আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য (শিফা) ও রহমত। -সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮২ (১৭:৮২)
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا
১. অন্তরের আরোগ্য (Spiritual and Emotional Healing)
২. আল্লাহই একমাত্র আরোগ্যদাতা (Theological Foundation of Healing)
وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِআয়াত: ওয়া ইযা মারিদ'তু ফাহুওয়াউচ্চারণ: ইয়াশফীন । "এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকেঅর্থ: আরোগ্য দান করেন (শিফা দেন) ।"সূত্র: সূরা আশ-শু'আরা, আয়াত: ৮০ (২৬:৮০)
৩. প্রাকৃতিক উপাদানে আরোগ্য (Healing in Nature)
"...তার (মৌমাছির) পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য আরোগ্য ( । নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"-ফীহি শিফা-উল লিন্না-স )সূত্র: সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৬৯ (১৬:৬৯)
সারসংক্ষেপ:
মূল উৎস: একমাত্র আল্লাহই আরোগ্যদাতা (আশ-শাফী)। (সূরা আশ-শু'আরা: ৮০)প্রধান আধ্যাত্মিক মাধ্যম: আল-কুরআন হলো মুমিনদের অন্তর ও আত্মার জন্য শিফা। (সূরা আল-ইসরা: ৮২, সূরা ইউনুস: ৫৭)প্রাকৃতিক মাধ্যম: আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতের ভেতরেও মানুষের জন্য শিফা রেখেছেন, যেমন মধু। (সূরা আন-নাহল: ৬৯)
রহমত লাভ ও আযাব থেকে মুক্তির উপায় হলো ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা- আয়াত ১১:৯০, ৩৯:৫৩, ৮:৩৩, ৪৭:১৯
── ・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚. ──
দুআ:
১. ওয়া ইযা মারিদ’তু ফাহুয়া ইয়াশফীন।
অর্থ: "এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।" (২৬:৮০)।
২. উচ্চারণ: রব্বানা ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফফির 'আন্না সাইয়্যআিতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা'আল আবরার।
অর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের সাথে মৃত্যুদান করুন।" (৩:১৯৩)।
২. উচ্চারণ: রব্বানা ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফফির 'আন্না সাইয়্যআিতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা'আল আবরার।
অর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের সাথে মৃত্যুদান করুন।" (৩:১৯৩)।
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لَنَا وَلِإِخۡوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلۡإِيمَٰنِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِي قُلُوبِنَا غِلّٗا لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٞ رَّحِيمٌ
উচ্চারণ: রব্বানাগফিরলানা ওয়া লিইখওয়া নিনাল্লাযীনা সাবাকূনা বিল ঈমান, ওয়ালা তাজ'আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ, রব্বানা ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে চলে গেছে। আর আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ (বা অমঙ্গল কামনা) রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়'" (৫৯:১০)
৪. আফাল্লাহু আনকা (عَفَا اللَّهُ عَنكَ)
অর্থ: "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন! (৯:৪৩)।
অসুস্থতা ও আরোগ্য লাভের জন্য দু'আ:
১. দু'আ
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ উচ্চারণ: আন্নী মাসসানিয়াদ-দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রাহিমীন।অর্থ: "(হে আমার রব!) আমি তো কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।"সূত্র: সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ (২১:৮৩)।
২. দু'আ
আরবি: وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِউচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদ'তু ফাহুওয়া ইয়াশফীন।অর্থ: "এবং যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।"সূত্র: সূরা আশ-শু'আরা, আয়াত: ৮০ (২৬:৮০)।
৩. দু'আ (আয়াতুল কারিমা)
আরবি: لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَউচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায-যোয়ালিমীন।অর্থ: "আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র, মহান! নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছি।"সূত্র: সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ (২১:৮৭)।
৪. সূরা আল-ফাতিহা (হামদ):
গুরুত্ব: পুরো সূরাটিই আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনার এক অনন্য সংমিশ্রণ।
৫. আয়াতুল কুরসি এবং মু'আওয়াযাতাইন
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫): এটি কুরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত এবং সকল প্রকার শয়তানি ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।সূরা আল-ফালাক (১১৩): সকল সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার সূরা।সূরা আন-নাস (১১৪): মানুষের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুর কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার সূরা।
দুশ্চিন্তা, দুঃখ ও কষ্ট দূর করার জন্য দু'আ
১. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসার আয়াত
আরবি: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُউচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল।অর্থ: "আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"সূত্র: সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৭৩ (৩:১৭৩)।
২. ধৈর্য ও সাহায্যের জন্য দু'আ
আরবি: رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَউচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ 'আলাইনা সবরওঁ ওয়া সাব্বিত আকদা-মানা ওয়ানসুরনা 'আলাল কওমিল কাফিরীন।অর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।"-সূত্র: সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫০ (২:২৫০)।
৩. আল্লাহর সাহায্যের প্রতিশ্রুতি
আরবি: فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٥﴾ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ﴿٦﴾উচ্চারণ: ফাইন্না মা'আল 'উসরি ইউসরন। ইন্না মা'আল 'উসরি ইউসরন।অর্থ: "সুতরাং, কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।"-সূত্র: সূরা আশ-শারহ, আয়াত: ৫-৬ (৯৪:৫-৬)।
কীভাবে দু'আ করবেন?
নিয়তের বিশুদ্ধতা: خالص নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দু'আ করুন।দৃঢ় বিশ্বাস: মনে পূর্ণ বিশ্বাস রাখুন যে, একমাত্র আল্লাহই আরোগ্যদাতা ও বিপদ দূরকারী।সরাসরি দু'আ: অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে তার জন্য সাহায্য চাইতে পারেন।ফুঁ দেওয়া: উপরে উল্লেখিত আয়াত বা সূরাগুলো পড়ে পানিতে, কোনো খাবারে অথবা সরাসরি ব্যক্তির গায়ে ফুঁ দিতে পারেন।
মানসিক প্রশান্তি (সাকীনাহ) প্রেরণের জন্য দু'আ (Seeking Mental Serenity for Others)
কুরআনে আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের অন্তরে "সাকীনাহ" বা প্রশান্তি নাযিল করার কথা বলেছেন। আমরা আমাদের আপনজনদের জন্য আল্লাহর কাছে এই বিশেষ রহমত চাইতে পারি।
অনুশীলনের আয়াত:
هُوَ الَّذِي أَنزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَّعَ إِيمَانِهِمْ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লাযী আনযালাস সাকীনাতা ফী কুলূবিল মু'মিনীনা লিয়াযদা-দূ ঈমা-নাম মা'আ ঈমা-নিহিম।
অনুধাবন: "তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি (সাকীনাহ) নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে ঈমান
. মনোজাগতিক বাধা ও সংকীর্ণতা দূর করার দু'আ (Overcoming Psychological Blocks)
এই দু'আটি যেকোনো মানসিক চাপ, কথা বলার জড়তা বা কোনো বড় কাজ শুরু করার আগের ভয়ের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي
উচ্চারণ: রব্বিশরহ লী সদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী, ওয়াহলুল 'উক্বদাতাম মিল লিসা-নী, ইয়াফক্বাহূ ক্বাওলী।
অনুধাবন:
"হে আমার রব! আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিন। আমার কাজকে সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।" (সূরা ত্ব-হা: ২৫-২৮)
চর্চা: যখন কোনো আপনজন কোনো ইন্টারভিউ, পরীক্ষা বা কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হন এবং মানসিক চাপে ভোগেন, তখন তার জন্য এই আয়াতগুলো পড়ে দু'আ করুন
প্রথম পর্ব: নির্দিষ্ট আয়াতসমূহের দু'আ ও আয়াত:
আরবি: رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُউচ্চারণ: রব্বানাগফির লী ওয়া লিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিলমু'মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসা-ব।অর্থ: "হে আমাদের রব! যেদিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।"
আরবি: رَّبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًاউচ্চারণ: রব্বিগফির লী ওয়া লিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিমান দাখলা বাইতিয়া মু'মিনাওঁ ওয়া লিলমু'মিনীনা ওয়াল মু'মিনা-ত; ওয়ালা তাযিদিয যোয়া-লিমীনা ইল্লা তাবা-র-।অর্থ: "হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে ঈমানদার অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাকে এবং সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে ক্ষমা করুন। আর জালিমদের জন্য ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।"
উচ্চারণ: ...রব্বানা ওয়াসি'তা কুল্লা শাইয়ির রহমাতাওঁ ওয়া 'ইলমান ফাগফির লিল্লাযীনা তা-বূ ওয়াত্তাবা'ঊ সাবীলাকা ওয়া ক্বিহিম 'আযা-বাল জাহীম। রব্বানা ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি 'আদনিনিল্লাতী ওয়া'আত্তাহুম ওয়া মান সলাহা মিন আ-বা-ইহিম ওয়া আযওয়া-জিহিম ওয়া যুররিয়্যা-তিহিম; ইন্নাকা আনতাল 'আযীযুল হাকীম। ওয়া ক্বিহিমুস সাইয়্যিআ-ত; ওয়া মান তাক্বিস সাইয়্যিআ-তি ইয়াওমাইযিন ফাক্বাদ রহিমতাহ; ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওযুল 'আযীম।অর্থ: (এটি আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের দু'আ) "...হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। সুতরাং যারা তওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। (৭) হে আমাদের রব! আর তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ তাদেরকেও। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৮) আর আপনি তাদেরকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি তো আপনি দয়াই করলেন। আর এটাই তো মহাসাফল্য।" (৯)
আরবি: لِيُكَفِّرَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَسْوَأَ الَّذِي عَمِلُوا وَيَجْزِيَهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ الَّذِي كَانُوا يَعْمَلُونَঅর্থ: "যাতে আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেন এবং তারা যা করত, তার উৎকৃষ্টতর প্রতিদান তাদেরকে দেন।"
অর্থ: আর আপনি সকল বিষয়ে সাক্ষী। (১১৭) যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (১১৮)
আরবি: لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ ۖ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَঅর্থ: 'আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর তিনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু'।"
رَّبَّنَا إِنِّي أَسْكَنتُ مِن ذُرِّيَّتِي بِوَادٍ غَيْرِ ذِي زَرْعٍ عِندَ بَيْتِكَ الْمُحَرَّمِ رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ অর্থ: "হে আমাদের রব! আমি আমার বংশধরদের কতককে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায় বসবাস করালাম। হে আমাদের রব!! এ জন্যে যে, তারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব আপনি কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দিন এবং তাদেরকে ফল-ফলাদি দিয়ে রিযিক দান করুন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।"
আরবি: ...فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَঅর্থ: "...সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ সংরক্ষক এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।"
আরবি: فَأُولَٰئِكَ عَسَى اللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوًّا غَفُورًاঅর্থ: "অতঃপর আশা করা যায়, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।"
আরবি: ...رَّبَّنَا عَلَيْكَ تَوَكَّلْنَا وَإِلَيْكَ أَنَبْنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُঅর্থ: "...হে আমাদের রব! আমরা আপনার উপরই ভরসা করেছি, আপনারই অভিমুখী হয়েছি এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল।" (এই আয়াতের পরের অংশে আরও দু'আ আছে)।
আরবি: قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ ۖ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَঅর্থ: 'হে আমার রব! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আপনার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু'।"
আরবি: لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا عَمِلُوا وَيَزِيدَهُم مِّن فَضْلِهِঅর্থ: যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের উৎকৃষ্ট কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন।
কুরআনে 'রব্বানা' (হে আমাদের প্রতিপালক) দিয়ে শুরু হওয়া দু'আগুলো অত্যন্ত আবেগঘন এবং তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে সূরা অনুযায়ী দু'আগুলো পর্যায়ক্রমে দেওয়া হলো:
সূরা আল-বাকারা (২)
آية ٢٠١: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।"
آية ٢٥٠: رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা স্থির রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।"
آية ٢٨٦: رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَاঅর্থ: "হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।"
آية ٢٨٦: رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَاঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না।"
رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ অর্থ: "হে আমাদের রব! যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই, তা আমাদের উপর চাপিয়ে দেবেন না। আর আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদেরকে মাফ করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।"
সূরা আলে-ইমরান (৩)
অর্থ: "হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, তাকে তো আপনি опозоренный (অপদস্থ) করলেন। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।"
آية ١٩٣: رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমরা একজন আহ্বানকারীকে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি যে, 'তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনো', তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের সাথে মৃত্যুদান করুন।"
آية ١٩٤: رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۖ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দেওয়ার ওয়াদা করেছেন, তা আমাদেরকে দিন এবং কিয়ামতের দিন আমাদেরকে (অপদস্থ) করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদার ব্যতিক্রম করেন না।"
সূরা আল-মায়েদা (৫)
آية ٨٣: رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।"
آية ١١٤: رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা নাযিল করুন, যা আমাদের এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য হবে ঈদস্বরূপ এবং আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন।"
সূরা আল-আ'রাফ (৭)
آية ٢٣: رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।"
آية ٤٧: رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।"
آية ٨٩: ...رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَঅর্থ: "...হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে যথাযথ ফয়সালা করে দিন, আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।"
آية ١٢٦: ...رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَঅর্থ: "...হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং মুসলিম অবস্থায় আমাদেরকে মৃত্যুদান করুন।"
সূরা ইবরাহিম (১৪)
آية ٣٧: (উপরে #৭ এ উল্লেখ করা হয়েছে)آية ٤٠: رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِঅর্থ: "হে আমাদের রব! আর আমার দু'আ কবুল করুন।"
آية ٤١: (উপরে #১ এ উল্লেখ করা হয়েছে)
সূরা আল-কাহফ (১৮)
آية ١٠: رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًاঅর্থ: "হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিক ও সহজ করে দিন।"
সূরা আল-ফুরকান (২৫)
آية ٦٥: رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ ۖ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًاঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব दूर (দূরে) রাখুন। নিশ্চয়ই এর আযাব তো অবধারিত।"
آية ٧٤: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًاঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদেরকে আমাদের জন্য চোখজুড়ানো করে দিন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য আদর্শস্বরূপ করুন।"
সূরা গাফির (মুমিন) (৪০)
آية ٧-٨: (উপরে #৩ এ উল্লেখ করা হয়েছে)
সূরা আল-হাশর (৫৯)
آية ١٠: رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌঅর্থ: "হে আমাদের রব! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে চলে গেছে। আর আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।"
সূরা আল-মুমতাহিনা (৬০)
آية ٤: (উপরে #১০ এ উল্লেখ করা হয়েছে)آية ٥: رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا وَاغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অর্থ: "...হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।"
Dua Video
