❖ মুসলিমদের মধ্যে সালাম আদান-প্রদানের সঠিক পদ্ধতি ও ভাষা-
❖ জান্নাতে ফেরেশতাদের সালামের শব্দচয়ন কেমন হবে।
❖ মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা মুসলিমদের কীভাবে সালাম জানাবেন।
❖ সালামের মাধ্যমে দোয়া করার পদ্ধতি ও কুরআন- থেকে প্রামাণ্য তথ্য।
❖ নবী-রাসূলগণকে সালাম ও দরুদ পাঠানোর শুদ্ধ ভাষা ও নিয়ম।
❖ আল-কুরআনের সুস্পষ্ট দলিল থাকা সত্ত্বেও অনেক কথিত মুসলিমরা তা অনুসরণ করতে চায় না—এর পেছনে কারন কি?
════ ❃ ❁ ❃ ════
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
📢 আমরা কিতাবের মধ্যে কোনো কিছু বাদ রাখিনি। (সুরা আল-আনআম ৬:৩৮)
তাহলে সালাম দেওয়া ও গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে আল-কুরআন কী বলে? কোন ভাষায় ও কীভাবে সালাম আদান-প্রদান করতে হবে?
💙 সালাম দেওয়া:
আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা আল কোরআনে আয়াতে বিশ্বাসী (মুসলিমদের) পরস্পর সালাম দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্নলিখিত আয়াত থেকে এটি স্পষ্ট:
"সালামুন আলাইকুম"
➡️ "যখন তোমার কাছে আমার আয়াতগুলোতে বিশ্বাসী লোকেরা আসে, তখন তুমি বলো: সালামুন আলাইকুম (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)" -সূরা আন'আম ৬:৫৪
─── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ───
📌 তাহলে সালামের উত্তরে কী বলা যায়?
🔹 কুরআনের নির্দেশ অনুসারে সালামের উত্তরে আরও উত্তম কিছু বলা উচিত। নিম্নলিখিত বিকল্পগুলো কুরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত: (সূরা নিসা ৪:৮৬ মোতাবেক):
📖 "যখন তোমাদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা আরও উত্তমভাবে উত্তর দাও, অথবা অন্তত একইভাবে ফিরিয়ে দাও" (সূরা নিসা ৪:৮৬)
💙 সালামের উত্তম উত্তরসমূহ: (সূরা আন'আম ৬:৫৪)
✔ "সালামুন আলাইকুম"
➡️ এটি সাধারণ ও কুরআন নির্দেশিত একটি উত্তর।
অথবা-
✔ "সালামুন আলাইকুম তিবতুম" (সূরা যুমার ৩৯:৭৩)
➡️ "তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছো।" মালাইকারা (ফেরেশতারা) জান্নাতবাসীদের এই সালাম জানাবেন।অথবা-
✔ "সালামুন আলাইকুম তিবতুম মুবারাকাতান তায়্যিবাহ"
-সূরা যুমার ৩৯:৭৩ + সূরা নূর ২৪:৬১
➡️ এটি আরও সুন্দর ও সম্মানসূচক উত্তর। কারণ, কুরআনের নির্দেশ অনুসারে সালামের উত্তরে আরও উত্তম কিছু বলা উচিত।
─── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ───
💡 সারসংক্ষেপ:
🔹 সালাম বলা: "সালামুন আলাইকুম" (৬:৫৪)
🔹 সালামের উত্তরে:
✔ "সালামুন আলাইকুম" (৬:৫৪)
✔ "সালামুন আলাইকুম তিবতুম" (৩৯:৭৩),অথবা-
✔ "সালামুন আলাইকুম তিবতুম মুবারাকাতান তায়্যিবাহ" (৩৯:৭৩ + ২৪:৬১)
✨🌿 · · · ✦ · · · 🌿✨
এবারে সালাম-এর বিস্তারিত ব্যবহারিক উদাহরন:
📌 মুনাফিকদের বিকৃত অভিবাদন/সম্ভাষণ কেমন ছিল?
━━━ ✦ ❖ ✦ ━━━
💙 সালামের উত্তরে আরও ভালো কিছু বলা উচিত: সূরা আন-নিসা (৪:৮৬)
🔹 "যখন তোমাদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা আরও উত্তমভাবে উত্তর দাও, অথবা অন্তত একইভাবে ফিরিয়ে দাও।"
✅ পাঠ:
✔ কেউ যদি বলে "সালামুন আলাইকুম", তবে উত্তরে বলুন "সালামুন আলাইকুম তিবতুম" (এটি উত্তম সম্ভাষণ-তাহিয়্যা)।
✔ নাহলে অন্তত "সালামুন আলাইকুম" বলুন!
📌জান্নাতে প্রবেশের সময় সালাম (Welcome reception):
“আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছিল, তাদের দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে এবং এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে, তখন এর রক্ষীরা বলবে, ‘সালামুন আলাইকুম তিবতুম (তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), তোমরা উত্তম ছিলে। সুতরাং এতে প্রবেশ করো চিরস্থায়ীভাবে।’” (সূরা আজ-জুমার ৩৯:৭৩)
💡মুসলিমদের (আয়াতে বিশ্বাসী) মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের সালাম দেওয়া সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত:
✅ সূরা আন-নাহল (১৬:৩২)
ٱلَّذِينَ تَتَوَفَّىٰهُمُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَـٰمٌ عَلَيْكُمُ ٱدْخُلُوا ٱلْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
✅ তারা, মালাকরা যাদের মৃত্যু ঘটায়, পবিত্র অবস্থায়, তারা তারা বলেন: 'সালামুন আলাইকুম' (তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা যা করেছিলে তার বিনিময়ে।"
📢 জান্নাতের অভ্যর্থনা হবে "সালামুন আলাইকুম"—এটি জান্নাতের অন্যতম সুন্দর আশীর্বাদ ও সম্মানসূচক সম্ভাষণ-আর-রা’দ ১৩:২৩-২৪ (10:10) 🌿✨
✅ জান্নাতবাসীরা একে অপরকে সালাম দিয়ে সম্ভাষণ জানাবে- সূরা ইউনুস (১০:১০)
✅সালামুন আলা ইবরাহিম তাঁর পিতাকে "সালামুন আলাইকা" বলা-১৯:৪৭
✅মালাইকারা (ফেরেশতারা) সালামুন আলা ইবরাহিম-এর ঘরে এসে "সালাম" বলেছিলেন, যা ইসলামের শুভেচ্ছাবার্তা ও সম্মানের প্রতীক-১১:৬৯, ৫১:২৪-২৫
📌এই সালামটি সালামুন আলা মুসা ও সালামুন আলা হারুন ফেরাউনকে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন, যখন তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে বার্তা নিয়ে যান।
وَ السَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الۡہُدٰی ﴿۴۷﴾
কুরআনে নিম্নলিখিত নবীদের সালামের কথা উল্লেখ আছে:
✔ নূহ : সালামুন আলা নূহ-ইন ফিল আলামিন (سَلاَمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَـٰلَمِينَ) - (৩৭:৭৯)
✔ ইবরাহিম : সালামুন আলা ইবরাহিম - (৩৭:১০৯)
✔ মূসা ও হারূন (আ.): সালামুন আলা মূসা ও হারূন (৩৭:১২০)
✔ ইলিয়াস : সালামুন আলা ইলিয়াস (৩৭:১৩০)
✔ ইউনুস : সালামুন আলাইউনুস (৩৭:১৪৩-১৪৪)
✔ ইসা : ওয়াসসালামু আলাইয়্যা - (১৯:৩৩)
✔ ইয়াহইয়া : সালামুন আলাইহে - (১৯:১৫)
📢 আল্লাহ এসব নবী ও রাসূলদের প্রতি সালাম বর্ষণ করেছেন এবং তাঁদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন।
📢 ঘরে প্রবেশ করার সময় সালাম :
📖 সূরা আন-নূর (২৪:৬১)
🔹 "যখন তোমরা কোনো গৃহে প্রবেশ করো, তখন নিজেদের উপর সালাম দাও, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বরকতময় ও উত্তম অভ্যর্থনা।"
✅ পাঠ: কিভাবে, কি "সালাম" দিব? দ্র: যেভাবে আল্লাহ বলে দিয়েছেন- দ্র: ৬:৫৪, ৪:৮৬) "সালাম"।
📢 কোনো ঘরে প্রবেশের অনুমতির ক্ষেত্রে সালাম:
আয়াত ২৪:২৭-২৯ (সূরা আন-নূর) অনুযায়ী, কোনো ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। এই আয়াতগুলি মূলত মুসলিম পরিবার ও সমাজে শিষ্টাচার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধান।
📢 এখানে সালাম (শান্তি) সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোরআনিক তথ্য তুলে ধরা হলো:
📌জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানের লোকদের সালাম:
📌 "সালামুন আলাইহি" আয়াত ১৯:১৫, ১৯:৩৩ এর আলোকে: "সালামুন আলাইহি" সাধারণভাবে, কোনো এক ব্যক্তি বা নবীকে অতিশয় সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে অভ্যর্থনা জানাতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত যখন তার জন্ম, মৃত্যু বা পুনরুত্থান (যদি আল্লাহ চান) উল্লেখ করা হয়।
তবে, আপনি যদি তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে কারো জন্য শুভেচ্ছা জানান, তার জন্য "সালামুন আলাইহি" বলতে পারেন, তবে সেটা অবশ্যই একজন ব্যক্তির প্রতি সম্মান, শুভেচ্ছা বা শুভ কামনা হিসেবে হবে।
✦▓▓▓▓▓ ✦ ▓▓▓▓▓ ✦
ইসলামে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো সালাম, যা আল কুরআনের নির্দেশনাতেই প্রতিষ্ঠিত। পাশাপাশি, দুআ ও দরুদ পাঠ করা আয়াতে বিশ্বাসী (মুসলিমদের), মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। নিচে কুরআনের কিছু আয়াতের আলোকে সালাম, দুআ ও দরুদ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
২. আল্লাহর প্রশংসাসূচক আয়াত ও দরুদ:
তোমার রব, মর্যাদাপূর্ণ রব, তা থেকে পবিত্র যা তারা আরোপ করে। আর রসূলগণের ওপর সালাম। এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহরই জন্য-37:180-182
👉 এখানে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীদের প্রতি সালাম ও শান্তির প্রার্থনা করা হয়েছে, যা আমাদের প্রতিদিনের দুআ ও যিকিরের অংশ হতে পারে।
✦▓▓▓▓▓ ✦ ▓▓▓▓▓ ✦
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ وَسَلاَمٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ ٱلَّذِينَ ٱصْطَفَىٰٓ
"বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি (সালাম) তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি, যাদের তিনি মনোনীত করেছেন।"
👉 এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সালামের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচিত বান্দাদের প্রতি শান্তি ও কল্যাণ কামনার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, আল্লাহর নির্বাচিত ব্যক্তিরা কারা, যাঁদের সম্পর্কে আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে?
আল কুরআনে আল্লাহ তাআলা যাদের "নির্বাচিত বান্দা" বা "المصطفين" (আল-মুস্তাফাইন) বলেছেন, তাঁদের মধ্যে নবী-রাসূলগণ, সত্যনিষ্ঠ মুমিনগণ এবং বিশেষভাবে মনোনীত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই নির্বাচিতদের উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে আয়াত অনুযায়ী তাঁদের তালিকা দেওয়া হলো—
১. নবী ও রাসূলগণ আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা:
আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নবী-রাসূলদের মনোনীত করেছেন।
📖🔹 নির্বাচিতরা: সুরা আল-ইমরান (৩:৩৩-৩৪)
আদম (সা.আ.), নূহ (সা.আ.), ইবরাহিম (সা.আ.)
ইমরানের বংশধর (যার মধ্যে ঈসা (সা.আ.) ও মরিয়ম (সা.আ.) অন্তর্ভুক্ত)
📖 সুরা ছাদ (৩৮:৩০-৪৮): এই আয়াতগুলোতে ৮ জন নবী ও মনোনীত/নির্বাচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে:
1️⃣ সালামুন আলা দাউদ 2️⃣ সালামুন আলা সুলায়মান
3️⃣ সালামুন আলা ইবরাহিম 4️⃣ সালামুন আলাইসহাক
5️⃣ সালামুন আলা ইয়াকুব 6️⃣ সালামুন আলা ইসমাঈল
7️⃣ সালামুন আলা আল-ইয়াসা 8️⃣ সালামুন আলা জুলকিফল
👉তালুত (Saul): নির্বাচিত ব্যক্তি: সুরা আল-বাকারাহ (২:২৪৭)
1️⃣ নবী ও রাসূলগণ: যাঁদের মধ্যে আদম (সা.আ.), নূহ (সা.আ.), ইবরাহিম (সা.আ.), মুসা (সা.আ.), ঈসা (সা.আ.), মুহাম্মাদ (সা.আ.) প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত।
2️⃣ বিশেষ মনোনীত ব্যক্তি: যেমন মরিয়ম (আ.) এবং কুরআনের উত্তরাধিকারীরা।
3️⃣ সত্যনিষ্ঠ মুমিনগণ: যারা ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছে।
আল-কুরআনের সুস্পষ্ট দলিল থাকা সত্ত্বেও অনেক কথিত মুসলিম তা অনুসরণ করতে চায় না—এর পেছনে কুরআনেই উল্লেখিত কয়েকটি কারণ রয়েছে।
১. বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ:
🔹 “আর যখন তাদের বলা হয়: আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, তার অনুসরণ করো, তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করব।”
📖 (সূরা আল-বাকারাহ ২:১৭০, সূরা লুকমান ৩১:২১)
২. প্রবৃত্তির অনুসরণ (হাওয়া-হওসের দাসত্ব)
🔹 “তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার খেয়াল-খুশিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে?”
📖 (সূরা আল-জাসিয়া ৪৫:২৩)
৩. ইহকালীন স্বার্থ ও লোভ
🔹 “তারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের চেয়ে বেশি ভালোবাসে...”
📖 (সূরা ইবরাহীম ১৪:৩)
৪. শয়তানের ধোঁকা ও পথভ্রষ্টতা
🔹 “শয়তান তাদের কাছে তাদের কাজগুলোকে শোভনীয় করে দেখিয়েছে এবং তাদের সঠিক পথ থেকে বিরত রেখেছে।”
📖 (সূরা আনকাবূত ২৯:৩৮)
৫. সত্যকে অস্বীকারের মানসিকতা (আন-নাফাক/মুনাফেকি)
🔹 “তারা বলে: আমরা ঈমান এনেছি, কিন্তু যখন আল্লাহর পথে তাদের পরীক্ষা করা হয়, তখন তারা মানুষের ভয়কে আল্লাহর ভয়ের মতো করে নেয়...”
📖 (সূরা আনকাবূত ২৯:১০)
এগুলোই মূলত সেই বাধাগুলো, যা অনেক কথিত মুসলিমকে আল্লাহর সুস্পষ্ট দলিল থাকা সত্ত্বেও তা অনুসরণ করতে বাঁধা দেয়।
তাহলে, সেটার পরে এমন কোন হাদিসে তারা ঈমান আনবে!-৭:১৮৫
সালামুন আলাইকুম!
অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেন প্রায়ই 'সালামান সালামা'/সালামুন আলাইকুম! বা এই ধরনের জান্নাতী অভিবাদন ব্যবহার করি? এর পেছনের সূত্র বা যৌক্তিকতা কী?
আমার এই বিশেষ অভিবাদন ব্যবহারের মূল কারণ হলো, দুনিয়ার জীবনকে পরকালের সফলতার জন্য একটি প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করা। আমার এই ভাবনাটি কয়েকটি শক্তিশালী কুরআনি ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত:
১. জান্নাতের ভাষা ও পরিবেশ:
কুরআন আমাদের জানায়, জান্নাত হবে একটি নিখুঁত শান্তিময় স্থান, যেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা থাকবে না। সেখানকার অধিবাসীদের এবং ফেরেশতাদের কথোপকথন ও অভিবাদন হবে "সালাম" বা শান্তি।
সাধারণ কথোপকথন: জান্নাতবাসীরা কোনো অসার বাক্য শুনবে না, শুনবে কেবল এক বাক্য— "সালামান সালামা" (শান্তি, আর শান্তি)। (সূরা ওয়াক্বি'আহ, ৫৬:২৫-২৬)
পারস্পরিক অভিবাদন: সেখানে তাদের অভিবাদন হবে "সালাম"। (সূরা ইউনুস, ১০:১০)
মৃত্যুকালে: মুমিনদের মৃত্যুকালে ফেরেশতাদের এই শান্তিময় অভিবাদনটি সূরা আন-নাহল-এর ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সু.তা. জানিয়েছেন এভাবে- "ফেরেশতারা (মালাইকারা) যাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র থাকা অবস্থায়, তারা বলে, ‘(সালামুন ‘আলাইকুম’। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ কর।"
ফেরেশতাদের অভ্যর্থনা: জান্নাতের দরজায় রক্ষী ফেরেশতারা বলবেন, "সালামুন ‘আলাইকুম তিবতুম" (আপনাদের প্রতি শান্তি, আপনারা পবিত্র জীবন যাপন করেছেন)। (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩)
২. দুনিয়াতেও আল্লাহর নির্দেশ:
আল্লাহ তা'আলা কেবল পরকালেই নয়, এই পৃথিবীতেও তাঁর আয়াতে বিশ্বাসী মুমিনদেরকে পরস্পরের সাথে দেখা হলে "সালামুন ‘আলাইকুম" (তোমাদের উপর শান্তি) বলে অভিবাদন জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আল-আন‘আম, ৬:৫৪)
৩. দুনিয়া ও আখিরাতের সংযোগ স্থাপন:
যেহেতু জান্নাত আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং সেখানকার ভাষা হলো 'সালাম', তাই দুনিয়াতেই সেই পরিবেশ ও ভাষার অনুশীলন করা উচিত। এর মাধ্যমে কয়েকটি উদ্দেশ্য সাধিত হয়:
জান্নাতী অভ্যাস গঠন: দুনিয়াতে জান্নাতের আমল চর্চা করলে তা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়, যা সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
অহীর সাথে জীবন্ত সংযোগ: প্রতিনিয়ত কুরআনের এই শব্দগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর নাযিলকৃত অহীর সাথে একটি জীবন্ত ও সক্রিয় সম্পর্ক বজায় থাকে।
আত্ম-সচেতনতা ও স্মরণ: এই অভিবাদন আমাদেরকে অনর্থক কথা পরিহার করতে মনে করিয়ে দেয় এবং আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য—জান্নাতের—জন্য সর্বদা সচেষ্ট রাখে।
আমার এই প্রচেষ্টা মূলত নিজেকে এবং আপনাদেরকে কুরআনের ভাষায় ও জান্নাতের পরিবেশে অভ্যস্ত করে তোলার একটি সচেতন প্রয়াস। এটি কেবল একটি সম্ভাষণ নয়, বরং এটি অহীর সাথে সংযোগ স্থাপন এবং আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম।
একটু ভাবুন তো, আমরা উন্নত জীবনের আশায় আমেরিকা, ইউরোপ বা কানাডায় যাওয়ার জন্য TOEFL, IELTS-এর মতো কঠিন ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। তাহলে যে জান্নাত অনন্তকালের সফলতার স্থান, সেই জান্নাতের ভাষার জন্য আমরা দুনিয়াতে প্রস্তুতি নেব না? জান্নাত কি এর চেয়েও কম দামী?
দিনশেষে, এটি কোনো চাপাচাপি নয়। আল্লাহ যেমনটি বলেছেন, "সত্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক এবং যার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করুক।" (দ্র: সূরা আল-কাহফ, ১৮:২৯)।
ভালো লাগলে গ্রহণ করতে পারেন, নতুবা বিষয়টি আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম Choice is yours! ।

