নবজাতক সন্তানের জন্য কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করা মুসলিমদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল-কোরআনে বিভিন্ন নবী ও ও আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের এমন কিছু প্রার্থনা উল্লেখিত হয়েছে, যা নবজাতকের জন্য বা সন্তানের সার্বিক কল্যাণের জন্য পাঠ করা যায়।
১. সন্তান লাভের জন্য কৃতজ্ঞতা ও দু'আ ( সালামুন আলা ইব্রাহিম-এর দু'আ):
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন। নিশ্চয়ই আমার রব দোয়া শ্রবণকারী।" (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ১৪:৩৯)
(এখানে স্ব স্ব সন্তানের নাম উল্লেখ করতে পারেন)
২. শয়তান থেকে সন্তানের সুরক্ষার জন্য দু'আ: (মায়ের দু'আ)
لَمَّا وَضَعَتۡہَا قَالَتۡ رَبِّ اِنِّیۡ وَضَعۡتُہَاۤ اُنۡثٰی وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا وَضَعَتۡ وَلَیۡسَ الذَّکَرُ کَالۡاُنۡثٰی ۖ وَاِنِّیۡ سَمَّیۡتُہَا مَرۡیَمَ وَاِنِّیۡۤ اُعِیۡذُہَا بِکَ وَذُرِّیَّتَہَا مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ
("...আমি তার নাম রেখেছি ........... এবং নিশ্চয় আমি তাকে ও তার বংশধরকে বিতাড়িত শয়তান হতে আপনার কাছে আশ্রয়ে দিচ্ছি।)
৩. সৎ ও নেককার সন্তানের জন্য দু'আ:
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
"হে আমার রব! আমাকে একজন সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।" (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত: ১০০)
৪. উত্তম সন্তানের জন্য দু'আ:
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
"হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পূতপবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া কবুলকারী।" (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩৮)
৫. চোখ জুড়ানো সন্তানের জন্য দু'আ:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
"হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের জন্য হবে নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদের করুন মুত্তাকিদের জন্য অনুসরণযোগ্য।" (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
6. নিরাপদ ও নিরাপত্তার জন্য দুআ:
অর্থ- হে আমার রব! এ শহরকে নিরাপদ করুন, আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতে ঈমান আনে তাদেরকে ফলমূল হতে জীবিকা প্রদান কর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১২৬)
7. রিযিকের ব্যবস্থার জন্য দরখাস্ত:
রাব্বানা লিইয়ুক্বিমুস সালাতা ফাঝআ`ল আফইদাতাম মিনাননাসি তাহওই ইলাইহিম ওয়ার যুক্বহুম মিনাছছামারাতি লাআ`ল্লাহুম ইয়াশকুরুন।
অর্থ : হে আমাদের রব! এজন্য যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব, তুমি কিছু লোকের অন্তর তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফলাদি দ্বারা তাদের রিযিকের ব্যবস্থা কর, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৫-৩৭)
8. সন্তানকে ইবাদতকারী বানানোর জন্য দু'আ:
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
"হে আমার রব! আমাকে সালাত (অহীর সংযোগ স্থাপন অনুশীলনে/চর্চাকারী) স্থাপনকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব! আমার প্রার্থনা কবুল করুন।" (সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০)
কারও নাম ধরে ডাকা প্রকারান্তরে তার নাম রাখার একটি নীতি পাওয়া যায় আয়াতে:
...ওয়াল্লাহু ইয়া'লামু ওয়া আন্তুম লা তা'লামুন
"...আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।" (আয়াত ২:২১৬, ২:২৩১, ৩:৬৬)
"সদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ" (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২২
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!
