ঈদ: আনন্দ-উল্লাস! প্রকৃত মুসলিমরা আনন্দিত হবে কেন, কিসের সৌজন্যে? আল কোরআনে ঈদ ✅ ذِكْرٌ مُّبَارَكٌ যিকরুন মুবারাকুন! Eid-joy and festivity-festivities

একটি প্রবাদ আছে যে, কার উছিলায় শিন্নী খাইলি মুনশী চিনলি না!

  ✨🌿 · · ·  · · · 🌿✨

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মানবজাতির জন্য পথনির্দেশিকা হিসেবে আল কোরআন নাযিল করেছেন। অনেক মুসলিম বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করলেও, কোরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত আনন্দ কী হওয়া উচিত—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

📌 আনন্দ: প্রকৃত মুসলিমরা আনন্দিত হবে কিসে? 

মুসলিমের জীবন আনন্দময় একদিন নয় সব সময় সারাক্ষণ: 

প্রকৃত মুসলিমের আনন্দ দুনিয়াবি ভোগ-বিলাসে নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার মধ্যে। কোরআন স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, আসল আনন্দের কারণ কী হওয়া উচিত।

➥ রমাদান মাস সেটাই, যার মধ্যে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, মানুষের জন্য হিদায়েত এবং সঠিক পথের ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীর সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ। অতএব, যে তোমাদের মধ্যে মাসটিতে উপস্থিত হবে সে যেন তাতে সওম পালন করে-আয়াত ২:১৮৫

➥ আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া বৃদ্ধি করে না-আয়াত ১৭:৮২

➥ হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে এক উপদেশ (আল-কোরআন), যা অন্তরের জন্য আরোগ্য, মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও দয়া। বলো! আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার কারণেই তারা আনন্দ করুক। এটি তাদের সংগৃহীত সম্পদের চেয়ে উত্তম।  আয়াত ১০:৫৭-৫৮

🔹 সুতরাং, প্রকৃত আনন্দের উৎস হলো—

✅ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কিতাব—আল-কুরআন

✅ আল্লাহর হিদায়াত লাভ

✅ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের অংশীদার হওয়া

অতএব, ঈদের প্রকৃত উৎসও কি আল-কুরআন নয়? কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই মূল উৎসই দৃষ্টির আড়ালে পড়ে থাকে ও উপেক্ষিত হয়। রমাদান শেষ হতেই অনেকের ব্যস্ততা ঘুরে যায় নানা প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতার দিকে মানবরচিত বহু কিতাবে বিশ^াসী হয়ে। যেন এমন—যার মাধ্যমে অনুগ্রহ পাওয়া গেল, তাকেই আর চেনা হলো না।

একটি প্রবাদ আছে যে, কার উছিলায় শিন্নী খাইলি মুনশী চিনলি না!


📌 আল-কোরআন: সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও আনন্দের কারণ:

➢  এটা তো তোমার রবের পক্ষ থেকে এক নেয়ামত।” (২৭:৭৭)

➢ তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামতের ও অনুগ্রহের কারণে আনন্দ প্রকাশ করে।  আর এটাও যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিফল নষ্ট করেন না-৩:১৭১

وَاَمَّا بِنِعۡمَۃِ رَبِّکَ فَحَدِّثۡ 

➢  আর তোমার রবের নেয়ামতের কথা বর্ণনা কর।” (সুরা আদ-দুহা ৯৩:১১)

💡 কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত আনন্দ হয় আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের ওপর, আর সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো তাঁর পাঠানো হিদায়াত—আল-কোরআন।


📌 কিতাব প্রাপ্তিতে আনন্দ:

“আর তারা, যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা এতে আনন্দিত হয়, যা তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে।” (সুরা রা’দ ১৩:৩৬)

সত্যিকারের মুসলিমরা আল্লাহর কিতাব প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়।
কিন্তু অনেকে দুনিয়াবি উৎসব ও উদ্ভাবিত রীতিতে আনন্দ খোঁজে, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে গোমরাহির দিকে নিয়ে যায়।

📖 আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করে তাদের ব্যাপারেও যারা তাদের পিছন থেকে তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি। এটাও যে, তাদের ওপর নেই কোনো ভয় আর না তারা দুঃখিত হবে-৩:১৭০

📌খামোখাই অযথা  আনন্দ-উল্লাস কে বা কারা করে ও পরিণাম:

📖ওভাবেই আল্লাহ কাফিরদের পথভ্রষ্ট করেন।  তোমাদের সেসব একারণে যে, তোমরা পৃথিবীর মধ্যে অযথা উল্লাস করতে এবং সেকারণে যে, তোমরা অহংকার করতে।  তোমরা জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ করো, তারা স্থায়ীভাবে সেখানে থাকবে। সুতরাং অহংকারীদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!-40:74-76

📖তুমি কিছুতেই মনে কোরো না, তারা আনন্দিত হবে ওই বিষয়ে যা তারা করে এবং তারা পছন্দ করবে প্রশংসিত হতে ওই বিষয়ে যা তারা করেনি সুতরাং তুমি কিছুতেই তাদেরকে শাস্তি হতে নিরাপদ মনে কোরো না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি-3:188

📖 মানুষের জন্য তাদের হিসাব নিকটবর্তী হয়ে গেছে, অথচ তারা উদাসীনতার মধ্যে, বিমুখ-21:1

📌মুশরিকদের আনন্দ:

আর তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না; তাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাদের দ্বীনে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত-৩০:৩১-৩২ (২৩:৫৩)


আনন্দের উৎস হিসাবে ঈদ না অন্যকিছু? কোরআনের দৃষ্টিকোণ:

বর্তমান মুসলিম সমাজে ঈদ নামে একটি উৎসব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ আল কোরআনে এমন কোনো উৎসবের নির্দেশনা নেই। বরং, আল কোরআন অহেতুক আনন্দ-ফুর্তিতে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছে।

ঈদ শব্দের মানে কি? 

প্রচলিত অর্থে  ঈদকে বলা হয় খুশি! আসলে ঈদ শব্দের অর্থ খুশি নয়। ঈদ শব্ধটি আইউদ থেকে চয়ণ করা হয়েছে।  আইউদ মানে ফিরে আসা প্রত্যাবর্তন করা যেমন:

اِنَّ الَّذِیۡ فَرَضَ عَلَیۡکَ الۡقُرۡاٰنَ لَرَآدُّکَ اِلٰی مَعَادٍ 

নিশ্চয়ই যিনি তোমার ওপর কুরআন নির্ধারিত করেছেন, তিনি অবশ্যই তোমাকে একটি প্রত্যাবর্তনস্থলের দিকে (ঠিকানায়) ফিরিয়ে নিবেন-28:85


اللّٰہُمَّ رَبَّنَاۤ اَنۡزِلۡ عَلَیۡنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ تَکُوۡنُ لَنَا عِیۡدًا لِّاَوَّلِنَا وَ اٰخِرِنَا وَ اٰیَۃً مِّنۡکَ ۚ وَ ارۡزُقۡنَا وَ اَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ﴿۱۱۴

হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনি আমাদের জন্য আকাশ থেকে খাদ্যপূর্নপাত্র নাযিল করুন। যেটা হবে আমাদের জন্য, আমাদের পূর্ববর্তীদের আর আমাদের পরবর্তীদের জন্য একটি ঈদ (বার বার স্মরণযোগ্য/শিক্ষনীয়) এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন (আয়াত)। আর আপনি আমাদেরকে রিযিক দিন। আর আপনিই উত্তম রিযিকদাতা-5:114

➢ আর এটা বরকতময় উপদেশ (যিকরুন মুবারাক), আমরা যা নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা সেটার ক্ষেত্রে অস্বীকারকারী?-সূরা আল আম্বয়িা ২১:৫০

যা নিয়ে কোরআনে বিশ্বাসী মুসলিমদের আনন্দ করার কথা, তা হলো আল কোরআন। কিন্তু আমরা কজনই তা জানি? তাহলে, মুসলিম সমাজে এহেন ঈদের বানিজ্যিক আর বল্গাহীন ধারণা কে বা কারা প্রচলন করল?

রমাদানের সিয়ামের সাথে আল কোরআনের সম্পর্ক:

রমাদানের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমা প্রাপ্তি ও তাকওয়া অর্জন।

“রমাদান মাস, যাতে কোরআন নাযিল করা হয়েছে—মানুষের জন্য হিদায়াতরূপে এবং সঠিক পথনির্দেশ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী নিদর্শন হিসেবে” (সুরা বাকারা ২:১৮৫)  

“যখন আমার বান্দারা আমার ব্যাপারে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো খুব নিকটে। আমি আহ্বানকারীর ডাক শুনি যখন সে আমাকে ডাকে।” (সুরা বাকারা ২:১৮৬)

কিন্তু রমাদান শেষ হওয়ার পরই ঈদ উদযাপন কোথা থেকে এলো? এভাবেই মানুষ আল্লাহ যা নাযিল করেননি, তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যা একপ্রকার অপরাধ।


ঈদ! এতো শাওয়াল মাসে, রমাদান মাসের বিষয়ই না!

অনেকে ভুল করে মনে করেন যে, কথিত ঈদুল ফিতর রমাদান মাসে হয়, কিন্তু এটি আসলে রমাদানের পরের মাস, অর্থাৎ শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে হয়।

একদিকে আনন্দ-উল্লাস আর অন্য দিকে আর্তনাদ:

সূরা আন-নিসা (৪:৭৫): আয়াতে অত্যাচারিত, দুর্বল, নারী-শিশুদের আর্তনাদ ও সাহায্যের আবেদন তুলে ধরা হয়েছে, আর এদিকে যদি আমরা শুধুই আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠি, তবে এটা  নির্যাতিত-নিপীড়িত, অসহায় মানুষদের সাথে উপহাস নয় কি?


📌 মুসলিম কাকে বলে? (লাহুওয়াল হাদিসের মুসলিম বনাম আহসানুল হাদিসের মুসলিম):

প্রকৃত মুসলিম হওয়া কোনো স্ব-ঘোষিত পরিচয় নয় বরং আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়

📖 “আর লোকদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিস গ্রহণ করে, যাতে না জেনে তারা (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এটিকে ঠাট্টা-মশকরা হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সুরা লুকমান ৩১:৬)

🔹 অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিসের অনুসারীরা প্রকৃত ইসলামের পথে নয়, বরং তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়।

অপরদিকে, আল্লাহ আহসানুল হাদিস সম্পর্কে বলেন-

📖 “আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, যা (আহসানুল হাদিস) এক সুসংগত কিতাব, যা বারবার পঠিত হয়। এতে ভয় রাখে তাদের চামড়া, যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর তাদের চামড়া ও অন্তর নরম হয়ে যায় আল্লাহর স্মরণে। এটি আল্লাহর হিদায়াত, যার দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।” (সুরা আজ-জুমার ৩৯:২৩)

🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম সেই, যে আল্লাহর প্রেরিত "আহসানুল হাদিস" অর্থাৎ আল-কোরআনের অনুসরণ করে এবং অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিসের অনুসারী হয় না।


📌 মুসলিমদের সংজ্ঞা:

📖 “তারা যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান এনেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে।” (সুরা যুখরুফ ৪৩:৬৯-৭০)

📖 “তুমি অন্ধকে গোমরাহি থেকে ফেরাতে পারবে না, তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারো, যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে এবং আত্মসমর্পণ করে।”
(সুরা রূম ৩০:৫৩)

🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম হতে হলে আল-কোরআনকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য হাদিস হিসেবে মেনে চলতে হবে, কারণ সেটাই আহসানুল হাদিস।

📌 মুসলিম পরিচিতি যেভাবে (স্বঘোসিত নয়):

আল্লাহ বলেন—

📖 “বলো! হে আহলে কিতাব! তোমরা কোনো কিছুরই ওপর নও, যতক্ষণ না তোমরা প্রতিষ্ঠা করো তাওরাত, ইনজিল এবং সেটি যা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।” (সুরা আল-মায়েদা ৫:৬৮)

🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম হতে হলে কেবলমাত্র আল-কোরআনকেই জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং তার শিক্ষা অনুসারে চলতে হবে।


খেল-তামাশা, আনন্দ-ফুর্তি:

আল-কুরআনে খেল, তামাশা, আনন্দ-ফুর্তির বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে, বিশেষত যখন তা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও দায়িত্ব-কর্তব্য থেকে গাফিল রাখে। নিচে কয়েকটি আয়াত দেওয়া হলো:

সূরা আন-নাজম (৫৩:৬১) —
"তবে কি এই হাদিসে তোমরা আশ্চর্য হচ্ছ? অথচ তোমরা হাসছ, কিন্তু কাঁদছ না আর তোমরা উদাসীন-৫৩:৫৯-৬১"
    সূরা আল-আনআম (৬:৩২) —
    وَمَا ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا لَعِبٌۭ وَلَهْوٌۭ ۖ وَلَلدَّارُ ٱلْـَٔاخِرَةُ خَيْرٌۭ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
    "এই দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য পরকালই উত্তম। তোমরা কি বুঝবে না?"

    সূরা আল-আনকাবুত (২৯:৬৪) —
    وَمَا هَٰذِهِ ٱلْحَيَوٰةُ ٱلدُّنْيَآ إِلَّا لَهْوٌۭ وَلَعِبٌۭ ۚ وَإِنَّ ٱلدَّارَ ٱلْـَٔاخِرَةَ لَهِىَ ٱلْحَيَوَانُ ۚ لَوْ كَانُوا۟ يَعْلَمُونَ
    "দুনিয়ার জীবন কেবলমাত্র ক্রীড়া ও কৌতুক। প্রকৃত জীবন তো আখেরাতেরই; যদি তারা জানত!"

    এই আয়াতগুলোতে বোঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ার ফুর্তি ও খেল-তামাশায় নিমগ্ন না হয়ে আখেরাতের চিন্তা করা উচিত। 

    ২. খাওয়া ও উপভোগ: এগুলো কাদের life-style? 

    "আর যারা কুফর করে, তারা উপভোগ করে ও তারা আহার করে, যেমনিভাবে পশুরা খায়। আর আগুনই তাদের ঠিকানা -সুরা মুহাম্মদ ৪৭:১২

    এখানে বলা হয়েছে, যারা শুধু ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে, তারা মূলত পশুর মতো জীবনযাপন করে এবং তাদের শেষ ঠিকানা জাহান্নাম।

    আয়াতে বিশ্বাসী মুসলিমরাই পরিবারশুদ্ধা আনন্দিত হবে:

    যারা ঈমান এনেছে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি এবং যারা ছিল মুসলিম; তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা ও তোমাদের দাম্পত্যসাথীরা, তোমরা আনন্দিত হবে-সূরা আয যুখরুফ 43:69-70

    তারা লাহুওয়াল হাদিস (অর্থহীন কথাবার্তা) এর মাধ্যমে আল্লাহর রাসূলের নামে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তৈরি করেছে, যার কোনো ভিত্তি কোরআনে নেই। যদি ঈদ নামে কোনো উৎসব থাকতো, তাহলে আল কোরআনে তা উল্লেখ থাকতো।

    “আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ রাখিনি।” (সুরা আল-আন’আম ৬:৩৮)

    আল্লাহ যে ইবাদতের নির্দেশ দেননি, তাঁর রাসূলও—যিনি কেবলমাত্র একজন বার্তাবাহক—সে ধরনের ইবাদতের আদেশ দেননি। কারণ, আল্লাহ বলেন—

    বলো! প্রকৃতপক্ষে আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার কাছে ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাতের আশা করে থাকে, তাহলে সে যেন সংশোধনের কাজ করে এবং তার রবের ইবাদতের সাথে যেন কাউকে শিরক না করে-আল-কাহফ 18:110 

    প্রকৃত ভয় ও সতর্কতা:

    কোরআন নির্দেশ দেয়, মানুষ যেন অযথা হাস্য-আনন্দে মগ্ন না থাকে বরং আল্লাহর আযাবের কথা স্মরণ করে।

    “তোমরা কেন হাসছো, কাঁদছো না কেন?” (সুরা আন-নাজম ৫৩:৬০)

    “সেদিন বালক বৃদ্ধে পরিণত হয়ে যাবে।” (সুরা আল-মুজাম্মিল ৭৩:১৭) 

     আল-আরাফ 7:3

    তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা সেটার অনুসরণ করো এবং তাঁর পরিবর্তে বহু অভিভাবকের অনুসরণ কোরো না। তোমরা যা উপদেশ গ্রহণ করো তা খুবই অল্প-7:3

     আল্লাহর রসূলের একটি মামলা যার বাস্তবতাও লক্ষনীয়:

    “আর রসূল বলবেন, হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসাবে গ্রহণ  করেছে- ২৫:৩০।” 


    কোরআনের আলোকে মুসলিমদের প্রকৃত আনন্দ হওয়া উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ, বিশেষ করে কোরআন পাওয়ার জন্য। তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর দেওয়া সত্য পথনির্দেশনার অনুসরণই প্রকৃত বিজয় ও আনন্দের উৎস। কোরআনই মুসলিমদের একমাত্র নির্দেশনা হওয়া উচিত এবং আমাদের প্রতিটি আনন্দ-উদযাপন কেবলমাত্র আল্লাহর বিধান অনুযায়ী হওয়া প্রয়োজন।

    ঈদ মোবারক? -এর পরিবর্তে যিকরুন মুবারক থেকেই আমল:

    একজন মুসলিমের আনন্দ আরেকজন কাফের-মুশরিকের আনন্দ এক নয় এটা বুঝে নিন কোরআন ভিত্তিক আমল এগিয়ে আসি: 

    ذۡکُرُوا اللّٰہَ کَمَا عَلَّمَکُمۡ

    তখন আল্লাহকে স্মরণ করো, যেভাবে তিনি তোমাদেরকে তা শিখিয়েছেন-2:239 (2:198)


    যখনই আমাদেরকে বলবে ’ঈদ মোবারক’।  কোরআন বিহীন এসব আমলকে আপনাকে তো প্রতিরোধ করে কোরআন আমলকে নিয়ে আসতে হবে যেভাবে  আল্লাহ শিখিয়েছেন: যখন কেউ বলবে ’ঈদ মোবারক’ তখনই উত্তরে আমরা বলতে পারি ’যিকরুন মুবারক’- (২১:৫০ অনুযায়ী),  ’ঈদ আল আউয়ালিনা ও আখেরিনা’-৫:১১৪ (অর্থাৎ আমাদের ঈদ আগেও ছিল এখনও আছে)। ’জিকরুন মুবারক’ কোরআনের একটি নাম সেই কোরআন মানলে মোবারক হয় তাহলে সেখানে আমরা বলব কোরআনের ভাষায় ’জিকরুন মোবারক’ যেটি আমাদের জন্য কল্যাণকর এবং কোরআনের আমলটাই কল্যাণকর।

    তাই আমরা কোরআন মুবিন থেকেই আমল করব আল্লাহর রসূলও এই কুরআনকেই অনুসরণ করেছেন (৭:২-৩, ৬:১০৬, ৬:১৯)। আর কাফের-মূশরিকরা তারা যা করে তাতে আনন্দিত হয়,  সেটা কোরআনুল কারীমে বিধান হিসেবে আছে কিনা সত্য কি মিথ্যার ধারধারে না মনগড়া আমল করে, লাহুওয়াল হাদিসের লেন-দেন করে (৩১:৬)।

     📌 Small but beautiful ৪টি কুরআনিক দুআ/যিকির/তাসবিহ 

    (এর গুরুত্ব বুঝতে এবং সহজে মুখস্থ করতে রেফারেন্স আয়াতগুলো দেখে নিতে পারেন, বিইজনিল্লাহ!)
    ________________________________________
     আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন
    ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
     (সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা)-আয়াত: ১:২, ৩৯:৭৫, ১০:১০, ৩৭:১৮২, ৪০:৬৫ (৩২:২)
    ________________________________________
     সুবহানাল্লাহি রব্বিল আলামিন
    سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
     (পরম পবিত্র আল্লাহ! যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা)- আয়াত: ২৭:৮
    ________________________________________
     তাবারাকাল্লাহু রব্বিল আলামিন
    تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
    (বরকতময় আল্লাহ!  যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা)-আয়াত: 7:54 (৪০:৬৪)
    ________________________________________
    আসলামতুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন
    أَسْلَمْتُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
     (আমি বিশ্বজগতের পালনকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি)- আয়াত: ২:১৩১

    ✨ 📿 💖  ✨ ✨ 📿 💖  ✨
    একটি বরকতপূর্ণ কিতাব, আমরা তোমার প্রতি তা নাযিল করেছি, যেন তারা তার আয়াতসমূহকে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্নরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে-38:29

    → “কিতাবুন আনযালনাহু ইলাইকা মুবারাকুন…” (বরকতময় কিতাব)
    ✅ ذِكْرٌ مُّبَارَكٌ (যিকরুন মুবারাকুন) 
    অর্থ: বরকতময় স্মরণ!-21:50

    আরও (বিউটিফুল আয়াত) শোকর প্রকাশের মাধ্যমে আনন্দ লাভ:

     الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ ہَدٰىنَا لِہٰذَا ۟ وَ مَا کُنَّا لِنَہۡتَدِیَ لَوۡ لَاۤ اَنۡ ہَدٰىنَا اللّٰہُ ۚ لَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُ رَبِّنَا بِالۡحَقِّ ؕ
    আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী হাদা-না- লিহা-যা- অমা- কুন্না- লিনাহ্তাদিয়া লাওলা - আন্ হাদা-নাল্লা-হু লাক্বাদ্ জ্বা-য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক;   

    অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এর জন্য আমাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন। আর আমরা হিদায়াত প্রাপ্য ছিলাম না, যদি না আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত দিতেন। অবশ্যই আমাদের রবের রাসূলগণ প্রকৃত সত্যসহ এসেছেন- আল কুরআন ৭:৪৩ 
    اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِہِ الۡکِتٰبَ وَ لَمۡ یَجۡعَلۡ لَّہٗ عِوَجًا ؕ
    আল্হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী  আন্যালা ‘আলা ‘আবদিহিল্ কিতা-বা অ লাম্ ইয়াজ্ব‘আল্ লাহূ ‘ইওয়াজ্বা-।  

    অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।  যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং সেটার জন্য তিনি কোনো বক্রতা তৈরী করেন নাই-কুরআনুল কারীম ১৮:১।

     رَبِّ اَوۡزِعۡنِیۡۤ اَنۡ اَشۡکُرَ نِعۡمَتَکَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتَ عَلَیَّ وَ عَلٰی وَالِدَیَّ وَ اَنۡ اَعۡمَلَ صَالِحًا تَرۡضٰىہُ وَ اَدۡخِلۡنِیۡ بِرَحۡمَتِکَ فِیۡ عِبَادِکَ الصّٰلِحِیۡنَ 

    রব্বি আওযি’নী- আন্ আশ্কুরা নি’মাতাকাল্লা তীয় আন্‘আম্তা ‘আলাইয়্যা অ‘আলা- ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ আ’মালা ছোয়া-লিহান্ র্তাদ্বোয়া-হু অ আদ্খিল্নী বিরহমাতিকা ফী ‘ইবা-দিকাছ্ ছোয়া-লিহীন্। 

    অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যে, আমি আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যে নিয়ামত আপনি দান করেছেন, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি এবং এটাও যে আমি আমলে সলেহ করি যা আপনি পছন্দ করেন। এবং আপনি আমাকে আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন- আল কুরআন ২৭:১৯ 

     الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ فَضَّلَنَا عَلٰی کَثِیۡرٍ مِّنۡ عِبَادِہِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ 
    আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী- ফাদ্দালানা- আ’লা- কাছী-রিম্ মিন্ ই’বা-দিহিল মু’মিনী-ন।  

    অর্র্থ: আলহামদুলিল্লাহ! তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে অনেকের উপর আমাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন-আল কুরআন ২৭:১৫
     
    سُبۡحٰنَکَ اللّٰہُمَّ وَ تَحِیَّتُہُمۡ فِیۡہَا سَلٰمٌ ۚ وَ اٰخِرُ دَعۡوٰىہُمۡ اَنِ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ 
    সুব্হা-নাকাল্লা-হুম্মা অতাহিয়্যাতুহুম্ ফীহা-সালা-মুন্ অ আ-খিরু দা’ওয়া-হুম্ ‘আনিল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ ‘আ-লামীন্।  

    অর্থ: হে আল্লাহ! পবিত্রতা আপনারই এবং সেখানে তাদের অভিবাদন হবে, সালাম আর তাদের শেষ আহ্বান যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য।
    - আল কুরআন ১০:১০। 
    سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ  وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ  وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
    সুবহা-না রব্বিকা রব্বিল ই’য্ঝাতি আ’ম্মা-ইয়াছিফুন। ওয়া-ছালা-মুন আ’লাল্ মুরসালী-ন। ওয়াল হামদু-লিল্লা-হি রব্বিল আ’-লামী-ন। 

    অর্থ: গৌরবের অধিকারী রব, তোমার রব তা থেকে অপবিত্রতামুক্ত যা তারা আরোপ করে। আর রসূলগণের প্রতি সালাম। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই নিমিত্তে- আল কুরআন ৩৭:১৮০-১৮২ 
    Post a Comment (0)
    Previous Post Next Post