অতিরিক্ত গভীর বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা অনুচিত! -আহসানুল হাদীস কী বলে? (asking excessively deep or unnecessary Questions)

আহসানুল হাদীস (আল-কোরআন) অনুযায়ী, আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বিধানাবলী (হারাম কিংবা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ) সম্পর্কে অতিরিক্ত গভীর বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা অনুচিত। দ্বীনি বিধান মানার ক্ষেত্রে নাযিলকৃত অহীর বাইরে অনুসন্ধান করাও নিষিদ্ধ? 

হ্যাঁ, ইসলামে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত প্রশ্ন করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর কারণ হলো, কিছু প্রশ্ন নতুন বিধান নিয়ে আসতে পারে যা মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়, অথবা এমন বিষয় উন্মোচন করতে পারে যা মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়।

✨ আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ, তা চান এবং যা কষ্টকর, তা চান না-সূরা বাকারার ১৮৫ 

একটি ভিডিও নিচের দিকে-

আল-বাকারা 2:108
তবে কি তোমরা চাও যে, তোমরা তোমাদের রসূলকে প্রশ্ন করবে, যেমনিভাবে ইতোপূর্বে মূসাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল? আর যে ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহণ করে, তাহলে অবশ্যই সে সরল পথ হারিয়ে ফেলল-2:108

সূরা আল-মায়েদা (৫:১০১):

➤  ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কোরো না, সেটা যদি তোমাদের কাছে প্রকাশ পায়, সেটা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে। আর যদি কুরআন নাযিলের সময় সে বিষয়ে তোমরা প্রশ্ন করো, সেটা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেসব থেকে ক্ষমাদান করেছেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।

সূরা আল-মায়েদা (৫:১০২):

➤  "অবশ্যই তোমাদের পূর্বে এক সম্প্রদায় সেসব প্রশ্ন করেছিল। তারপর তারা সে সম্পর্কে অস্বীকারকারী হয়ে গিয়েছিল।"

আয়াত অনুধাবন:

১. কোরআনের স্পষ্ট বিধান: যা হারাম বা নিষিদ্ধ, তা নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা উচিত নয়। এর অর্থ হলো, যখন কোনো বিষয় কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, তখন তার কারণ বা গভীরে গিয়ে প্রশ্ন করে বিষয়টিকে জটিল করার প্রয়োজন নেই। বরং তা মেনে চলাই ইবাদতের অংশ।

২. অতিরিক্ত গভীরতা বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন: এই অংশটি বুঝায় যে, এমন প্রশ্ন করা উচিত নয় যা ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে, দ্বীনকে কঠিন করতে পারে অথবা যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য আবশ্যক নয়।

৩. নাযিলকৃত অহীর বাইরে অনুসন্ধান: এই শেষ অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝায় যে, দ্বীনি বিধানের ক্ষেত্রে আল্লাহ নাযিলকৃত অহীর বাইরে নিজেদের বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে নতুন বিধান তৈরি করা, বা অপ্রকাশিত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত গবেষণা করে বিধান বের করার চেষ্টা করা নিষিদ্ধ। কারণ, দ্বীনের পূর্ণতা অহী দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে এবং এতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজন নেই।

এই বাক্যটি মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা প্রদান করে যে, দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ এবং অহী-নির্ভর হওয়া উচিত।

এর মূল কারণগুলো নিম্নরূপ:

১. কঠোরতা আরোপের ভয়: যদি কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা হয়, তবে তার উত্তরে হয়তো এমন বিধান দেওয়া হতে পারে যা উম্মতের জন্য কঠোরতা বয়ে আনবে। ইতিহাসে এমন ঘটনা দেখা যায় যে, লোকেরা  কিছু প্রশ্ন করার কারণে এমন বিধান জারি হয়েছিল যা পরবর্তীতে তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যেমন বনী ইসরাইলদের প্রশ্নমালার সমাহার ও জটিলতা দ্র: ২:৬৭-৭১, ২:২৮৬

২. সহজীকরণ: আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য দীনকে সহজ করতে চেয়েছেন। কিছু বিষয়কে স্পষ্ট না করে তিনি আমাদের জন্য সহজতা রেখেছেন। যদি আমরা সেগুলোতে খুঁটিনাটি খুঁজতে যাই, তাহলে এই সহজতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৩. প্রয়োজনীয়তার অভাব: যেসব বিষয় আল্লাহ আমাদের জন্য প্রকাশ করেননি, সাধারণত সেগুলো আমাদের বাস্তব জীবন পরিচালনার জন্য অপরিহার্য নয়। আমাদের যতটুকু জ্ঞান প্রয়োজন, ততটুকু কোরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে।

৪. বিভ্রান্তি সৃষ্টি: অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন বা বিতর্কের ফলে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং মানুষ মূল ইবাদত ও বিধান থেকে বিচ্যুত হতে পারে।

৫. আল্লাহর প্রজ্ঞা: আল্লাহর প্রজ্ঞা সীমাহীন। তিনি জানেন কী মানুষের জন্য কল্যাণকর এবং কী ক্ষতিকর। তাই তিনি যা গোপন রেখেছেন, তা অবশ্যই আমাদের ভালোর জন্যই।

সুতরাং, আল-কোরআনে স্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে এবং যেগুলোতে আল্লাহ নীরবতা পালন করেছেন, সেগুলোতে অতিরিক্ত প্রশ্ন না করে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা উচিত। এই নীতি মুসলিম উম্মাহর জন্য সহজতা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করে।

বনী ইসরাইলদের বেশি প্রশ্ন করার কারণে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার একটি বিখ্যাত ঘটনা সূরা বাকারার ৬৭ থেকে ৭১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি হলো গরুর কোরবানি সংক্রান্ত।

এখানে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাইলকে একটি গরু কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য। প্রথমত, আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট গরুর কথা বলেননি, কিন্তু তারা যদি সঙ্গে সঙ্গেই একটি গরু জবেহ করে দিত, তাহলে তাদের জন্য বিষয়টি সহজ হতো।

তবে, তারা প্রশ্ন করতে শুরু করে: (দ্র: আয়াত ২:৬৭-৭১)

প্রথমে: "তুমি আমাদের জন্য তোমার রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, কেমন সেটা?"

এরপর: " তুমি আমাদের জন্য তোমার রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন,  সেটির রং কেমন হবে?"

সর্বশেষে: "আমাদের জন্য তোমার রবকে তুমি ডাক, তিনি যেন আমাদের জন্য স্পষ্ট করে দেন, কেমন সেটা! নিশ্চয় সব গাভীই আমাদের কাছে একই রকম।। আল্লাহ চাইলে আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব।"

তাদের এই একের পর এক প্রশ্ন করার কারণে আল্লাহ গরুর এমন সব বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট করে দিলেন যা খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং অবশেষে তারা অনেক কষ্টে এবং চড়া মূল্যে সেই নির্দিষ্ট গরুটি খুঁজে পেয়েছিল।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, যখন কোনো নির্দেশ আসে, তখন অতিরিক্ত প্রশ্ন না করে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে তা পালন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


অহেতুক, অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন বা চিন্তা মনের মধ্যে আসা এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়া মানবমনের একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ। আল-কোরআনের আলোকে এর চমৎকার সমাধান রয়েছে।  নাযিলকৃত অহীর (কুরআন) অনুশীলনে সারাক্ষণ লেগে থেকে সুগভীর জ্ঞান অর্জন করাই এই সমস্যা থেকে মুক্তির অন্যতম প্রধান পথ।


আল্লাহ সু.তা. জানিয়েছেন-

"তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (মুহকামাত), সেগুলোই কিতাবের মূল। আর কিছু আয়াত রূপক (মুতাশাবিহাত)। যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং এর (মুতাশাবিহাত) ব্যাখ্যা অনুসন্ধানের জন্য রূপক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর (وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ) তারা বলে, ‘আমরা এতে ঈমান আনলাম, এর সবকিছুই আমাদের রবের নিকট থেকে এসেছে।’ আর বুদ্ধিমানগণ ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৭)

(هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَ

যারা জ্ঞানে সুগভীর (وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ): এই আয়াতের মূল অংশটি আপনার প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত। 'রাসিখুন ফিল ইলম' বলতে তাদের বোঝানো হয় যারা ইলম বা জ্ঞানে অত্যন্ত গভীরতা লাভ করেছেন, অর্থাৎ সুগভীর জ্ঞানী। তাদের বৈশিষ্ট্য হলো:

তারা মুতাশাবিহাত আয়াতগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কে জড়ায় না, বরং এর জ্ঞান আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়।

তারা দৃঢ় ঈমানের অধিকারী এবং বলে যে, কুরআনের সব আয়াত—সেগুলো সুস্পষ্ট হোক বা রূপক হোক—সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। তারা সব কিছুতেই আল্লাহর প্রজ্ঞা ও উদ্দেশ্য খুঁজে পায়।

তারা জানে যে, কিছু বিষয় মানুষের সীমিত জ্ঞান দ্বারা পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

এ আয়াতটি এটাই নির্দেশ করে যে, কুরআনের গভীর ও জটিল বিষয় অনুধাবনের জন্য কেবল সুগভীর জ্ঞানী ব্যক্তিরাই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং তাদের পক্ষেই কুরআনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা সম্ভব। তারা ফিতনা সৃষ্টিকারীদের মতো অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। এটি বস্তুত কুরআনের সকল বিষয় সঠিকভাবে বোঝার জন্য গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব তুলে ধরে।

সেজন্যেই  কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা, গবেষণা এবং এর অর্থ অনুধাবন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা বহু আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ২৪:
এটি সবচেয়ে সরাসরি আয়াতগুলোর একটি, যা কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনার নির্দেশ দেয়।

"তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা মারা আছে?"

(أَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ اَمۡ عَلٰی قُلُوۡبٍ اَقۡفَالُهَا)

এই আয়াতে আল্লাহ প্রশ্ন করছেন যে, মানুষ কেন কুরআন নিয়ে تدبر (তাদাব্বুর) বা গভীর চিন্তা করে না। 'তাদাব্বুর' মানে শুধু পড়া বা বোঝা নয়, বরং এর গভীর অর্থ, উদ্দেশ্য, উপদেশ এবং বার্তা নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করা, যাতে হৃদয়ে তার প্রভাব পড়ে।

২. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮২:
এই আয়াতটিও কুরআনে চিন্তাভাবনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এবং এর অলৌকিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে।

"তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হত, তবে তারা তাতে বহু মতভেদ পেত।"

(اَفَلَا یَتَدَبَّرُوۡنَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ وَلَوۡ کَانَ مِنۡ عِنۡدِ غَیۡرِ اللّٰهِ لَوَجَدُوۡا فِیۡهِ اخۡتِلَافًا کَثِیۡرًا)

এখানেও 'তাদাব্বুর' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এই চিন্তাভাবনার মাধ্যমে মানুষ কুরআনের অভ্রান্ততা ও ঐশ্বরিক উৎস বুঝতে পারবে, কারণ যদি এটি মানুষের তৈরি হত, তবে এতে বহু অসঙ্গতি ও পরস্পর বিরোধিতা পাওয়া যেত।

৩. সূরা সাদ, আয়াত ২৯:
এই আয়াতে কুরআন নাযিল করার উদ্দেশ্য হিসেবে চিন্তাভাবনা ও উপদেশ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

"এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।"

(کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ اِلَیۡکَ مُبٰرَکٌ لِّیَدَّبَّرُوۡۤا اٰیٰتِهٖ وَلِیَتَذَکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ)

এখানেও 'তাদাব্বুর' শব্দটির মাধ্যমে গভীর চিন্তাভাবনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, মানুষ যেন কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তা করে এবং জ্ঞানীরা তা থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে।

সারসংক্ষেপ:

এই আয়াতগুলো পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে যে, কুরআন কেবল তেলাওয়াতের জন্য নয়, বরং এর প্রতিটি আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা, এর অর্থ ও উদ্দেশ্য বোঝা এবং তা থেকে জীবনের জন্য হেদায়েত গ্রহণ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এই চিন্তাভাবনা মানুষকে আল্লাহর কালামের মাহাত্ম্য, এর অলৌকিকতা এবং জীবনের সঠিক পথ সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।



আল্লাহু আ’লামু (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)-৬:১২৪

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post