সম্পদ ও ওসিয়াত প্রসঙ্গ: আল কোরআন কি বলে? আর আমরা কী করি?

একজন বোনের জানতে চাওয়া প্রসঙ্গে-

প্রশ্ন: কোরআন অনুসারে মৃত্যুর পর মেয়ে যে সম্পদ পাবে তার ডাবল পাবে ছেলে। কিন্তু কেহ যদি তার সম্পত্তি জীবিত অবস্থায় লিখে দেয় তাহলে ছেলে মেয়ে কতো অংশ পাবে? 

কোরআনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান (ফরায়েয) মূলত মৃত্যুর পর সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি সুরা আন-নিসা (৪:১১-১৪) তে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ছেলে মেয়ের মধ্যে ছেলের অংশ মেয়ের দ্বিগুণ হবে। তবে জীবিত অবস্থায় কেউ যদি তার সম্পত্তি কাউকে দান বা লিখে দিতে চায়, তাহলে এটি উত্তরাধিকার আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং  মুত্তাকিদের ন্যায়-নীতি ভিত্তিকচেষ্টা-সংগ্রাম করতে হবে জীবনের সকল ক্ষেত্রেই।

সেক্ষেত্রে- 

ওসিয়াত সম্পর্কে আল কোরআনের আয়াত:

کُتِبَ عَلَیۡکُمۡ اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ اِنۡ تَرَکَ خَیۡرَۨا ۚۖ الۡوَصِیَّۃُ لِلۡوَالِدَیۡنِ وَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۚ حَقًّا عَلَی الۡمُتَّقِیۡنَ

যখন তোমাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তোমাদের ওপর পিতামাতার আত্মীয়স্বজনের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে অসিয়তের বিধান রাখা হয়েছে; মুত্তাকীদের ওপর কর্তব্য হিসাবে-সুরা আল-বাকারাহ (২:১৮০)

➡ সার-সংক্ষেপ: (শুধু কোরআন অনুযায়ী):

  • ওসিয়াত করা বৈধ (২:১৮০)।
  • ওসিয়াত কার্যকর হবে ঋণ পরিশোধের পর (৪:১১-১২)।
  • ওসিয়াত এমন হতে হবে যা ক্ষতিসাধনকারী নয় (৪:১২)।

তবে এখানে যে ন্যয়সংগতভাবে لۡمَعۡرُوۡفِ (Al-Ma'ruf শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে এতে নিহিত আছে অনেক বিবেচনার বিষয়:

لۡمَعۡرُوۡفِ (Al-Ma'ruf) শব্দটি কোরআনে বিভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর মূল অর্থ হলো ন্যায়সংগত , নৈতিক, প্রচলিত ভালো কাজ, সুশীল আচরণ, ইনসাফপূর্ণ (আল কোরআন ভিত্তিক) সিদ্ধান্ত ইত্যাদি। 

🔹 অর্থাৎ, কোরআনের "মাআরুফ" নীতি অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতা, সুবিচার, এবং বৈষম্যহীন আচরণ করা বাধ্যতামূলক। 

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তা হলো:

তোমাদের পিতা-মাতা ও সন্তানসন্ততির মধ্যে কে উপকারের দিক থেকে তোমাদের অধিক নিকটবর্তী, তা তোমরা জানো না। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়-(সুরা আন-নিসা ৪:১১)  

আরও যেসব বিষয় বিবেচনায় নেয়া মুত্তাকিদের (দ্র: ২:১৮০) জন্য অতীব জরুরী-

অসহায় ও বঞ্চিতদের জন্য সম্পদে অধিকার সম্পর্কে আল কোরআন কি বলে? আর আমরা কী করি?

📖 সুরা আয-যারিয়াত (৫১:১৯)

وَفِىۡۤ اَمۡوَالِهِمۡ حَقٌّ لِّلسَّآٮِٕلِ وَالۡمَحۡرُوۡمِ‏

"তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতদের জন্য নির্ধারিত অধিকার।" (৫১:১৯)

📖 সুরা আল-মাআরিজ (৭০:২৪-২৫)

وَٱلَّذِينَ فِىٓ أَمْوَٰلِهِمْ حَقٌّۭ مَّعْلُومٌۭ لِّلسَّآئِلِ وَٱلْمَحْرُومِ

"যারা নিজেদের সম্পদে এক নির্ধারিত অংশ রাখে, প্রার্থী ও বঞ্চিতের জন্য।" (৭০:২৪-২৫)

📖 আর বণ্টনকালে যখন নিকটাত্মীয়রা ও ইয়াতীমরা এবং মিসকিনরা উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদেরকেও দাও। আর তাদের সাথে শোভন কথা বলো-4:8

🔹 উপসংহার:

  • কোরআন অনুযায়ী, ধনী ব্যক্তির সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র ও বঞ্চিতদের জন্য বরাদ্দ
  • এটি শুধু দান নয়, বরং একটি অধিকার যা তারা পাওয়ার যোগ্য।
  • সমাজে অন্যায়ের কারণে যারা বঞ্চিত (المحروم) তাদের জন্য এই অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 (ওয়া মা আলাইনা ইল্লা বালাগুল মুবিন-৩৬:১৭)

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post