📄হাদিস সংগ্রহ: কুরআনের বাইরে? আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের কঠোর অবস্থান📍

আর তোমরা সত্যকে অসত্যের সাথে মিশ্রিত কোরো না এবং তোমরা সত্যকে গোপন কোরো না, অথচ তোমরা জানো-আল-বাকারা 2:42 (17:81) 

••┈┈┈••✦••┈┈┈┈┈•• 

একমাত্র আল-কুরআনই সত্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দ্বীন বিধানের কিতাব (আয়াত ১৭:৮১)। অন্য সকল গ্রন্থ ও মতবাদ বাতিল ঘোষণার পরও কেন এসব রচনা করে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে? এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে, আমরা এসব গ্রন্থ প্রণেতাদের সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল জেনে নেই।

৬টি হাদিস গ্রন্থের (কুতুবুস সিত্তাহ) সংগ্রাহক/ লেখকদের পরিচিতি:

১. সহীহ বুখারী (Sahih al-Bukhari):

লেখক: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল আল-বুখারী (ইমাম বুখারী)।

মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান)। তার পরিবার বুখারার (বর্তমান উজবেকিস্তান) একটি ফার্সিভাষী অঞ্চলে বাস করত।

জন্মভূমি (দেশ): বুখারা (তৎকালীন খোরাসান, বর্তমান উজবেকিস্তান)।
জন্ম ও ওফাত: ১৯৪ হিজরী (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) - ২৫৬ হিজরী (৮৭০ খ্রিস্টাব্দ)।
সংকলনের সময়কাল: ইমাম বুখারী ১৬ বছর ধরে এই কিতাব সংকলন করেছেন। ধারণা করা হয়, তিনি ২১০ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে এটি শুরু করে ২৩০-এর দশকে বা তারও পরে সম্পন্ন করেন।

নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: ইমাম বুখারী ২৫৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং তার প্রণীত কিতাব তার ওফাতের পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল। সুতরাং, নবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ২৩০-২৪০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলন সম্পন্ন হয়।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: আল-কোরআন স্বয়ং সম্পূর্ন গ্রন্থ-যথেষ্ট ঘোসণা দেয়া  সত্ত্বেও নিজ উদ্যোগে  ইমাম বুখারী তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রায় পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন হাদিস সংগ্রহ ও যাচাইয়ে। তিনি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্র, যেমন - মক্কা, মদীনা, বাগদাদ, বসরা, কুফা, মিশর, শাম ইত্যাদি ভ্রমণ করে লক্ষ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন। তাঁর সংগৃহীত প্রায় ৬ লক্ষ হাদিস থেকে মাত্র প্রায় ৭,২৭৫টি (পুনরাবৃত্তি সহ) বা ২,৬০০টি (পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে) হাদিস তাঁর গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট কোরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

২. সহীহ মুসলিম (Sahih Muslim):

লেখক: ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী (ইমাম মুসলিম)।

মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান)। তিনি নিশাপুরের (বর্তমান ইরান) অধিবাসী ছিলেন, যা তৎকালীন একটি ফার্সিভাষী অঞ্চল ছিল।

জন্মভূমি (দেশ): নিশাপুর (তৎকালীন খোরাসান, বর্তমান ইরান)।
জন্ম ও ওফাত: ২০৪ হিজরী (৮১৭/৮১৮ খ্রিস্টাব্দ) - ২৬১ হিজরী (৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ)।
নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: সালামুন আলা মুহাম্মদের-এর ওফাতের প্রায় ২৪০-২৫০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়।
সংকলনের সময়কাল: ইমাম মুসলিম প্রায় ১৫ বছর ধরে এই কাজ সম্পন্ন করেন।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: বলা হয় ইমাম মুসলিমও ইমাম বুখারীর মতো ব্যাপক ভ্রমণ করে হাদিস সংগ্রহ করেছেন। তাঁর শর্তগুলো ইমাম বুখারীর কাছাকাছি কঠোর হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা ছিল।  তিনি প্রায় ৩ লক্ষ হাদিস থেকে ৯,২০০টি (পুনরাবৃত্তি সহ) হাদিস সংকলন করেছেন। সহীহ বুখারীর পর এটি বিশুদ্ধতার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বলে এর অনুসারীদের বিশ^াস এবং এটিকে "আল-সহীহাইন" (দুই সহীহ) এর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

৩. সুনানে আবু দাউদ (Sunan Abi Dawud):

লেখক: ইমাম আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানী (ইমাম আবু দাউদ)।


মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান) অথবা আরবি। সিজিস্তান (বর্তমান আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্ত অঞ্চল) ছিল বহুভাষিক অঞ্চল, তবে আরবি ছিল শিক্ষার প্রধান ভাষা।

জন্মভূমি (দেশ): সিজিস্তান (তৎকালীন খোরাসান, বর্তমান আফগানিস্তান-ইরান সীমান্ত)।

জন্ম ও ওফাত: ২০২ হিজরী (৮১৭ খ্রিস্টাব্দ) - ২৭৫ হিজরী (৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ)।
নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: নবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ২৫০-২৬০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়।
সংকলনের সময়কাল: সুনির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ না থাকলেও, এটি তাঁর দীর্ঘ গবেষণার ফল বলে জানা যায়।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: এই গ্রন্থটি 'সুনান' ঘরানার, অর্থাৎ ফিকহী মাসআলা (ইসলামী আইনগত বিধান) অনুযায়ী অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ আকারে বিন্যস্ত। ইমাম আবু দাউদ এই কিতাব সংকলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ফিকহী আহকামের জন্য প্রয়োজনীয় হাদিসগুলোকে একত্রিত করা, যার ভিত্তিতে আইনবিদরা তাঁদের ফিকহী মতামত দিতে পারেন। তিনি প্রায় ৫ লক্ষ হাদিস থেকে ৫,২৭৪টি হাদিস তাঁর গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। এতে সহীহ, হাসান এবং কিছু যঈফ হাদিসও অন্তর্ভুক্ত আছে, তবে তিনি সেগুলোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটি ফিকাহবিদদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত।

৪. সুনানে তিরমিযী (Jami' al-Tirmidhi / Sunan al-Tirmidhi):

লেখক: ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবন ঈসা আত-তিরমিযী (ইমাম তিরমিযী)।


মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান)। তিরমিয (বর্তমান উজবেকিস্তান) একটি ফার্সিভাষী অঞ্চল ছিল।

জন্মভূমি (দেশ): তিরমিয (তৎকালীন খোরাসান, বর্তমান উজবেকিস্তান)।

জন্ম ও ওফাত: ২০৯ হিজরী (৮২৪ খ্রিস্টাব্দ) - ২৭৯ হিজরী (৮৯২ খ্রিস্টাব্দ)।
নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: নবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ২৬০-২৭০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়।
সংকলনের সময়কাল: সুনির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ না থাকলেও, এটি তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের ফল।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: এটিও 'সুনান' ঘরানার গ্রন্থ, যা ফিকহী বিষয়বস্তু অনুসারে সাজানো। ইমাম তিরমিযীর গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি প্রতিটি হাদিসের শেষে তার বিশুদ্ধতার স্তর (যেমন: সহীহ, হাসান, যঈফ) এবং বিভিন্ন মাযহাবের (ফিকহী চিন্তাধারা) আলেমদের মত ও তাদের দলিল উল্লেখ করেছেন। এতে প্রায় ৪,০০০ হাদিস রয়েছে। 

৫. সুনানে নাসায়ী (Sunan an-Nasa'i):

লেখক: ইমাম আবু আব্দুর রহমান আহমাদ ইবন শুআইব আন-নাসায়ী (ইমাম নাসায়ী)।


মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান)। নাসা (বর্তমান তুর্কমেনিস্তান) একটি ফার্সিভাষী অঞ্চল ছিল।

জন্মভূমি (দেশ): নাসা (তৎকালীন খোরাসান, বর্তমান তুর্কমেনিস্তান)।

জন্ম ও ওফাত: ২১৫ হিজরী (৮৩০ খ্রিস্টাব্দ) - ৩০৩ হিজরী (৯১৫ খ্রিস্টাব্দ)।
নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: নবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ২৮০-২৯০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়।
সংকলনের সময়কাল: সুনির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ না থাকলেও, এটি তাঁর জীবনের বিশাল প্রচেষ্টার ফল।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: তাদের মতে, এটিও ফিকহী মাসআলার উপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত এবং বিশুদ্ধতার দিক থেকে কুতুবুস সিত্তাহ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।  তিনি মূলত ফিকহী আহকামের জন্য হাদিস সংগ্রহ করেছেন এবং তার কিতাবের বিন্যাসও ফিকহী ধারা অনুসরণ করে। তাঁর একটি বৃহৎ সংকলন ছিল 'আস-সুনানুল কুবরা', যার একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ হলো 'সুনানুন নাসায়ী', যা 'আল-মুজতাবা' নামেও পরিচিত।

৬. সুনানে ইবনে মাজাহ (Sunan Ibn Majah):

লেখক: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ ইবন মাজাহ আল-কাজনীনী (ইমাম ইবনে মাজাহ)।

মাতৃভাষা: ফার্সি (পার্সিয়ান)। কাজভীন (বর্তমান ইরান) একটি ফার্সিভাষী অঞ্চল ছিল।

জন্মভূমি (দেশ): কাজভীন (তৎকালীন পারস্য, বর্তমান ইরান)।

জন্ম ও ওফাত: ২০৯ হিজরী (৮২৪ খ্রিস্টাব্দ) - ২৭৩ হিজরী (৮৮৭ খ্রিস্টাব্দ)।
নবী (সাঃ)-এর ওফাতের পর প্রকাশ: নবী (সাঃ)-এর ওফাতের প্রায় ২৫০-২৬০ বছর পর এই গ্রন্থটি সংকলিত হয়।

সংকলনের সময়কাল: সুনির্দিষ্ট সময়কাল উল্লেখ না থাকলেও, এটি তাঁর দীর্ঘ অধ্যবসায়ের ফল।
উৎপত্তি ও পদ্ধতি: এটিও ফিকহী বিন্যাস অনুসরণ করে। তাদের মতে বিশুদ্ধতার দিক থেকে কুতুবুস সিত্তাহর মধ্যে এর স্থান কিছুটা নিচে হলেও, এতে এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা অন্য কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় না, যার কারণে এটি বিশেষভাবে মূল্যবান বলে তাদের ধারনা। এতে প্রায় ৪,৩৩৪টি হাদিস সংকলিত হয়েছে।

সংক্ষেপে, এই হাদিস সংগ্রাহকদের অধিকাংশই তৎকালীন খোরাসান অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন 

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

👉 একমাত্র আল-কোরআনের বিধান বা হুকুমের সাথে কোন বিধান যুক্ত করা কিংবা শিরক করা যাবে না-

সূরা আন'আম (৬), আয়াত: ১১৫: "আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দিক দিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাক্যসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনিই সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।" (এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে আল্লাহর বিধানই পূর্ণাঙ্গ ও অপরিবর্তনীয়)।

সূরা আল-কাহফ (১৮), আয়াত: ২৬: "বলো, 'আল্লাহই ভালো জানেন তারা কতকাল ছিল।' আকাশসমূহ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়সমূহের জ্ঞান তাঁরই। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন! তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। আর তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে কাউকে শরিক করেন না।" (অর্থাৎ, আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং এতে কেউ শরিক হতে পারে না।)

সূরা ইউনুস (১০), আয়াত: ৫৯: "বলো, 'তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযিক নাযিল করেছেন, তারপর তোমরা তা থেকে কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ?' বলো, 'আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করছ?'" (এটি নির্দেশ করে যে হালাল-হারাম নির্ধারণের ক্ষমতা শুধু আল্লাহরই, অন্য কারও নয়।)

সূরা আশ-শূরা (৪২), আয়াত: ২১: "তাদের কি এমন শরীকরা আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দানের ঘোষণা না থাকত, তাহলে তাদের মধ্যে ফায়সালা হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই যালিমদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।" (এই আয়াত স্পষ্ট করে যে দ্বীনের বিধান প্রণয়নের অধিকার শুধু আল্লাহরই।)

আল্লাহর ইবাদতে কোন কিছু শিরক করা বা যুক্ত করা (যার প্রমাণ আল্লাহ নাযিল করেননি) যাবে না-

সূরা আন-নিসা (৪), আয়াত: ৩৬: "আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরিক করো না..." (এটি শিরকের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট নির্দেশ।)

সূরা আল-ইসরা (১৭), আয়াত: ২৩: "আর তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না..." (একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ।)

সূরা আল-কাহফ (১৮), আয়াত: ১১০: "বলো, 'আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার প্রতি ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।" (সৎকর্ম ও শিরকবিহীন ইবাদতের শর্ত।)

সূরা আল-আ'রাফ (৭), আয়াত: ৩৩: "বলো, 'আমার রব কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য ও যা গোপন, আর পাপ, আর অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি, আর তোমরা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করবে যার কোন প্রমাণ তিনি নাযিল করেননি, আর আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলবে যা তোমরা জানো না।" (আল্লাহর সাথে শরিক করাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষ করে যার কোন প্রমাণ নেই।)

সূরা ইউসুফ (১২), আয়াত: ৪০: "তোমরা তাঁকে ছাড়া যার ইবাদত করছ, তা তো কেবল কিছু নাম, যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছ। আল্লাহ এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। বিধান তো কেবল আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না। এটাই সরল দ্বীন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।" (আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ইবাদত করা ভিত্তিহীন এবং বিধান শুধু আল্লাহরই।)

সূরা আল-হাজ্জ (২২), আয়াত: ৭১: "তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে, যার ব্যাপারে তিনি কোন প্রমাণ নাযিল করেননি, আর যার ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।" (প্রমাণবিহীনভাবে শিরক করার নিন্দা।)

এই আয়াতগুলি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, আল্লাহর বিধান পূর্ণাঙ্গ ও অপরিবর্তনীয়, এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা বা তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোন বিধান যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

একটিমাত্র নাযিলকৃত কিতাব (আল-কুরআন) অনুসরণ করতে বলা হয়েছে:

"তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবককে অনুসরণ করো না। তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর।" (সূরা আল-আ'রাফ, ৭:৩)

"নিশ্চয় এই কোরআন এমন পথ দেখায় যা সর্বাধিক সরল এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয়, যারা সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।"  (সূরা বানী ইসরাঈল, ১৭:৯)

"এবং আমরা এই কিতাব তোমার উপর নাযিল করেছি প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বিবরণরূপে, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।"
(সূরা আন-নাহল, ১৬:৮৯)

অন্য কোনো উৎস অনুসন্ধান না করা:

"বল, 'আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক অন্বেষণ করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন বিশদভাবে।' আর যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি, তারা জানে যে, এটি তোমার রবের নিকট থেকে সত্যসহ নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।"  (সূরা আল-আন'আম, ৬:১১৪)

৫. কোরআনকে আঁকড়ে ধরা:
আর তুমি সেই কিতাবকে মজবুতভাবে ধরো যা তোমার প্রতি ওহী করা হয়েছে; নিশ্চয় তুমি সরল পথের উপর আছ।  (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৪৩)

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

আল-কোরআনে নতুন কিছু উদ্ভাবন, যোগকরা, বাড়াবাড়ি বা মনগড়া কথা বলার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা:

ইসলামের একমাত্র  ভিত্তি হলো আল-কোরআন, যা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ আসমানী কিতাব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আল-কোরআনের পাশাপাশি হাদিসের স্থান নিয়ে ঐতিহাসিক এবং আধুনিককালেও বিভিন্ন আলোচনা বিতর্ক বিদ্যমান বিশেষত, আল-কোরআনে যখন নতুন কিছু উদ্ভাবন বা আল্লাহর আয়াতের  সাথে অন্য কিছু মিশ্রিত করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তখন কেন হাদিস সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল এবং কোরআনের পাঠ্যের বাইরে হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোরআন নিজেই কী ধরনের নির্দেশনা দেয়, তা অনুধাবন করা জরুরি এই প্রবন্ধে আমরা প্রচলিত ধারণা উপেক্ষা করে, কেবলমাত্র কোরআনের আয়াতগুলোর আলোকে এই বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব এবং কোরআনের বিকল্প গ্রন্থ আবিষ্কারের ভয়াবহতা নিয়ে আলোকপাত করব

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—


আল-কোরআন নিজেকে পূর্ণাঙ্গ এবং সুস্পষ্ট কিতাব হিসেবে ঘোষণা করেছে এটি দাবি করে যে মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মৌলিক দিক এতে সন্নিবেশিত হয়েছে কোরআন সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করে যে, কেউ যেন আল্লাহর কিতাবের সাথে নতুন কিছু যুক্ত না করে বা বিকৃত না করে আপনার উল্লেখিত এবং পূর্বের আয়াতগুলো এই কঠোরতারই প্রতিফলন:


1.  সূরা বাকারা (:১৭৪): "নিশ্চয় যারা আল্লাহর নাযিল করা কিতাবের কোনো কিছু গোপন করে এবং তার বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই খায় না আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি

 অনুধাবন: এই আয়াতটি আল্লাহর কিতাবকে বিকৃত করা বা তার অংশবিশেষ গোপন করার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সতর্কতা এটি ঐশী বাণীকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়


2. সূরা বাকারা (:৭৯): "সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে, তারপর বলে, এটা আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে, যাতে তারা এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, তাদের হাতের লেখার কারণে এবং ধ্বংস তাদের জন্য, যা তারা উপার্জন করে"

 অনুধাবন: এই আয়াতটি আরও সরাসরিভাবে সেইসব ব্যক্তিদের নিন্দা করে যারা নিজেদের মনগড়া কথাকে ঐশী কিতাবের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে এটি ধর্মকে ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে এক চরম সতর্কতা


3. সূরা আল-হাক্কাহ (69:৪৩-৪৭):

জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতরণ। আর যদি সে আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কথা বানিয়ে বলত; অবশ্যই আমরা তাকে ডানহাতে ধরতাম। এরপর তার থেকে হৃদপিণ্ডের প্রধান ধমনী অবশ্যই কেটে দিতাম। তখন তোমাদের মধ্য থেকে তার ক্ষেত্রে রক্ষাকারী কেউই নেই। আর নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য সেটা নিশ্চিত উপদেশবাণী।

অনুধাবন: এই আয়াতগুলো বিশেষভাবে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-কেও সতর্ক করে যে, যদি তিনি আল্লাহর নামে কোনো মিথ্যা কথা রচনা করতেন, তাহলে আল্লাহ নিজেই তাকে কঠোর শাস্তি দিতেন এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নামে সামান্যতম মিথ্যাচার বা নিজের কথাকে আল্লাহর বাণী হিসেবে প্রচার করার কোনো সুযোগ নেই, এমনকি নবীর জন্যও এটি কোরআনের বাইরে অন্য কোনো উৎসের বৈধতাকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যদি তা আল্লাহর বাণীর সমতুল্য বা ধর্মের অংশ হিসেবে দাবি করা হয়


4. সূরা বনী ইসরাঈল (১৭:৭৩-৭৫):

"আর তারা তো তোমাকে প্রায় ফিতনায় ফেলে দিয়েছিল যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি, যাতে তুমি আমার উপর তার বিপরীত কিছু আরোপ কর আর তখন তারা তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত। আর যদি আমি তোমাকে সুদৃঢ় না রাখতাম, তবে তুমি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তে। তাহলে আমি অবশ্যই তোমাকে জীবনের দ্বিগুণ মৃত্যুর দ্বিগুণ শাস্তি দিতাম, অতঃপর তুমি আমার বিরুদ্ধে কোনো সাহায্যকারী পেতে না। 


অনুধাবন: এই আয়াতগুলো আবার নবীর উপর আল্লাহর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ওহীর ব্যাপারে সামান্যতম বিচ্যুতির বিরুদ্ধে সতর্কবাণী এটি নবীর ব্যক্তিগত মতামত বা প্রবণতাকে ওহীর সাথে মিশিয়ে ফেলার যেকোনো সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দেয় এটি নির্দেশ করে যে, এমনকি নবী (সাঃ)-এর কথা কাজও ওহীর নির্দেশনার অধীন ছিল এবং তিনি নিজে ওহীর বাইরে গিয়ে ধর্মীয় কোনো নতুনত্ব তৈরি করার ক্ষমতা রাখেননি

5.     সূরা জিন (৭২:২২): বলো, নিশ্চয় আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখি না। 

 অনুধাবন: এই আয়াতটি নবীর নিজস্ব ক্ষমতা মর্যাদাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে তিনি আল্লাহর একজন বান্দা এবং রাসূল, যিনি কেবল আল্লাহর বাণী প্রচার করেন তিনি নিজে আল্লাহর শরীয়তে কোনো পরিবর্তন বা সংযোজন করার মালিক নন এটি নবীর ক্ষমতা সীমাবদ্ধতাকে পরিষ্কার করে এবং তিনি যে কোরআনের বাইরে গিয়ে ধর্মের নামে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি, তা নিশ্চিত করে

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—


কোরআনের পাঠ্যের বাইরে হাদিস সংগ্রহে কোরআনের কঠোরতা:

কোরআনের নিজস্ব উপস্থাপনা থেকে বোঝা যায় যে, এটিই মানবজাতির জন্য পর্যাপ্ত হেদায়েত যখন কোরআন নিজেকে "সর্বাধিক সুস্পষ্ট" (:১১৫), "প্রত্যেক বস্তুর স্পষ্ট বর্ণনা" (১৬:৮৯), এবং "হেদায়েত রহমত" (:১৫৭) হিসেবে দাবি করে, তখন এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, এর বাইরে অন্য কোনো উৎসের প্রয়োজন আছে কিনা


পূর্ণাঙ্গ কিতাবের ধারণা:

সূরা আন'আম (:৩৮): "আমি কিতাবে কোন কিছুই বাদ দেইনি"

সূরা আন'আম (:১১৫): "আর তোমার রবের বাণী সত্য ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে পরিপূর্ণ তার বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই"

সূরা ইউনুস (১০:৩৭): "আর এই কোরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব নয় বরং এটি এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যা, এতে কোন সন্দেহ নেই, (এটি) জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে"

সূরা নাহল (১৬:৮৯): "...এবং প্রত্যেক বস্তুর স্পষ্ট বর্ণনা"

অনুধাবন: এই আয়াতগুলো দৃঢ়ভাবে নির্দেশ করে যে, কোরআন নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ, বিস্তারিত এবং অপরিবর্তনীয় গ্রন্থ যদি কোরআন নিজেকে 'কোন কিছুই বাদ না দেওয়া' এবং 'প্রত্যেক বস্তুর স্পষ্ট বর্ণনা' হিসেবে দাবি করে, তাহলে এর বাইরের কোনো উৎসকে সমমর্যাদার বা অপরিহার্য হিসেবে দেখা কোরআনের নিজস্ব দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

🕊 আল্লাহর ওহী অনুসরণ এবং অন্যকে ত্যাগ:

সূরা আল আহকাফ 46:9: বলো! রসূলদের মধ্য থেকে আমি নতুন নই এবং আমি জানি না আমার সাথে কী করা হবে আর না তোমাদের সাথে। যা আমার প্রতি ওহী করা হয় সেটা ছাড়া আমি অনুসরণ করি না আর আমি স্পষ্ট সতর্ককারী ব্যতীত নই।

সূরা
আন'আম (:৫০): "বলো, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডারসমূহ আছে, আর আমি গায়েবও জানি না আর আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমি একজন ফিরিশতা আমি কেবল তাই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহী করা হয়"

সূরা ইউনুস (১০:১০৯): "আর তুমি অনুসরণ কর যা তোমার প্রতি ওহী করা হয় এবং ধৈর্য ধারণ কর, যতক্ষণ না আল্লাহ ফয়সালা করেন আর তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী"

অনুধাবন: এই আয়াতগুলো নবীর ভূমিকাকে কেবল ওহী অনুসরণকারী হিসেবে সীমিত করে নবী (সাঃ) নিজেই কেবল ওহী অনুসরণ করতেন, যা পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে যে, মুসলিমদেরও কেবল ওহী (কোরআন) অনুসরণ করাই যথেষ্ট

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

'হাদিস' শব্দের ব্যবহার কোরআনে:

কোরআনে 'হাদিস' শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো 'কথা' বা 'বর্ণনা' কিছু আয়াতে এটিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করে কোরআন ব্যতীত অন্য কোনো 'হাদিস' (কথা/গ্রন্থ) অনুসরণ করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে:

সবোর্ত্তম হাদিস:
আল্লাহ সবোর্ত্তম হাদিস নাযিল করেছেন, বহুল পঠিত সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কিতাব হিসাবে। সেটা দ্বারা তাদের ত্বকসমূহ শিহরিত হয়, যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর আল্লাহর যিকিরের প্রতি তাদের ত্বকসমূহ ও তাদের অন্তরসমূহ বিগলিত হয়। সেটা আল্লাহর পথনির্দেশ, তিনি সেটা দ্বারা যাকে চান পরিচালিত করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাহলে তার জন্য কোনো পথনির্দেশক নেই-৩৯:২৩

সূরা ইউসুফ (১২:১১১): "তাদের কাহিনীসমূহে চিন্তাশীলদের জন্য অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে এটি মনগড়া কোনো কথা (হাদিস) নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য প্রত্যেক বস্তুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা, হেদায়েত রহমত"

সূরা লুকমান (৩১:): "আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অজ্ঞতাবশত অসার কথা (লাহওয়াল হাদিস) ক্রয় করে এবং তাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তাদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি"

সূরা আল আনকাবূত (29:51):  তাদের জন্য কি যথেষ্ট হয় না যে আমরা, আমরাই তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের সামনে পাঠ করা হয়? নিশ্চয় সেটার মধ্যে এমন জনগোষ্ঠীর জন্য অবশ্যই অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে, যারা ঈমান রাখে।

সূরা জাসিয়া (৪৫:): "এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে সত্যসহ তেলাওয়াত করছি অতঃপর তারা আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহের পর আর কোন কথায় (হাদিস) ঈমান আনবে?"

সূরা মুরসালাত (৭৭:৫০): "সুতরাং এর পর আর কোন কথায় (হাদিস) তারা ঈমান আনবে?"

অনুধাবন: এই আয়াতগুলোতে 'হাদিস' শব্দটি 'কথা' বা 'বর্ণনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বিশেষত কোরআনের পর অন্য কোনো 'কথা' বা 'বর্ণনা' অনুসরণের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রশ্ন বা কঠোরতা প্রকাশ পেয়েছে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মুসলিমদের মনোযোগ মূলত কোরআনের দিকেই নিবদ্ধ থাকা উচিত

সূরা আল ওয়াক্বিয়া 56: 80-81: জগতসমূহের রবের পক্ষ থেকে অবতরণ। তবুও কি এ  হাদিসের ব্যাপারে তোমরা উপেক্ষাকারী?-৫৬:৮০-৮১

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—

নবীর ব্যক্তিগত কথাবার্তা (হাদিস) সংগ্রহ বা কথা শোনার ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা:

সূরা আহযাব (৩৩:৫৩): "হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর ঘরে প্রবেশ করো না, অনুমতি ব্যতীত, খাবারের জন্য অপেক্ষা না করে কিন্তু যখন তোমাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন প্রবেশ কর এবং খাবার খেয়েই চলে যাও  আর (হাদিস) কথাবার্তা বলার জন্য সেখানে লেগে থেকো না নিশ্চয় এটি নবীকে কষ্ট দেয়, ফলে তিনি তোমাদের জন্য লজ্জা বোধ করেন আর আল্লাহ সত্য বলতে লজ্জা করেন না আর যখন তোমরা তাদের (নবী পত্নীদের) কাছে কোনো সামগ্রী চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাও এটি তোমাদের অন্তর তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র আর তোমাদের জন্য বৈধ নয় আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে কখনো বিয়ে করা নিশ্চয় এটি আল্লাহর কাছে এক মহা অপরাধ"

অনুধাবন: এই আয়াতে নবীর ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং তাঁর ঘরে বেশি সময় ধরে অবস্থান করে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। '(হাদিস) কথাবার্তা বলার জন্য সেখানে লেগে থেকো না' (ولا مستأنسين لحديث) – এই অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এটি কেবল সৌজন্যতার প্রশ্ন নয়, বরং নবীর ব্যক্তিগত পরিসরকে রক্ষা করার নির্দেশ এটি পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে যে, নবীর ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি কথা বা আলোচনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা বা সংরক্ষণ করা আল্লাহর অভিপ্রেত ছিল না, বরং তা নবীকে কষ্ট দিত এবং অন্তরকে অপবিত্র করতে পারত যদি নবীর ব্যক্তিগত কথাগুলো সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ব্যবহার করা ধর্মের অংশ হতো, তাহলে আল্লাহ নিজেই সেগুলোকে উৎসাহিত করতেন, কিন্তু এখানে তিনি কঠোরভাবে বারণ করেছেন এটি হাদিস সংকলনের ধারণার উপর প্রশ্ন উত্থাপন করে, বিশেষত যখন তা নবীর ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে

সূরা তাহরীম (৬৬:-):
(৬৬:): "আর যখন নবী তাঁর কোনো স্ত্রীকে গোপনে কিছু বলেছিলেন, অতঃপর যখন সে তা অন্যকে জানিয়ে দিল এবং আল্লাহ নবীকে সে সম্পর্কে অবগত করলেন, তখন নবী তার কিছু প্রকাশ করলেন এবং কিছু এড়িয়ে গেলেন অতঃপর যখন তিনি তাকে সে সম্পর্কে খবর দিলেন, তখন সে বলল, কে আপনাকে খবর দিল? তিনি বললেন, আমাকে খবর দিয়েছেন সেই সত্তা যিনি সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত"

(৬৬:): "যদি তোমরা উভয়ে (নবী পত্নীরা) তওবা কর, তবে তোমাদের অন্তর অবশ্যই ঝুঁকেছে; আর যদি তোমরা তার বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে নিশ্চয় আল্লাহই তার সাহায্যকারী, আর জিবরাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ এবং ফিরিশতাগণও এরপর তার সাহায্যকারী"

(৬৬:): "যদি সে তোমাদেরকে তালাক দেয়, তবে তার রব তাকে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দেবেন; যারা মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তওবাকারিনী, ইবাদতকারিনী, সাওম পালনকারিনী, কুমারী অকুমারী"

অনুধাবন: এই আয়াতগুলো নবীর ব্যক্তিগত জীবনের একটি সংবেদনশীল ঘটনা প্রকাশ করে, যেখানে তাঁর ব্যক্তিগত গোপন কথা তাঁর স্ত্রীদের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায় আল্লাহ নবীর ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে গোপন রাখার উপর জোর দিয়েছেন এবং যারা এই গোপন বিষয়গুলো ফাঁস করেছে তাদের তিরস্কার করেছেন 'ব্যক্তিগত কথা অন্যের সাথে চালাচালি করলে কঠোরভাবে সতর্কতা' – এই বিষয়টি এখানে অত্যন্ত সুস্পষ্ট এটি কোরআনের অফিসিয়াল আয়াতের বাইরে আল্লাহর নবীর ব্যক্তিগত কোনো কথাবার্তা (হাদিস) যাতে সংগ্রহ করা না হয় বা জনসমক্ষে প্রচার না করা হয়, সেদিকে একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দেয় যদি নবীর ব্যক্তিগত কথোপকথনগুলো ধর্মীয়ভাবে সংরক্ষণের যোগ্য হতো, তাহলে আল্লাহ এগুলো ফাঁস হওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রীদের তিরস্কার করতেন না, বরং সেগুলোকে শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে উৎসাহিত করতেন এই আয়াতগুলো আল্লাহর রাসূলের ব্যক্তিগত জীবনের পবিত্রতা এবং তাঁর কথোপকথনগুলোর অননুমোদিত প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে গভীর চিন্তার উদ্রেক করে

—═◎═— ◇ ◇ ◇ ◇ ◇ —═◎═—


হাদিস সংকলনের প্রক্রিয়া এবং কোরআনের বিকল্প গ্রন্থ আবিষ্কারের ভয়াবহতা:

আপনি যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন, তা হাদিস সংকলনের কার্যকারিতা এবং এর ধর্মীয় প্রভাব নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তৈরি করে:

সংকলনের সময়কাল মৌখিক বর্ণনা:
বিশেষ করে ৬টি প্রধান হাদিস সংগ্রহের সময়কাল থেকে দেখা যায়, এগুলো নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ওফাতের দুইশত, আড়াইশত বা প্রায় তিনশত বছর পর সংকলিত হয়েছে বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি... ইত্যাদি গংরা লোকমুখে শুনে শুনে লিপিবদ্ধ করেছেন এটা কি করে সম্ভব যে মানুষের মেমোরিতে হুবাহু নবীর কথা তারা ধারণ করে বংশ পরস্পরায় সংগ্রহ করা সেগুলিকে প্রকাশ করা?

কোরআনের আলোকে অনুধাবন: 
কোরআন নিজেই মৌখিক বর্ণনার সীমাবদ্ধতা এবং সময়ের সাথে সাথে ভুল হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাপারে সচেতন পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর বিকৃতির ইতিহাস কোরআনেই বর্ণিত আছে (যেমন :৭৫, :৪৬) যদি আল্লাহ নিজেই তাঁর কিতাবের নির্ভুলতার জন্য লিখিত সংরক্ষণের (লৌহে মাহফুজ থেকে অবতীর্ণ এবং লিখিত) উপর জোর দিয়ে থাকেন, তাহলে শত শত বছর ধরে মৌখিকভাবে প্রচলিত কোনো 'কথা' বা 'হাদিস'কে একই নির্ভুলতার মানদণ্ডে বিচার করা কোরআনের শিক্ষাবিরোধী হতে পারে মানুষের স্মৃতিশক্তি, পক্ষপাতিত্ব, ভুল বোঝাবুঝি বা ইচ্ছাকৃত পরিবর্তনের সম্ভাবনা সময়ের সাথে সাথে বাড়তেই থাকে নবী (সাঃ)-এর কথাগুলো যখন তিন প্রজন্ম বা তারও বেশি সময় ধরে মৌখিকভাবে প্রবাহিত হয়, তখন সেগুলোর প্রতিটি শব্দ বাক্যের নির্ভুলতা ধরে রাখা এক অসম্ভব প্রায় কাজ কোরআনের আয়াতগুলো, যেমন ৭০:৪৪-৪৭, ১৭:৭৩-৭৫, ৬৬:-, নবীর 'কথার' নির্ভুলতা বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ করে

'লক্ষ লক্ষ হাদিস থেকে অল্প কিছু গ্রহণ' এবং 'পরস্পর বিরোধিতা':

হাদিস সংকলকগণ লক্ষ লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করে মাত্র অতি অল্প কিছু (/ হাজার বা তার কাছাকাছি) রেখে বাকিগুলি বাদ দিয়েছেন আবার হাদিস সংগ্রাহক একজনেরটি অন্যজন গ্রহণ করেননি

কোরআনের আলোকে অনুধাবন: এই বিষয়টি নিজেই প্রমাণ করে যে, সংগ্রহকৃত 'হাদিস'গুলোর মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা এবং দুর্বলতা বিদ্যমান ছিল যদি নবীর প্রতিটি কথা ধর্মের অংশ হতো এবং তা সংরক্ষণের জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিতেন, তাহলে এই ধরনের বিশাল বর্জন এবং পরস্পর বিরোধিতা পরিলক্ষিত হতো না আল্লাহর কিতাব সম্পূর্ণ এবং তাতে কোনো বিকৃতি নেই (:১১৫) কিন্তু হাদিস গ্রন্থগুলোর সংকলন প্রক্রিয়ার এই বাস্তবতা এটাই প্রমাণ করে যে, মানবীয় প্রচেষ্টায় সংগৃহীত এই 'হাদিস'গুলো সেই একই নির্ভুলতার মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি, যা কোরআনের জন্য আল্লাহ নিশ্চিত করেছেন যদি 'ধর্মের উৎস' হিসেবে এই 'হাদিস'গুলো গ্রহণ করা হয়, তাহলে এটি কোরআনের পূর্ণাঙ্গতার ধারণাকে খর্ব করে

দ্বীনের নামে বিকল্প বই-পুস্তক এবং শিরকের ভয়াবহতা:

এভাবে ধর্মের নামে বিকল্প বই-পুস্তক মানুষ রচনা করে মূল নাযিলকৃত কিতাব আল-কোরআন-এর সাথে যুক্ত করে অধিকাংশ মানুষ এখন শিরকে লিপ্ত হয়ে মুশরিক হয়ে নিজেকে মুসলিম দাবী করছে

কোরআনের আলোকে অনুধাবন: কোরআন শিরকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সতর্কতা জারি করেছে শিরক মানে আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে অংশীদার করা, তা উপাসনার ক্ষেত্রে হোক, বা তাঁর আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে হোক, অথবা তাঁর কিতাবের পাশাপাশি অন্য কোনো উৎসকে সমান মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে হোক

সূরা আন'আম (:১৯): "বলো, কে সবচেয়ে বড় সাক্ষী? বলো, আল্লাহ! তিনি আমার তোমাদের মাঝে সাক্ষী আর এই কোরআন আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে, যেন আমি এর দ্বারা তোমাদেরকে এবং যাকে এটি পৌঁছাবে, তাকে সতর্ক করি তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্য আছে? বলো, আমি সাক্ষ্য দিই না বলো, তিনি তো একক ইলাহ আর নিশ্চয় আমি অংশীদার সাব্যস্তকারীদের থেকে মুক্ত"

সূরা আল-কাহফ (১৮:২৬): "বলো, আল্লাহই ভালো জানেন তারা কতক্ষণ ছিল আসমানসমূহ জমিনের গায়েব তাঁরই জ্ঞানসীমার মধ্যে তিনি কত সুন্দর দ্রষ্টা কত সুন্দর শ্রোতা! তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই আর তিনি তাঁর শাসন ক্ষমতার (হুকুম) কাউকে অংশীদার করেন না"

সূরা ইউনুস (১০:৬৬): "সাবধান! যারা আসমানসমূহে আছে আর যারা জমিনে আছে, তারা সবাই আল্লাহরই আর যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অংশীদারদের ডাকে, তারা আসলে কেবল ধারণার অনুসরণ করে, আর তারা কেবল মিথ্যাই বলে"

কোরআনের বিকল্প হাদিস গ্রন্থ আবিষ্কারের ভয়াবহতা: 
যখন কোরআনের পাশাপাশি অন্য কোনো গ্রন্থকে ধর্মের মৌলিক উৎস হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং তার নির্দেশগুলোকে কোরআনের সমতুল্য বা কোরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে অপরিহার্য মনে করা হয়, তখন তা প্রকারান্তরে আল্লাহর 'হুকুম' (ক্ষমতা বিধান প্রণয়নের অধিকার)- অন্যকে অংশীদার করার পর্যায়ে চলে যেতে পারে যদি দাবি করা হয় যে কোরআনের নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ ইত্যাদি বিধানগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হাদিসে না থাকলে বোঝা যাবে না, তবে এটি কোরআনের 'পূর্ণাঙ্গতা' এবং 'স্পষ্টতা' দাবিকে (:৩৮, ১৬:৮৯, 29:51) প্রশ্নবিদ্ধ করে এই বিশ্বাস কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াতগুলোকে উপেক্ষা করে এবং 'আল্লাহর শাসন ক্ষমতায় কাউকে অংশীদার না করার' (১৮:২৬) কোরআনিক নির্দেশনার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে ফলস্বরূপ, মুসলিমরা নিজের অজান্তেই এমন একটি পদ্ধতির অনুসরণ করতে পারে যা কোরআন ব্যতীত অন্য কোনো উৎসকে দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়, যা প্রকারান্তরে শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে যখন কোনো মানুষ কোরআনের সুস্পষ্ট আয়াত থাকা সত্ত্বেও, নবীর নামে প্রচলিত বিভিন্ন 'হাদিস'কে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখন সে কোরআনের পরিবর্তে অন্য কোনো 'কথার' উপর ঈমান আনছে, যা ৪৫: এবং ৭৭:৫০ আয়াতে বর্ণিত কঠোরতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

উপসংহার:
আল-কোরআন নিজেকে পূর্ণাঙ্গ, বিস্তারিত এবং সুস্পষ্ট হেদায়েত হিসেবে দাবি করে এটি নতুন কিছু উদ্ভাবন, বিকৃতি বা আল্লাহর কিতাবের সত্যকে গোপন করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় নবী (সাঃ)-কেও তার নিজের নামে বা আল্লাহর নামে কিছু রচনা করার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে (৭০:৪৩-৪৭, ১৭:৭৩-৭৫, ৭২:২২) উপরন্তু, কোরআন নবীর ব্যক্তিগত জীবন এবং কথোপকথন সংগ্রহ প্রচারের ক্ষেত্রেও (৩৩:৫৩, ৬৬:-) কঠোরতা প্রদর্শন করেছে


হাদিস সংকলনের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া, যার মধ্যে বহু শতাব্দীর মৌখিক বর্ণনা, লক্ষ লক্ষ হাদিস থেকে অল্প কিছু গ্রহণ এবং সংকলকদের মধ্যে মতভিন্নতা অন্তর্ভুক্ত, তা কোরআনের নিজস্ব 'পূর্ণাঙ্গতা' এবং 'নির্ভুলতার' দাবির সাথে সাংঘর্ষিক প্রশ্ন উত্থাপন করে কোরআনের এই সুস্পষ্ট আয়াতগুলো অনুধাবন করলে, কোরআনের পাঠ্যের বাইরে অন্য কোনো উৎসকে সমমর্যাদার বা কোরআনের উপর অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কঠোরতা সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় কোরআনের বিকল্প গ্রন্থ আবিষ্কার এবং সেগুলোকে কোরআনের সাথে যুক্ত করা, কোরআনের দৃষ্টিতে শিরকের ভয়াবহতার দিকে পরিচালিত করতে পারে, যেখানে মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো 'কথা' বা 'বিধান'কে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করে


মুসলিমদের জন্য এটি একটি গভীর আত্ম-অনুসন্ধানের বিষয় যে, তারা কীভাবে কোরআনের মৌলিক শিক্ষাকে বজায় রেখে ধর্ম পালন করবেন প্রচলিত ধারণাকে উপেক্ষা করে কোরআনের প্রতিটি আয়াতকে গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং তা থেকে সরাসরি হেদায়েত লাভ করার উপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে এটিই একমাত্র পথ যা মানুষকে কোরআনের পরিপূর্ণতার উপর বিশ্বাস রাখতে এবং আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহীদ) মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে

আল্লাহু আ’লামু (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)-৬:১২৪

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post