মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না: কুরআনের এই সতর্কবাণী কি আপনার ঘুম কেড়ে নিয়েছে?
১. মুসলিম: পরিচয়ের সংকট ও আল্লাহর চূড়ান্ত সতর্কবাণী
"...এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনোভাবেই মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২)
২. কুরআন অনুযায়ী ‘মুসলিম’ কে?
খ) আল্লাহর ‘আয়াত’-এ বিশ্বাসীরাই মুসলিম:
✨যারা ঈমান এনেছে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি এবং যারা ছিল মুসলিম; তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা ও তোমাদের দাম্পত্যসাথীরা-সূরা আয যুখরুফ ৪৩:৬৯-৭০
"তুমি কেবল তাদেরকেই শোনাতে পারো, যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান আনে, কারণ তারাই মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)।" (সূরা আন-নামল, ২৭:৮১; অনুরূপ আয়াত: সূরা আর-রূম, ৩০:৫৩)
"...এবং আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। আর এও যে, আমি কুরআন পাঠ করব ।" (২৭:৯১-৯২)
"যখন তার রব তাকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো (আস্লিম)’, সে বলল, ‘আসলামতু লিরব্বিল আলামিন’ —আমি বিশ্বজগতের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।" (সূরা আল-বাকারা, ২:১৩১)
৩. একটি বাস্তব পরীক্ষা: আপনি কি স্ব-দাবীকৃত মুসলিম, নাকি প্রকৃত মুসলিম?
"আর যারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে , তারা যখন তোমার কাছে আসে তখন তুমি বলো!‘সালামুন আলাইকুম’ (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।" (সূরা আল-আনআম, ৬:৫৪)
মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা মুমিনদের এই বলে স্বাগত জানায় (সূরা আন-নাহল, ১৬:৩২)। জান্নাতের রক্ষীরা এই সম্ভাষণেই ভেতরে প্রবেশ করাবেন (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩)। জান্নাতেও এটিই হবে বিশ্বাসীদের অভিবাদন (সূরা ইউনুস, ১০:১০)।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন বহু স্ব-দাবীকৃত মুসলিম এই সুস্পষ্ট কুরআনি নির্দেশ পালন না করে অন্যান্য রীতি অনুসরণ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে?
৪. আমি কীভাবে প্রকৃত মুসলিম হতে পারি? (আল-কুরআনের দেখানো পথ)
খ) আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা
"আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে, নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না।" (সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৭০)
পড়ুন: প্রতিদিন পড়ুন, যেমনটা আল্লাহ আদেশ করেছেন।বুঝুন: এর অর্থ ও বার্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করুন (তাদাব্বুর)।মানুন: আপনার জীবনের প্রতিটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে এটিকে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানান।
আত্মজিজ্ঞাসার সময় এখন
➢ এই আয়াতগুলো আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে শেখায়:
➢ আমি কি আল্লাহর সব আয়াতে (কুরআন ও সৃষ্টিজগতে বিদ্যমান নিদর্শন) মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি?
➢ আমার জীবন কি আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণের একটি বাস্তব উদাহরণ?
➢ আমার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং পছন্দগুলো কি আল্লাহর ইচ্ছার অধীন?
➢ আমি কি আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াতে বিশ্বাসী, আত্মসমর্পণকারীদের অর্ন্তভুক্ত হতে পেরেছি?
সুতরাং, "পৃথিবীতে কতজন মুসলিম আছে?"—এই প্রশ্নটির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—"আমি কি সেই মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের কথা এই আয়াতে বলা হয়েছে?"
"যারা ঈমান এনেছে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি এবং যারা ছিল মুসলিম ; (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা ও তোমাদের সঙ্গীরা, সানন্দে" (৪৩:৬৯-৭০)
─── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ───
ঈমানের দাবীদারদের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান না আনার কারনে এর শাস্তি এবং পরণিতি ভোগ করতে হবে:
ঈমানের মূল
ভিত্তিই হলো আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব বা কুরআনের প্রতিটি আয়াতের উপর নিঃশর্ত বিশ্বাস
স্থাপন করা। এর কোনো একটি অংশকে (reject) করা, আংশিকভাবে মানা, অবহেলা করা, আমলে না
নেয়া,গরজ না করা কিংবা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, বিকল্প বা পাশাপাশি অন্যকোন অনাযিলকৃত গ্রন্থ
বা মতবাদ অনুসরন করা—এই সবই একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি
থেকে বের করে দেয়। এই আলোচনার মূল শিক্ষা:
আংশিক বিশ্বাস
= সম্পূর্ণ অবিশ্বাস।
আল্লাহ ও তাঁর
রাসূলের বাণীর মধ্যে পার্থক্য করা = কুফর।
আয়াত অস্বীকার করলে সমস্ত নেক আমল ধ্বংস হয়ে যায়।
এর শাস্তি এবং পরিণতি সম্পর্কে
কুরআনের আয়াতগুলো থেকে বিস্তারিত আলোচনা
করা হলো:
১. আংশিক বিশ্বাস এবং আংশিক অবিশ্বাস হলো কুফর (অবিশ্বাস):
কিছু
আয়াত মানা এবং কিছু
আয়াতকে অস্বীকার করাকে কুরআন স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা এমনটি করে,
তাদের জন্য কঠিন শাস্তির
ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সূরা
আল-বাকারা, আয়াত ৮৫:
"তোমরা কি কিতাবের কিছু
অংশে বিশ্বাস করো এবং কিছু
অংশকে অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের
মধ্যে যারা এমন কাজ
করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি হলো দুনিয়ার জীবনে
লাঞ্ছনা ও অপমান এবং
কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিনতম
শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেওয়া
হবে।"
অনুধাবন:
এই আয়াতটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, কিতাবের
আংশিক বিশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নিজেদের
সুবিধামতো কিছু আয়াত মানে
এবং কিছু মানে না,
তাদের জন্য দুনিয়া ও
আখিরাত উভয় স্থানেই রয়েছে
কঠিন পরিণতি।
২. আল্লাহ যা বলেন আল্লাহর রাসূলও তাই বলেন যারা এর মধ্যে পার্থক্য করতে চান তারাই টাটকা কাফের: প্রমান-
সূরা
আন-নিসা, আয়াত ১৫০-১৫১:
"নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও
তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ
ও তাঁর রাসূলদের মধ্যে
পার্থক্য করতে চায়, আর
বলে, ‘আমরা কতককে বিশ্বাস
করি এবং কতককে অস্বীকার
করি’ এবং এর মাঝামাঝি
একটি পথ অবলম্বন করতে
চায়, তারাই হলো সত্যিকারের কাফির।
আর আমি কাফিরদের জন্য
অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।"
অনুধাবন: এই আয়াত অনুসারে, কুরআনের কিছু অংশকে অস্বীকার করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির শামিল, যা সুস্পষ্ট কুফর।
৩. আয়াত অস্বীকারকারীর সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যায়
যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে, তার সমস্ত
ভালো কাজ (নামাজ, রোজা,
দান ইত্যাদি) মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
সূরা
আল-কাহফ, আয়াত ১০৩-১০৬:
"বলুন, আমি কি তোমাদেরকে
সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের
দিক থেকে সবচেয়ে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হলো সেসব
লোক, দুনিয়ার জীবনে যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে
করে যে তারা খুবই
ভালো কাজ করছে। এরাই
তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের
আয়াতসমূহ এবং তাঁর সঙ্গে
সাক্ষাতের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল
আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং
কিয়ামতের দিন আমি তাদের
জন্য কোনো ওজন স্থাপন
করব না (অর্থাৎ তাদের
আমলের কোনো মূল্য থাকবে
না)। জাহান্নামই তাদের
প্রতিদান, কারণ তারা কুফরি
করেছে এবং আমার আয়াত
ও রাসূলদেরকে বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে।"
অনুধাবন: আয়াতকে অস্বীকার করা এত বড় অপরাধ যে, এটি মানুষের সমস্ত সৎকর্মকে ধ্বংস করে দেয় এবং তার চূড়ান্ত পরিণতি হয় জাহান্নাম।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: অস্বীকার করা বনাম বুঝতে না পারা
এখানে
একটি সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে:
অস্বীকার
করা (Rejection): কোনো আয়াতকে ভুল,
মিথ্যা, অযৌক্তিক বা বর্তমান সময়ের
জন্য অচল মনে করে
প্রত্যাখ্যান করা হলো কুফর।
যেমন বলা, "কুরআনের এই বিধানটি আমি
মানি না।"
কুরআনি দুআ:
রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমীন।
হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান করুন-আল আরাফ 7:126
Video


