📌 দ্বীন-বস্থাপনায় আমরা কাকে অনুসরণ করব? কী অনুসরণ করব?
আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের মাঝে নেই, তবে…
আল্লাহর রাসূল স্বশরীরে আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'লা তাঁর রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে আমাদের জন্য যে সঠিক পথনির্দেশনা দিয়েছেন, তা একমাত্র নাযিলকৃত অনুসরণযোগ্য কিতাব—আল কুরআন, যা আমাদের কাছে বর্তমান। এবং এটিই একমাত্র অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
[আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর বিষয়টি আল কুরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্র: আয়াত ৩:১৪৪, ২:৩৪-৩৫, ৩৯:৩০-৩১]
📖 আল কুরআনই পথ দেখায় /দেখাবে-
✅ উপদেশ:
➡ কেবল আল কুরআন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
➡ অন্য কোনো পথপ্রদর্শক গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
📌 মনগড়া কথা ও দলীয় অনুসরণ নিষিদ্ধ:
❗ সতর্কতা:
➡ অন্ধভাবে মানুষকে অনুসরণ করলে পথভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
➡ সঠিক পথনির্দেশনা শুধুমাত্র কুরআন।
📌 আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে:
আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ" মানে কী? আল কুরআনের চৌহদ্দির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো গ্রন্থের অনুসরণ?
হে যারা ঈমান এনেছো! তোমরা আল্লাহর অনুসরণ কর, রাসূলের অনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের (উলিল আমর) অনুসরণ কর। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মতবিরোধ হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনো। এটি উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে উত্তম-(সুরা আন-নিসা ৪:৫৯)
✅ আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" মানে কী?
➡ দ্বীনের ফয়সালা কুরআনের ভিত্তিতেই হতে হবে, কারণ রাসূল (সা.) কুরআনের বিধান অনুযায়ী বিচার করতেন।
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার না করে, তারা সত্যিই কাফির-(সুরা মায়েদা ৫:৪৪)
⚠ সতর্কতা: আল্লাহর বিধান ব্যতীত অন্য কোনো বিধান অনুসরণ করলে তা কুফরির শামিল।
📌 “আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও” – এর প্রকৃত অর্থ কী?
✅ কোনো দ্বীনি বিষয়ে মতবিরোধ হলে, ফয়সালা কোথায় পাওয়া যাবে? → আল্লাহর ওহি বা কুরআনে।
✅ রাসূল (সা.) বিচার-ফয়সালা করতেন কিসের ভিত্তিতে? → কুরআনের বিধান অনুযায়ী।
📖 নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সত্যসহ, যেন তুমি মানুষের মাঝে বিচার করো যা আল্লাহ তোমাকে দেখিয়েছেন”-(সুরা আন-নিসা ৪:১০৫)
📖 আমি তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি সত্যসহ, যা এর পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং তার উপর সংরক্ষক হিসেবে। সুতরাং তুমি তাদের মধ্যে বিচার করো যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না-(সুরা আল-মায়েদা ৫:৪৮)
➡ এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করছে যে, রাসূল (সা.) নিজের ইচ্ছামতো বিচার করতেন না; বরং তিনি কেবল কুরআনের বিধান অনুযায়ী বিচার করতেন।
📌 কুরআনই পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন (আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল একত্রে একটিই প্যাকেজ):
📖 আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ রাখিনি -(সুরা আল-আন’আম ৬:৩৮)
📖 রাসূল এবং মু’মিনগণ যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, তা বিশ্বাস করে-(সুরা আল-বাকারা ২:২৮৫)
➡ দ্বীন-ব্যবস্থাপনার জন্য কুরআনই চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিধান।
📌 নবী মুহাম্মাদ (সা.) কাকে অনুসরণ করতেন?
নবী ইবরাহীম (আ.)-এর মিল্লাত অনুসরণের নির্দেশ:
➡ এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী ইবরাহীম (সা.)-এর দ্বীন অনুসরণ করতে বলেছেন।
📖 এরাই (পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ) তারা, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন, সুতরাং তুমি তাদের হিদায়াতের অনুসরণ ["Iqtida" (اِقْتِدَاء)] করো”-(সূরা আল-আন’আম ৬:৯০)
➡ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে পূর্ববর্তী নবীদের পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে: [পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ, যেমন (আয়াত ৬:৮৩-৮৭-উল্লেখ করা হয়েছে): ইবরাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, নূহ, দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা, হারুন, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, ইলইয়াস, ইসমাঈ, ইয়াসায়া, ইউনুস ও লূত এবং তাদের পূর্বপুরুষ ও তাদের বংশধর এবং তাদের ভাইদের মধ্য থেকেও]
৩. পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের সাথে মিল উল্লেখ করা হয়েছে:
📖 তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন নির্ধারণ করেছেন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা তোমার প্রতি ওহি করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে- যেন তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে বিভক্ত না হও- সূরা আশ-শুরা ৪২:১৩
➡ এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি যে দ্বীন পাঠানো হয়েছে, সেটিই ছিল পূর্ববর্তী নবীদের দ্বীন।
বিশ্বাসীদের ১৬ আনাই মিছে?
"আর যে আমার স্মরণ (কোরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য সংকীর্ণ জীবন থাকবে এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় উঠাব।" (আরও দ্র: ১৭:৮২)
📌 আল্লাহ আমাদেরকে ১টি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন:
📖 তাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে আমি তোমার ওপর কিতাব নাযিল করেছি, যা তাদের সামনে পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে ঈমানদারদের জন্য অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে-(সুরা আল-আনকাবুত ২৯:৫১)
✅ আমি যেহেতু ঈমান রাখি, তাই আমি এটিকেই একমাত্র যথেষ্ট হিসাবে মেনে নিয়েছি।
📌 তাহলে বিতর্কের অবকাশ আছে কি? Choice is Yours! (দ্র: সূরা আল কাহাফ ১৮:২৯)
🚀 শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ দিন! 📢


