নাতি-নাতনী-বংশধরদের জন্য/ Next generation-এর জন্য দুআ: আল-কুরআন অনুধ্যানে-
byঅনুধাবনের আয়োজনে: মতিউর রহমান খান
0
✋জনৈক মুমিনার প্রশ্ন: আমি দাদী হতে চলেছি। এখন আমি কি দোয়া পড়বো?
👉 কোরআনে 'জুররিয়্যাতিনা' (ذُرِّيَّاتِنَا) শব্দটি প্রায়শই ব্যবহার করা হয়েছে, যার আভিধানিক অর্থ হল 'আমাদের বংশধর'। এই শব্দটি ব্যাপক অর্থ বহন করে এবং এটি কেবল সরাসরি সন্তান-সন্ততিকেই নয়, বরং নাতি-নাতনী এবং তারও পরের প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করে। কোরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে, বংশধরদের মধ্যে একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা রয়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্মের উৎস। ডিএনএ-এর সিকোয়েন্সের ধারণার সাথে মিলিয়ে দেখলে, এটি বোঝায় যে বংশের প্রতিটি সদস্য তার পূর্বপুরুষদের জিনগত বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা তাদের একীভূত করে।
"যখন ইব্রাহীমকে তার প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করলেন এবং সে তা পূর্ণ করল, তখন তিনি বললেন, 'আমি তোমাকে মানবজাতির জন্য নেতা বানাব।' সে বলল, 'আর আমার বংশধরদের (ধুররিয়্যাতি) মধ্য থেকে?' তিনি বললেন, 'আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের জন্য নয়'।"
এই আয়াতে সালামুন আলা ইব্রাহীম তার বংশধরদের জন্য নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এখানেও 'ধুররিয়্যাত' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা তার সরাসরি সন্তানদের ছাড়িয়ে তার পরবর্তী প্রজন্মকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তায়ালা অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই নেতৃত্ব জালিমদের জন্য নয়, যা বংশগত অধিকারের পাশাপাশি নৈতিক গুণাবলীর গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায় যে কোরআনে 'জুররিয়্যাতিনা' শব্দটি একটি বিস্তৃত ধারণা, যা ডিএনএ-এর সিকোয়েন্সের মতো একটি অবিচ্ছিন্ন বংশগত ধারাকে ইঙ্গিত করে। যদিও নাতি-নাতনীরা সরাসরি পেট বা ঔরসজাত নয়, তবুও তারা পূর্বপুরুষদেরই রক্ত ও গুণের বাহক এবং এই অর্থে তারা তাদেরই বংশধর।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত মুসলিম/আত্মসমর্পণকারী করুন এবং আমাদের বংশধরের মধ্য থেকে আপনার অনুগত মুসলিম/আত্মসমর্পণকারী উম্মত/জাতি বানান। আর আমাদের পদ্ধতি দেখিয়ে দিন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন।নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু’। [পদ্ধতি:- [2: 21,152,183,186, 286; 42:26]
‘হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসূল পাঠান, যে তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে যাকাত/পরিশুদ্ধ পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।
অর্থ: হে আমাদের রব! আপনি আমাদের দাম্পত্যসাথীদের ও আমাদের প্রজন্মের (ধুররিয়্যাতিনা) মধ্য থেকে আমাদের জন্যে চক্ষুসমূহ শীতলকারী দান করুন। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে ইমাম বানিয়ে দিন- কুরআনুল কারীম ২৫:৭৪
এখানে 'ধুররিয়্যাতিনা' শব্দটির মাধ্যমে কেবল সরাসরি সন্তান-সন্ততিকে বোঝানো হয়নি, বরং এমন প্রজন্মকে বোঝানো হয়েছে যা তাদের (দোয়াকারীদের) চোখের শীতলতা বয়ে আনবে, যা নাতি-নাতনীদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করে। একটি সৎ ও ধার্মিক বংশধর, সে সরাসরি সন্তানই হোক বা নাতি-নাতনী, সবই পিতামাতার জন্য আনন্দের উৎস।
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ও আমার বংশধরদের মধ্য থেকে সলাত কায়েমকারী (অহীর অনুশীলনীর সংযোগ স্থাপনকারী) বানান। হে আমাদের রব! আর আপনি আমার দুআ কবুল করুন। হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিন!- আল কুরআন ১৪:৪০-৪১
এখানে সালামুন আলা ইব্রাহীম তার 'ধুররিয়্যাত' বা বংশধরদের জন্য দোয়া করেছেন যাতে তারাও সালাত কায়েমকারী হয়। এই দোয়াটি শুধুমাত্র তার নিজের সন্তানদের জন্য নয়, বরং তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সকল সদস্যের জন্য, যা নাতি-নাতনীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। বংশের এই ধারাবাহিকতা বোঝায় যে ধার্মিকতা এবং কল্যাণ এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত হোক।
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজন্মেকে পরিশুদ্ধ করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত-আল কুরআন ৪৬:১৫
সালামুন আলা ঈসা ইবনে মারিয়ামের এর জন্য তাঁর নানীর দুআ:
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য প্রজ্ঞা দান করুন। এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে (সংশোধনকারীদের সাথে) সম্পৃক্ত করুন। এবং আমাকে পরবর্তীদের (next generation) মাঝে সত্যভাষী বানান। আর আপনি আমাকে জান্নাতুন নাঈমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন- আল কুরআন ২৬:৮৩-৮৫