কুরআন চেনার ব্যাপারটি আপনার সন্তানকে চেনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে! আপনার সন্তান হাফেজ-আলেম তাতে আপনার কতটুকু আসে-যায়? (children)

আপনার সন্তান হাফেজ, আলেম, মাওলানা, মুফতি হোক, তাতে আপনার (একান্ত নিজের) কতটুকু আসে-যায়?


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:

📖"যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে এমনভাবে চেনে, যেমনভাবে তারা তাদের সন্তানদেরকে চেনে। আর নিশ্চয়ই তাদের মধ্য থেকে একদল সত্য গোপন করে, অথচ তারা জানে। সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, অতএব, তুমি কিছুতেই সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না" (সূরা আল-বাকারা ২:১৪৬)

📖"যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে সেভাবে চিনে, যেভাবে তারা তাদের সন্তানদেরকে চিনে" (সূরা আল-আনআম ৬:২০)

"সন্তানকে চেনার মতো চেনা" – এর মাধ্যমে আমরা কি বুঝতে পারলাম?  (এপর্যন্ত যতটুকু বোধ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন):

1️⃣ নিঃসন্দেহ ও নিশ্চিত জ্ঞান – যেমন একজন পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের চেহারা, কণ্ঠস্বর ও আচরণ দেখে নির্দ্বিধায় চিনতে পারেন, তেমনি যারা কিতাবপ্রাপ্ত, তাদের জন্যও কিতাব-উল্লাহ চেনা স্পষ্ট হওয়া উচিত।

2️⃣ অভিজ্ঞতা ও গভীর পরিচিতি – একটি শিশুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত তার বাবা-মা তাকে দেখেন, জানেন ও বোঝেন। অনুরূপভাবে কিতাবধারীদেরও কিতাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

3️⃣ সন্দেহের অবকাশ নেই – সন্তানের ব্যাপারে যেমন কোনো সন্দেহ থাকে না, তেমনি আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের সত্যতা নিয়েও প্রকৃত জ্ঞানীদের মনে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়।

ক’জনই বা পারি আল কোরআন পড়তে, বুঝতে?

আমরা অনেকেই ন্যূনতম এই জ্ঞানও রাখি না যে, আল কোরআনের সূরা-আয়াত নম্বর কিভাবে খুঁজে বের করতে হয়। আমরা জানি না বা পারি না, অথচ নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করে বসে আছি। অথচ ঈমানের বিষয়টি এক-পাক্ষিক নয়, এটি দ্বৈত-পাক্ষিক। সেটি কে আমাদের জানাবে, যদি না আমরা আল কোরআনিল হাকীম থেকে শিক্ষা নেই?

সার-সংক্ষেপ শিক্ষা:

কুরআনকে চিনতে হবে নিঃসন্দেহ ও স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে – যেমন একজন বাবা-মা তাদের সন্তানকে চেনেন। 

সত্যকে গোপন করা যাবে না – ২:১৪৬ আয়াতে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ জেনেও সত্য লুকায়। আজও অনেকে সত্য বুঝেও অস্বীকার করে।

সন্দেহমুক্ত বিশ্বাস রাখা জরুরি – কুরআন সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই (২:২), তাই সংশয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে না (২:১৪৭)।

➡️ একটু ভেবে দেখি, আমরা কুরআনকে কতটুকু নিশ্চিতভাবে চিনতে পারছি বা চেনার চেষ্টা করছি?

যদি আমরা এভাবে সন্তানকে চেনার মতো আল কোরআন চেনার চেষ্টা না করি, তাহলে হয়তো পরিণতি ও পরিস্থিতি এমন হতে পারে:


✅"সেদিন মানুষ তার সন্তানদের থেকে পালাবে, তার মা-বাবা থেকে পালাবে, তার সঙ্গী-সাথী থেকে পালাবে, সেদিন প্রত্যেকেই নিজের আত্মরক্ষার দিকে ছুটবে, তাদের চিন্তা হবে নিজের বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয় নিয়ে" সূরা তাকভির (81:6-14)

✅"সেদিন মানুষ তার ভাই, তার মা, তার বাবা, তার স্ত্রী এবং তার সন্তানদের থেকে পালাবে" সূরা আবাসা (80:34-37)

✅"সেদিন অপরাধী আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি সে আযাবের মুক্তিপণ দিতে পারত, তার সন্তানসন্ততি-র মাধ্যমে; এবং তার সঙ্গিনীর ও তার ভাইয়ের; আর তার আত্মীয়স্বজনের, যারা তাকে আশ্রয় দিত; এবং পৃথিবীর মধ্যে যা আছে সবকিছু, তারপরও সেটা যেন তাকে মুক্তি দেয়" সূরা আল-মাআরিজ (70:11)



দায়ী কে?

আজ এসব পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? শুধুমাত্র নিজের কথা একবার ভাবুন! সেই তো এলে একা একা (দ্র: ৬:৯৪)।  বিরক্ত না হয়ে, কোরআন ক্লাসের জন্য সময় আর একটু বর্ধিত করা কি যায় না?

📖"আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না"  (সূরা আল-ইসলা 17:15)  (৫৩:৩৮-৩৯)


এই আয়াতগুলো কিয়ামতের দিন মানুষ তার প্রিয়জনদের থেকেও পালানোর ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং নিজের রক্ষা করতে চেষ্টা করার বিষয়টি তুলে ধরে। আজ, নিজের আত্মরক্ষার জন্য কুরআনকে চিনতে চেষ্টা করি, যেন কিয়ামতের দিন ভয়াবহ পরিস্থিতি না আসে!

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post