পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আমাদের রব কী বলেন? | Great responsibility of children toward their parents!

পিতামাতার ব্যাপারে অসিয়ত করা হয়েছে: (পিতামাতার প্রতি সদয় ও কৃতজ্ঞ হওয়া):

আর আমরা মানুষকে তার পিতামাতার ব্যাপারে অসিয়ত করেছি; তার মা তাকে কষ্টের উপরে কষ্ট করে বহন করেছে। এবং তার দুধ ছাড়ানো দুবছরের মধ্যেই; এটাও যে, তুমি আমার জন্য ও তোমার পিতামাতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন। সূরা লোকমান (৩১:১৪-15)



ছেলে-মেয়ের  প্রাপ্ত বেতন-কামাই-রোজগারে অবশ্যই পিতামাতার জন্য অংশ রয়েছে-প্রমান:

বলো! তোমরা এস! তোমাদের রব তোমাদের উপর যা হারাম করেছেন আমি সেগুলো বর্ণনা করছি যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনোকিছু শিরক করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার (ইহসান) আবশ্যক  আর দারিদ্রের কারণে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, আমরা তোমাদেরকে রিযিক দিই এবং তাদেরকেও-6:151

সন্তানের বয়স যখন ৪০: 

৪০ বৎসরে উপনীত হলে- [আর আমরা মানুষকে অসযি়ত করছেি তার বাবা-মায়রে সাথে উত্তম আচরণ করত। তার মা তাকে কষ্ট করে র্গভে ধারণ করছেলি এবং তাকে কষ্ট করে প্রসব করছেলি। আর তার র্গভধারণ এবং তার দুগ্ধত্যাগ ত্রশি মাস। অবশষেে যখন সে তার শক্ত-িসার্মথ্যে পৌঁছল এবং চল্লশি বছরে উপনীত হলো, সে বলল!]

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

রব্বি আওযি’নী- আন্ আশ্কুরা নি’মাতাকাল্লাতী- আন্‘আম্তা ‘আলাইয়্যা অ‘আলা-ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ ‘আমালা ছোয়া-লিহান র্তাদ্বোয়া-হু অআছ্লিহ্ লী ফী র্যুরিয়্যাতী; ইন্নী তুব্তু ইলাইকা অইন্নী মিনাল্ মুস্লি­মীন্।   

অর্থ:  হে আমার রব!  আপনি আমাকে আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যোগ্যতা দিন, যে নিয়ামত আপনি আমার প্রতি ও আমার পিতামাতার প্রতি দিয়েছেন এবং আমলে সলেহ করার, যা আপনি পছন্দ করেন। আর আপনি আমার জন্য আমার প্রজ¤œকে পরিশুদ্ধ করুন। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে তাওবা করলাম। আর নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।  আল কুরআন ৪৬:১৫

পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ Take care করলে দোষ-দোষদ্রুটিগুলি মুছে দিয়ে সোজা জান্নাতের অফার:

ওরাই তারা (দ্র: ৪৬:১৫), যাদের থেকে আমরা সেটার সর্বোত্তমটা (আহসানা) গ্রহণ করব, যা তারা করেছে আর তাদের দোষগুলোকে (সায়্যিআত) জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে আমরা আড়াল করব। তাদের যা প্রতিশ্রুতি দেয়া হতো তা সত্য প্রতিশ্রুতি]-আল কুরআন ৪৬:১৬ 

আর যে তার বাবা-মাকে বলল, তোমাদের দুজনের প্রতি উফ! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ যে, আমাকে বের করে আনা হবে? অথচ অবশ্যই আমার পূর্বে অনেক প্রজন্ম গত হয়েছে। আর তারা দুজন আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়। দুর্ভোগ তোমার! তুমি ঈমান আন। নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তখন সে বলে, এটা পূর্ববর্তীদের গল্পকাহিনী ছাড়া নয়। আল কুরআন ৪৬:17

ভালো কাজে তাদের আনুগত্য করা:

আর আমরা মানুষকে তার বাবা—মার প্রতি সদাচরণের (হুসনা) অসিয়ত করেছি। আর যদি তারা দুজন তোমাকে চাপ প্রয়োগ করে যেন তুমি আমার সাথে শিরক করো এমন বিষয়ে যে ব্যাপারে তোমার জন্য কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তাদের আনুগত্য কোরো না। আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল, তখন আমি তোমাদেরকে সে ব্যাপারে জানিয়ে দিব, যা তোমরা করতে। সূরা আনকাবুত (২৯:৮)

সন্তানের তত্বাবধানে পিতা-মাতা থাকবে ও তাঁদের জন্য দোয়া করার ভাষা:

সূরা ইসরা (১৭:২৩-২৪): "আর তোমার রব সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, শুধু তাঁকে ছাড়া ইবাদত না করার এবং পিতামাতার সাথে সদাচারণ করার (ইহসান)। যদি তোমার কাছে তাদের দুজনের একজন অথবা উভয়েই বার্ধক্যে পৌঁছে, তাহলে তাদেরকে উফ (‘uff’-a word of irritation) বোলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। এবং তাদের উভয়ের প্রতি রহমতের সাথে বিনয়ের বাহু নত করো এবং বলো- 

رَّبِّ ٱرْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِى صَغِيرًا
রর্ব্বিহামহুমা- কামা- রব্বাইয়া-নী ছগীরা।  

অর্থ: হে আমার রব!  আমার মা-আব্বা শৈশবে যে মমতায় আমাকে লালন-পালন  করেছেন, আপনিও তাদের ওপর সে-রূপ করুণাবর্ষণ করুন!- আল কুরআন আল কুরআন ১৭:২৩-২৪
🔗 নিচের দুআগুলো অনুধাবনে বুঝে আসে পিতা-মাতাকে গুরত্ব দেয়াটা কতটা জরুরী: 
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
রব্বানা-গ্ফিরলী ওয়া লিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিলমু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব।  

অর্থ: হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার আব্বা-মাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন- আল কুরআন ১৪:৪১ 

[ইব্রাহীম (সা:আ:)-এর দুআটির কিছুটা ব্যতিক্রম অবস্থান জানতে-বুঝতে দ্র: ৯:১১৩-১১৪, ৩৯:১৯, ৩৪:২৩] 

তুমি তোমার ভুল-ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষদের জন্য ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা চাও- আল কুরআন ৪৭:১৯: 

رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا
রব্বির্গ্ফিলী অলিওয়া-লিদাইয়্যা অলিমান্ দাখলা বাইতিয়া মু”মিনাঁও অলিল্ মু”মিনীনা অল্ মু”মিনা-ত্; অলা-তাযিদিজ্ জোয়া-লিমীনা ইল্লা-তাবা-র-।   
 
অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমার জন্য ও আমার পিতামাতার জন্য এবং যে  মুমিন হিসাবে আমার ঘরে প্রবেশ করবে তার জন্য আর মুমিন পুরুষদের ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা করুন। আর, আপনি জালিমদেরকে বাড়িয়ে দিবেন না, ধ্বংস ছাড়া- আল কুরআন ৭১:২৮ 

আরও বিউটিফুল দুআ:

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ

রব্বি আওযি’নী আন্ আশ্কুরা নি’মাতাকাল্লা তীয় আন্‘আম্তা ‘আলাইয়্যা অ‘আলা- ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ আ’মালা ছোয়া-লিহান্ র্তাদ্বোয়া-হু অ আদ্খিল্নী বিরহমাতিকা ফী ‘ইবা-দিকাছ্ ছোয়া-লিহীন্।    

অর্থ: হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যে, আমি আপনার সে নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যে নিয়ামত আপনি দান করেছেন, আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি এবং এটাও যে আমি আমলে সলেহ করি যা আপনি পছন্দ করেন। এবং আপনি আমাকে আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আপনার সৎকর্মপরায়ণ (সংশোধনকারী)  বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন- আল কুরআন ২৭:১৯ 



لَأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن شَيْءٍ ۖ رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
লাআস্ তাগ্ফিরন্না লাকা অমা- আম্লিকু লাকা মিনাল্লা-হি মিন্ শাইয়িন; রব্বানা-‘আলাইকা তাওয়াক্কাল্না-অইলাইকা আনাব্না-অইলাইকাল্ মাছী-র। 

অর্থ: অবশ্যই আমি তোমার জন্য ক্ষমা চাই এবং আমি আল্লাহর থেকে তোমার জন্য কোনো কিছুর সামর্থ রাখি না। হে আমাদের রব! আপনার ওপর আমরা নির্ভর করি এবং আপনার দিকে আমরা মুখ ফেরাই আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তনস্থল- আল কুরআন ৬০:৪ 
(আরও জানতে-১৯:৪৭, ৩৫:১৮, ৫:২৫, ৫:১৮)।

 “وَاغْفِرْ لِأَبِي إِنَّهُ كَانَ مِنَ الضَّالِّينَ”
ওয়াগফিরলী আবি ইন্নাহু কা-না মিনাদ্দল্লিন। 

অর্থ: আর আমার বাবাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় সে হলো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না, যেদিন পুনরায় উঠানো হবে।  যেদিন উপকারে আসবে না কোনো সম্পদ আর না কোনো সন্তান সন্তুতি। সে ব্যতীত, যে আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ হৃদয় নিয়ে আসবে। আর জান্নাতকে মুত্তাকীদের জন্য নিকটবর্তী করা হবে-২৬:৮৬-৯০

🔗[সূরা আত-তাওবা'র (৯:১১৩) একটি অংশের প্রতিধ্বনি, যেখানে সালামুন আলা ইবরাহীম-এর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।  আয়াতটি হলো-  "নবী ও মু'মিনদের জন্য সঙ্গত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা তাদের নিকটাত্মীয় হয়, যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।" (সূরা আত-তাওবা ৯:১১৩)

এরপর সূরা আত-তাওবা'র (৯:১১৪) আয়াতে সালামুন আলা ইবরাহীম-এর সেই দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে:

"আর ইবরাহীম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল, শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা সে তাকে দিয়েছিল। অতঃপর যখন তার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, তার পিতা আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয় ইবরাহীম ছিল অতি বিনয়ী, সহনশীল।" (সূরা আত-তাওবা ৯:১১৪)]

সন্তানরা পিতামাতা সংশ্লিষ্ট কোন অন্যায়-অপরাধ করলে কিভাবে ক্ষমা চাইবে এবং পিতামাতাও কিভাবে ক্ষমা চাইবে সন্তানের পক্ষে- উদাহরন:

তারা বলল! হে আমাদের পিতা! তুমি আমাদের জন্য আমাদের অপরাধের ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আমরা, আমরাই ছিলাম অপরাধী (খাতিয়িন)। সে বলল! অচিরেই আমি আমার রবের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি, তিনিই ক্ষমাশীল, দয়ালু। -সূরা ইউসুফ ১২:৯৭-৯৮।

এই আয়াতগুলো পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের গভীরতা এবং গুরুত্বকে তুলে ধরে।

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
ভিডিও

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post