নিরীহ মানুষ আজ লাঞ্ছিত ও অপমানিত! ধর্মের নামে-এরা কারা?

নাযিলকৃত ওহী (আহসানুল হাদিস) উপেক্ষিত:  মানব-সৃষ্ট 'লাহওয়াল হাদীস'-এর জাঁতাকলে নিরীহ মানুষ আজ লাঞ্ছিত ও অপমানিত!

সত্যিই তাই! আপনি গভীরভাবে তলিয়ে দেখলে এটাই সত্য বলে আপনার কাছে মনে হবে। সমাজ-সংসারের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন মানুষদের নিজস্ব মনোজাগতিক পৃথিবীতে পীড়া দেওয়ার এখতিয়ার আপনার বা আমার কোথা থেকে এলো? ধর্মের নামে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের একমাত্র আহাসানুল হাদিসে (আল-কুরআনে) কি এমন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে?

"আর নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বহন করেছি, তাদেরকে উত্তম রিজিক দান করেছি এবং তাদেরকে আমার সৃষ্টিসমূহের অনেকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি" সূরা বনী ইসরাঈল (১৭:৭০)

অনুধাবন: এই আয়াতটি আদম সন্তানের (অর্থাৎ সকল মানুষের) প্রতি আল্লাহর বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের কথা ঘোষণা করে। আল্লাহ মানুষকে কেবল সৃষ্টিই করেননি, বরং তাদেরকে সম্মানিত করেছেন, জীবন ধারণের সকল সুবিধা দিয়েছেন এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে স্থাপন করেছেন। এই সম্মান সর্বজনীন, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
ভিডিও নিচের দিকে-
কেইস কিন্তু ফাইল-আপ করা হয়ে গেছে: সত্যিই তো তিনি দেখছেন এবং ভিডিও করে রেখেছেন! [...আর আল্লাহ সকল বিষয়ের ওপর প্রত্যক্ষদর্শী-আয়াত ৮৫:৯]

জোর করে চুলের জটা কাটার প্রেক্ষাপটে:

ব্যক্তিগত সম্মান ও মর্যাদা লঙ্ঘন: আল্লাহ মানুষকে যে মর্যাদা দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো তার ব্যক্তিগত স্বকীয়তা, পছন্দ এবং শারীরিক অখণ্ডতা। একজন ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার চুলের জটা কেটে দেওয়া তার ব্যক্তিগত সম্মান ও মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত। এটি ব্যক্তিকে ছোট করা, তার ইচ্ছাকে উপেক্ষা করা এবং তাকে অসম্মানিত করার শামিল। যদি আল্লাহ সু. তালা নিজেই মানুষকে সম্মানিত করে থাকেন, তাহলে কোনো মানুষের এই অধিকার নেই যে সে অন্য কোনো মানুষকে অসম্মানিত করবে বা তার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করবে।

ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: এই সম্মান ও মর্যাদার অর্থ হলো, যতক্ষণ না একজন ব্যক্তি আল্লাহর সুস্পষ্ট কোনো আদেশ লঙ্ঘন করে বা সমাজে ফিতনা সৃষ্টি করে, ততক্ষণ তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। চুলের জটা রাখা একজন ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত পছন্দ হতে পারে এবং এটি সাধারণত কোনো হারাম কাজ নয় বা সমাজের জন্য ক্ষতিকরও নয়। তাই জোরপূর্বক এর পরিবর্তন ঘটানো এই সম্মান ও মর্যাদার পরিপন্থী।

আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির প্রতি জুলুম: মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি হলো, মানুষ একে অপরের প্রতি সুবিচার করবে, সম্মান করবে এবং অন্যের উপর অন্যায়ভাবে জোর খাটানো থেকে বিরত থাকবে। জোর করে চুলের জটা কেটে দেওয়া একটি জুলুম, যা আল্লাহর সম্মানিত সৃষ্টির প্রতি অন্যায় আচরণ।

দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচারকে আল-কুরআন অত্যন্ত কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং একে খামাখা জোরজবরদস্তিমূলক শক্তিপ্রয়োগ "যুলুম" বা অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে। কুরআন বহু আয়াতে এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে এবং জালিমদের (অত্যাচারীদের) জন্য কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সাথে, মজলুম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির পক্ষে দাঁড়ানো এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

সূরা বাকারা (২:২৭৯): .......তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপর যুলুম করাও হবে না।"

সামগ্রিক সারসংক্ষেপ (অহীর আয়াত যা বলে):

আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত (যেমন ২:২৫৬, ৬:১৬৫, ১৭:৭০, ১৭:৮৪, ১৮:২৯) সম্মিলিতভাবে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ইসলামে জোর-জবরদস্তি, অন্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং জুলুমের কোনো স্থান নেই।

  1. ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদা (১৭:৭০): আল্লাহ স্বয়ং মানুষকে সম্মানিত করেছেন। তাই কোনো মানুষের অধিকার নেই যে সে অন্য কোনো মানুষকে অসম্মানিত করবে বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, বিশেষ করে এমন বিষয়ে যা সরাসরি কোনো হারাম নয়।

  2. ইচ্ছার স্বাধীনতা (২:২৫৬, ১৮:২৯): দ্বীন গ্রহণে যদি কোনো জোর না থাকে এবং বিশ্বাস/অবিশ্বাসের স্বাধীনতা থাকে, তবে চুল রাখা বা না রাখার মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে জোর খাটানো আরও বেশি অগ্রহণযোগ্য।

  3. ব্যক্তিগত স্বভাব ও পথ (৬:১৬৫, ১৭:৮৪): আল্লাহ জানেন কে কোন পথে আছে এবং প্রত্যেক মানুষ তার স্বভাব অনুসারে কাজ করে। মানুষের উচিত নয় অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করে নিজেদেরকে বিচারকের আসনে বসানো। বরং, ভিন্নতাকে সম্মান জানানো উচিত।

  4. ফিতনা পরিহার (৭:৫৬): জোরপূর্বক এই ধরনের কাজ সমাজে বিভেদ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ ফিতনার কারণ হতে পারে।

  5. আল্লাহর পরীক্ষা ও বিচার (৬:১৬৫, ১৮:২৯): যারা অন্যের উপর অন্যায়ভাবে জোর খাটায়, তারা আল্লাহর পরীক্ষার সম্মুখীন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

অতএব, ধর্মের নামে জোর করে কারও ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুলের জটা কেটে দেওয়া সম্পূর্ণরূপে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, বিশেষত উপরোক্ত আয়াতসমূহের চেতনার পরিপন্থী। এটি মানুষের প্রতি আল্লাহর দেওয়া সম্মান ও মর্যাদার লঙ্ঘন এবং অন্যের উপর অন্যায় জুলুম। 

দুআ:  আল-বাকারা 2:286

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦ ۖ وَٱعْفُ عَنَّا وَٱغْفِرْ لَنَا وَٱرْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَىٰنَا فَٱنصُرْنَا عَلَى ٱلْقَوْمِ ٱلْكَٰفِرِينَ

রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসিনা আও আখত্বা'না, রাব্বানা ওয়া লা তাহমিল 'আলাইনা ইছরান কামা হামালতাহু 'আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা। রাব্বানা ওয়া লা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাক্বাতা লানা বিহ। ওয়া'ফু 'আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা। আনতা মাওলানা ফানসুরনা 'আলাল ক্বাউমিল কাফিরীন।

হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি, আপনি আমাদের ধরবেন না। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদের ওপর তেমন ভার চাপিয়ে দিবেন না, যেমন আমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ওপর তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আর আপনি আমাদেরকে এমনকিছু চাপিয়ে দিবেন না, যেটার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের মাফ করুন এবং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন আর আপনি আমাদের অনুগ্রহ করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আপনি আমাদেরকে কাফির জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাহায্য করুন!

দুআ ভিডিও লিংক: https://youtube.com/shorts/Oa51kTaoCxE?si=Y8JEIqGUSNq1RLmQ

আল্লাহু আ’লামু (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)-৬:১২৪

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
ভিডিও 

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post