হুজুর বলছে আল-কুরআনে তেমন কিচ্ছু নাই আর আল্লাহ বলেন সবই আছে! তাহলে আমি কোন দিকে?

কুরআনের আয়াতসমূহের আলোকে এ যুগের কাফিরদের মানসিকতা এবং যারা তথাকথিত "লাহওয়াল হাদিস" অনুসরণ করে কুরআনের আয়াতকে অবজ্ঞা করে।

এ যুগের কাফিরেরা কতটা আপডেট? - কুরআনের দৃষ্টিতে এক তুলনামূলক আলোচনা

আধুনিক যুগের কাফির বা অবিশ্বাসীরা তাদের পূর্বসূরীদের থেকে কতটা ভিন্ন, কিংবা আদৌ ভিন্ন কিনা, এই প্রশ্নটি কুরআনের আয়াত দ্বারা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। আল্লাহ তায়ালা প্রশ্ন করছেন:

"তোমাদের কাফিররা কি তোমাদের পূর্ববর্তীদের থেকে উত্তম? নাকি কিতাবে তোমাদের জন্য মুক্তির কোনো সনদ আছে?" (সূরা আল-কামার, ৫৪:৪৩)

এই আয়াতে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। কাফিররা মনে করতে পারে যে তাদের জ্ঞান, প্রযুক্তি বা জীবনযাপন পদ্ধতি তাদেরকে অতীতের কাফিরদের থেকে উন্নত করেছে, অথবা তারা আধুনিকতার আড়ালে তাদের অবিশ্বাসকে জায়েজ মনে করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চ্যালেঞ্জ করছেন: তারা কি পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর চেয়ে কোনো অংশে ভালো? তাদের কি এমন কোনো বিশেষ সুবিধা আছে যা পূর্ববর্তীদের ছিল না?

"লাহওয়াল হাদিস" এর অনুসারী এবং টাটকা কাফিরদের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন

যারা তথাকথিত "লাহওয়াল হাদিস" (অর্থহীন কথা বা বিভ্রান্তিকর আলোচনা) অনুসরণ করে এবং নাযিলকৃত আল-কুরআনকে অবজ্ঞা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বা এর আয়াতসমূহকে অপছন্দ করে, তাদের পরিণতি কী? কুরআন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে।

তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি অনেক সময় পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি, যেমন ফেরাউনের অনুসারীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা যেতে পারে।

✳️ জনাব নেতা-হুজুরের বক্তব্য (ভিডিও)

নীচের ভিডিওতে শুনে নিন জনাব নেতা-হুজুরের বক্তব্য। ওনারা দাবি করেন — তাঁরা ইসলাম কায়েম করতে চান!

কিন্তু প্রশ্ন হলো — কোন ইসলাম?
যে ইসলাম একমাত্র নাযিলকৃত আল-কোরআনে আছে  (যেটা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা:) শিখিয়েছেন) সেটা ভিন্ন অন্য কিছু, কোন ইসলাম?  না কি নিজস্ব মতবাদে গড়া কোনো ভিন্ন ইসলাম?

যদি কোনো সজ্জন ব্যক্তি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, তবে আমাদের মতো আয়াতে বিশ্বাসী,
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসারীদের জন্য নিশ্চয়ই তা হবে এক বিশাল কল্যাণ ও রহমত। 🌿


📚হুজুর বলে কি আর আমাদের রব বলেন কি?

 মানুষের রব, মানুষের ইলাহ ও মানুষের মালিক বলেন:

📖 আল-কোরআনই মানবজাতির জন্য 'হিদায়াত' -পথপ্রদর্শক, Guidance/ Constitution হিসেবে ঘোষণা করেছে:

দ্র: আয়াত-২:২, ২:৯৭, ১৭:৯, ২:১৮৫, ১০:৫৭, ১৯:৯, ৩১:২-৩, ৪১:৪৪, ১৬:৮৯, ১৬:৬৪, ৪২:৫২ (২৭:৯১-৯২), ৪৫:১১ (২:৩৮), ৬:১৫৩ (৭:২০৩), ২৭:১-২, ৭:৫২, ৩৯:২৭

📚 আল কোরআন ঈমানদার, মুমিনের, ঈমানদার কওমদের, মুসলিমদের, মুহসিনিনদের, ইউকিনিন (দৃঢ় বিশ^াসী)-দের জন্য হিদায়েত-রহমত:

দ্র: আয়াত: ৭:৫২, ১৬:৬৪, ২৯:৫১, ৭:২০৩, ১৬:৮৯, ৩১:২-৩, ১০:৫৭

📖 আল-কোরআন পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ:

✨ (৬:১১৫) — তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে সম্পূর্ণ হয়েছে।
✨ (৫:৩) — আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম।
✨ (১৬:৮৯) — প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, পথনির্দেশ, রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে।
✨ (২৯:৫১) — তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়?


📚 আল-কোরআনে সবকিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণিত

🌿 (১১:৬) — ...সবকিছু সুস্পষ্ট কিতাবে আছে।
🌿 (৬:৩৮) — কিতাবে কোনো কিছুর অভাব রাখা হয়নি।
🌿 (৩৪:৩) — এর চেয়ে ছোট বা বড় কিছুই নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।
🌿 (১০:৬১) — সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে আছে।
🌿 (৩৯:২৭) — মানুষের জন্য সব ধরনের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি।


📚 আল কোরআনে মানুষের জন্য সব ধরনের দৃষ্টান্ত/উপমা (মাসআলা)-সমস্যা সমাধান:

💠(১৭:৮৯) - সব ধরনের উপমা বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছি
💠(৩৯:২৭) - মানুষকে কোরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি
💠(১৮:৫৪) - মানুষের জন্য আমি কোরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছি

📚আল-কোরআন: একমাত্র ও পরিপূর্ণ বিধানগ্রন্থ

💠 (১০:৩৭) — সমস্ত বিষয় বিস্তারিত বর্ণনা করে।
💠 (৪১:২–৩) — জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিশদভাবে বর্ণিত আয়াতসমূহের কিতাব।
💠 (১২:১১১) — তাতে প্রত্যেক বিষয়ের বিশদ বিবরণ রয়েছে।
💠 (৬:১১৪–১১৫) — আমি কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক অন্বেষণ করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন বিশদভাবে...
💠 (৫:৩) — আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম।


📖 আল কোরআনে কোন কিছুর বক্রতাপূর্ণ নয়:

💠 (১৮:১) - আল্লাহরই সকল প্রশংসা যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।

💠 (৩৯:২৮) - এটি একটি আরবি কোরআন, যাতে কোনো বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।

🌷 আল-কোরআন: শিফা, রহমত ও হেদায়াত:

💞 (১০:৫৭) — এটি অন্তরের রোগের নিরাময়, মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও রহমত।
💞 (১৭:৮২) — আমি কোরআনে এমন কিছু নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।
💞 (৪১:৪৪) — এটি ঈমানদারদের জন্য হেদায়েত ও আরোগ্য।
💞 (১৩:২৮) — যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর যিকিরে প্রশান্ত হয়।


🌿 আল-কোরআন: হেদায়াত ও সুসংবাদ:

🌟 (২:২) — এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক।
🌟 (১৭:৯) — নিশ্চয় এই কোরআন সরল পথের নির্দেশ দেয় এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেয়।
🌟 (২:১৮৫) — এটি মানুষের জন্য হেদায়েত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
🌟 (৩১:২–৩) — মুহসিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।
🌟 (১৬:৮৯) — হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদ হিসেবে।


💎 কোরআন: আলোর পথে আহ্বান

🌞 (১৪:১) — যাতে তুমি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারো।
🌞 (৩৩:৪৩) — তিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।
🌞 (৫:১৫–১৬) — আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন ও আলোর দিকে বের করে আনেন।
🌞 (৪২:৫২) — তুমি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করো।


⚖️ কোরআনের বিধানই একমাত্র শরীয়াহ (আইন/বিধান) ও বিচারব্যবস্থা

⚜️ (৪৫:১৮) — আমি তোমাকে দ্বীনের এক সুস্পষ্ট শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি।
⚜️ (৫:৪৪–৪৭) — যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফের, জালিম ও ফাসিক।
⚜️ (৪:১০৫) — যাতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো এমন বিষয় দ্বারা যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন।
⚜️ (৫:৪৮–৪৯) — তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দিয়েই বিচার করো।


⚖️আল-কোরআন দিয়েই বিচার-ফায়সালা-মীমাংসা করতে বলা হয়েছে:

⚜️ (৪:১০৫) - যাতে তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো এমন বিষয় দ্বারা যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন।
⚜️ (৫:৪৮) - সুতরাং তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দিয়ে বিচার করো।
⚜️ (৫:৪৯) - তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দিয়ে বিচার করো এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না।
⚜️ (৪:৫৮) - যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করো, তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করো।
⚜️ (৫:৪৪) - যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফের।
⚜️ (৫:৪৫) - যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করে না, তারাই জালিম।
⚜️ (৫:৪৭) - যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করে না, তারাই ফাসিক।
⚜️ (৫:৫০) - তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? দৃঢ় বিশ্বাস করে এমন জনগোষ্ঠীর জন্য বিধান দেয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে আর কে শ্রেষ্ঠ!

🕊️ আল-কোরআন অনুসরণের নির্দেশ:

🔖 (৭:৩) — তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তার অনুসরণ করো।
🔖 (৬:১০৬) — তোমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে, তার অনুসরণ করো।
🔖 (৩৯:৫৫) — অনুসরণ করো তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা উত্তমরূপে নাযিল করা হয়েছে।
🔖 (৬:১৫৩) — এটি আমার সরল পথ, সুতরাং এর অনুসরণ করো; অন্য পথ অনুসরণ করো না।


💎 একটি কিতাব অনুসরণ করতে বলা হয়েছে:

(৬:১৫৫) - এটি একটি বরকতময় কিতাব, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো।

38:29- একটি বরকতপূর্ণ কিতাব, আমরা তোমার প্রতি তা নাযিল করেছি, যেন তারা তার আয়াতসমূহকে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বোধসম্পন্নরা যেন উপদেশ গ্রহণ করে।

6:19: বলো! সাক্ষ্য হিসাবে কোন বিষয় সবচেয়ে বড়? বলো, আল্লাহ! তিনি সাক্ষী আমার মাঝে ও তোমাদের মাঝে। এবং আমার কাছে এই কুরআন ওহী করা হয়েছে, যেন এর দ্বারা আমি তোমাদেরকে সতর্ক করি এবং তাকেও যার কাছে তা পৌঁছবে। 

💎আল কোরআন ছাড়া অন্য কিছু অনুসরণ না করার নির্দেশ:

⚜️(৭:৩) - তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবককে অনুসরণ করো না।

⚜️(৬:১৫৩) - এটাই আমার সরল পথ, সুতরাং এর অনুসরণ করো এবং অন্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে সে পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।

⚜️(৬:১৫৫) - এটি একটি বরকতময় কিতাব, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো।

⚜️(৩৯:৫৫) - আর অনুসরণ করো তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তোমাদের প্রতি উত্তমরূপে নাযিল করা

এদের (কথিত ধর্মবেত্তাদের) মাথা কেন পঁচে গেছে, কলবে তালা পড়ে আছে? তার কারনও আল্লাহ বলে দিয়েছেন:

তারা আহসানুল হাদিস বাদ দিয়ে 'লাহওয়াল হাদীসের' অনুসারী বলে এমন অবস্থা: জেনে নেই 'লাহওয়াল হাদীস কি আর আহসানুল হাদীসই বা কি?

সূরা লোকমান, আয়াত ৬-৭ (৩১:৬-৭):

 وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
"আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে, আল্লাহর পথ থেকে [মানুষকে] বিচ্যুত করার জন্য অজ্ঞতাবশত লাহওয়াল হাদীস (অনার্থক কথাবার্তা) ক্রয় করে এবং একে ঠাট্টার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন সে অহংকার ভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি, যেন তার কান দুটোতে ছিপি লাগানো আছে। সুতরাং তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।"

সূরা যুমার, আয়াত ২৩ (৩৯:২৩):

اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
"আল্লাহ্‌ নাযিল করেছেন আহসানুল হাদিস (সর্বোত্তম বাণী) এমন এক কিতাব, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পুনঃ পুনঃ পঠিত। এতে তাদের লোম কাঁটা দিয়ে উঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর হেদায়েত; তিনি যাকে চান এর দ্বারা হেদায়েত করেন। আর আল্লাহ্‌ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন হেদায়েতকারী নেই।

📍 যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল আসলো তাদের কাছে বিদ্যমান কিতাবের সত্যায়নকারী হিসেবে, তখন কিতাবপ্রাপ্তদের একটি দল আল্লাহর কিতাবকে নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে দিল, যেন তারা কিছুই জানে না" (সূরা বাকারা, ২:১০১)


💎"লাহওয়াল হাদিস" এর অনুসারীদের স্ববিরোধী মানসিকতা: ব্যক্তি রাসূলের প্রতি আকর্ষণ বনাম আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞা:

"লাহওয়াল হাদিস" এর অনুসারীদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা ব্যক্তি রাসূলদের প্রতি এক ধরনের বাহ্যিক শ্রদ্ধা বা আকর্ষণ দেখায়, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিধান, কিতাব বা আয়াতসমূহকে অপছন্দ করে এবং মেনে নিতে চায় না। এটি তাদের ঈমানের মৌলিক ত্রুটিকে প্রকাশ করে, কারণ রাসূলদের মূল কাজই ছিল আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করা। রাসূলকে মানা মানেই তার মাধ্যমে প্রেরিত আল্লাহর বিধানকে মানা।

এই স্ববিরোধী মানসিকতার প্রমাণ আমরা কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে খুঁজে পাই:  প্রমাণ-আয়াত ৭:৭৫-৭৬, ৪১:১৪, ১৪:৯, ৬:৩৩, ২:১০১, ৪৭:২-৩

🌺 সারকথা
আল-কোরআনই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ, সর্বজনীন, বিশদ ও চূড়ান্ত পথনির্দেশ।  
এতে কোনো ঘাটতি নেই, কোনো বক্রতা নেই, কোনো বিকল্পও নেই।  🌙 “এটাই আমার সরল পথ — সুতরাং এর অনুসরণ করো।” (৬:১৫৩)

💎যারা আল্লাহর আয়াত শুনেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য হিসাবে গ্রহন করে, অপছন্দ করে তাদের কঠোর পরিণতি:

সূরা মুহাম্মদ (৪৭): ৮-৯

"আর যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ এবং তাদের আমলসমূহকে তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন। এটা এই কারণে যে, তারা অপছন্দ করেছে যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তাই তিনি তাদের আমলসমূহকে নিষ্ফল করে দিয়েছেন।"

আরও দ্র: সূরা আল-জাসিয়াহ ৪৫:৮-১১

💎 এদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূলের মামলা:

আর রসূল বলবেন, হে আমার রব! নিশ্চয় আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য হিসাবে গ্রহণ করেছে-আয়াত ২৫:৩০

■ আর হাদীস দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক সত্যবাদী?-আয়াত ৪:৮৭ 

■ অতএব এটার পরে কোন হাদিসের প্রতি তারা ঈমান আনবে?-আয়াত ৭৭:৫০

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post