বারবার-ক্রমাগত মিথ্যা তথ্য ও খবরের প্রভাবে মানুষের বিবেক কীভাবে অসাড় হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ভুলকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে—এ বিষয়ে আল-কুরআনের নির্দেশনা কী?
আল-কুরআনে উল্লিখিত 'লাহুওয়াল হাদিস' (لَهْوَ الْحَدِيثِ) বা 'অসার কথাবার্তা' কি আধুনিক যুগের এই 'ফেক নিউজ' বা মিথ্যা খবরের অন্তর্ভুক্ত?
এর ফলে মানুষ কি কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা ও হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হয়?
এ সকল বিষয়ে প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো উল্লেখ করা হলো:
ছবি: সংগৃহীত প্রথম আলোর সৌজন্যে
বারবার মিথ্যা তথ্য ও খবরের প্রভাবে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের ক্ষমতা হারানো:
আল-কুরআন এই মানসিক অবস্থাকে স্বীকৃতি দেয় যে, ক্রমাগত মিথ্যা ও পাপের মধ্যে থাকলে মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায় এবং তারা সত্যকে গ্রহণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
كَلَّا ۖ بَلْ ۜ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অনুবাদ: কখনোই নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়েছে-সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত ১৪
অনুধাবন:
এই আয়াতে 'রান' (رَانَ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ মরিচা পড়া বা আস্তরণ পড়ে যাওয়া। যখন মানুষ ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলে, শোনে এবং অন্যায় কাজ করে, তখন তাদের অন্তরের উপর একটি আবরণ পড়ে যায়। এই আবরণের কারণে সত্যের আলো তাদের অন্তরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে, তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং যা মিথ্যা, তাকেই আঁকড়ে ধরে। আধুনিক পরিভাষায়, যাকে 'ইকো চেম্বার' (echo chamber) বা 'কনফার্মেশন বায়াস' (confirmation bias) বলা হয়, তার আধ্যাত্মিক রূপ এটি।
আয়াত:
আমি অবশ্যই আমার আয়াতগুলো থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখব যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীর মধ্যে অহংকার করে। আর যদি তারা প্রতিটি আয়াতও দেখে, তারা সে বিষয়গুলোতে বিশ্বাস করবে না এবং যদি তারা আলোকিত পথও দেখে, তারা পথ হিসাবে সেটা গ্রহণ করবে না। আর যদি তারা কোনো ভ্রান্ত পথ দেখে তারা সেটাকেই পথ হিসাবে গ্রহণ করে। সেটা একারণে যে, তারা আমাদের আয়াতগুলোকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা ছিল উদাসীন-আল-আরাফ 7:146
২. তথ্য-সংবাদ যাচাই করার নির্দেশ:
মিথ্যা তথ্যের প্রচার রোধে ইসলামে তথ্য যাচাইয়ের উপর কঠোর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোনো খবর বা তথ্য পেলেই তা বিশ্বাস বা প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
আয়াত:
ওহে যারা ঈমান এনেছ! যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তাহলে তোমরা যাচাই করো; পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো জনগোষ্ঠীর ক্ষতি করে বসো; এরপর তোমরা যা করেছ সে ব্যাপারে তোমরাই লজ্জিত হও। সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৬
অনুধাবন:
এই আয়াতটি মিথ্যা তথ্য মোকাবেলার একটি মৌলিক নীতি। এখানে স্পষ্টভাবে কোনো খবর—বিশেষ করে অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলে—তা প্রচারের আগে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাচাই না করে তথ্য ছড়ানোর ফলে সমাজে যে বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
৩. 'লাহুওয়াল হাদিস' এবং এর সম্পর্ক:
'লাহুওয়াল হাদিস' বা 'অসার কথাবার্তা' কুরআনিক আয়াতের বিপরীতে মিথ্যা হাদিস উদ্ভাবন, আধুনিক যুগের মিথ্যা খবর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা, ভিত্তিহীন বিনোদন এবং মানুষকে সত্য থেকে বিমুখকারী সবকিছুর সাথেই সম্পর্কিত।
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا ۚ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
এবং মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে যে 'লাহুওয়াল হাদিস' (অসার কথাবার্তা) ক্রয় করে, যাতে সে علم (জ্ঞান ছাড়াই) মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে এবং আল্লাহর পথকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি- সূরা লোকমান, আয়াত ৬
অনুধাবন:
১. লাহুওয়াল হাদিস (অসার কথাবার্তা): এর আক্ষরিক অর্থ হলো 'بیهوده বা অনর্থক কথা'। এর পরিধি অনেক ব্যাপক। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
* আল্লাহর রসূলের নামে মিথ্যা হাদিস-সূন্নাহ, অসত্য তথ্য ইত্যাদি।
* মিথ্যা খবর ও গুজব।
* ঘৃণা-উদ্রেককারী বক্তব্য (Hate speech)।
* তাফসির বা সূন্নাহর নামে অশ্লীল ও ভিত্তিহীন গল্প-কাহিনী।
* এমন সব বিনোদন যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও দায়িত্ব থেকে গাফেল করে দেয়।
২. উদ্দেশ্য: আয়াতটি পরিষ্কারভাবে বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর পথ (سَبِيلِ اللَّهِ) থেকে বিচ্যুত করা। 'আল্লাহর পথ' মানে হলো সত্য, ন্যায় ও কুরআনের নির্দেশিত জীবনব্যবস্থা। সুতরাং, যেকোনো কথা, হাদিস, খবর বা বিনোদন যা মানুষকে সত্য ও ন্যায় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা-ই 'লাহুওয়াল হাদিস'-এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কুরআনের আসল তথ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া:
হ্যাঁ, 'লাহুওয়াল হাদিস'-এ মগ্ন থাকার সরাসরি ফল হলো মানুষ কুরআনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। পরের আয়াতেই এর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে:
যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে ঔদ্ধত্যের সাথে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে তা শুনতেই পায়নি; যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং, তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। সূরা লোকমান, আয়াত ৭
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি 'লাহুওয়াল হাদিস' বা অসার কথায় মগ্ন থাকে, তার কাছে যখন কুরআনের মতো মহাসত্য পেশ করা হয়, তখন সে তা গ্রহণ করতে পারে না। তার মন এতটাই অসাড় হয়ে যায় যে সে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে।
সুতরাং, আল-কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে:
বারবার মিথ্যাচারের ফলে মানুষের অন্তর সত্যবিমুখ ও অসাড় হয়ে যায় (সূরা মুতাফফিফিন: ১৪)।
যেকোনো তথ্য, বিশেষ করে অনির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলে, তা যাচাই করা আবশ্যক (সূরা হুজুরাত: ৬)।
মিথ্যা খবর, গুজব, ভিত্তিহীন বিনোদন ইত্যাদি হলো 'লাহুওয়াল হাদিস', যা মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য শয়তানি শক্তি এবং কিছু মানুষ ক্রয় বা প্রচার করে (সূরা লোকমান: ৬)।
এই 'লাহুওয়াল হাদিস'-এ মগ্ন থাকার কারণেই মানুষ কুরআনের আসল শিক্ষা ও সত্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং ঔদ্ধত্যের সাথে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে (সূরা লোকমান: ৭)।
'লাহুওয়াল হাদিস' (অসার কথাবার্তা) এর বিপরীত ধারণাটি কি?। আল-কুরআন নিজেই তার নিজের পরিচয় দিয়েছে এবং 'লাহুওয়াল হাদিস'-এর বিপরীতে সর্বোত্তম বাণী বা 'আহসানুল হাদিস' কোনটি, তা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে।
আল-কুরআন মতে, 'আহসানুল হাদিস' (أَحْسَنَ الْحَدِيثِ) বা সর্বোত্তম হাদিস হচ্ছে স্বয়ং আল-কুরআন।
কুরআন মাজিদ এই ঘোষণাটি অত্যন্ত জোরালোভাবে দিয়েছে।
সূরা আয-যুমার, আয়াত ২৩:
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُّتَشَابِهًا مَّثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
আল্লাহ আহসানুল হাদিস (সর্বোত্তম হাদিস) নাযিল করেছেন, এমন একটি কিতাব হিসেবে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। এতে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে। অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র ও প্রশান্ত হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি যাকে ইচ্ছা পথ দেখান। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
আয়াতের তাৎপর্য:
এই আয়াতটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে:
১. সর্বোত্তম বাণী (Ahsanul Hadith): আল্লাহ নিজেই কুরআনকে 'আহসানুল হাদিস' বা 'Best Discourse' হিসেবে নামকরণ করেছেন। এর চেয়ে উত্তম, সুন্দর, সত্য ও প্রভাবশালী বাণী আর কোনোটি হতে পারে না।
২. সামঞ্জস্যপূর্ণ (Mutashabihan): কুরআনের আয়াতগুলো একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নেই। এর একটি অংশ অন্য অংশকে ব্যাখ্যা করে এবং সমর্থন করে। এটি এর ঐশ্বরিক উৎসের প্রমাণ।
৩. বারবার পঠিত (Mathaniya): এর মধ্যে মূল বার্তা, বিধান, কাহিনী ও উপদেশসমূহ বারবার বিভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে। এই পুনরাবৃত্তি মানুষের অন্তরে শিক্ষাকে গেঁথে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি একঘেয়ে নয়, বরং প্রতিটি বারেই নতুন উপলব্ধি নিয়ে আসে।
৪. এর প্রভাব: 'লাহুওয়াল হাদিস' যেখানে মানুষকে গাফেল করে, সত্য থেকে বিচ্যুত করে এবং অন্তরকে কঠিন করে, সেখানে 'আহসানুল হাদিস' বা কুরআনের প্রভাব সম্পূর্ণ বিপরীত।
* প্রথমে ভয় ও ভক্তি: যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারা যখন কুরআনের আয়াত শোনে, তখন তাদের শরীর ভয়ে ও ভক্তিতে শিউরে ওঠে।
* অতঃপর প্রশান্তি: পরে আল্লাহর রহমত ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তাদের অন্তর ও শরীর প্রশান্ত ও বিনম্র হয়ে যায়।
লাহুওয়াল হাদিস' বনাম 'আহসানুল হাদিস:
|
বিষয়
|
লাহুওয়াল হাদিস
(অসার হাদিস)
|
আহসানুল হাদিস
( সর্বোত্তম হাদিস )
|
|
উৎস
|
মানবসৃষ্ট,
অনুমান নির্ভর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
|
আল্লাহ
রাব্বুল আলামিন।
|
|
উদ্দেশ্য
|
মানুষকে
আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত
করা, জ্ঞান ছাড়াই বিভ্রান্ত করা, সময় নষ্ট করা।
|
মানুষকে
হিদায়াত বা সঠিক পথ
দেখানো, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান
করা।
|
|
বিষয়বস্তু
|
মিথ্যা,
গুজব, অশ্লীলতা, ভিত্তিহীন বিনোদন।
|
মহাসত্য,
ন্যায়-অন্যায়, জীবনবিধান, উপদেশ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী।
|
|
প্রভাব
|
অন্তরকে
অসাড় করে, সত্য থেকে বিমুখ করে, আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে।
|
অন্তরকে
জাগ্রত করে, আল্লাহর ভয়ে শরীরকে প্রকম্পিত করে এবং তাঁর স্মরণে হৃদয়কে প্রশান্ত করে।
|
"হাদিস" কি?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। "হাদিস" (حديث) শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'বাণী', 'কথা' বা 'বিবরণী'। সূরা আয-যুমারের এই আয়াতে "আহসানুল হাদিস" বলতে 'সর্বোত্তম বাণী' হিসেবে আল-কুরআনকে বোঝানো হয়েছে।
সুতরাং, যে ব্যক্তি 'লাহুওয়াল হাদিস' (মিথ্যা খবর, অসার বিনোদন) বর্জন করে 'আহসানুল হাদিস' (আল-কুরআন) আঁকড়ে ধরবে, সে-ই সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারবে এবং হিদায়াতের পথে পরিচালিত হবে।
আল্লাহ নিজেই তাঁর নাযিল করা কিতাবকে এই উপাধি দিয়েছেন:
اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا...
"আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী (আহসানুল হাদিস) নাযিল করেছেন, একটি কিতাব হিসেবে..." -সূরা আয-যুমার, আয়াত ২৩:
এটি দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা যে, যত ধরনের কথা, বাণী বা 'হাদিস' (আক্ষরিক অর্থে) বিদ্যমান, তার মধ্যে সর্বোত্তম, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সত্য হলো আল-কুরআন। এর উপরে আর কোনো বাণী হতে পারে না।
২. রাসূলুল্লাহ -এর ভূমিকা: সর্বোত্তম বাণীর সর্বোত্তম বাস্তবায়ন
আপনার বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো "এর বাস্তবায়ন"। এখানেই আল্লাহর রাসূল-এর ভূমিকা স্পষ্ট হয়। কুরআন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানের 'থিওরি' (Theory) বা 'সংবিধান' (Constitution)।
কুরআন নিজেই রাসূলুল্লাহ-এর এই ভূমিকা নির্ধারণ করে দিয়েছে: বর্ননাকারী হিসাবে (ব্যাখ্যাকারী হিসাবে নন):
يِّنَٰتِ وَٱلزُّبُرِ ۗ وَأَنزَلْنَآ إِلَيْكَ ٱلذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
(তাদেরকে পাঠিয়েছিলাম) সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসহ। আর আমি আপনার প্রতি 'যিকির' (অর্থাৎ কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে -সূরা আন-নাহল (১৬), আয়াত ৪৪।
সর্বোত্তম আদর্শ (Role Model) হিসেবে:
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ...
"নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ (উসওয়াতুন হাসানাহ)..." -সূরা আল-আহযাব, আয়াত ২১
'আহসানুল হাদিস' বা সর্বোত্তম বাণীকে জীবনে কীভাবে ধারণ করতে হয়, তার সর্বোত্তম নমুনা হলেন রাসূল (সা:)। তিনি ছিলেন "কুরআনি মডেল" বা "The walking Qur'an"।
সারসংক্ষেপ:
আহসানুল হাদিস (সর্বোত্তম বাণী): এটি একমাত্র আল-কুরআন। এটি হলো আল্লাহর কথা (কালামুল্লাহ)।
আহসানুল আমাল/উসওয়া (সর্বোত্তম কর্ম ও আদর্শ):
এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর জীবন। তিনি 'আহসানুল হাদিস'কে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।
...ওয়াল্লাহু ইয়া'লামু ওয়া আন্তুম লা তা'লামুন
"...আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।" (আয়াত ২:২১৬, ২:২৩১, ৩:৬৬)
"সদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ" (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২২
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন!