মুসলিম কি? মুসলিম কাকে বলে? আল-কুরআনের দৃষ্টিতে! What is a Muslim?-

মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না: কুরআনের এই সতর্কবাণী কি আপনার ঘুম কেড়ে নিয়েছে?

আল-কুরআনের একটি আয়াত। জনৈক ভাইকে এতটাই আলোড়িত করেছে যে, রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাঁর। একটি চূড়ান্ত সতর্কবাণী: “...এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনোভাবেই মৃত্যুবরণ করো না”-সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২ (২:১৩২)।

এই আয়াতটি তাঁকে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি করেছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এই দ্ব্যর্থহীন আদেশের পর তাঁর মনে একটিই প্রশ্ন: যদি মুসলিম হয়েই মরতে হয়, তবে ‘মুসলিম’ হওয়ার পথ কী? এর উত্তর আর কোথাও না খুঁজে, তিনি সরাসরি আল্লাহর কিতাব থেকেই জানতে চেয়েছেন।

এই অন্বেষণটি শুধু সেই ভাইয়ের নয়। এটি সেই সকল ভাই ও বোনের জন্য, যারা আল্লাহর ভয়ে ব্যাকুল এবং তাঁরই কাছে সমাধান খোঁজেন। আসুন, আমরা সরাসরি আল-কুরআনের কাছেই যাই এবং এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজি।

দুআ ভিডিও নিচের দিকে দ্র:


১. মুসলিম: পরিচয়ের সংকট ও আল্লাহর চূড়ান্ত সতর্কবাণী

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে পরিচয়ের সংকট প্রকট। বংশপরম্পরায় পাওয়া ধর্ম বা সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী আমরা নিজেদের একটি পরিচয় দেই। কিন্তু আল্লাহ, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাদের কী নামে ডাকেন? তাঁর চোখে আমাদের প্রকৃত পরিচয় কী?

আল-কুরআন আমাদের সেই পরিচয় সম্পর্কে একটি ভয়ানক সতর্কবার্তা দিয়েছে:

"...এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনোভাবেই মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২)

এই সতর্কবার্তার পর আমাদের প্রত্যেকের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় এটা জানা যে, ‘মুসলিম’ কাকে বলে? আমরা কি সত্যিই মুসলিম, নাকি কেবলই স্ব-দাবীকৃত মুসলিম?


২. কুরআন অনুযায়ী ‘মুসলিম’ কে?

ক) ‘মুসলিম’: একটি কর্মগত পরিচয়, কোনো সম্প্রদায়ের নাম নয়:

‘মুসলিম’ (مسلم) শব্দটি আরবি ‘ইসলাম’ (إسلام) থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হলো ‘আত্মসমর্পণ করা’। সুতরাং, মুসলিম হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করেন। এটি কোনো বংশগত পরিচয় বা সামাজিক লেবেল নয়; এটি একটি কর্মগত ও বিশ্বাসগত অবস্থা।

প্রচলিত ধারণা হলো, ‘লা-ইলাহা ইল্লাললাহ’ মুখে উচ্চারণ করলেই একজন মুসলিম হয়ে যায়। কিন্তু কুরআন আমাদের শেখায় যে, এটি কেবল একটি মৌখিক ঘোষণা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানের প্রতি বিশ্বাসের অঙ্গীকার।

খ) আল্লাহর ‘আয়াত’-এ বিশ্বাসীরাই মুসলিম:

আল্লাহ দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘মুসলিম’ এর পরিচয়কে তাঁর ‘আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাসের সাথে যুক্ত করেছেন। আসুন দেখি, আল কুরআন মুসলিমের কী সংজ্ঞা দেয়:

যারা ঈমান এনেছে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি এবং যারা ছিল মুসলিমতোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা তোমাদের দাম্পত্যসাথীরা-সূরা আয যুখরুফ ৪৩:৬৯-৭০

"তুমি কেবল তাদেরকেই শোনাতে পারো, যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান আনে, কারণ তারাই মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী)।" (সূরা আন-নামল, ২৭:৮১; অনুরূপ আয়াত: সূরা আর-রূম, ৩০:৫৩)

"...এবং আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। আর এও যে, আমি কুরআন পাঠ করব।" (২৭:৯১-৯২)

নবী ইবরাহীম (সা.আ.) মুসলিমের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন:

"যখন তার রব তাকে বললেন, ‘আত্মসমর্পণ করো (আস্লিম)’, সে বলল, ‘আসলামতু লিরব্বিল আলামিন’—আমি বিশ্বজগতের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।" (সূরা আল-বাকারা, ২:১৩১)

এই আয়াতগুলো দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছে যে: আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান = মুসলিম। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান ও সৃষ্টিজগতের নিদর্শনসমূহের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে আত্মসমর্পণ করে, তারাই প্রকৃত মুসলিম।

৩. একটি বাস্তব পরীক্ষা: আপনি কি স্ব-দাবীকৃত মুসলিম, নাকি প্রকৃত মুসলিম?

আপনার উত্থাপিত "সালাম"-এর বিষয়টি এই পার্থক্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এটি একটি অতি সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী লিটমাস টেস্ট। আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.আ.)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন:

"আর যারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তারা যখন তোমার কাছে আসে তখন তুমি বলো! ‘সালামুন আলাইকুম’ (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।" (সূরা আল-আনআম, ৬:৫৪)

খেয়াল করুন, আল্লাহ নিজে তাঁর আয়াতের প্রতি বিশ্বাসীদের জন্য একটি অভিবাদন নির্ধারণ করে দিয়েছেন: "সালামুন আলাইকুম"। এটি এতটাই সম্মানিত যে:

  • মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা মুমিনদের এই বলে স্বাগত জানায় (সূরা আন-নাহল, ১৬:৩২)।

  • জান্নাতের রক্ষীরা এই সম্ভাষণেই ভেতরে প্রবেশ করাবেন (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩)।

  • জান্নাতেও এটিই হবে বিশ্বাসীদের অভিবাদন (সূরা ইউনুস, ১০:১০)।

এখন প্রশ্ন হলো, কেন বহু স্ব-দাবীকৃত মুসলিম এই সুস্পষ্ট কুরআনি নির্দেশ পালন না করে অন্যান্য রীতি অনুসরণ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে?

এর মূল কারণ হলো, আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনকে একমাত্র ও চূড়ান্ত বিধান (Final Authority) হিসেবে গ্রহণে ব্যর্থতা। যখন একজন ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষের লেখা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, নির্দিষ্ট মাযহাবের আইনশাস্ত্র বা সমাজে প্রচলিত বাপ-দাদার প্রথাকে কুরআনের সমকক্ষ বা ঊর্ধ্বে স্থান দেয়, তখন সে কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত থেকে দূরে সরে যায়। "সালামুন আলাইকুম" বলতে দ্বিধা করাটা একটি বড় রোগের উপসর্গ মাত্র। মূল রোগটি হলো, আল্লাহর কিতাবের উপর পূর্ণ আস্থা ও আত্মসমর্পণের অভাব।

৪. আমি কীভাবে প্রকৃত মুসলিম হতে পারি? (আল-কুরআনের দেখানো পথ)

ক) এক কিতাবে বিশ্বাস: কুরআনের সার্বভৌমত্ব:

অনেকে প্রশ্ন করেন, তাহলে কি অন্য কিতাবে বিশ্বাস করব না? কুরআন নিজেই এর উত্তর দেয়। কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে (তাওরাত, ইনজিল) বিশ্বাস করতে বলে, কিন্তু একইসাথে ঘোষণা করে যে, কুরআন হলো "মুহাইমিন" (الْمُهَيْمِنُ)—অর্থাৎ, পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর সংরক্ষক, পর্যবেক্ষক এবং সেগুলোর সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত মানদণ্ড (সূরা আল-মাইদাহ, ৫:৪৮)।

সুতরাং, আল্লাহর নাযিলকৃত সর্বশেষ এবং পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ আল-কুরআনকে চূড়ান্ত বিধান হিসেবে মেনে নেওয়াই হলো সকল কিতাবের প্রতি ঈমানের বাস্তব রূপ। যারা কুরআনকে পাশ কাটিয়ে অন্য উৎসকে অগ্রাধিকার দেয়, তাদের জন্য আল্লাহর হুঁশিয়ারি অত্যন্ত কঠোর (সূরা আল-মাইদাহ, ৫:৪৪, ৪৫, ৪৭)।


খ) আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা

মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের একমাত্র উপায় বাতলে দিয়ে আল্লাহ বলেন:

"আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করে, নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করি না।" (সূরা আল-আ'রাফ, ৭:১৭০)

আল্লাহর এই রজ্জু, অর্থাৎ আল-কুরআনকে শক্তভাবে ধারণ করার পথ হলো:

  • পড়ুন: প্রতিদিন পড়ুন, যেমনটা আল্লাহ আদেশ করেছেন।

  • বুঝুন: এর অর্থ ও বার্তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করুন (তাদাব্বুর)।

  • মানুন: আপনার জীবনের প্রতিটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তে এটিকে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানান।


আত্মজিজ্ঞাসার সময় এখন

তাহলে, আমি বা আপনি কি মুসলিম? এই প্রশ্নের উত্তর অন্য কেউ দিতে পারবে না। আমাদের প্রত্যেককে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে:

  এই আয়াতগুলো আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে শেখায়:

  আমি কি আল্লাহর সব আয়াতে (কুরআন ও সৃষ্টিজগতে বিদ্যমান নিদর্শন) মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি?

  আমার জীবন কি আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণের একটি বাস্তব উদাহরণ?

  আমার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং পছন্দগুলো কি আল্লাহর ইচ্ছার অধীন?

 আমি কি আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াতে বিশ্বাসী, আত্মসমর্পণকারীদের অর্ন্তভুক্ত হতে পেরেছি?

  আমার জীবনের সকল ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মানদণ্ড কি আল-কুরআন, নাকি অন্য কিছু?

  আমি কি আল্লাহর আয়াতগুলো জানার, বোঝার এবং মানার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি?

  যখন কুরআনের একটি সুস্পষ্ট নির্দেশ আমার সামনে আসে, তখন কি আমি বিনা দ্বিধায় তা পালন করি?

সুতরাং, "পৃথিবীতে কতজন মুসলিম আছে?"—এই প্রশ্নটির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—"আমি কি সেই মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের কথা এই আয়াতে বলা হয়েছে?"

"যারা ঈমান এনেছে আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি এবং যারা ছিল মুসলিম; (তাদেরকে বলা হবে) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমরা ও তোমাদের সঙ্গীরা, সানন্দে" (৪৩:৬৯-৭০)

এই জান্নাতি দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়াই আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর তার একমাত্র পথ হলো—কুরআনের আয়াতকে বিশ্বাস করে, বুঝে এবং মেনে নিয়ে একজন প্রকৃত ‘মুসলিম’ হিসেবে জীবনযাপন করা ও মৃত্যুবরণ করা।

─── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ───

ঈমানের দাবীদারদের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর আয়াতের প্রতি ঈমান না আনার কারনে এর শাস্তি এবং পরণিতি ভোগ করতে হবে:

ঈমানের মূল ভিত্তিই হলো আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব বা কুরআনের প্রতিটি আয়াতের উপর নিঃশর্ত বিশ্বাস স্থাপন করা। এর কোনো একটি অংশকে (reject) করা, আংশিকভাবে মানা, অবহেলা করা, আমলে না নেয়া,গরজ না করা কিংবা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা, বিকল্প বা পাশাপাশি অন্যকোন অনাযিলকৃত গ্রন্থ বা মতবাদ অনুসরন করা—এই সবই একজন ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়। এই আলোচনার মূল শিক্ষা:

আংশিক বিশ্বাস = সম্পূর্ণ অবিশ্বাস।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীর মধ্যে পার্থক্য করা = কুফর।

আয়াত অস্বীকার করলে সমস্ত নেক আমল ধ্বংস হয়ে যায়। 

এর শাস্তি এবং পরিণতি সম্পর্কে কুরআনের আয়াতগুলো থেকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. আংশিক বিশ্বাস এবং আংশিক অবিশ্বাস হলো কুফর (অবিশ্বাস):

কিছু আয়াত মানা এবং কিছু আয়াতকে অস্বীকার করাকে কুরআন স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা এমনটি করে, তাদের জন্য কঠিন শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৮৫:

"তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এমন কাজ করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি হলো দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা ও অপমান এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।"

অনুধাবন: এই আয়াতটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, কিতাবের আংশিক বিশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নিজেদের সুবিধামতো কিছু আয়াত মানে এবং কিছু মানে না, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই রয়েছে কঠিন পরিণতি।

২. আল্লাহ যা বলেন আল্লাহর রাসূলও তাই বলেন যারা এর মধ্যে পার্থক্য করতে চান তারাই টাটকা কাফের: প্রমান-

সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৫০-১৫১:

"নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মধ্যে পার্থক্য করতে চায়, আর বলে, ‘আমরা কতককে বিশ্বাস করি এবং কতককে অস্বীকার করি’ এবং এর মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করতে চায়, তারাই হলো সত্যিকারের কাফির। আর আমি কাফিরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।"

অনুধাবন: এই আয়াত অনুসারে, কুরআনের কিছু অংশকে অস্বীকার করা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির শামিল, যা সুস্পষ্ট কুফর। 

৩. আয়াত অস্বীকারকারীর সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যায়

যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে, তার সমস্ত ভালো কাজ (নামাজ, রোজা, দান ইত্যাদি) মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

সূরা আল-কাহফ, আয়াত ১০৩-১০৬:

"বলুন, আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হলো সেসব লোক, দুনিয়ার জীবনে যাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুবই ভালো কাজ করছে। এরাই তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন স্থাপন করব না (অর্থাৎ তাদের আমলের কোনো মূল্য থাকবে না)। জাহান্নামই তাদের প্রতিদান, কারণ তারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াত ও রাসূলদেরকে বিদ্রূপের পাত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে।"

অনুধাবন: আয়াতকে অস্বীকার করা এত বড় অপরাধ যে, এটি মানুষের সমস্ত সৎকর্মকে ধ্বংস করে দেয় এবং তার চূড়ান্ত পরিণতি হয় জাহান্নাম।

 

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: অস্বীকার করা বনাম বুঝতে না পারা

এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে:

অস্বীকার করা (Rejection): কোনো আয়াতকে ভুল, মিথ্যা, অযৌক্তিক বা বর্তমান সময়ের জন্য অচল মনে করে প্রত্যাখ্যান করা হলো কুফর। যেমন বলা, "কুরআনের এই বিধানটি আমি মানি না।"


বুঝতে না পারা (Inability to Understand): কোনো আয়াতের অর্থ বা প্রজ্ঞা বুঝতে অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক। কোনো ব্যক্তি যদি একটি আয়াতের অর্থ বুঝতে না পারেন কিন্তু মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে "এটি আল্লাহর বাণী এবং এটি সত্য, যদিও আমি এর حکمت (wisdom) বুঝতে পারছি না", তবে তিনি অবিশ্বাসী নন। এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব হলো বিজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হয়ে জ্ঞান অর্জন করা

কুরআনি দুআ:

রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া তাওয়াফফানা মুসলিমীন। 

হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান করুন-আল আরাফ 7:126

Video


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post