📌 মুসলিম কাকে বলে? (লাহুওয়াল হাদিসের মুসলিম বনাম আহসানুল হাদিসের মুসলিম):
প্রকৃত মুসলিম হওয়া কোনো স্ব-ঘোষিত পরিচয় নয় বরং আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
📖 “আর লোকদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিস গ্রহণ করে, যাতে না জেনে তারা (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এটিকে ঠাট্টা-মশকরা হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”
(সুরা লুকমান ৩১:৬)
🔹 অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিসের অনুসারীরা প্রকৃত ইসলামের পথে নয়, বরং তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়।
✅ অপরদিকে, আল্লাহ আহসানুল হাদিস সম্পর্কে বলেন-
📖 “আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, যা (আহসানুল হাদিস) এক সুসংগত কিতাব, যা বারবার পঠিত হয়। এতে ভয় রাখে তাদের চামড়া, যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর তাদের চামড়া ও অন্তর নরম হয়ে যায় আল্লাহর স্মরণে। এটি আল্লাহর হিদায়াত, যার দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ দেন। আর যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন, তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।” (সুরা আজ-জুমার ৩৯:২৩)
🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম সেই, যে আল্লাহর প্রেরিত "আহসানুল হাদিস" অর্থাৎ আল-কোরআনের অনুসরণ করে এবং অর্থহীন (লাহুওয়াল) হাদিসের অনুসারী হয় না।
📌 আল-কোরআন অনুযায়ী প্রকৃত মুসলিমের পরিচয়
আল্লাহ মুসলিমদের সংজ্ঞা দিয়েছেন-
📖 “তারা যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান এনেছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে” (সুরা যুখরুফ ৪৩:৬৯-৭০)
📖 “তুমি অন্ধকে গোমরাহি থেকে ফেরাতে পারবে না, তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারো, যারা আমার আয়াতসমূহে ঈমান আনে এবং আত্মসমর্পণ করে।” (সুরা রূম ৩০:৫৩)
🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম হতে হলে আল-কোরআনকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য হাদিস হিসেবে মেনে চলতে হবে, কারণ সেটাই আহসানুল হাদিস।
📌 পরিচিতি (identity):
আল্লাহ বলেন—
📖 “বলো! হে আহলে কিতাব! তোমরা কোনো কিছুরই ওপর নও, যতক্ষণ না তোমরা প্রতিষ্ঠা করো তাওরাত, ইনজিল এবং সেটি যা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে।” (সুরা আল-মায়েদা ৫:৬৮)
🔹 সুতরাং, প্রকৃত মুসলিম হতে হলে কেবলমাত্র আল-কোরআনকেই জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং তার শিক্ষা অনুসারে চলতে হবে।
"আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান এনেছে"—পরিবার শুদ্ধা জান্নাতের অফার?
এখানে "আমাদের আয়াতসমূহ" বলতে একমাত্র আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াতসম্বলিত আল-কুরআনকেই বোঝানো হয়েছে। অন্য কোনো গ্রন্থের কথা এখানে উল্লেখ নেই, তা সে কোনো হাদিস সংকলন হোক বা অন্য কিছু।
➡️ কিন্তু যদি কেউ নাযিলকৃত আয়াতের প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান না রাখে বা অন্য কোনো অনাযিলকৃত গ্রন্থকেও সমানভাবে গ্রহণ করে, তাহলে কি সে এই প্রতিশ্রুতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে? না, এখানে কোনো দ্বিধার সুযোগ নেই।
➡️ অতএব, আল কুরআনের আয়াতের বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে দ্বীনের বিধান গ্রহণ করা বা সেটিকে ঈমানের অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া আল্লাহর এই স্পষ্ট নির্দেশনার বিপরীত কাজ হবে।
(দু’আ’র জন্য শেষের দিকে দ্র:)
কুফর করা: কৃষক যেভাবে তারা বীজকে মাটির নিচে ঢেকে ফেলে।
📌নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি ঈমান আনার পর তা অস্বীকার/ প্রত্যাখ্যান করা কুফরী, প্রমাণ-
📖আর ওভাবেই আমরা তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি। ফলে যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা সেটার প্রতি ঈমান আনে এবং এদের মধ্য থেকে কেউ সেটাকে বিশ্বাসও করে। আর আমাদের আয়াতসমূহ তো কেবল কাফিররাই অস্বীকার করে-২৯:৪৭
আর আয়াত ৪:১৩৭-এ বলা হয়েছে, এভাবে-
📖নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে তারপর কুফর করে, আবার ঈমান আনে তারপর কুফর করে, এরপর তারা কুফরের ক্ষেত্রে বেড়ে যায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদেরকে কোনো পথপ্রদর্শন করারও নন- ৪:১৩৭
তাহলে, কুফর (Kufr) কী? আর আল্লাহর সাথে শিরক করা কী? কুরআনের আলোকে-
"কুফর" (كُفْر) শব্দটি
আরবি
"كَفَرَ" (Kafara) মূল ধাতু
থেকে
এসেছে,
যার
অর্থ
"ঢেকে
ফেলা"
বা
"গোপন
করা"। কুরআনে কুফর
বিভিন্ন অর্থে
ব্যবহৃত হয়েছে,
যেমন:
- সত্যকে অস্বীকার করা বা প্রত্যাখ্যান করা, আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, আল কোরআন তথা ইসলামের বিধান মেনে চলতে অস্বীকার করা।
১. কুফরের আক্ষরিক অর্থ: সত্যকে ঢেকে ফেলা:
📖 وَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ ٱلْكُفَّارَ نَبَاتُهُۥ
🔹 শিক্ষা: এখানে "الكفّار" শব্দটি কৃষকদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ তারা বীজকে মাটির নিচে ঢেকে ফেলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে "কুফর" শব্দের প্রকৃত অর্থ কিছু ঢেকে ফেলা বা লুকিয়ে রাখা।
২. কুফর মানে সত্য অস্বীকার করা: দ্র: -সূরা আল-বাকারা (২:৬-৭)
৩. কুফর মানে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা: দ্র: সূরা ইব্রাহীম (১৪:৭)
🔹 শিক্ষা: এখানে কুফরের
অর্থ
আল্লাহর দেওয়া
নেয়ামতকে অস্বীকার করা
বা
লুকানো।
৪. কুফর মানে সত্যকে গোপন করা ও অস্বীকার করা: দ্র: সূরা আন-নাহল (১৬:৮৩) see for more-21:30
শিক্ষা: কিছু মানুষ
সত্য
জানার
পরও
তা
গোপন
করে
বা
মেনে
নিতে
চায়
না।
এটাই
কুফরের
অন্যতম
অর্থ।
৫. কুফর মানে আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান করা:
📖 وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْكَٰفِرُونَ
🔹"যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান
অনুযায়ী বিচার
করে
না,
তারাই
কাফের" -সূরা আল-মায়েদাহ (৫:৪৪)
৭. কুফর মানে অন্যায় ও জুলুম: দ্র: "সূরা আল-বাকরা (২:২৫৪)
📖 "তাহলে,
তোমরা
কি
আল্লাহর কিতাবের এক
অংশে
ঈমান
আছো
এবং
অন্য
অংশে
কুফর
করো?
যারা
এরূপ
কাজ
করবে,
তাদের
জন্য
পৃথিবীতে লজ্জার
শাস্তি
ছাড়া
কিছুই
নেই,
এবং
কিয়ামতের দিন
তারা
কঠোর
শাস্তির দিকে
ফিরিয়ে
নেয়া
হবে।
আর
আল্লাহ
তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অজ্ঞ
নন"
প্রকৃত কুফর
/কুফরী:
আল্লাহর সাথে শিরক করা বলতে কি বুঝায়?
নাযিলকৃত বিধান বা প্রমাণ ছাড়া কিছু বলা শিরক করা যা আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং এটি করা হারাম।
সার-সংক্ষেপ:
✅ আল কোরআনে কুফরের বিভিন্ন রূপ উল্লেখ করা হয়েছে:- সত্য লুকানো (সূরা আন-নাহল ১৬:৮৩)
- আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান
করা (সূরা আল-মায়েদাহ ৫:৪৪)
- আল্লাহর নেয়ামতের
প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া (সূরা ইব্রাহীম ১৪:৭)
- পথভ্রষ্ট হওয়া ও সত্য থেকে দূরে থাকা (সূরা আল-আনআম ৬:১২৫)
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰۲﴾
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তাঁর প্রকৃত ভয়। আর তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনোভাবেই মৃত্যুবরণ কোরো না-সূরা আল ইমরান 3:102 (2:132)
দোয়া
মুসলিম হতে এবং আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করার জন্য কুরআনে বেশ কিছু দোয়া উল্লেখ আছে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত দেওয়া হলো:
✅ সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের দোয়া:
📖 সূরা আল-বাকারা (২:১২৮)
"হে আমাদের রব! আর আমাদের উভয়কে আপনার জন্য মুসলিম এবং আমাদের বংশধারা থেকে আপনার জন্য একটি মুসলিম উম্মত বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের কার্যক্রম দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই ক্ষমাশীল, দয়ালু।"
✅ মৃত্যু পর্যন্ত মুসলিম থাকার দোয়া:
📖 সূরা ইউসুফ (১২:১০১)
"হে মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা ! দুনিয়ার মধ্যে ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিত করুন।"
رَبَّنَاۤ اَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا
صَبۡرًا وَّ تَوَفَّنَا مُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۲۶
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের
ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং
আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান করুন-7:126
✅ সঠিক পথে থাকার দোয়া:
📖 সূরা আলে ইমরান (৩:৮)
"হে আমাদের রব! আমাদেরকে হিদায়েত দানের পরে আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করবেন না, আর আমাদেরকে দান করুন আপনার পক্ষ থেকে দয়া, নিশ্চয়ই আপনি, আপনিই মহান দাতা।"
✅ একমাত্র আল্লাহর ওপর নির্ভর করার দোয়া:
📖 সূরা আল-মায়েদাহ (৫:২৩)
"আমরা একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি। হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সম্প্রদায়ের মাঝে সত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিন। আর আপনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।"
✅ ক্ষমা ও রহমতের জন্য দোয়া (সন্তান-সন্তুতিসহ):
📖 সূরা আল-আহ্ক্বাফ (৪৬:১৫)
"হে আমার রব! আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি এবং আমার বাবা-মায়ের প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজন্মের মধ্যে পরিশুদ্ধি দান করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। "
এই আয়াতগুলো থেকে আমরা শিখতে পারি যে, মুসলিম হওয়া, মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করা এবং আল্লাহর নির্দেশিত সৎপথে থাকার জন্য দোয়া করা—এগুলোই প্রকৃত ঈমানদারের কাজ।
আপনি চাইলে এই দোয়াগুলো নিয়মিত পড়তে পারেন এবং আল্লাহর কাছে মুসলিম হিসেবে থাকার জন্য দোয়া করতে পারেন। 💙

