব্ধি করতে পারেন।

আল কোরআন ঘুমকে আল্লাহর অসীম শক্তির নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছে। এটি কেবল বিশ্রাম নয়, বরং মানসিক পুনরুজ্জীবনের একটি সময়। কোরআনে দিনকে কাজের জন্য এবং রাতকে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত সময় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এখানে কিছু প্রাসঙ্গিক কুরআনিক আয়াত রয়েছে যা ঘুমের বিষয়ে: 

১. সুরা রুম (৩০:২৩)

· “আর রাতে ও দিনে তোমাদের ঘুম এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের অন্বেষণ তাঁর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই সেসবের মধ্যে এমন জনগোষ্ঠীর জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে যারা শ্রবণ করে।”

২. সুরা আল-ফুরকান (২৫:৪৭)

  • “এবং তিনি সেই ব্যক্তি যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং দিনকে তোমাদের জন্য দৃষ্টি প্রদানকারী করেছেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য লোকদের জন্য নিদর্শন।”

এই আয়াতে রাতের ঘুমকে বিশ্রামের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দিনকে কার্যক্রমের সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

৩. সুরা আয-যুমার (৩৯:৪২)

  • “আল্লাহ সেই আত্মাগুলিকে ((নফস) গ্রহণ করেন যাদের মৃত্যুর সময় এসেছে এবং যারা তাদের ঘুমে মৃত নয়, তাদেরকে তিনি আটকে রাখেন যাদের মৃত্যু স্থির হয়েছে এবং অন্যদেরকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মুক্তি দেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য লোকদের জন্য নিদর্শন।”

এই আয়াতটি ঘুমকে অস্থায়ী মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করে এবং এটি আল্লাহর জীবনের প্রতি পূর্ণ কর্তৃত্বের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 


ঘুম সম্পর্কে কুরআনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:

  1. ঘুম আল্লাহর দান হিসেবে (Sleep as a Gift from Allah): কুরআনে ঘুমকে আল্লাহর করুণার একটি নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি শরীরের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে:
    • “আর তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য রাতকে পোশাকস্বরূপ ও ঘুমকে বিশ্রামস্বরূপ করেছেন এবং তিনি দিনকে করেছেন জাগরণ উপযোগী" (কুরআন 25:47)
  1. ঘুম এবং মৃত্যু (Sleep and Death): কুরআন ঘুম ও মৃত্যুর মধ্যে একটি সম্পর্ক তৈরি করেছে, উল্লেখ করে যে ঘুম একটি অস্থায়ী মৃত্যু এবং ঘুমের সময় আত্মা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়:
    • “এটি আল্লাহই যারা মৃত্যু সময়ে আত্মা (নফস) নেন এবং যারা ঘুমের মধ্যে মরে না। এরপর তিনি যাদের মৃত্যু বিধি করেন তাদের রাখেন এবং অন্যদের নির্ধারিত সময়ের জন্য ফিরে পাঠান। নিশ্চয় এতে চিন্তা করার জন্য সাইন রয়েছে।” (আল কোরআন 39:42)

এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, ঘুম মৃত্যু সদৃশ, কারণ এটি আত্মার শরীর থেকে অস্থায়ী বিচ্ছিন্নতা, এবং আত্মা জাগরণের পর ফিরে আসে। 

  1. বিশ্রাম এবং পুনরুজ্জীবন (Rest and Revival): কুরআনে ঘুমকে একটি পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষকে পরবর্তী দিনের জন্য শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে:

    • “এবং তোমাদের ঘুমকে বিশ্রামের জন্য এবং রাত্রিকে আবরণ হিসেবে এবং দিনকে জীবিকার জন্য তৈরি করেছেন।” (আল কোরআন 78:8-11)
    • জাগরণ এবং হিসাব (Awakening and Accountability): ঘুম একটি অস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তার অবস্থান হিসেবে দেখা হয়, তবে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া মানে সচেতনতা এবং দায়িত্বের দিকে ফিরে আসা। মুসলিমদের আল্লাহর করুণার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয় এবং জাগ্রত হওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলা হয়:
  • দিনের কাজগুলো রেকর্ড করা হয়: সব Caught!

    আল-কুরআনের সূরা আনআম (৬:৬০) একটি গভীর ও তাত্ত্বিক আয়াত যেখানে আল্লাহর জ্ঞানের অসীমতা এবং আমাদের জীবনের উপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    আয়াতটি:
    "আর তিনিই, যিনি রাতে তোমাদের মৃত্যু দেন (আত্মা নিয়ে নেন) এবং দিনে যা কিছু তোমরা অর্জন করো তা জানেন। এরপর তিনি তোমাদের পুনরায় জাগিয়ে তোলেন, যেন নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। তারপর তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে এবং তিনি তোমাদের সে সমস্ত কিছু জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে।" — সূরা আনআম (৬:৬০)

    আধুনিক উপমা:

    এই আয়াতকে সহজভাবে বোঝার জন্য আমরা "পেন ড্রাইভ" ধারণা ব্যবহার করতে পারি। ঠিক যেমন পেন ড্রাইভে আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সংরক্ষণ করি এবং প্রয়োজনে তা পুনরুদ্ধার করি, আল্লাহও আমাদের প্রতিটি কাজ, চিন্তা ও অর্জন নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করেন। সময়ের নির্দিষ্ট মুহূর্তে এই সবকিছু প্রকাশিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তির আলোকে এই উপমা বিষয়টিকে আরও সহজে বুঝতে সহায়তা করে।

    আয়াতের মূল শিক্ষা ও বিষয়বস্তু:

    1. রাতে প্রাণগ্রহণ বা আত্মা ফিরিয়ে নেওয়া:
      রাতে আল্লাহ আমাদের ঘুমের মাধ্যমে আত্মা নিয়ে নেন। এটি একটি ক্ষণস্থায়ী মৃত্যু বা অচেতন অবস্থা, যা আল্লাহর দয়া ও শক্তির নিদর্শন।

    2. দিনের কাজগুলো রেকর্ড করা:
      প্রতিদিন আমরা যা কিছু করি, আল্লাহ তা জানেন এবং সেগুলো নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করেন। একদিন আমাদের সামনে এই সমস্ত কাজের হিসাব তুলে ধরা হবে।

    3. জীবনের পুনর্জাগরণ:
      রাতের ঘুম শেষে সকালে জেগে ওঠা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ করুণা। এটি পুনরুত্থানের একটি ছোট প্রতীক, যা মৃত্যুর পর আমাদের পুনরায় জীবিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

    4. কর্মফলের জবাবদিহিতা:
      প্রতিটি কাজের জন্য একদিন বিচার হবে। দিনের কাজগুলো যেভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো পুনরুত্থানের দিন উপস্থাপিত হবে, এবং আমরা সেগুলোর জন্য জবাবদিহি করব।

    এই আয়াত আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করার শিক্ষা দেয়। আমাদের কাজের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত, তাই সচেতনভাবে সৎ পথে জীবন যাপন করা উচিত।

জীবিত থাকা এবং বেঁচে থাকা কি একই জিনিস? আল কুরআন কি বলে?

"জীবিত থাকা" এবং "বেঁচে থাকা" দুটি আলাদা ধারণা, যদিও এগুলি পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। সাধারণভাবে, "জীবন" এবং "বেঁচে থাকা" শব্দ দুটি প্রায়ই একে অপরের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, তবে এগুলির ভিন্ন ভিন্ন গভীর বোধগম্যতা রয়েছে।, বিশেষ করে সেটি প্রসঙ্গের উপর নির্ভর করে।


  • বেঁচে থাকা মূলত জীববৈজ্ঞানিক অবস্থাকে বোঝায়। এর মানে হল যে একটি জীবের মৌলিক জীবন কার্যকলাপ—যেমন হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া—সক্রিয় রয়েছে। এটি সমস্ত জীবন্ত সত্তার জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে মানুষ, প্রাণী, এবং গাছপালা অন্তর্ভুক্ত। সহজভাবে, এটি শারীরিক অর্থে কায়িক অস্তিত্বের উপস্থিতি বোঝায়। 
  • জীবন তবে আরও গভীর এবং সক্রিয় অর্থ বহন করে। এটি শুধুমাত্র শারীরিক অবস্থাকে নির্দেশ করে না, বরং মানসিক, আত্মিক এবং অনুভূতিগত দিকও অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একজন ব্যক্তির জীবনের গুণগত মান, সুখ, শান্তি, এবং উদ্দেশ্যপূর্ণতা বোঝায়।

এটি শুধুমাত্র জীববৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং একজন ব্যক্তি বা সত্তার জীবনের অভিজ্ঞতা, পরিবেশের সাথে যোগাযোগ এবং সচেতন চিন্তা, কর্ম, এবং আবেগের প্রতি মনোযোগকে বোঝায়। "জীবন" মানে হতে পারে উদ্দেশ্যমূলক কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পর্ক এবং একজনের সম্ভাবনা পূর্ণ করার অভিজ্ঞতা।


এভাবে, "বেঁচে থাকা" হলো শারীরিক অবস্থার অস্তিত্বের প্রমাণ, তবে "জীবন" মানে একটি আরও সক্রিয় এবং অর্থপূর্ণ অস্তিত্বের প্রমাণ 


আল কুরআন জীবন্ত থাকা এবং অস্তিত্বের প্রকৃতি নিয়ে অনেকভাবে আলোচনা করেছে, এবং এটি এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে যা শারীরিকভাবে বেঁচে থাকার অবস্থার সাথে জীবনের আরও গভীর অর্থের সংযোগ স্থাপন করে। 

"যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন স্পষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে ধ্বংস হয় আর যে জীবিত থাকার সে স্পষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে জীবিত থাকবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ‌ অবশ্যই সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন-আল কোরআন ৮:৪২"

আল-কোরআনের দৃষ্টিতে মানুষের "জীবিত থাকা" বলতে শুধুমাত্র শারীরিকভাবে প্রাণবন্ত থাকা বোঝানো হয় না। বরং এটি একটি গভীর এবং বহুমাত্রিক ধারণা, যেখানে মানুষের আত্মিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন মানুষের জীবিত থাকার প্রকৃত অর্থকে ঈমান, সৎকর্ম, এবং আল্লাহর পথে পরিচালিত জীবনযাত্রার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এখানে কয়েকটি দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো:


.
আধ্যাত্মিক জীবন এবং সঠিক পথের অনুসরণ (নাযিলকৃত অহীর সংযোগ ও অনুশীলন): 

"আল-কোরআনের দৃষ্টিতে বোঝানো হয়েছে যে, প্রকৃত জীবনের অর্থ হলো আধ্যাত্মিক সজীবতা অর্জন করা, যা শুধুমাত্র শারীরিক অস্তিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সেই অবস্থাকে নির্দেশ করে, যেখানে একজন ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশিত সঠিক পথে (উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুশাসন) চলতে থাকে এবং তার জীবন সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে সার্থকতা লাভ করে। যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম (আমলে সলেহ) করে এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তারাই প্রকৃত জীবনের অধিকারী। অন্যদিকে, যারা কুফরি ও পাপাচারে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহর নির্দেশনা থেকে বিচ্যুত হয়, তারা বাহ্যিকভাবে জীবিত থাকলেও তাদের আত্মিক জীবন মৃত। যেমন, আল-কোরআনে বলা হয়েছে:" 

"যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সজীব করেন।"
(সূরা আনফাল, :২৪)

এখানে বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া এবং সৎ পথে চলা একজন মানুষকে আত্মিকভাবে জীবিত করে তোলে।


. আত্মার সুস্থতা বনাম শারীরিক জীবন:

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে, জীবনের প্রকৃত অর্থ কেবলমাত্র শারীরিক অস্তিত্বে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের আত্মা যদি আল্লাহর নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা মৃত্যুর সমতুল্য। যেমন:

"তারা তো অন্ধ নয়, বরং তাদের হৃদয় অন্ধ হয়ে গেছে।"
(সূরা হজ, ২২:৪৬)

এখানে বলা হয়েছে, শারীরিক দৃষ্টিশক্তি থাকার পরও যারা সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের আত্মা এবং অন্তর্দৃষ্টি অন্ধ হয়ে যায়।

"তারা নূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল; ফলে আমি তাকে এবং তার সঙ্গীদের নৌকায় রক্ষা করলাম এবং যারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল, তাদের ডুবিয়ে দিলাম। নিশ্চয় তারা ছিল অন্ধ লোক।" (সূরা আনকাবুত, 29:15)


. জীবন মৃত্যুর প্রকৃত অর্থ (নাযিলকৃত অহী শুনতে চায়না মৃতরা):

কোরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, সত্যিকারের মৃত্যু হল আত্মিক মৃত্যু। যারা আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী, তাদের অবস্থাকে কোরআন এমনভাবে বর্ণনা করে যেন তারা জীবিত হয়েও মৃত:

"তুমি মৃতদেরকে শোনাতে পারো না।"
(সূরা নামল, ২৭:৮০)

এখানে "মৃত" শব্দটি তাদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে।


. আল্লাহর স্মরণে জীবন খুঁজে পাওয়া (নাযিলকৃত অহীর সংযোগ ও অনুশীলন):

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণ মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয় এবং এটিই প্রকৃত জীবনের পথ। যেমন:

"জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।"
(সূরা রা', ১৩:২৮)

এখানে বোঝানো হয়েছে যে, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার পথে চলে, তারা প্রকৃত সুখ এবং জীবনের সার্থকতা পায়।

নাযিলকৃত অহী/আয়াত/যিকির থেকে বিচ্ছিন্ন (disconnected) হলেই সাথে সাথে সেখানে শয়তান নিযুক্ত হয়ে যায়: প্রমাণ দ্র: আল কোরআন ৪৩:৩৬, ৭:১৭৫।


আল-কোরআনের দৃষ্টিতে মানুষের জীবিত থাকা বলতে শারীরিক অস্তিত্ব ছাড়াও আত্মিক সজীবতা, নৈতিকতা, ঈমান, এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে প্রকৃত জীবনের সন্ধান করা বোঝায়। যারা আল্লাহর পথে চলে এবং সত্যের অনুসারী হয় (নাযিলকৃত অহীর সংযোগ ও অনুশীলন), তারা সত্যিকার অর্থে জীবিত। অন্যদিকে, যারা দিক থেকে বিচ্যুত, তারা জীবিত থেকেও আত্মিকভাবে মৃত।

জীবন একটি পরীক্ষা এবং উদ্দেশ্য: জীবন বনাম বেঁচে থাকা:

কোরআন অনুযায়ী, "বেঁচে থাকা" শারীরিক কার্যক্রমের উপস্থিতি, কিন্তু "জীবন" হল আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থপূর্ণ কাজের মাধ্যমে অর্জিত অবস্থান।  কুরআন আরও বলে যে, জীবন শুধুমাত্র জীববৈজ্ঞানিক অস্তিত্ব নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করার উদ্দেশ্য। এটি দেখায় যে জীবন একটি পরীক্ষা, যেখানে মানুষের সুযোগ রয়েছে তাদের বিশ্বাস, কাজ এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করার:

  1. "তিনি যিনি মৃত্যু জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা পরীক্ষা করতে পারো, তোমাদের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ কাজ করবে।" (আল কোরআন 67:2)

এটি জীবনকে শুধুমাত্র জীবিত থাকা নয়, বরং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুসরণ করার একটি পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করে।

  1. আত্মা এবং প্রকৃত জীবন: কুরআনে আত্মা (নফস) সম্পর্কে আলোচনা করেছে এবং বলেছে যে জীবনের প্রকৃত সারবত্তা আধ্যাত্মিক, এবং আত্মাই হল সেই চেতনা যা একজন ব্যক্তিকে তার প্রকৃত উদ্দেশ্যের সাথে সংযুক্ত করে:

    • "তোমরা নিজেদের হত্যা করো না  [আত্মা (নফস)]নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।" (কুরআন 4:29)

    • "এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা সৃষ্টির মধ্যে সেরা।" (আল কোরআন 98:7)

এখানে, "জীবন" এমন একটি উন্নত অবস্থাকে বোঝায় যা আধ্যাত্মিকভাবে পূর্ণ, এবং প্রকৃত জীবন পেতে হলে ন্যায়, বিশ্বাস এবং উদ্দেশ্য অনুসরণের মাধ্যমে তা অর্জন করা যায়।

  1. বেঁচে থাকা এবং মৃত্যু তুলনা: কুরআনে মৃত্যু ও ঘুমের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ঘুম হল একটি অস্থায়ী মৃত্যু এবং ঘুমের সময় আত্মা (নফস) শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি এমনভাবে দেখায় যে "জীবিত থাকা" শুধুমাত্র শারীরিক কার্যক্রমের অবস্থা নয়, বরং এটি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক এবং উচ্চতর উদ্দেশ্যের সাথে সংযোগ করার প্রক্রিয়া:

"এটি আল্লাহই, যিনি মৃত্যু সময়ে আত্মা (নফস) নেন এবং যারা ঘুমের মধ্যে মারা না যায়এরপর তিনি যাদের মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন তাদের রাখেন এবং অন্যদের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফিরে পাঠাননিশ্চয় এতে চিন্তা করার জন্য নিদর্শন রয়েছে।" (আল কোরআন 39:42) [আরও দ্র: ৪০:১৮, ১৩:৩]


এবং তিনিই, যিনি রাতে তোমাদের মৃত্যু দেন এবং দিনে তোমরা যা অর্জন করো সেটা জানেন। এরপর তিনি তাতে তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করেন, যেন নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। এরপর তাঁর দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তিনি তোমাদেরকে সে সম্পর্কে অবহিত করবেন যা তোমরা করতে- আল কোরআন ৬:৬০

এটি আরও দেখায় যে ঘুম (যা মৃত্যু একটি অস্থায়ী রূপ) এমন একটি সময় যেখানে আত্মা শরীর থেকে নেওয়া হয় এবং জাগরণের পর ফিরে আসে, যা জীবন ও মৃত্যুর চক্রের একটি প্রতীক।

"বেঁচে থাকা" হলো জীববৈজ্ঞানিক অস্তিত্বের অবস্থা, যেখানে শারীরিকভাবে একজন ব্যক্তি জীবিত থাকে, কিন্তু কুরআন অনুযায়ী "জীবন" শুধু শারীরিক কার্যক্রমের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত। কুরআনে জীবনকে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার একটি পরীক্ষা হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য, সৎকর্ম এবং আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য (আল্লাহর প্রতি ফিরে যাওয়া) পূরণের প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই কুরআনে "জীবন" একটি গতিশীল প্রক্রিয়া, যেখানে একজন ব্যক্তি জীবনের অর্থপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত থাকে, এবং "বেঁচে থাকা" শুধুমাত্র অস্তিত্বের শারীরিক অবস্থা।

ঘুমের আগে এবং পরে  দোয়া/তাসবীহ/ প্রার্থনা:

জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা: 

ঘুমের সময় এবং জাগরণের পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া মানে নতুন একটি সুযোগ পাওয়া, এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

আল কোরআনে সরাসরি ঘুমের জন্য দোয়া নির্দিষ্ট করা না থাকলেও, কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলি ঘুমের আগে এবং পরে নিরাপত্তা, শান্তি এবং আশীর্বাদ চাওয়ার জন্য পড়া যেতে পারে। এই দোয়া এবং আয়াতগুলি আল্লাহর আশীর্বাদ এবং সুরক্ষা প্রার্থনা করার একটি মাধ্যম, যা রাতে এবং দিনে আমাদের শান্তি এবং একাগ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

ঘুমের আগে কুরআন থেকে দোয়া:

কুরআন সরাসরি ঘুমের জন্য দোয়া নির্ধারণ করেনি, তবে কিছু আয়াত রয়েছে যা ঘুমের আগে নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রার্থনা করার জন্য পাঠ করা যেতে পারে:

  1. সুরা আল-বাকারা, আয়াতুল কুরসি (2:255)
  2. সুরা আল-ফালাক (113:1-5) এবং সুরা আন-নাস (114:1-6)
    (এই দুইটি সূরা বিপদ, দুষ্ট শক্তি, শয়তান ও ঈর্ষা থেকে সুরক্ষা চাইতে পাঠ করা হয়)

ঘুম থেকে ওঠার পর কুরআন থেকে দোয়া /তাসবীহ:

নিশ্চয়ই তুমি আমাদের চোখে চোখে আছ। আর তাসবীহ করো তোমার রবের প্রশংসার সাথে, যখন তুমি উঠবে -৫২:৪৮।

কুরআনে সরাসরি ঘুম থেকে ওঠার পর একটি নির্দিষ্ট দোয়া নেই, তবে কিছু আয়াত রয়েছে যেগুলি জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আল্লাহর রহমত চাওয়ার জন্য উপকারী:

  1. সুরা আলে ইমরান, আয়াত 3:169-170 (মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা):
    • "তোমরা যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো নাবরং তারা তাদের প্রভুর কাছে জীবিত এবং তাদের জন্য রুজি দেয়া হচ্ছে।"

এই আয়াতটি জীবনের উপহার সম্পর্কে চিন্তা করতে অনুপ্রাণিত করে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে সাহায্য করে।

  1. সুরা আল-বাকারা, আয়াত 2:164 (আল্লাহর আশীর্বাদ কৃতজ্ঞতা):
    • "নিঃসন্দেহে আসমান পৃথিবী এবং রাত দিনের পার্থক্য সৃষ্টিতে চিন্তা করার জন্য নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য।"

এই আয়াতটি আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য উৎসাহ দেয় এবং এটি প্রতিদিন জীবনে কৃতজ্ঞতা ও আশীর্বাদ মনে করতে সহায়তা করে।

এই প্রার্থনাগুলির উদ্দেশ্য এবং উপকারিতা:

  • নিরাপত্তা: সুরা আল-ফালাক এবং সুরা আন-নাস মূলত দুষ্ট শক্তি, ঈর্ষা এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা চাওয়ার জন্য পাঠ করা হয়।
  • জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা: আয়াত 3:169-170 এবং 2:164 জীবনের উপহার ও আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত করে।
  • শান্তি এবং আশীর্বাদ: আয়াতুল কুরসি ঘুমের আগে পড়লে শান্তি এবং সুরক্ষা আসে, যা রাতের সঠিক বিশ্রামের জন্য সহায়ক। 

আল্লাহর যেকোন ডাকে/আমলে সাড়া দিতে প্রশংসার সহিত মুভমেন্ট হবে (সূত্র আল কুরআন ১৭:৫২, ১০:১০):

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’-লামি-ন।  অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য  (কেননা তিনি) মহাবিশ^ সমূহের রব- কুরআনুল কারীম ৩৯:৭৫, ১:২, ৬:৪৫, ১০:১০, ৩৭:১৮২, ৪০:৬৫, ৩৪:১৫, (৩২:২)।

سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সুব্হা-নাল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।  অর্থ: জগতসমূহের রব আল্লাহ অপবিত্রতামুক্ত- আল কুরআন ২৭:৮ (৮৭:১)।

تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল্ ‘আ-লামীন্।  অর্থ: আল্লাহ বরকতময়, জগতসমূহের রব- আল কুরআন ৭:৫৪, ৪০:৬৪ (২৭:৬১)।

أَعلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

আলামু আন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বাদীর।  অর্থ: আমি জানি যে, আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান- আল কুরআন ২:২৫৯।

وَهُوَ ٱلَّذِي يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ وَلَهُ ٱخۡتِلَٰفُ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِۚ

আর তিনিই, যিনি জীবন দেন এবং মৃত্যু দেন। আর রাত ও দিনের পরিবতন ক্ষমতা তাঁরই জন্য-২৩:৮০।

كَذَلِكَ النُّشُورُ

কাজলিকাননুশুর-  অর্থ: এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান-আল কুরআন ৩৫:৯।

سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ

সুবহা-নাকা তুবত ুইলাইকা ওয়াআনা- আওয়্যালুল মু’মিনী-ন।  অর্র্থ: আপনি পুত:পবিত্র আমি আপনারই কাছে ফিরে এলাম/ তাওবা করলাম আর আমিই মুমিনদের মধ্যে প্রথম- আল কুরআন ৭:১৪৩ (২০:৮২-৮৪)  

وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ  إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ . الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَاماً وَقُعُوداً وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থ: আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্য, আল্লাহ তালাই সব কিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান। নিসন্দেহে আসমানসমূহ ও যমীনের (নিঁখুত) সৃষ্টি এবং দিবা রাত্রির আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। (এই জ্ঞানবান লোক হচ্ছে তারা) যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’লাকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের এই সৃষ্টি  (নৈপূন্য) সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে, (এবং স্বতস্ফুর্তভাবে তাঁরা বলে ওঠে) হে আমাদের মালিক! সৃষ্টিজগতের কোন কিছুই অযথা বানিয়ে রাখেননি, আপনার সত্বা অনেক পবিত্র! অতএব আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নিস্কৃতি দিন- আল কুরআন ৩:১৮৯ (আরও জানতে- ২:১৬৪, ২৮:৭৩, ১২:১০৫-১০৬,  ৪৫:৫, ২৩:৮৮, ২৩:৮০, ৭:৫৪, ৫৭:৬, ৪৪:৩৮-৩৯)।

  • ঘুমের পজিশন Sleeping position-18:18 
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post