আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন:
“আমরা
কিতাবের
মধ্যে কোনো কিছু বাদ রাখি নাই।” (সূরা আল আন’আম ৬:৩৮)
এবং তিনি আরও বলেন:
“তোমরা
সবাই সেখান থেকে স্থানান্তর হও। এরপর যখন তোমাদের কাছে আমার থেকে কোনো নির্দেশনা আসবে, এরপর যারা আমার নির্দেশনা (হুদা - যা নাযিলকৃত অহী) অনুসরণ করবে, তখন তাদের ওপর কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।” (সূরা আল-বাকারা ২:৩৮)
যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কুরআনে সবকিছুর
দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তাহলে পৃথিবীতে আদম
সন্তানের জন্য নিরাপদ বাড়িঘর
নির্মাণের স্থান সম্পর্কেও কোনো
দিকনির্দেশনা থাকা উচিত।
তথ্য অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা
আমরা জানতে চাই—কুরআন
ও ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আদর্শ বাসস্থানের
উপযুক্ততা নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা
রয়েছে কি না। আমাদের
প্রচেষ্টা হলো কুরআন থেকে
সেই জ্ঞান আহরণ করা,
যা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর ও
নিরাপদ আবাসনের বিষয়ে আলোকপাত করবে।
কি খুঁজতে চাই?
আমরা অনুসন্ধান করতে চাই—
✅
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝুঁকি এড়াতে কুরআন কী বলে
✅
বসবাসের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থানের বৈশিষ্ট্য
✅
প্রাচীন নবীদের সময়কার আদর্শ বসবাসযোগ্য স্থানগুলোর বিবরণ
আসুন, আমরা কুরআনের আলোকে
নিরাপদ ও টেকসই বসবাসের
উপায় খুঁজে বের করি
এবং তার অনুসরণ করি,
যাতে আমরা দুনিয়া ও
আখিরাতে কল্যাণ লাভ করতে
পারি।
📌সমস্যার জন্য দায়ী কে?
📌বস্তুত রবের প্রদত্ত এসব পরামর্শ, উদাহরন কে বা কারা শুনে থাকে?
✅আপনি যদি আল কুরআনে উল্লেখিত আদর্শ স্থান খোঁজেন, যেখানে বসবাসের জন্য ভালো পরিবেশ রয়েছে, তাহলে নিম্নলিখিত আয়াতগুলো গুরুত্বপূর্ণ:
১. উঁচু ভূমি ও প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা:
📖“আর আমি মরিয়মের পুত্র ও তার মাকে এক নিদর্শন করেছি এবং তাদেরকে নিরাপদ ও সুজলা-সুফলা উঁচু স্থানে আশ্রয় দিয়েছি” -সূরা আল-মুমিনুন (২৩:৫০)
✅
এই আয়াত থেকে বোঝা
যায় যে আদর্শ বসবাসের
জায়গা হওয়া উচিত উঁচু
ভূমিতে, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ
ও প্রবাহমান পানি থাকে।
২. উর্বর ও সমৃদ্ধ এলাকা:
✅এখানে "বালাদুন তইয়্যিবুন" (উত্তম ভূমি) বলা
হয়েছে, যা বোঝায় যে
একটি ভালো বসবাসের স্থান
উর্বর, সমৃদ্ধ ও বসবাসের
উপযোগী হওয়া উচিত।
৩. নিরাপদ ও স্থিতিশীল এলাকা
📖“আর তারা বলে, ‘আমরা যদি তোমার সাথে সঠিক পথ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হবে।’ আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থান প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সকল প্রকার ফলমূল আমাদের পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে নিয়ে আসা হয়? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না” -সূরা সাবা (৩৪:১৫)
✅
এখানে বোঝানো হয়েছে যে
নিরাপত্তা ও প্রচুর রিযিকের
ব্যবস্থা থাকা আদর্শ বসবাসের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪. শান্তি ও জীবিকার সংস্থান:
📖“আর যখন ইবরাহিম বললেন,
‘হে আমার প্রতিপালক! এই
শহরকে নিরাপদ করুন এবং
এর অধিবাসীদের ফল-ফলাদি দ্বারা
রিযিক দিন, তাদের মধ্যে
যারা আল্লাহ ও পরকালের
প্রতি ঈমান রাখে’” -সূরা আল-বাকারা (২:১২৬)
✅একটি ভালো জায়গার জন্য
নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত খাদ্য
সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
৫. উন্নত অবকাঠামো ও আরামদায়ক পরিবেশ:
📖“আল্লাহ তোমাদের জন্য ছায়া সৃষ্টি করেছেন, পাহাড়সমূহকে আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য পোশাক বানিয়েছেন, যা তোমাদের গরম থেকে রক্ষা করে, এবং এমন পোশাক যা তোমাদের যুদ্ধের সময় বাঁচায়। এভাবে তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ করো” -সূরা আন-নাহল (১৬:৮১)
✅
এটি দেখায় যে বসবাসের
জন্য প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম আশ্রয়,
সুরক্ষা ও আরামদায়ক অবকাঠামো
থাকা দরকার।
কুরআনের আলোকে পাহাড় ও আশ্রয়স্থল:
📌 পাহাড়কে
আল্লাহ মানুষের আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন (১৬:৮১)
📌
গুহা পাহাড়ের মধ্যে আশ্রয়ের একটি
মাধ্যম (১৮:১৬)
📌
পাহাড় পৃথিবীকে স্থিতিশীল রাখে এবং বসবাসের
উপযোগী করে (৭৮:৬-৭)
📌
পাহাড়কে নিরাপদ মনে করা
হলেও সব পরিস্থিতিতে তা
যথেষ্ট নাও হতে পারে
(১১:৪৩)
সুপেয় পানি ও বসবাসের স্থান:
✅ উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় থাকতে হবে, যেখানে পানি সহজলভ্য (২৩:৫০)
✅
আল্লাহ পানিকে জীবনের উৎস
হিসেবে দিয়েছেন, তাই পানির সংস্থান
থাকা জরুরি (২১:৩০)
✅
বৃষ্টির পানি সুপেয় এবং
তা সংরক্ষণ করা উচিত (২৫:৪৮-৪৯)
✅
নদী, প্রস্রবণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির
সহজলভ্যতা থাকা দরকার (১৬:১০)
✅
পানির অভাব হলে তা
বড় সংকটের কারণ হতে
পারে, তাই সংরক্ষণ দরকার
(১৮:৪১)
🔹 সারসংক্ষেপ: কুরআনের আলোকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আদর্শ স্থান:
কুরআন অনুযায়ী একটি ভালো বসবাসের জায়গা হওয়া উচিত—
✅
উঁচু ও স্থিতিশীল ভূমি
(২৩:৫০)
✅
প্রবাহমান পানির উৎস (২৩:৫০)
✅
উর্বর ও ফলপ্রসূ জমি
(৩৪:১৫)
✅
নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকা
(২৮:৫৭, ২:১২৬)
✅
ভালো অবকাঠামো ও রক্ষাকবচ (১৬:৮১)
এই আয়াতগুলো আমাদেরকে জানায়, আদর্শ বসবাসের
স্থান হতে হবে এমন
একটি জায়গা যেখানে নিরাপত্তা,
সুপেয় পানি, উর্বর ভূমি, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং আরামদায়ক অবকাঠামো থাকবে। এসব বৈশিষ্ট্য
একটি সুন্দর ও উন্নত
জীবন গঠনের জন্য অপরিহার্য।
📌 বস্তুত রবের প্রদত্ত এসব পরামর্শ, উদাহরন কে বা কারা শুনে থাকে? (বর্তমান পৃথিবীর জ্ঞান ভিত্তিক অধিবাসীদের দিকে তাকালেও এর উদাহরন মিলবে বৈকি!)
✅ বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা (উলুল আলবাব) -৩:৭, ৩৯:৯
✅ "এই
কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ
নেই। এটি মুত্তাকিদের
জন্য পথনির্দেশ"-২:২
✅ যারা
চিন্তা-গবেষণা করে (উলুল
নুহা)-২০:৫৪
✅ যারা মনোযোগ দিয়ে শোনে ও উপলব্ধি করে-৫০:৩৭
➡ এই শ্রেণির মানুষই কুরআনের উদাহরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং তাদের জীবনকে আল্লাহর পথের দিকে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়। 🚀
📌মাঝে মধ্যেই যে বিপদ আসে, দায়ী কে?
📖"তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন" সুরা আশ-শুরা, আয়াত ৩০
📖"মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে আল্লাহ তাদের কিছু কিছু কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে" সুরা আর-রুম, আয়াত ৪১
ভুমিকম্প ও সুরক্ষা চেয়ে দুআ:
এরপর যখন ভূমিকম্প তাদেরকে আক্রান্ত করল, সে বলল!
رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ اَہۡلَکۡتَہُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ وَ اِیَّایَ ؕ اَتُہۡلِکُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَہَآءُ مِنَّا ۚ اِنۡ ہِیَ اِلَّا فِتۡنَتُکَ ؕ تُضِلُّ بِہَا مَنۡ تَشَآءُ وَ تَہۡدِیۡ مَنۡ تَشَآءُ ؕ اَنۡتَ وَلِیُّنَا فَاغۡفِرۡ لَنَا وَ ارۡحَمۡنَا وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡغٰفِرِیۡنَ ﴿۱۵۵
হে আমার রব! আপনি যদি চাইতেন পূর্বেই তাদেরকে ও আমাকে ধ্বংস করতে পারতেন। আমাদের মধ্য থেকে নির্বোধরা যা করেছে সে কারণে কি আপনি আমাদেরকে ধ্বংস করবেন? নিশ্চয়ই সেটা কেবল আপনার পরীক্ষা। সেটা দিয়ে যাকে চান আপনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান আপনি হিদায়েত করেন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আমাদেরকে অনুগ্রহ করুন। আর আপনিই ক্ষমাশীলদের উত্তম-7:155
see for more: Surah Al-Falaq (113:1-5) - Seeking protection from harm, Surah At-Tawbah (9:51).
[সুন্দরবনের মূল কাজ কি? সুন্দরবন এলাকায় লোকালয় যাতে গড়ে না ওঠে এজন্য এজন্য রব্বুল আলামিনের দেয়া একটি প্রোগ্রামিং সিসটেম (যা এ পর্যন্ত আমাদের জ্ঞানে দৃষ্টিগোচর হয়েছে) disclose করে আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য একটি পোষ্ট করতে চাই শীঘ্রই, বিইজনিল্লাহ!]
Alhamdulillahi Rabbil Alamein!
-0-








