আল-কুরআনের কোনো শব্দ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন বা বিকৃত করা, এর উচ্চারণ বদলে দেওয়া, বিকল্প কোনো শব্দ ব্যবহার করা ! -ও তার পরিণতি?

  ~*~*~*~   ~*~*~*~

আল-কুরআনের কোনো শব্দ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন বা বিকৃত করা, এর উচ্চারণ বদলে দেওয়া, বিকল্প কোনো শব্দ ব্যবহার করা কিংবা কুরআনের বিধানের পরিবর্তে অন্য কোনো আমল চালু করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি অত্যন্ত গুরুতর পাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি কুফর (অবিশ্বাস) হিসেবে গণ্য হয়।


এর পরিণতি ভয়াবহ, যা ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের করে দিতে পারে। কারণ, আল-কুরআন হলো আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ নিখুঁত ও সংরক্ষিত বাণী। আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

অডিও: নিচের দিকে শুনুন

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ

 

অর্থ: "আমিই এই উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯)

সুতরাং, যে ব্যক্তি এতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে, সে মূলত আল্লাহর এই ঘোষণাকে চ্যালেঞ্জ করে।


পরিণতি ও সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ: দীনের ক্ষেত্রে এর পরিণতি হলো:

১. আল্লাহর অভিশাপ ও ক্রোধের কারণ: যারা আল্লাহর বাণীকে বিকৃত করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। এটি পূর্ববর্তী জাতি, বিশেষ করে ইহুদিদের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল বলে কুরআন উল্লেখ করেছে। 


অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে তার স্থান থেকে বিকৃত করে। (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৩)


এই আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, আল্লাহর বাণী বিকৃত করা (তাহরিফ) অভিশাপ এবং অন্তর কঠোর হয়ে যাওয়ার কারণ।


২. কুফর ও ঈমান থেকে বিচ্যুতি: ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করাকে কুফর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করা হয়।


ইহুদীদের মধ্যে কিছু লোক কথাকে তার স্থান থেকে বিকৃত করে এবং বলে, ‘শুনলাম ও অমান্য করলাম’... তারা জিহ্বাকে বিকৃত করে এবং দীনের প্রতি উপহাস করে এ কথা বলে। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৬)


এখানে জিহ্বা বিকৃত করে শব্দের পরিবর্তনকে "দীনের প্রতি উপহাস" (طعنا في الدين) বলা হয়েছে, যা একটি সুস্পষ্ট কুফরি কাজ।


৩. জাহান্নামের শাস্তি: যারা নিজেদের হাতে কিতাব লিখে তাকে আল্লাহর বাণী বলে চালিয়ে দেয়, তাদের জন্য কুরআন কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে।

সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা রচনা করেছে তার জন্য তাদের দুর্ভোগ এবং যা তারা উপার্জন করেছে তার জন্যও তাদের দুর্ভোগ। (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৭৯)

যদিও এই আয়াতটি সরাসরি শব্দ পরিবর্তনের কথা বলছে না, তবে আল্লাহর নামে মিথ্যা কথা বা বাণী রচনা করাও এক ধরনের বিকৃতি এবং এর পরিণতি "দুর্ভোগ" বা জাহান্নাম।

  • উচ্চারণ বিকৃত করা: যদি কেউ তাজউইদ না জানার কারণে বা অনারব হওয়ার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল উচ্চারণ করে, তবে তা ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে উপহাস করে বা অর্থ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে উচ্চারণ বিকৃত করে, তবে তা উপরোক্ত আয়াতগুলোর আওতায় পড়বে এবং কুফরের শামিল হবে।

  • বিকল্প ব্যবহার বা পরিবর্তে অন্য আমল: কুরআনের কোনো আয়াত বা বিধানের পরিবর্তে অন্য কিছুকে সমকক্ষ মনে করা বা উত্তম মনে করে তা দিয়ে আমল করা শিরক এবং বিদ'আত। যেমন, কেউ যদি সালাতে কুরআনের সূরার পরিবর্তে নিজের বানানো কোনো দোয়া বা কবিতা পাঠ করাকে জায়েজ বা উত্তম মনে করে, তবে সে আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করলো। এটি সরাসরি পথভ্রষ্টতা।

সারসংক্ষেপ:
আল-কুরআনের কোনো শব্দ বা বিধানকে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন, বিকৃত বা প্রতিস্থাপন করা একটি (মারাত্মক) পাপ। এর পরিণতি হলো:

  • ঈমানহারা হওয়া (কুফর)।

  • আল্লাহর অভিশাপ ও ক্রোধের শিকার হওয়া।

  • অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া এবং হিদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়া।

  • জাহান্নামের কঠিন শাস্তি ভোগ করা।

এটি আল্লাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং দীনের ভিত্তি ধ্বংস করার চেষ্টার শামিল।

*•̩̩͙̩̩͙͙⁺˚*•̩̩͙̩̩͙͙⁺˚*•̩̩͙̩̩͙͙

আল-কুরআন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, সুরক্ষিত ও অপরিবর্তনীয় ঐশী গ্রন্থ। এর মধ্যে কোনো প্রকার মানবিক সংযোজন, বিয়োজন বা বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই।

কুরআনের বাইরে কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজনের অবকাশ নেই:

কুরআন নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে ঘোষণা করে। তাই এর বাইরে থেকে কোনো কিছু সংযোজন করা বা এর কোনো অংশকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন বা অনুমতি—কোনোটিই নেই -সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১১৫

وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا ۚ لَّا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ: আর আপনার রবের বাণী (কালিমা) সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পরিপূর্ণ। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।


এই আয়াতে تَمَّتْ (পরিপূর্ণ) শব্দটিই প্রমাণ করে যে, এতে কোনো অপূর্ণতা নেই যার জন্য সংযোজন বা পরিবর্ধন প্রয়োজন হতে পারে।

মূল ধারণা

১. তাহরীফ (বিকৃতি): ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর কালামকে বিকৃত করাকে 'তাহরীফ' বলা হয়। এটি দুই প্রকার:

* তাহরীফ-ই-লাফযী (শব্দের বিকৃতি): মূল কিতাবের শব্দ বা বাক্য বদলে ফেলা।

* তাহরীফ-ই-মা'নাবী (অর্থের বিকৃতি): শব্দ ঠিক রেখে তার অর্থ ও ব্যাখ্যাকে নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করা।

২. কুরআনের অবস্থান: কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, পূর্ববর্তী কিতাবধারী জাতিদের (বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের) একটি অংশ এই উভয় প্রকার বিকৃতিতেই লিপ্ত ছিল। তবে, আল্লাহ তা'আলা সর্বশেষ গ্রন্থ আল-কুরআনকে এই বিকৃতি থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন।


আল-কুরআনের কালিমা/আয়াত/শব্দ বদল ও বিকৃতি বিষয়ক আয়াত:

📍এরপর যারা জুলুম করেছিল তাদেরকে যেটা বলা হয়েছিল, সেটার বিপরীতে তারা এমন একটি কথা পরিবর্তন করে আনল, ফলে যারা জুলুম করেছিল আমরা আকাশ থেকে তাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করলাম, এ কারণে যে, তারা অপকর্ম করত-2:59

পূর্ববর্তী কিতাব বিকৃত করার অভিযোগ:

এই আয়াতগুলোতে পূর্ববর্তী জাতিদের দ্বারা আল্লাহর বাণী বিকৃত করার কথা বলা হয়েছে।

জেনেশুনে আল্লাহর কালাম বিকৃত করা: 

...অথচ তাদের একটি দল ছিল যারা আল্লাহর কালাম শুনত, অতঃপর তা বোঝার পর জেনেশুনে তা বিকৃত করত। -সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত 2:৭৫ 

সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ উপার্জন করতে পারে।... সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত 2:৭৯ 

 

৩. ইবাদতে কুরআনের শব্দের বিকৃতি বা বিকল্প ব্যবহার নিষিদ্ধ (তাহরীফ):

আল্লাহর নাযিলকৃত শব্দকে তার সঠিক প্রেক্ষাপট ও অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা শব্দের মারপ্যাঁচে বিকৃত করা একটি গুরুতর অপরাধ। পূর্ববর্তী জাতিদের এই অভ্যাস সম্পর্কে কুরআন সতর্ক করেছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا وَاسْمَعُوا...

ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ‘রঈনা’ বোলো না, আর তোমরা বলো ‘উনযুরনা’ এবং শুনো। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি- সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত 2:১০৪


প্রাসঙ্গিকতা: ইহুদিরা ‘রা‘ইনা’ শব্দটি বিকৃত উচ্চারণে বলত, যা একটি অপমানজনক অর্থ দিত। আল্লাহ শব্দটিই পরিবর্তন করে দিলেন, যাতে বিকৃতির সুযোগ না থাকে। এটি প্রমাণ করে, শব্দের পবিত্রতা রক্ষা করা কতটা জরুরি।


...আমি তাদের অন্তরকে কঠিন করে দিয়েছি। তারা শব্দগুলোকে (আল্লাহর বাণীকে) তার স্থান থেকে পরিবর্তন করে দেয়... -সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত ১৩


প্রাসঙ্গিকতাএটি ‘তাহরীফ’ বা বিকৃতির সরাসরি প্রমাণ এবং এর পরিণাম হলো—অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া।


(উল্লেখিত ৭:১৬২, ৫৮:৮, ৫:৪১ আয়াতগুলোও এই একই ধরনের বিকৃতির উদাহরণ ও নিন্দা করে।) 

৪. জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করা এবং সত্য গোপন করা:

আর নিশ্চয় তাদের মধ্যে একদল আছে, যারা কিতাবকে জিহ্বা দ্বারা বিকৃত করে, যাতে তোমরা সেটাকে কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ তা কিতাবের অংশ নয়।... সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭৮

 

 ৫. আল্লাহর নির্দেশ বদলে ফেলার ঘটনা:

আর যখন আমরা বললাম, তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো। এরপর তোমরা সেখান থেকে যেভাবে চাও স্বাচ্ছন্দে আহার করো। আর তোমরা নত অবস্থায় দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো, মাফ চাই, আমরা তোমাদেরকে তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিব। আর অবশ্যই আমরা সৎকর্মপরায়ণদের বাড়িয়ে দিব।


কিন্তু যারা যালিম ছিল, তাদেরকে যা বলা হয়েছিল, তার পরিবর্তে তারা অন্য কথা বলল। সুতরাং আমি যালিমদের উপর তাদের অবাধ্যতার কারণে আকাশ থেকে শাস্তি নাযিল করলাম।  সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত 58-৫৯

 

 ইহুদিদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা শব্দগুলোকে তার স্থান থেকে বিকৃত করে এবং বলে, ‘শুনলাম অমান্য করলাম’...  সূরা আন-নিসাআয়াত ৪৬


প্রাসঙ্গিকতাএখানেও সরাসরি শব্দ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে এবং তাদের অবাধ্যতার মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে  


আল-কুরআন পরিবর্তন করার দাবি ও তার জবাব:

মক্কার কাফিররা রাসূল (সা.)-কে কুরআন পরিবর্তন করার জন্য চাপ দিয়েছিল।

...যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, তারা বলে: ‘এই কোরআনের পরিবর্তে অন্য কোরআন আনুন, অথবা একে পরিবর্তন করুন’। বলুন (হে নবী), ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার নেই। আমি তো কেবল তাই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী হিসেবে নাযিল করা হয়’ -সূরা ইউনুস, আয়াত ১৫ 


আল্লাহর কালিমা অপরিবর্তনীয় এবং কুরআনের সুরক্ষা/ কুরআনের বাইরে কিছু পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংযোজনের অবকাশ নেই

কুরআন নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে ঘোষণা করে। তাই এর বাইরে থেকে কোনো কিছু সংযোজন করা বা এর কোনো অংশকে পরিবর্তন করার প্রয়োজন বা অনুমতি—কোনোটিই নেই।


আর আপনার রবের বাণী (কালিমা) সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পরিপূর্ণ। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। -সূরা আল-আন'আম, আয়াত ১১৫:

প্রাসঙ্গিকতা:: এই আয়াতে تَمَّتْ (পরিপূর্ণ) শব্দটিই প্রমাণ করে যে, এতে কোনো অপূর্ণতা নেই যার জন্য সংযোজন বা পরিবর্ধন প্রয়োজন হতে পারে।

এই আয়াতগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, আল্লাহর বাণী (বিশেষ করে আল-কুরআন) পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই।

আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তনীয়:

...আর আল্লাহর বাণীসমূহের (প্রতিশ্রুতিসমূহের) পরিবর্তনকারী কেউ নেই.."  -সূরা আল-আন'আম, আয়াত ৩৪:


...আল্লাহর বাণীসমূহের কোনো পরিবর্তন নেই এটাই তো মহাসাফল্যসূরা ইউনুসআয়াত ৬৪


প্রসঙ্গএই আয়াতে ঈমানদারদের জন্য দুনিয়া আখিরাতের সুসংবাদকে আল্লাহর অপরিবর্তনীয় "কালিমাত" বা বাণী বলা হয়েছে


...তাঁর বাণী পরিবর্তন করার মত কেউ নেই এবং তাঁকে ছাড়া আপনি কখনো কোনো আশ্রয়স্থল পাবেন না সূরা আল-কাহফআয়াত ২৭

কুরআনের আয়াত বিকৃতকারীদের পরিচয় ও পরিণাম:

যারা আল্লাহর আয়াতে বিকৃতি বা বক্রতা অনুসন্ধান করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি।


নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে বিকৃতি (ইলহাদ) সাধন করে, তারা আমার অগোচরে নয়। যে ব্যক্তিকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে সে কি উত্তম, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে? তোমরা যা ইচ্ছা কর; তোমরা যা কর, নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা। সূরা ফুসসিলাত, আয়াত ৪০


প্রাসঙ্গিকতা: يُلْحِدُونَ (ইলহাদ) শব্দের অর্থ হলো—সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, বক্রতা বা বিকৃতি সাধন করা। আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই বিকৃতকারীদের শেষ পরিণাম জাহান্নাম। 

কুরআনের সংরক্ষণের ঐশী ঘোষণা:


"নিশ্চয়ই আমি এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক"-সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯ 

এই আয়াতগুলো থেকে এটা পরিষ্কার যে, যদিও পূর্ববর্তী কিতাবগুলো মানুষের হাতে বিকৃত হয়েছিল, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সর্বশেষ ও চূড়ান্ত গ্রন্থ আল-কুরআনকে কিয়ামত পর্যন্ত সব ধরনের পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন।

অডিও 


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post