∙∙∙∙ ✦ . ⁺ . ✦ . ⁺ . ✦·∙∙∙
সূরা নং ৭৩ আল-মুযযাম্মিলের প্রশিক্ষণ: আল-কুরআনের আয়াতে 'তাহাজ্জুদ': তাহাজ্জুদের সংগ্রাম (চেষ্টা-সাধনা) একটি গভীর সংযোগ:
সূরা আল-ইসরা (১৭:৭৯) তাহাজ্জুদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও চূড়ান্ত লক্ষ্য বর্ণনা করে, তবে সূরা আল-মুযযাম্মিল (৭৩) হলো সেই দর্শনের বাস্তব প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (Practical Training Manual)।
দুআ ভিডিও নিচের দিকে দ্র:
আল-কোরআনের আলোকে রাতের ইবাদত: 'তাহাজ্জুদ'
আল-কোরআন অনুসারে, রাতের সময়টি আল্লাহর সাথে গভীর ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত। এই ইবাদতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো আল্লাহর বাণী বা কোরআনকে অনুধাবন করা এবং এর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করা।
১. আল-কোরআন অনুধাবন ও তারতিলের সাথে তিলাওয়াত:
রাতের ইবাদতের প্রধান কাজ হলো কোরআনকে ধীরে ধীরে, সুস্পষ্টভাবে এবং গভীর মনোযোগের সাথে অনুধাবন করা। এই পদ্ধতিকে কোরআনে "তারতিল" বলা হয়েছে।
"হে বস্ত্রাবৃত! রাতে (ইবাদতে) দাঁড়াও, কিছু অংশ ছাড়া... এবং কোরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে (তারতিল সহকারে)। নিশ্চয়ই আমি তোমার ওপর এক গুরুভার বাণী অর্পণ করতে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা (ইবাদত) আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি কার্যকর এবং কথা (কোরআন) অনুধাবনের জন্য অধিক উপযোগী" (৭৩: ১-২, ৪-৬)
২. রবের নামের জিকির (স্মরণ):
কোরআন অধ্যয়নের পাশাপাশি রাতের নীরবতায় আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলী স্মরণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও একাগ্রতা তৈরি করে।
রবের নাম স্মরণ (জিকির) ও তাসবিহ: একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং রাতের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে সিজদার পরেও এবং নক্ষত্র অস্ত যাওয়ার সময় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা (তাসবিহ) ঘোষণা করা। (সূত্র: ৭৩:৮; ৭৬:২৬; ৫০:৪০,৫২:৪৯)
৩. কুরআনি দোয়ায় রবকে ডাকা:
রাত হলো আল্লাহর কাছে ভয় ও আশা নিয়ে একান্তভাবে প্রার্থনা করার শ্রেষ্ঠ সময়। বান্দা যখন ঘুম ত্যাগ করে প্রভুকে ডাকে, আল্লাহ তাকে বিশেষভাবে শোনেন।
"তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে (তারা ঘুম ত্যাগ করে), তারা তাদের রবকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।" (সূরা আস-সাজদাহ, ৩২: ১৬)
৪. ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা:
রাতের শেষ প্রহর ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়। আল্লাহ এই সময়ে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।
"তারা (মুত্তাকিগণ) রাতের সামান্য অংশই ঘুমাতো, এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।" (৫১: ১৭-১৮, ৩:১৭)
আল্লাহর প্রিয় বান্দা (ইবাদুর রহমান):
তাঁরা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলেন এবং সিজদারত ও দণ্ডায়মান অবস্থায় রাত কাটান এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি চান। (সূত্র: ২৫:৬৩-৬৫)
জ্ঞানী ও বোধসম্পন্ন (উলুল আলবাব):
কুরআন স্পষ্টভাবে রাতের অনুগত ইবাদতকারী এবং সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করেছে। কেবল বোধসম্পন্নরাই এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। (সূত্র: ৩৯:৯)
আহলে কিতাবের সৎকর্মশীলদের প্রশংসা: কুরআন পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের মধ্যেও এমন দলের প্রশংসা করেছে, যারা রাতে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে ও সিজদা করে (সূত্র: ৩:১১৩)।
সুতরাং, আল-কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী রাতের ইবাদত হলো একটি গভীর আধ্যাত্মিক অনুশীলন, যার মূলে রয়েছে কোরআন অধ্যয়ন, আল্লাহর স্মরণ, দোয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা, যা বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী করে তোলে।
তাহাজ্জুদ কি এবং কেন?
আল্লাহ কেন দিনের পরিবর্তে রাতের ইবাদতের উপর এত গুরুত্ব দিয়েছেন, তার কারণও সূরাতে mention করা হয়েছে:
মূল উদ্দেশ্য: কঠিন দায়িত্বের প্রস্তুতি: আল-কুরআন অনুশীলনীর জন্য প্রস্তুতি ও আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ লাভ (73:5)। আমি আপনার উপর এক ভারী বাণী (কুরআন) নাযিল করব।" (73:৫)। কুরআনের এই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক শক্তি প্রয়োজন, তা অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো রাতের ইবাদত।
আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও একাগ্রতা: "নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা আত্মশুদ্ধির জন্য বেশি কার্যকর এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বেশি উপযোগী" (৭৩:৬)। দিনের কোলাহল শেষে রাতের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে মন সবচেয়ে বেশি একাগ্র থাকে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর বাণী বোঝার জন্য সর্বোত্তম।
দিনের ব্যস্ততার বিপরীত: "নিশ্চয়ই দিনের বেলা আপনার দীর্ঘ ব্যস্ততা থাকে।" (আয়াত ৭)। তাই রাতের এই সময়টুকু বিশেষভাবে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।
‘তাহাজ্জুদ’ নিছক একটি ইবাদতের নাম নয়; এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া, যার পুরো ধারণাটি কুরআনের শব্দচয়ন এবং বর্ণনার মধ্যেই নিহিত আছে।
এই আয়াতে মূল নির্দেশনামূলক শব্দটি হলো فَتَهَجَّدْ (ফাতাহাজ্জাদ), যার মধ্যেই এই ইবাদতের সম্পূর্ণ দর্শন লুকিয়ে আছে।
২. 'তাহাজ্জুদ' শব্দের মর্ম: সংগ্রাম ও সাধনা
কুরআন কেন তাহাজ্জুদ’ শব্দটি বেছে নিল? এর ভাষাগত অর্থেই এর গভীরতা নিহিত।
শব্দের মূল: শব্দটি আরবী ه-ج-د (হা-জীম-দাল) ধাতু থেকে এসেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ধাতুর দুটি বিপরীত অর্থ রয়েছে: ঘুমানো এবং জেগে থাকা।
শব্দের গঠন: তাহাজ্জুদ’ শব্দটি ব্যাকরণের তাফা'উল’ (تفعّل) গঠনে এসেছে। এই গঠনটি কোনো কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে, সচেষ্টভাবে বা কষ্ট ও সাধনার মাধ্যমে অর্জন করা বোঝায়।
এই দুটি বিষয়কে একত্রিত করলে তাহাজ্জুদ’-এর অর্থ দাঁড়ায়: "সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঘুমকে পরিত্যাগ করার সংগ্রাম।"
সুতরাং, আয়াতটি যখন বলছে فَتَهَجَّدْ (ফাতাহাজ্জাদ), তখন আল্লাহ শুধু রাতে জাগতে বলছেন না, বরং নির্দেশ দিচ্ছেন: "আপনি (নিজের আরাম ও প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে) সংগ্রাম করে ঘুম ত্যাগ করুন।" এটি এক অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম, যেখানে বান্দা আল্লাহর ভালোবাসার টানে নিজের আরামকে পরাজিত করে।
৩. সাধনার মাধ্যম: 'বিহি' (بِهٖ) কুরআনের সঙ্গ-
এই সংগ্রাম বা সাধনা কিসের মাধ্যমে করতে হবে? আয়াতটি সুস্পষ্টভাবে বলছে: بِهٖ (বিহি) অর্থাৎ "এর মাধ্যমে"। (’বিহি’ বলতে-এর পূর্বের আয়াত ১৭:৭৮-এ বলতে আল-কুরআনকে বোঝানো হয়েছে।
অতএব, তাহাজ্জুদের পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি হলো:
কুরআনকে সঙ্গী করে, এর আয়াত তিলাওয়াত ও অনুধাবনের মাধ্যমে আরামের ঘুম বিসর্জন দিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হওয়া।
এটিই আল্লাহর নির্দেশিত তাহাজ্জুদ। এটি নিছক নামাজ নয়, বরং কুরআনকেন্দ্রিক এক গভীর সাধনা।
৪. এই সংগ্রামের কুরআনিক চিত্রায়ণ: সমর্থক আয়াতসমূহ
কুরআন নিজেই এই "সংগ্রামের" চিত্র অন্যান্য আয়াতে আরও স্পষ্ট করে এঁকেছে:
সূরা আস-সাজদাহ (৩২:১৬):
"তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে..."
এই আয়াতটি (تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ) "তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে"– এই জীবন্ত বর্ণনার মাধ্যমে ঘুম ত্যাগের শারীরিক প্রচেষ্টার একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরে। এটিই সেই অভ্যন্তরীণ সংগ্রামের বাহ্যিক রূপ।
সূরা আল-মুযযাম্মিল (৭৩:৬):
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
"নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা (প্রবৃত্তিকে) দমনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং কথা (বলার ও বোঝার) জন্য খুবই উপযোগী।"
এখানে أَشَدُّ وَطْئًا (আশাদ্দু ওয়াত'আন) বা "দমনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর" বলে আল্লাহ নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন যে, রাতের এই জাগরণ নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। এটি এই সাধনার কার্যকারিতার ঐশী স্বীকৃতি।
৫. সাধনার চূড়ান্ত প্রতিদান: মাকামে মাহমুদ
এই কঠিন সাধনা ও সংগ্রামের পুরস্কার কী? মূল আয়াতটি (১৭:৭৯) তার উত্তর দিয়েই শেষ হয়েছে:
...عَسٰٓى اَنۡ يَّبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا
"...আশা করা যায়, আপনার রব আপনাকে প্রতিষ্ঠা করবেন প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদে)।"
সুতরাং, তাহাজ্জুদের এই রাতের সংগ্রাম বান্দাকে এমন এক উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেয়, যা প্রশংসিত ও সম্মানজনক। এটি কেবল পরকালীন পুরস্কারই নয়, বরং দুনিয়াতেও আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উচ্চতার প্রতীক।
সারসংক্ষেপ: কুরআনের আয়াত অনুসারে, তাহাজ্জুদ হলো:
এক বিশেষ আধ্যাত্মিক সাধনা, যেখানে একজন মুমিন গভীর রাতে আরামের ঘুমকে পরাজিত করার অভ্যন্তরীণ সংগ্রামে লিপ্ত হয় এবং এই সংগ্রামের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আল-কুরআনকে গ্রহণ করে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সর্বোচ্চ প্রশংসিত মর্যাদা (মাকামে মাহমুদ) অর্জন করা।
যদি সূরা আল-ইসরা (১৭:৭৯) তাহাজ্জুদের আধ্যাত্মিক দর্শন ও চূড়ান্ত লক্ষ্য বর্ণনা করে, তবে সূরা আল-মুযযাম্মিল (৭৩) হলো সেই দর্শনের বাস্তব প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল (Practical Training Manual)।
সূরা মুযযাম্মিলের মর্মবাণীকে যখন আমরা 'ঘুম বিসর্জনের সংগ্রাম'-এর সাথে যুক্ত করি, তখন বিষয়টি আরও গভীর ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
৩. সংগ্রামের পদ্ধতি: কুরআনের সাথে ধীরস্থির (Dialogue)
সংগ্রামের হাতিয়ার কী? সূরা আল-ইসরা বলেছে بِهٖ (এর মাধ্যমে), আর সূরা মুযযাম্মিল সেই হাতিয়ার ব্যবহারের পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে।
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
"এবং কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে, সুস্পষ্টভাবে (তারতীলের সাথে)" (৭৩:৪)
গভীর সংযোগ: তারতীল মানে শুধু সুন্দর সুরে পড়া নয়। এর অর্থ হলো প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি আয়াত থেমে থেমে, বুঝে, অনুধাবন করে এবং এর সাথে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করে পাঠ করা। রাতের নিস্তব্ধতায় এই তারতীলই হলো قَوْلًا ثَقِيلًا বা ভারী বাণীকে নিজের আত্মায় ধারণ করার একমাত্র উপায়। যখন বান্দা ঘুম বিসর্জন দিয়ে কুরআনের সাথে এই গভীর সংলাপে লিপ্ত হয়, তখন কুরআনের ওজন ও নূর তার হৃদয়ে প্রবেশ করতে থাকে।
৪. সংগ্রামের ফল: আত্মার পরিশুদ্ধি ও দৃঢ়তা
এই সংগ্রামের তাৎক্ষণিক ফল কী? সূরা মুযযাম্মিল তা ব্যাখ্যা করেছে।
إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
"নিশ্চয়ই রাতে জেগে ওঠা (প্রবৃত্তিকে) দমনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং কথা (বলার ও বোঝার) জন্য খুবই উপযোগী" (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:৬)।
গভীর সংযোগ:
أَشَدُّ وَطْئًا (আশাদ্দু ওয়াত'আন): রাতের এই সংগ্রাম নফস ও প্রবৃত্তিকে দলন করার, পদদলিত করার (وَطْئًا) জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী (أَشَدُّ) মাধ্যম। এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং দুনিয়াবী মোহ থেকে মুক্ত করে।
أَقْوَمُ قِيلًا (আক্বওয়ামু ক্বীলা): এই সময়ে উচ্চারিত কথা বা পঠিত কালাম সবচেয়ে সঠিক (أَقْوَمُ) ও অন্তরে প্রোথিত হয়। এই সময়ে বান্দার মুখ এবং অন্তর এক হয়ে যায়। দিনের বেলার বিক্ষিপ্ত মনে যা সম্ভব নয়, রাতের নির্জনতায় তা অনায়াসে অর্জিত হয়।
এই অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি ও দৃঢ়তাই হলো সেই ভিত্তি, যার উপর দাঁড়িয়ে একজন মুমিন মাকামে মাহমুদ (প্রশংসিত স্থান)-এর দিকে যাত্রা করে।
সার্বিক অনুধাবন:
সূরা আল-ইসরা এবং সূরা আল-মুযযাম্মিলকে একসাথে মেলালে আমরা তাহাজ্জুদের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাই:
সূরা আল-ইসরা (১৭:৭৯) আমাদের বলে কী করতে হবে (فَتَهَجَّدْ – সংগ্রাম করো), কী দিয়ে করতে হবে (بِهٖ – কুরআনের মাধ্যমে) এবং চূড়ান্ত পুরস্কার কী (مَقَامًا مَّحْمُودًا – প্রশংসিত স্থান)।
সূরা আল-মুযযাম্মিল (৭৩) আমাদের ব্যাখ্যা করে কেন এই সংগ্রাম প্রয়োজন (ভারী বাণী ধারণের জন্য), কীভাবে তা করতে হবে (তারতীলের সাথে কুরআন পাঠ) এবং এই সংগ্রামের তাৎক্ষণিক ফলাফল কী (আত্মার দৃঢ়তা ও পরিশুদ্ধি)।
সুতরাং, সূরা মুযযাম্মিল হলো তাহাজ্জুদের প্রায়োগিক দর্শন, যা ছাড়া এর মূল উদ্দেশ্য অধরাই থেকে যায়।
∙∙∙∙ ✦ . ⁺ . ✦ . ⁺ . ✦·∙∙∙
ইস্তেগফার-দুআ-তাসবিহ:
কুরআন রেফারেন্স আয়াত বিষয় স্ব-মূল্যায়ন (self-assessment & action plan)
২৩:১১৮ ক্ষমা চাওয়া-রহমত চেয়ে দুআ-আবেদন-নিবেদন-
২৩:১০৯ ঈমান-ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত-
২৮:১৬ ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত-
২:২০১ দুনিয়া আখেরাতের সর্বোত্তমটা চাওয়া-
৩:১৬ ঈমান-ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-এস্তেগফার-রহমত-
৬৬:৮ নূরের পূর্নতা- ক্ষমা চেয়ে দু’আ-
২৫:৬৫-৬৬ জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ চেয়ে-
৩৮:৩৫ ক্ষমা-ক্ষমতা-এস্তেগফার-
১৪:৪১ ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-
৭:১৫৫ ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-
৭:১৫১ ক্ষমা চাওয়া- রহমত-
২৫:৭৪ সন্তান-সন্ততি স্বামী-স্ত্রী বংশাবলী-পরিবারের জন্য দুআ-
১৭:৮০ (প্রেক্ষিত ৩৯:৩৩) সত্যের সাথে চলার জন্য দুআ
৩:১৮৯-১৯৩ ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-মুক্তির জন্য আবেদন-
৪০:৭-৯ মালাইকাদের দুআ/ ক্ষমা চাওয়া-তাওবা-ক্ষতি থেকে রক্ষার আবেদন
২৬:১৬৯ (প্রেক্ষিত ৬:৬) সৃষ্ট বিপদ-জুলম থেকে আহলে পরিবারসহ সুরক্ষায় আবেদন
৫২:২৬-২৮ সুরক্ষায় শোকর প্রকাশ-
১৯:১৮/ ১১৩:১-৫, ১১৪:১-৬/ ২৩:৯৭-৯৮/ ২:৬৭ আশ্রয় চেয়ে-
৭:২৩ অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-
২৮:১৬ অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-
২১:৮৭ অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া-এস্তেগফার-
৭:৪৭/ ২৩:৯৩-৯৪ জুলমকারীদের সঙ্গী না করার আবেদন-
১২:১০১ ধৈর্য ও মুসলিম হিসাবে মৃত্যু কামনা করে দুআ-
৭:১২৫-১২৬ ধৈর্য ও মুসলিম হিসাবে মৃত্যু কামনা করে দুআ-
২:১২৮ মুসলিম উম্মত বানানোর আবেদন-
দু’আ মঞ্জুরের আবেদন ২:১২৭

