"একজন সম্মানিত মুমিন বোন জানতে চেয়েছেন সূরা আন-নাহলের ৭১ নম্বর আয়াতে কী বলা হয়েছে। আয়াতটির অনুধাবন প্রসঙ্গে, আমার রব তাঁর করুণা ও দয়ায় আমাকে যেটুকু উপলব্ধি/অনুধাবন করার তৌফিক দিয়েছেন, বিনয়ের সাথে সেটুকুই আপনার অবগতির জন্য উপস্থাপন করছি।"
কত্তো কম জ্ঞান আমার: প্রমাণ-
(...ওয়াল্লাহু ইয়া'লামু ওয়া আন্তুম লা তা'লামুন) ...আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (আয়াত ২:২১৬, ২:২৩১, ৩:৬৬)
・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚
"‘মা মালাকাত আইমানুহুম’ (সূরা আল মু’মিনুন, আয়াত ২৩:৬) — এই আয়াত নিয়ে এখন পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের যতটুকু বুঝ দান করেছেন, সেটুকুই এই পোস্টের নিচের দিকে আপনার সঙ্গে শেয়ার করছি। আপনি চাইলে ধীরস্থির মন নিয়ে, গভীর মনোযোগে, আর ‘রব্বি যিদনি ইলমা’ এই দোয়ার সাহায্যে পড়তে পারেন, বিইযনিল্লাহ!
আল-কুরআনের সূরা আন-নাহল (১৬), আয়াত ৭১-এ আল্লাহ্ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত উপমা বা যুক্তির মাধ্যমে শিরকের (আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করার) অসারতা তুলে ধরেছেন।
وَاللَّهُ فَضَّلَ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ فِي الرِّزْقِ ۚ فَمَا الَّذِينَ فُضِّلُوا بِرَادِّي رِزْقِهِمْ عَلَىٰ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَهُمْ فِيهِ سَوَاءٌ ۚ أَفَبِنِعْمَةِ اللَّهِ يَجْحَدُونَঅনুবাদ: "আর আল্লাহ তোমাদের একজনকে অপরজনের ওপর রিযিকের মধ্যে বিশেষত্ব দিয়েছেন। এরপর যাদেরকে বিশেষত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের রিযিক তাদের ডানহাত যাদের মালিকানা লাভ করেছে তাদেরকে ফেরতদানকারী নয়, পাছে তারা সে বিষয়ে সমান। তবে কি তারা আল্লাহর অনুগ্রহকে অস্বীকার করে?"
তাওহীদের প্রতিষ্ঠা ও শিরকের অসারতা: সূরা আন-নাহল (আয়াত ৭১-৭৬) এর সমন্বিত পাঠ:
আর আল্লাহ জীবনোপকরণে (রিযিকে) তোমাদের কাউকে কারও ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
কিন্তু যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের রিযিক তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে এমনভাবে ফিরিয়ে দেয় না যে, তারা এ বিষয়ে সমান হয়ে যায়।
তবে কি তারা আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করছে?
মানুষ তার নিজের সীমিত সম্পদে ও কর্তৃত্বে কোনো অধীনস্থকে সমান অংশীদার বানাতে রাজি নয়। সুতরাং, মহান আল্লাহ্র অসীম ও সার্বভৌম ক্ষমতা ও ইবাদতে তাঁরই কোনো সৃষ্টিকে অংশীদার বানানো চরম অযৌক্তিক, স্ববিরোধী এবং আল্লাহ্র নিয়ামতের প্রতি চরম অকৃতজ্ঞতা।
ধাপ ২: নিয়ামতের উৎস স্মরণ করিয়ে দেওয়া (আয়াত ৭২)
এই যুক্তির পর, আল্লাহ্ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, আমাদের অস্তিত্বের মূল এবং সকল নিয়ামতের উৎস একমাত্র তিনিই।
আয়াত ৭২: "আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবুও কি তারা বাতিলের ওপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?"
গভীর সংযোগ: ৭১ নং আয়াতে রিযিকের অসম বণ্টনের কথা বলার পর, এখানে আল্লাহ্ বলছেন যে, শুধু সম্পদই নয়, বরং আমাদের পরিবার, স্ত্রী, সন্তান—এই সবকিছুই তাঁরই দান। যে "বাতিল" উপাস্যদের তোমরা পূজা করছ, তারা কি তোমাদের এই পরিবার বা রিযিক দিয়েছে? না। সুতরাং, যে আল্লাহ্ সবকিছু দিলেন, তাঁকে বাদ দিয়ে সেই বাতিল সত্তার উপাসনা করা কি চরম অকৃতজ্ঞতা নয়?
ধাপ ৩: সরাসরি শিরকের অসারতা ঘোষণা (আয়াত ৭৩)
পূর্বের দুটি যুক্তির পর, আল্লাহ্ এখন সরাসরি সেই মিথ্যা উপাস্যদের অক্ষমতা তুলে ধরছেন।
আয়াত ৭৩: আর তারা আল্লাহকে ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে, যারা আসমান ও জমিন থেকে তাদের জন্য সামান্য রিযিকেরও মালিক নয় এবং এর কোনো ক্ষমতাও তারা রাখে না।
গভীর সংযোগ: এই আয়াতটি ৭১ নং আয়াতের উপমার চূড়ান্ত ফলাফল। ৭১ নং আয়াতে যেমন দাস তার মনিবের সম্পদের অংশীদার নয়, তেমনি এই মিথ্যা উপাস্যরা আল্লাহ্র দেওয়া রিযিকের বিন্দুমাত্র মালিক নয়। তারা সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতাহীন।
ধাপ ৪: আল্লাহ্র জন্য উপমা স্থির করার বিরুদ্ধে সতর্কবাণী (আয়াত ৭৪)
আয়াত ৭৪: "সুতরাং, তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উপমা স্থির করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।"
গভীর সংযোগ: এটি একটি অসাধারণ আয়াত। ৭১ নং আয়াতে আল্লাহ্ নিজে আমাদের বোঝার জন্য একটি উপমা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এখানে তিনি আমাদের তাঁর জন্য কোনো উপমা বানাতে নিষেধ করছেন। কারণ, আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে আল্লাহ্র জন্য যে উপমাই তৈরি করব, তা ভুল এবং তাঁর মর্যাদার জন্য হানিকর হবে। আল্লাহ্র সত্তা ও গুণাবলি সকল উপমা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে।
ধাপ ৫: শিরকের অসারতা প্রমাণে আরও দুটি শক্তিশালী উপমা (আয়াত ৭৫-৭৬)
যুক্তিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আল্লাহ্ আরও দুটি অকাট্য উপমা দিচ্ছেন:
আয়াত ৭৫: "আল্লাহ একটি উপমা দিচ্ছেন: এক অধীনস্থ দাস, যে কোনো কিছুর ওপর ক্ষমতাহীন এবং এমন এক ব্যক্তি যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে उत्तम রিযিক দিয়েছি এবং সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি সমান হতে পারে?..."
আয়াত ৭৬: "আল্লাহ আরও একটি উপমা দিচ্ছেন: দু'জন ব্যক্তি, তাদের একজন বোবা, কোনো কিছুর ওপর তার ক্ষমতা নেই এবং সে তার মনিবের ওপর একটি বোঝা...। সে কি সেই ব্যক্তির সমান হতে পারে, যে ন্যায়ের আদেশ দেয় এবং নিজে সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত?"
গভীর সংযোগ:
ক্ষমতাহীন দাস বনাম স্বাধীন দাতা (আয়াত ৭৫): মিথ্যা উপাস্যগুলো হলো সেই ক্ষমতাহীন দাসের মতো। আর আল্লাহ্ হলেন সেই মহান দাতা। তারা কি সমান?
বোবা-অক্ষম বোঝা বনাম ন্যায়পরায়ণ পথপ্রদর্শক (আয়াত ৭৬): এটি শিরকের সবচেয়ে নিকৃষ্ট চিত্র। মূর্তি বা মিথ্যা উপাস্যরা বোবা, অক্ষম এবং তার উপাসকদের জন্য একটি "বোঝা"। তাদের বহন করতে হয়, রক্ষা করতে হয়। সে কি সেই আল্লাহ্র সমান হতে পারে, যিনি নিজেই পথপ্রদর্শক, ন্যায়ের আদেশদাতা এবং সকল ক্ষমতার উৎস?
আয়াত ৭১-কে বিচ্ছিন্নভাবে না পড়ে ৭২-৭৬ পর্যন্ত একসাথে পড়লেই এর নিগূঢ় উত্তর পাওয়া যায়। আল্লাহ্ একটি ব্যতিক্রম অনুসরণ করেছেন:
- পরিচিত উপমা দিয়ে শুরু (৭১)।
- নিজের নেয়ামতের কথা স্মরণ করানো (৭২)।
- উপাস্যদের অক্ষমতা সরাসরি ঘোষণা করা (৭৩)।
- আল্লাহ্র সত্তা সম্পর্কে ভুল ধারণা থেকে বিরত থাকতে বলা (৭৪)।
বিষয়টিকে চিরতরে মস্তিষ্কে গেঁথে দেওয়ার জন্য আরও দুটি অকাট্য উপমা দেওয়া (৭৫-৭৬)।
এই ধারাবাহিক আলোচনা প্রমাণ করে যে, তাওহীদই একমাত্র যৌক্তিক ও সত্য পথ এবং শিরক হলো চরম অযৌক্তিক, অবাস্তব এবং অকৃতজ্ঞতাপূর্ণ একটি কাজ।
・ 。゚☆: *.☽ .* :☆゚
'বাতিল' কী জিনিস?
১. বাতিলের পরিচয় ও তার পরিণতি:
...أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَتِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ
"...তবুও কি তারাবাতিলের ওপর ঈমান আনবে এবং আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?"
অনুধাবন: এখানে আল্লাহ্ তাঁর অগণিত নিয়ামত (পরিবার, রিযিক) স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পর প্রশ্ন করছেন, "এতসব সুস্পষ্ট নিয়ামত পাওয়ার পরও কি তারা ‘বাতিল’-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে?" এখানে ‘বাতিল’ বলতে এমন সবকিছুকে বোঝায় যা মিথ্যা, অসার, ক্ষমতাহীন এবং আল্লাহর পরিবর্তে যার উপাসনা বা অনুসরণ করা হয়।
وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ ۚ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
"আর বলুন,‘সত্য (হক) এসেছে এবং বাতিল বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই বাতিল বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল’।"
অনুধাবন: এই আয়াতে‘আল-হক’ (الحق) বা "সত্য" বলতে প্রধানত আল-কুরআন এবং আল্লাহর রাসূল-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তাওহীদকে বোঝানো হয়েছে। যখন এই চূড়ান্ত সত্য এসে যায়, তখন শিরক, কুফর এবং অন্য সকল প্রকার মিথ্যা বা ‘বাতিল’ naturalmente বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা। বাতিলের প্রকৃতিই হলো অস্থায়ী ও ভঙ্গুর।
ذَٰلِكَ بِأَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَأَنَّ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِن رَّبِّهِمْ..."এটা এজন্য যে, যারা কুফরি করেছে, তারা বাতিলের অনুসরণ করেছে , আর যারা ঈমান এনেছে, তারা তাদেররবের পক্ষ থেকে আসা সত্যের (হক) অনুসরণ করেছে ..."
অনুধাবন: এই আয়াতটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পরিচয় নির্ধারণ করে দেয়। এখানে দুটি দলের পার্থক্য করা হয়েছে:কাফিরদের দল: তারা ‘বাতিল’-এর অনুসরণ করে।মুমিনদের দল: তারা তাদের ‘রবের পক্ষ থেকে আসা সত্য’ (الْحَقَّ مِن رَّبِّهِمْ) বাআল-কুরআনের অনুসরণ করে।
২. সমন্বিত উপলব্ধি: সত্য আসার পর বাতিলের অনুসরণ কারা করে?
‘হক’ হলো যা আল্লাহ নাযিল করেছেন: সূরা মুহাম্মদ (৪৭:৩) অনুযায়ী, মুমিনরা সেই ‘হক’-এর অনুসরণ করে যা"তাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে" (مِن رَّبِّهِمْ) । আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নাযিলকৃত অহী হলো আল-কুরআন। আল্লাহ্ দ্বীনকে সম্পূর্ণ করেছেন এই কুরআনের মাধ্যমে (সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:৩)।কুরআনই চূড়ান্ত মানদণ্ড: আল্লাহ্ কুরআনকে‘ফুরকান’ বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে নাযিল করেছেন (সূরা আল-বাকারাহ, ২:১৮৫)। সুতরাং, যেকোনো বিষয়কে এই মানদণ্ডে যাচাই করতে হবে। যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সত্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু যা কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশের বাইরে বা বিপরীত, তা বাতিল।মানুষের তৈরি করা বিষয়: কুরআন আমাদের সতর্ক করে যে, মানুষ নিজের হাতে কিতাব লিখে তাকে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে বলে চালিয়ে দিতে পারে।
...وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا"...আর কথার দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে ?" (সূরা আন-নিসা, ৪:৮৭)
فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَ اللَّهِ وَآيَاتِهِ يُؤْمِنُونَ"সুতরাং,আল্লাহ ও তাঁর আয়াতসমূহের পর আর কোন হাদীসে (কথায়) তারা ঈমান আনবে ?" (সূরা আল-জাছিয়া, ৪৫:৬)
সত্য ও বাতিলের পরিচয়:
সত্য (আল-হক): তা-ই যা আল্লাহ্ তাঁর রাসূলের ওপর নাযিল করেছেন, অর্থাৎ আল-কুরআন। এটিই দ্বীনের মূল ভিত্তি, চূড়ান্ত সংবিধান এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।বাতিল (আল-বাতিল): এমন সবকিছু যা এই নাযিলকৃত সত্যের বাইরে, এর সাথে সাংঘর্ষিক, অথবা একে অপর্যাপ্ত মনে করে অন্য কোনো মানবসৃষ্ট উৎসকে দ্বীনের সমকক্ষ বা বিকল্প হিসেবে স্থাপন করে।
“মা মালাকাত আইমানুহুম“
‘মা মালাকাত আইমানুহুম’ (সূরা আল মু’মিনুন, আয়াত ২৩:৬):
“তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাধীন দাসীর ক্ষেত্রে সংযত না থাকলে তাদের কোন দোষ হবে না।”
এখানে আরবিতে আছে মা মালাকাত আইমানুহুম “মা মালাকাত আইমানুহুম“ কখনোই মালিকানাধীন দাসী নয়। এই মালিকানাধীন দাসী অর্থ বানিয়েছে বুখারী, তিরমিজি, তাদের উম্মতেরা, তাদের অনুসারীরা। আল্লাহর অনুসারী, কোরআনের অনুসারী বা আললাহর রাসূলের অনুসারীরা কখনোই এই ধরনের অর্থ বানাতে পারে না। এই অর্থ বানিয়েছে বুখারী তিরমিজিদের যারা উম্মত তারা। তাহলে আমরা দেখি কোরআনে আল্লাহ এই “মা মালাকাত আইমানুহুম” এর অর্থ কি করেছেন?
সূরা নিসা আয়াত ‑4:৩৩ “পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের রেখে যাওয়া সবকিছুর জন্য আমি উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেছি আর যাদের সাথে তোমাদের অঙ্গীকার রয়েছে তাদেরকে তাদের অংশ দিয়ে দাও যাদের সাথে তোমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। এই যে অনুবাদ করা হয়েছে তার আরবিটা যদি আপনি একটু খেয়াল করেন দেখবেন, তোমাদের অঙ্গীকার, তোমাদের অঙ্গীকারের আরবি করা হয়েছে আইমানুকুম তার মানে, এই আইমানু মানে হচ্ছে অঙ্গীকার, ওয়াদা,প্রতিশ্রুতি, প্রমিস। সূরা নাহল আয়াত‑৯১ “আর তোমরা যখন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না্”। অনুবাদ করেছে অনুবাদ কারীরা। এবং আল্লাহকে জামিন করে দৃঢ় শপথ করার পর তা ভঙ্গ করবে না— তাইসুরুল কোরআন অনুবাদ করেছে।নিজেদের অঙ্গীকার পাকাপোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করো না এবার আরবিটা খেয়াল করুন, এখানে ‑এই যে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার বা শপথ এর আরবি দেয়া আছে আইমানা তার মানে সূরা নাহালের ৯১ এবং সূরা নিসার ৩৩ এ দুটো আয়াতে পরিষ্কার যে আইমানা শব্দের অর্থ হচ্ছে অঙ্গীকার, ওয়াদা, প্রতিশ্রুতি, শপথ তাহলে মা মালাকাত আইমানুকুম এর অর্থ কি? যাদেরকে অঙ্গীকারের মাধ্যমে, শপথের মাধ্যমে তোমরা মালিকানা লাভ করেছো। মা মানে হচ্ছে না।
মালাকাত মানে মালিকানা, লাভ করা, অধিকারী হওয়া, আর আইমানা এর অর্থ আমরা দেখলাম এ দুটো আয়াতে অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি কিন্তু এই আলেম নামের জালেমরা এর অর্থ করেছে মালিকানাধীন দাসী আইমানা অর্থ যে দাসী নয় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ সূরা নাহালের ৯১ এবং সূরা নিসার ৩৩ আয়াত। তাহলে প্রশ্ন উঠছে এই আইমানা বা আইমানুকুম ‑ওয়াদা, শপথ, প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার এর মাধ্যমে কারো মালিকানা বা কারো কেয়ারটেকার কিভাবে হয়? আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগেও দেখা যেত দুই বন্ধু খুব বন্ধুত্ব এক বন্ধু হঠাৎ রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে বা সিনেমাতে যেমন দেখা যায় ভিলেনরা গুলি করে মেরে ফেলেছে তখন যেই বন্ধু- মৃত্যু পথযাত্রী সে তার আরেক বন্ধুকে বলছে যে বন্ধু আমি তো মরে যাচ্ছি কিন্তু আমার এই ছোট্ট অবুঝ মেয়েটার কি হবে? তুই ওকে দেখে রাখিস। কথা দে- কথা দে — আমায় তুই আমার মেয়েটাকে দেখে রাখবি আমার মেয়েটাকে দেখে রাখবি- ওকে লালন পালন করে বড় করবি? কথা দে- কথা দে- তারপর দেখা গেল সেই বন্ধু কথা দিচ্ছে।- আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে বন্ধু আমি কথা দিলাম আমি তোর মেয়েকে দেখে রাখবো।”
এই যে কথা দিল অনেক নাটক, সিনেমা, গল্প, উপন্যাস, হয়তো আপনারা দেখেছেন এরকম দৃশ্য যে দুই বন্ধুর এক বন্ধু এরকম কথা দিচ্ছে যে, “বন্ধু আমি তোকে কথা দিচ্ছি, আমি তোর মেয়েকে দেখে রাখবো, এই যে ওই ছোট্ট মেয়েটার বাবা অথবা মা অথবা বাবা-মা দুজনেই কোন রোড এক্সিডেন্টে মারা গেল অথবা যেকোনো অসুখ‑বিসুখে বা যেকোনো কারণে হয়তো মারা গেল তখন এই যে আরেক বন্ধুর হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিল ছোট্ট অবুঝ মেয়ে কিভাবে তুলে দিল ওই যে “বন্ধু কথা দে- কথা দে- তুই আমার মেয়েকে দেখে রাখবি?” এই যে কথা দেয়া, এই যে অঙ্গীকার, এই যে প্রতিশ্রুতি, “হ্যাঁ বন্ধু তুই নিশ্চিন্ত থাক আমি তোর মেয়েকে দেখে রাখবো।” এটা হচ্ছে আইমান। এই যে অঙ্গীকারের মাধ্যমে ওই মেয়েটা কিন্তু এই লোকের মেয়ে না, নিজ ঔরশজাত সন্তান না, কিন্তু সে ওই যে ওয়াদা দিল, প্রতিশ্রুতি দিল, অঙ্গীকার দিল, এইভাবে সে ওই মেয়েটার মালিকানা লাভ করল। ্ঔরষজাত সন্তান না হওয়ার পরও মালিকানাটা কিভাবে লাভ করেছে?
আমরা বুঝতে পেরেছি নিশ্চয়ই? এইভাবে শুধু বন্ধু- হঠাৎ মরে গেল- মৃত্যু পথযাত্রী বন্ধুর ওয়াদার মাধ্যমে ওই মেয়েটার মালিকানা লাভ করেছে। তাকে লালন পালন করব, বড় করব, তারপর বিয়ে শাদী দেব। এটা আরো ব্রড সেন্সে হতে পারে আপনার আশেপাশে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, চাচাতো ভাই, মামাতো ভাই বা চাচা, খালু, খালা, ফুফু যে কারো এরকম হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে বা এমন বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে বা এমন বড় ধরনের অসুখ হতে পারে যে সে তার সন্তানকে টেক কেয়ার আর করতে পারছে না তখন সে তার কাছের বন্ধু বা তার আত্মীয়-স্বজন যারা একটু ধনী বা সচ্ছল তাদেরকে নিজের সন্তান এভাবে দিয়ে দেয় যে আমার সন্তানটাকে- আমি তো পারছি না, আমি তো প্যারালাইজড হয়ে গেছি বা আমার এরকম ভয়ঙ্কর অসুখ হয়েছে বা আমি তো গ্রামে থাকি তুমি তো শহরে থাকো চাচাতো ভাই বা চাচা তুমি আমার মেয়েটাকে একটু তোমার কাছে রেখে একটু পড়াশোনা করিও। এভাবে অথবা প্রচুর গরীব মানুষ প্রতিবেশী হতে পারে বা অত্যন্ত দরিদ্র আত্মীয়-স্বজন হতে পারে বাবা-মা বেঁচে থাকতে পারে তারপরও দেখা যায় যে তার সন্তানকে বা তার মেয়েকে বা তার ছেলেকে এরকম ঢাকা শহরে বা চিটাগং এ যারা একটু ধনী আত্মীয়-স্বজন আছে তাকে এভাবে হাতে তুলে দেয় যে আমি তো আমার সন্তানকে আমার কাছে রাখলে , গ্রামে থাকলে আমি ওকে মানুষের মত মানুষ করতে পারবো না। তুমি তোমার কাছে রেখে একে বড় করো, লালন‑পালন করো।
তো অনেক সময় দেখা যায় এভাবেও মালিকানা লাভ করা যায়। অনেক সময় দেখা যায় প্রতিবেশী অত্যন্ত দরিদ্র। আমার কাছে রেখে আমি তো দুবেলা দু মুঠো ভালো করে খাবারও দিতে পারছি না,- তো, তোমার কাছে থাকলো তোমার ওয়াইফের সাথে থাকলো একটু পড়াশোনাও করলো আর তোমার বউয়ের সাথে টুকিটাকি কাজটাজ করলো,- এভাবেও অনেক সময় আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীরাও দেখা যায় একটু ধনী বা সচ্ছল কারো হাতে এরকম নিজের সন্তানকে তুলে দেয়।ওই যে ওয়াদা দেয়া হয়, তুলে দেয়ার সময়, যে- দেখে রাখবো- আমি কথা দিলাম, আমি দেখে রাখবো, দিস ইজ “মা মালাকাত আইমানুকুম “ দ্যাট ইজ দা পারফেক্ট এক্সাম্পল- আপনাদের দিলাম এভাবে মামালাকাত আইমানুকুম হতে পারে । আর আগের যুগে তো আরো বেশি হতো এখন তো চিকিৎসাশাস্ত্রের অনেক ডেভেলপমেন্ট এর কারণে মানুষের মৃত্যুহার অনেক কমে গেছে কিন্তু আগে তো এত ডেভেলপমেন্ট ছিল না। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস, যুদ্ধবিগ্রহ প্রায় লেগেই থাকতো। আমরা জিনিসটা আরেকটু ভালো করে বোঝার জন্য — সূরা নিসার ২৫ নাম্বার আয়াতে যাই। এখানে সূরা নিসা ২৫ নাম্বার আয়াতে কি বলা হচ্ছে? “এন্ড হোয়েনভার এমং ইউ ক্যান নট এফোর্ড টু ম্যারি চেস্ট বিলিভিং উইমেন “ “তোমাদের মধ্যে যদি কেউ মুমিন বিশ্বাসী নারীদেরকে বিয়ে করার সামর্থ্য না রাখো দেন ফ্রম দোস ইউর রাইট হ্যান্ড পজেস এবং ইউর ইয়াং বিলিভিং ওম্যান। “সহজ বিষয় এরকম ওয়াদা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বুড়ো মহিলাদের তো আর কেউ এরকম রাখে না লালন পালন করার জন্য।
ছোট ছোট মেয়ে বা কিশোরী বা বড় হচ্ছে বা কিশোরী হচ্ছে এরকম ইয়াং এজ টিনেজার বলা যায় যে থার্টিন ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এরকম এজের মেয়ে মানে পরিপূর্ণ সে লেডিস এখনো হয়নি, এখনো ইয়াং নারী বা এখনো যুবতী কন্যা এই ধরনের মেয়েদের বিয়ের কথা বলা হচ্ছে এখানে। যে যাদের এরকম চেস্ট বিলিভিং ওম্যান পূর্ণবয়স্ক একেবারে ম্যাচিউরড নারীদেরকে লেডিসদেরকে যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই তারা এরকম ইয়াং মা মালাকাত আইমানুকুম যাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া আছে এরকম ওয়াদার মাধ্যমে মালিক হয়েছে সেই ধরনের মেয়েদেরকে তোমরা বিয়ে করবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ধরনের মেয়ে বিয়ে করার করার ক্ষেত্রে এর ফাজিলতটা কি। সেটা হচ্ছে- আপনি যখন কোন ফ্যামিলির ওই ঘরেরই যেই ঘরে একজন ভদ্রলোক ভালো চাকরি করে বা বিজনেস করে সে এরকম তার কোন আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর বা এরকম কারো মেয়েকে রাখছে, বড় করছে, তার মেয়ের। সেই মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব । আর তার নিজের যেই মেয়ে, সেই মেয়ে যখন ম্যাচিউরড হবে, পরিপূর্ণ, পড়ালেখা শেষ করল, ম্যাচিউরড পুরোপুরি হলো- নিশ্চয়ই ভালো সম্বন্ধগুলো ওই লোকের মেয়ের জন্যই আসবে- ম্যাচিউরড উইমেনটার জন্য কিন্তু যে ওইভাবে লালন‑পালন করছে যাকে, যেই কিশোরী মেয়ে বা বড় হচ্ছে তার যেহেতু ওইভাবে আর্থিক সঙ্গতি নাই। থাকলে তো সে নিজের বাবা-মার কাছেই থাকতো অথবা হয়তো তার বাবা মারাই গেছে অসহায় একটা মেয়ে, তো এই ধরনের মেয়েকে বিয়ে করতে যারা আসবে তারা তো একটু লো ক্লাসেরই হবে বা একটু আর্থিকভাবে কম্পারেটিভলি একটু নিয়ম বা কম বিত্তবান পরিবার থেকে আসবে এ কারণে তাদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে দেনমোহরটা একটু কম পড়বে আর যারা ফুল ফ্যামিলি এনরিচ্ড ফ্যামিলির মেয়ে বিয়ে করতে গেলে সেখানে দেনমোহর বা সেখানে খরচটা আরো অনেক হাই লেভেলে চলে যাবে। এ কারণে যাদের ঐরকম ফুল ফ্যামিলির সম্ভ্রান্ত পরিবারের চেস্ট বিলিভিং উইমেন বা মুমিন নারীদেরকে বিয়ে করার সামর্থ্য নেই তারা এরকম মামালাকাত আইমানুকুম নারীদেরকে বিবাহ করবে কারণ ওই ধরনের নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে তোমাদের দেন মোহর, মোহরানা,অন্যান্য খরচ এগুলো একটু কম লাগবে। যেহেতু তারা একটু নিয়ম পরিবার থেকে আসবে এটাই আল্লাহ বলেছেন এখানে । গড ইজ এওয়ার অফ ইউর ফেইথ ইউ আর অফ ইচ আদার।
আল্লাহ তোমাদের যে ঈমান তার কি অবস্থা এটা খুব ভালো করেই জানেন। সো ম্যারি দেম বাই দা পারমিশন অফ দেয়ার ফ্যামিলি। তখন ওই মামালাকাতা আয়মানদের বিয়ে করবে কিভাবে? বাই দা পারমিশন অফ ইউর ফ্যামিলি ‑অর্থ্যাৎ তাদের পরিবারের অনুমতিক্রমে ওই মেয়েটার- যারা বেঁচে আছে হয়তো বাবা মারা গেছে, মা তো আছে । বা- মা মারা গেছে বাবা আছে। বা বাবা-মা মারা গেছে কাছের তো কোনো না কোনো গার্ডিয়ান আছে তাদের অনুমতি নিয়ে তারপর বিয়ে করবে। দ্যাটস দা ফ্যাক্ট। আপনাকে আলেম নামের জালেমরা বলবে এরা হচ্ছে মামালাকাত তার মানে হচ্ছে দাসী-দাসী। যদি তা্ই হয়? তাহলে আল্লাহ এ কথা কেন বললেন যে, তাদের পরিবারের সম্মতি নিয়ে বিয়ে করবে? এটা কোন কমন সেন্সে খাটে? এটা হয় কখনো? যে দাসীর আবার পরিবারের অনুমতির কি দরকার আছে? একটা যুদ্ধ বাঁধলো। যুদ্ধের সেখান থেকে একটা দাসী আনা হলো অথবা আফ্রিকা থেকে একটা দাসী কিনে আনা হলো তাহলে তার বিয়ের ক্ষেত্রে তার পারমিশন কার কাছ থেকে নেবে? বোকার মতো একটা প্রশ্ন না? যদি এরা দাসী হয় তাহলে এদের পরিবারের সম্মতির কথা আল্লাহ কেন বলছেন ? এরা কখনোই দাসী নয়। এই আলেম নামের জালেমরা এই বুখারী তিরমিজির উম্মতরা এই কোরআনের অপব্যাখ্যা করার জন্য এই জাল জালিয়াতি হাদিস বস্তায় বস্তায় বানিয়েছে।
মানুষকে কোরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করে, ইসলামের সৌন্দর্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে, মানুষকে মুশরিক বানানোর জন্য। এটা হচ্ছে তার –জলজ্যন্ত প্রমাণ যে এরা যদি দাসী হতো তাহলে এদেরকে আল্লাহ বলতেন না যে এদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সম্মতি লাগবে। ম্যারি দেম বাই দা পারমিশন অফ দেয়ার ফ্যামিলি । তাদের পরিবারের পারমিশন নিয়ে তাদেরকে বিয়ে করো। এরপর আল্লাহ কি বলছেন? এন্ড গিভ দেম দেয়ার ফিস ইন দা সার্ভিস অফ চেস্ট উইমেন নট এজ ফরমিকেটরস নর টু বি টেকেন সিক্রেট লাভারস। বলছেন- তাদের বিয়ে করার সময় যথাযথভাবে তাদের মোহরানা পরিশোধ করবে। ফাস্ট অর্ডার আল্লাহর। তারপরে যদি তারা সৎচরিত্রা হয় এবং ব্যভিচারিণী কিংবা উপপতি গ্রহণকারী না হয়। আবারো সে একই প্রশ্ন আসে? যদি এরা দাসী হয় এদের সাথে ইচ্ছে করলেই সেক্স করা যায় তাহলে আল্লাহ এই কথা কেন বললেন- যে, “ব্যভিচারিণী যদি না হয় উপপতি, গোপন প্রেমিক, যদি এদের না থাকে? এ কারণে আল্লাহ বলেছেন যে, এদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
তারপরও হয় কি- অনেক মানুষ আছে- স্বার্থের লোভে, অর্থের লোভে, দেখা যায় যে খুব গরীব প্রতিবেশী থেকে বা আত্মীয়-স্বজন থেকে একটা মেয়েকে এনেছে। অসহায় দেখে আনার পরে, তাকে দিয়ে প্রস্টিটিউশন এর কাজ করতে বাধ্য করেছে সেক্ষেত্রে আল্লাহ কোরআনের সুরা নুরের ‑৩৩ আয়াতে বলেছেন “তোমরা তোমাদের মা মালাকাত আইমানুকুমদের যদি তারা পবিত্র থাকতে চায়, তাহলে জাগতিক জীবনের সামান্য অর্থ‑সম্পদ লাভের জন্য ব্যভিচারে বাধ্য করো না। আর কেউ তাদের বাধ্য করলে আল্লাহ অবশ্যই তাদের প্রতি অনুগ্রহশীল ও ক্ষমাশীল হবেন (তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলে)।” তো এরকম অনেকে স্বার্থের লোভে এই কিশোরী মেয়েদেরকে দিয়ে, অল্প বয়সী যুবতী, যারা এখনো পূর্ণাঙ্গ বয়স্ক নারী হয়ে ওঠেনি তাদেরকে অসহায়ত্বের বা গরীব হওয়ার সুযোগ নিয়ে এসব করতে বাধ্য করে। এটা যেন করতে না পারে সেজন্য আল্লাহ এই আয়াতে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
সেই সাথে আরেকটা বিষয় পরিষ্কার। তাদের শাস্তি। যদি তারা ব্যভিচার করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের শাস্তি সমভ্রান্ত নারীদের অর্ধেক তাহলে ব্যভিচার যদি করে? ব্যভিচারের শাস্তি কি? কোরআনে ব্যভিচারের শাস্তি হচ্ছে সূরা নূর আয়াত ‑২ এ “ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে তোমরা ১০০ করে বেত্রাঘাত করবে আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তাআলা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। “আল্লাহ ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলেন না, একেবারে পরিষ্কার স্পষ্ট আয়াত ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে তোমরা ১০০ করে বেত্রাঘাত করবে। এবার বুখারীর উম্মতেরা কি করে এই কোরআনে আল্লাহর অর্ডার ভায়োলেট করে? তারা হাদিস বানিয়েছে- সেই রজমের হাদিস “ আপনারা জানেন সেই হাদীস তা হলো, -“নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা যা নাযিল করেছিল তার মধ্যে রজমের আয়াতও ছিল আমরা তা পড়েছি মুখস্ত করেছি ও বুঝেছি অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রজম করেছেন আমরাও তার ইন্তেকালের পর রজম করেছি আশঙ্কা করা হয় বহুকাল পর কেউ বলবে আমরা কোরআন মাজিদে রজম পাইনি অতঃপর তারা আল্লাহতালার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি ফরজ কাজ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এটা হচ্ছে বুখারী শরীফের ৬৮২৯ নাম্বার হাদিস সহিহ মুসলিমের হাদিস নাম্বার ১৬৯১ আবু দাউদ শরীফের হাদিস নাম্বার ৪৪১৮ এরপরের হাদিস সহি মুসলিম ১৬৯৬ আবু দাউদ ৪৪৪০ তিরমিজি ১৪৩৫ ইবনে মাজা ২৬০৩ ।
ব্যভিচারীর জন্য শুধু পাথর মেরে হত্যা বা রজম মানে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে এরপরের হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বংশের আসলাম বংশের একজন পুরুষকে এবং একজন ইহুদি পুরুষ একজন মহিলাকে রাজম করেন এই হাদিস আছে মুসলিম শরীফের ১৭০১ নাম্বারে অজস্র হাদিস বানানো হয়েছে আল্লাহর রাসূলের নামে। কোরআন বিরোধী হাদিস বানানো হয়েছে তাদের কাছে সিম্পল একটা প্রশ্ন? এই বুখারী তিরমিজি নাসাই হাদিসের অনুসারী যারা– এই মুশরিক যারা— তাদের কাছে প্রশ্ন? সূরা নিসার এই যে ২৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ যে বলেছেন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর যদি তারা ব্যভিচার করে এই মামালাকাত আইমানুকুম এরা যদি ব্যভিচার করে তাহলে তাদের শাস্তি সম্ভ্রান্ত নারীদের অর্ধেক। এই অর্ধেক শাস্তি কিভাবে দেবে? বিবাহিত নারীদের শাস্তি তো রজম? পাথর মেরে হত্যা করতে হবে? এই হাদিসের কিতাব অনুসারে? হাদিসের উম্মত যারা বুখারী তিরমিজির উম্মত যারা তারা তো এই শাস্তি শরীয়া আইন হিসেবে প্রয়োগ করে। তাহলে সূরা নিসায় যে আল্লাহ বললেন এই যারা মামালাকাত আইমানুকুম তারা যদি ব্যভিচার করে বিবাহের পরে তাহলে তাদের শাস্তি অর্ধেক? অর্ধেক শাস্তি কিভাবে দেবে ? অর্ধেক হত্যা করা কি সম্ভব? কোন মানুষকে অর্ধেক হত্যা করা যায়? নাকি পাথর মারতে মারতে, মারতে মারতে, কোমায় চলে যাবে? হসপিটালের আইসিইউতে চলে যাবে? তখন বলবে ঠিক আছে কোমায় চলে গেছে পুরোপুরি মরেনি। এরকম ভাবে এই অর্ধেক শাস্তি দেবে? এটা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ মেনে নেবে? এ ধরনের ভয়ংকর কোরআন অপব্যাখ্যা এই আলেম নামের জালেমরা করতে পারে?
এত পরিষ্কার আয়াত থাকার পরও কত বড় জাহেল কত বড় মূর্খ কত বড় মুশরিক হলে আল্লাহর কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হাদিস বানিয়ে কত নিরীহ অসহায় মানুষকে এরা পাথর মেরে (মূলত ইহুদিদের হাদীসের কিতাব তালমুদ মিদ্রাজ চুরি করে) এই রজমের হাদিস বানিয়ে সেটাকে শরীয়া আইন বানিয়ে প্রচার করছে। আর সারা পৃথিবীতে ভিন্ন ধর্মের লোকেরা হাসাহাসি করে এই জাহেলিয়াতের যুগের শাস্তির জন্য। নবী রাসূলরা আসেই মানুষকে সভ্য ভদ্র নম্র বানানোর জন্য। আর এরা নবীর নাম ভাঙ্গিয়ে দুই তিনশো বছর পরে নবীর নামে হাদিস বানিয়ে নবীকে বর্বর নিষ্ঠুর জাহেল বানানোর অপচেষ্টা করছে হুবহু ইহুদিদের সেই তাওরাত মিশনা তালমুদ মিদ্রাজ কিতাব এর বিধান কপি করে বানিয়ে অথবা হতে পারে সেই মুনাব্বে, কাব আল আহবার, আবু হুরায়রা এরা তো সেই ইহুদিই ছিল, ইহুদিদের চর ছিল, ইহুদিদের এজেন্ট ছিল, এবং মুনাব্বে,কাব আল আহবার, আবু হুরায়রা এরা তো ইহুদি থেকেই মুসলিম হয়েছে এবং এই হাদিস শাস্ত্রে এদের বিশাল অবদান। কিভাবে তারা এই ব্যাভিচারের অর্ধেক শাস্তি দেবে? কোরআনে আল্লাহ বলেছেন সূরা নিসার ৮২ আয়াতে “কোরআনে তুমি কখনো কোন বৈপরিত্য পাবে না-অসঙ্গতি পাবেনা।” কত চমৎকার একটা আয়াত। আল্লাহ বলেছেন সূরা নূরের দুই নাম্বার আয়াতে ১০০ বেত্রাঘাত এখানে আবার বলে দিয়েছেন যারা মামালাকাত তারা যদি ব্যভিচার করে এদের অর্ধেক মানে ৫০ কোন বৈপরিত্য নাই কত চমৎকারভাবে মিলে গেল।
আর যদি হাদিস দিয়ে আপনি মেলাতে যান আপনি জীবনেও, সারাজীবন চেষ্টা সাধনা করলেও , এই শাস্তি দিতে পারবেন না । আইমানুকুম ব্যভিচার করলে শাস্তি অর্ধেক। আপনি মৃত্যুদণ্ডের- পাথর মেরে হত্যা করার শাস্তির অর্ধেক কিভাবে দেবেন? সম্ভব ? কোনদিনও সম্ভব না। এই হাদিস — এই যে নবীর নামে মিথ্যা বানানো, এগুলো যে ভুয়া, বানোয়াট, ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য, আল্লাহর নবীকে কলঙ্কিত করার জন্য, কোরআনের সাথে চ্যালেঞ্জ করার জন্য তা কেন আমরা বুঝিনা? এই যে কুরআনে আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করেছেন- “পারলে এরকম আরেকটা সূরা বানিয়ে আনো ? আরেকটা আয়াত বানিয়ে আনো? সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছে এই ইবলিশের এজেন্টরা। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই কোরআনের চাইতেও জনপ্রিয়, কোরআনের চাইতেও মোটা মোটা এই আল্লাহর বাণী নাম দিয়ে ওহিয়ে গায়রে মাতলু নাম দিয়ে তারা এগুলো বানিয়েছে। চ্যালেঞ্জ করেছে আল্লাহকে। এরা কত বড় জাহেল? এদের নিয়ে কথা বললে মাথায় রক্ত উঠে যাবে? এত বড় মুশরিক এরা এত বড় জাহেল ইসলাম ধর্মটাকে পুরো ধ্বংস করে দিয়েছে এরা।তোমাদের মধ্যে যারা পাপকে ভয় করে এ ব্যবস্থা তাদের জন্য আর ধৈর্য ধারণ করতে পারলে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু। তাহলে সূরা নিসার ২৫ নাম্বার আয়াতের সারমর্ম কি দাঁড়ালো? যদি তোমাদের সামর্থ্য থাকে তাহলে তোমরা একেবারে ফুল স্ট্যাটাসের সৎচরিত্রবান মুমিনা নারীদের বিবাহ করবে সম্ভ্রান্ত পরিবারের আর যদি তোমাদের আর্থিক সঙ্গতি না থাকে তাহলে তোমরা মামালাকাত আইমানুকুমদের বিয়ে করবে কারণ এদের স্ট্যাটাস একটু কম হবে।
স্বাভাবিক- কারণ এরা তো অসহায় টাইপেরই মানুষ বেশি হবে। যেহেতু এদেরকে অন্য কারো মালিকানায় থাকতে হয়। বা অন্য কারো কেয়ারিংয়ে, তাদের পরিবার থেকে দূরে থাকে এ কারণে তাদের স্ট্যাটাস একটু কম থাকবে। এজন্য তাদের বিয়ের মোহরানাটাও একটু কম হওয়াটাই স্বাভাবিক । আর বয়সও কম । যেহেতু টিনেজার অবস্থায় আছে । হ্যাঁ সে বিয়ের বয়স্ক হয়েছে কিন্তু এখনো পরিপূর্ণতা তার আসেনি, ফুল ম্যাচিউরিটি তার আসেনি, তার উপরে তার স্ট্যাটাসও কম- সে কারণে পূর্ণ বয়স্ক ম্যাচিউরড নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য যাদের নেই তাদের একটু কম খরচে এদেরকে বিয়ে করার ব্যাপারে আল্লাহ উৎসাহিত করেছেন। তবে এদের বিয়ে করতে গেলে অবশ্যই তাদের ফ্যামিলির পারমিশন লাগবে। দুই- দেনমোহর অবশ্যই দিতে হবে। তিন- এরা যদি ব্যাভিচারে লিপ্ত হয় বিয়ের পরে- তাহলে এদের শাস্তি হবে ৫০ টা বেত্রাঘাত। আর যদি সম্ভ্রান্ত পরিবারের হয়ে থাকে, যারা অন্য কারো কেয়ারটেকারে লালিত পালিত হচ্ছে না সে সমস্ত নারীদের জন্য হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত- পরিপূর্ণ শাস্তি । আর এই আয়াতে আমরা তাদের আরেকটা কোয়ালিটি দেখলাম তারা হবে সতিসাধ্যী। দুই নাম্বার কোয়ালিটি হচ্ছে- তারা ব্যভিচারিণী হবে না। তিন নাম্বার কোয়ালিটি হচ্ছে তাদের গোপন কোন প্রেমিক থাকবে না , গোপন কোন প্রণয় অভিসারী থাকবে না। তাহলে কোনো গর্ধভ ‚কোনো আলেম নামের জালেমরা আপনাকে বলে যে- মামালাকাত আয়মানুকুম হচ্ছে দাসী? এদের সাথে ইচ্ছেমত সেক্স করা যায়? তাহলে আল্লাহ কেন বললেন যে, এরা ব্যভিচারিণী হবে না ? উপপতী বা গোপনে প্রণয় প্রেমিক রাখতে পারবে না ? আর এরা সৎচরিত্রা হবে? তাহলে যার সাথে সেক্স করা যায়? যেই দাসীর সাথে? তাকে সৎচরিত্রা হতে হবে এই কোয়ালিটি আল্লাহ কেন মেনশন করেছেন? এখানে তিনটা কোয়ালিটি থাকে।
এই মামালাকাত আইমানুকুমদের। ভাবুন একবার? কি পরিমাণ জাহেল তারা? মামালাকাত আইমানকুমের অর্থ করেছে মালিকানাধীন দাসী। এদের সাথে মন চাইলেই তোমরা সেক্স করবে? আল্লাহর লানত পড়বে এদের উপরে। যারা ইসলামটাকে এভাবে ধ্বংস করেছে, কলুষিত করেছে। আর সর্বশেষ কোয়ালিটি হচ্ছে এদের বিয়ে করতে গেলে অবশ্যই এদের ফ্যামিলির পারমিশন লাগবে কোন স্লেভ, কোন দাসী তাদের বিয়ে করতে ফ্যামিলির পারমিশনের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ- এদের ফ্যামিলি কোথায় আছে তা তো মানুষ জানেই না। যাদেরকে দূর‑দূরান্ত দেশ থেকে যে সমস্ত দাসী ক্রয় করা হয় তাদের ফ্যামিলির খোঁজখবরই তো থাকে না। কিন্তু এখানে মামালাকাত আইমানকুমদের বিয়ে করতে গেলে অবশ্যই ফ্যামিলির পারমিশন ম্যান্ডেটরি-বাধ্যতামূলক। সেই শর্তটাও আল্লাহ আরোপ করেছেন এবং এর মাধ্যমে এটা আরো পরিষ্কার হয়েছে যে মামালাকাত আইমানুকুম কখনোই দাসী নয়। যেই জাহেলরা আপনাকে বলে দাসী –তাদের ঝাড়ু দিয়ে মারা উচিত। ইসলামকে এরকম বিকৃত করার জন্য, অপব্যাখ্যা করার জন্য। এই আয়াতের শুরুটা পড়লে আমরা আরেকটা জিনিস পরিষ্কার হই যে মামালাকাত র্যাংক হচ্ছে সাধারণ — কমন লেডিস । সম্ভ্রান্ত নারী, মুমিন নারী যারা তাদের চেয়ে নিচে কারণ আল্লাহ শুরুটাই করেছেন এভাবে যাদের এই ধরনের সম্ভ্রান্ত নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য নাই তারা এই মামালাকাত আইমানকুমদের বিয়ে করবে। মানে এরা হচ্ছে সামাজিক র্যাংকে নিম্ন।
অর্থবিত্ত বা সামাজিক ভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরা যেহেতু অসহায় পরিবার থেকে তারা এসেছে বা হয়তো বাবা-মা মারা গিয়েছে, এ কারণে এদের র্যাংক হচ্ছে কম। আরো একটা ছাড় দেয়া হয়েছে যে এরা যদি বিয়ের পরে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে এদের শাস্তি হবে ৫০ টা বেত্রাঘাত কখনোই পরিপূর্ণ শাস্তি হবে না। এ ব্যভিচারের শাস্তি আল্লাহ কর্তৃক আরোপিত । আমি অবশ্যই সেই মুশরিক জাহেলি কিতাব থেকে বলছি না কারণ সেখানে তো পাথর মেরে হত্যার বিধান আছে। তারা কিভাবে এই আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর বিধান- অর্ধেক শাস্তি দেবে? এটা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন। সেই জাহেলদেরকে যারা ইসলামটাকে ধ্বংস করেছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন যে কিভাবে অর্ধেক শাস্তি দেবে ? মৃত্যু অর্ধেক কখনো দেয়া যায়? পাথর অর্ধেক কখনো মারা যায়? আমরা আরো একটা আয়াত দেখি- এই মামালাকাত আরেকটু ভালো করে বোঝার জন্য। সূরা নূর আয়াত ৩৩ এই আয়াতও সেই একইভাবে শুরু হয়েছে। “আর যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।” ধরুন আপনি বাজারে গেলেন। মার্কেটে গেলেন । একটা গাড়ি কিনতে। কিন্তু গাড়ির যে দাম শুনলেন আপনি? প্রচুর দাম । আপনার কেনার সামর্থ্য নেই। তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? ধৈর্য ধরতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সেই গাড়িটা কেনার পুরোপুরি টাকা পয়সা বা সামর্থ্য আপনার না হবে। এই কথাটাই আল্লাহ এখানে বলেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার সেই সচ্ছলতা না আসে। বিবাহের সামর্থ্য নেই। সেই সূরা নিসার ২৫ নাম্বার আয়াতের মতো এটাও শুরু হয়েছে একইভাবে।
তারপর আল্লাহ কি বলেছেন ? আর তোমাদের সেই জাহেলরা আবার সেই একই অর্থ করেছে মালিকানাধীন দাস‑দাসীদের মধ্যে এখানে কথা হচ্ছে ওই সূরা নিসার ২৫ নাম্বার আয়াতের মতই যেহেতু তোমার সেই ফুল সম্ভ্রান্ত নারীদের‑হাই র্যাংকের নারীদের- বিয়ে করার সামর্থ্য নেই যাদের ফুল ফ্যামিলি,অর্থবিত্ত সবকিছু আছে- স্ট্যাটাস হাই র্যাংকের কিন্তু যদি সেই সামর্থ্য তোমার না থাকে তোমার অল্প সামর্থ্য আছে টাকা-পয়সা অল্প আছে তখন তুমি কি করবে এই মামালাকাত আইমানুকুমদের তুমি বিয়ে করবে তবে বিয়ে কিভাবে করবে সেই পদ্ধতি আল্লাহ এখানে শিখিয়েছেন যে লিখিত চুক্তি করতে হবে । এখনকার সময় এটাকে কি বলে? ম্যাজিস্ট্রেট ? তখন তো নবী ছিল ওখানকার ম্যাজিস্ট্রেট — মানে ওই আরবের। তার সাথে চুক্তি করলে । আল্লাহ বলছেন “যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ আছো বলে জানতে পারো আর দেখতে হবে কি সেই মেয়েটা আসলে কতটুকু ভালো আছে। ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করো। সে মামালাকাত আয়মানুকুম হোক- সে হয়তো অত হাই র্যাংকের ফ্যামিলির না, হয়তো একটু অসহায় বা একটু এজ কম যেহেতু সে পূর্ণবয়স্ক না ফুল ম্যাচিউরড না এরকম যদি আপনার ভালো লাগে। আপনি দেখলেন যে মেয়েটা চলনে বলনে ভালো বা পড়ালেখা করছে, আচার‑আচরণে সবকিছুতে খুব ভালো ‑আপনার সেই হাই র্যাংকের মেয়ে বিয়ে করারও সামর্থ্য নেই তখন একে বিয়ে করবেন তবে অবশ্যই আপনাকে চুক্তি করতে হবে তখনকার সময় তো চুক্তি বা লিখিত চুক্তি বা এই ম্যাজিস্ট্রেটের কাজটা করতে হচ্ছে আল্লাহর রাসূলকে।
এখনকার সময় যে যার কেয়ারকারে আছে বা যে যার অধীনে আছে যিনি তাকে এরকম লালন পালন করছেন তার সাথে আপনাকে চুক্তি করতে হবে আর “আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদের দাও” — অর্থ্যাৎ- যিনি কেয়ারটেকার আছেন তাকে আল্লাহ বলছেন যে “তুমি আল্লাহ যা দিয়েছেন- যে রিজিক তোমাকে দিয়েছেন তুমি স্পন্সর করো” একটা ইন্সপা্রইশন একটা উৎসাহ আল্লাহ দিয়েছেন যে তুমি এই মেয়েটাকে লালন পালন করেছো এত কিছু করেছো যেহেতু তোমার সচ্ছলতা আছে বা সামর্থ্য আছে এই মেয়েটার । আর সে অসহায় হয়তো তার বাবা নাই বা মা নেই বা সে হয়তো গরীব ফ্যামিলি থেকে উঠে এসেছে তুমি তাকে বিয়ে দিচ্ছো? বিয়েটা অন্তত ধুমধাম করে দাও যাতে মেয়েটা মানসিকভাবে অন্তত শান্তি বা তৃপ্তি পায় । কত সুন্দর কত চমৎকার একটা আয়াত। কতটা মানবিক একটা আয়াত আল্লাহ নাযিল করেছেন। তাহলে এই আয়াতে আল্লাহ যা বলেছেন তা সংক্ষেপ করলে কি দাঁড়ায়? আল্লাহ প্রথমে উৎসাহিত করেছেন আমাদেরকে যে আমাদের বিবাহ করার সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত যেন আমরা সেই চেষ্টা করি যাতে আমরা ফুল সম্ভ্রান্ত একটা পরিবারে বিয়ে করি। যে পরিবারে সবাই আছে। বাবা-মা সবকিছু মিলিয়ে একটা ম্যাচিউরড মুমিন নারীদেরকে যেন আমরা বিয়ে করি এটা হচ্ছে আল্লাহর ফার্স্ট ইন্সপিরেশন । আমাদের উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু যদি সেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে কি করতে হবে? তাহলে এই মামালাকাত আইমানুকুম যার ওই সোশ্যাল র্যাংকিং না্ই ।
ওই মুমিন ম্যাচিউরড নারীদের চেয়ে একটু লো লেভেলের তাকে যদি আপনার ভালো লাগে তখন আপনি সে যার কেয়ারটেকারে আছে — তার মামা হোক চাচা হোক বা খালু হোক যার কাছে আছে আপনি তার কাছে যাবেন গিয়ে বলবেন যে “আমি আপনার ভাগ্নিকে বা আপনার দুঃসম্পর্কের অমুক আত্মীয়কে আমার পছন্দ হয়েছে। আমি বিয়ে করতে চাই।” এখন এই বিয়ে আপনার মুখে মুখে করলে হবে না কতটা আধুনিক কতটা মর্ডার্ন ইসলামিক এই আল্লাহর বিধানগুলো দেখেন- যে, তোমাকে কি করতে হবে? লিখিত চুক্তি করতে হবে। এখনকার আধুনিক কোর্টে যেরকম কোর্ট ম্যারিজ হয় সেরকম। এরকম ভাবে করতে হবে । কারণ এই মেয়েটার তো সেই লিগাল গার্জিয়ান ওইভাবে নেই। যিনি আছেন যিনি টেক কেয়ার করছেন- যিনি এই মামালাকাত আইমানুকুমের মালিক যিনি তাকে এই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে- ওয়াদার মাধ্যমে বা অঙ্গীকারের মাধ্যমে মালিক হয়েছেন (তিনি তো আসলে ওয়াদার মাধ্যমে মালিক হয়েছেন লিগালি তো তিনি মালিক নন) এই মেয়েটার তো লিগাল বাবা বা মা নন তাহলে এখন বিয়ের সময় ঠিকই আপনাকে চুক্তি করতে হবে। যে হ্যাঁ– দিস ইজ রেজিস্ট্রেশন এটা ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন। এরপর এখন আপনি তার সাথে বিবাহিত হতে পারেন বা বিয়ে করতে পারেন। যে যার অধীনে আছে তার জন্য দায়িত্ব কি দিয়েছেন আল্লাহ? তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন সেখান থেকে এই বিয়েতে যেন সে একটু স্পন্সর করে একটু ভালো করে ধুমধাম করে বিয়েটা দেয়।
এরপরে আল্লাহ কত চমৎকার একটা কথা বলেছেন “তারা যদি সতীত্ব রক্ষা করতে চায় তোমরা দুনিয়ার জীবনের সম্পদের কামনায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না।” কত চমৎকার একটা আয়াত আমরা দেখি প্রায়ই আমাদের সমাজে এই ঘটনা ঘটে যে অনেক অসহায়ের মেয়েরা পরিবারের আর্থিক অসংগতির কারণে হয়তো সেই খালু চাচা ফুফু মামী জেঠা কারো না কারো বাড়িতে যায় সেখানে থাকে। সেখানে হয়তো পড়াশোনা করে বা ঘরে টুকটাক কাজ করে । কিন্তু দেখা যায় যে সেই দুঃসম্পর্কের চাচা খালু মামা বা মামী বা ফুফি তারা এই মেয়েকে দিয়ে ব্যভিচার করতে, খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে, এজন্য আল্লাহ স্ট্রেইট বলে দিয়েছেন যে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তোমরা নোংরা কাজ করাবে এটা অসম্ভব।নিষিদ্ধ‑হারাম। আল্লাহ বলে দিয়েছেন- যদি এই মামালাকাত আইমানরা তাদের সতীত্ব রক্ষা করতে চায় তোমরা দুনিয়ার জীবনের সম্পদের কামনায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করো না আর যারা তাদেরকে বাধ্য করবে নিশ্চয়ই তাদেরকে বাধ্য করার পর আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। এখন যদি কোন অসহায় মেয়ে এরকম বাধ্য হয়ে খারাপ কাজ করে-বা করতে বাধ্য হয় আল্লাহ কিন্তু বলছেন যে তিনি ক্ষমাশীল। এখানে বোঝাই যাচ্ছে যে ওই মেয়েটার কোন পাপ হবে না।
এক বিন্দু পরিমাণ গুনাহও আল্লাহ তার নামে লিখবেন না। আল্লাহ বলেই দিয়েছেন যে নিশ্চয়ই তাদেরকে বাধ্য করার পর আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল পরম দয়ালু । তাহলে সূরা নূরের ৩৩ এবং সূরা নিসার ২৫ নাম্বার আয়াতে পরিষ্কার যে মামালাকাত আইমানকুম কখনোই দাসী বোঝানো হয়নি এরা হচ্ছে ওয়াদা ‑প্রতিশ্রুতি- অঙ্গীকারের মাধ্যমে কারো মালিকানা লাভ করা তাদের লালন‑পালন, টেক কেয়ার করার একটা ব্যবস্থা । তাদেরকে বিবাহ শাদী কিভাবে দেয়া হবে তাদের সতীত্ব কিভাবে রক্ষা হবে তাদের শাস্তিগুলো কিভাবে হবে? ব্যভিচার করলে তাদের শাস্তি অর্ধেক হবে। তাদের ব্যভিচারে বাধ্য করলে সেখানে আল্লাহর যে হুশিয়ারি গুলো সবকিছু পরিষ্কারভাবে এই দুটো আয়াতে আমরা পেয়ে যাচ্ছি। শুধু এই মামালাকা আইমানুকুম নিয়েই এই বুখারী তিরমিজিদের উম্মতেরা জালিয়াতি করেনি। দাসী নিয়েও জালিয়াতি করেছে। ইভেন বিয়ে নিয়েও। চার বিয়ের আয়াত নিয়েও জালিয়াতি করেছে। সূরা নিসার তিন নাম্বার আয়াত পড়লে আপনি দেখবেন যে ওখানে চার বিয়ের কথা বলা হয়েছে কিন্তু ইয়াতিমদের কথা।
আয়াতটার প্রথমেই আছে ইয়াতিমদের কথা এবং এই সুরা নিসার যে তিন নাম্বার আয়াতে বিয়ের কথা বলা আছে তার আগের আয়াত- পরের আয়াত তারপরের আয়াত- তারপরের আয়াত- পুরো পড়লে নূনতম কমন সেন্স যদি আপনার থাকে যদি আপনি আফালা তাকিলুন না হন পরিষ্কারভাবে আপনি বুঝবেন- যে, শুধুমাত্র ইয়াতিমদের ক্ষেত্রে এই আয়াতগুলো প্রযোজ্য ছিল সেটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এমন ভাবে জাহেলরা বিকৃত করেছে ভাবলে মাঝেমধ্যে চোখে পানি চলে আসে। কত চমৎকার একটা ধর্মকে কিভাবে অধর্ম বানিয়ে ফেলেছে এরা । তারপর বলে যেগুলো দাসী তাদের সাথে সেক্স করা যাবে সেখানে কত বড় জালিয়াতি সূরা বাকারার ১৭৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ কি বলেছেন দাস মুক্তির কথা বলেছেন মুত্তাকীর ওয়ান অফ দা বেস্ট কোয়ালিটির একটা হচ্ছে এই দাস মুক্তি সেই দাস মুক্তির কথা আল্লাহ বলেছেন সূরা বাকারার ১৭৭ নাম্বার আয়াতে সূরা নিসার ৯২ নাম্বার আয়াতে কোন ব্যক্তি যদি কোন মুমিনকে হত্যা করে তাহলে এই মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এখানেও দাস মুক্তির কথা আল্লাহ বলেছেন সূরা মায়েদার ৮৯ নাম্বার আয়াতে যদি কেউ অর্থহীন কসম করে কাফফারা কি দিয়েছেন আল্লাহ একজন দাস বা দাসীকে মুক্ত করা সূরা আনফালের ৬৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ কি বলেছেন কোন নবীর জন্য সংগত নয় যে তার নিকট যুদ্ধ বন্দি থাকবে। যুদ্ধবন্দী রাখাই যাবে না।
সূরা তওবার ৬০ নাম্বার আয়াতে যে সাদকা কোথায় ব্যয় করবেন তার যে কটা খাত আছে তার মধ্যে ভাইটাল একটা খাত হচ্ছে এই দাস মুক্তির খাত । সূরা বাকারার ১৭৭ নাম্বার আয়াতেও ভাইটাল একটা খাত হচ্ছে দাস মুক্তির খাত। এই দান সাদকা করার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সূরা মুজাদ্দিলার তিন নাম্বার আয়াতে স্ত্রীদের সাথে জিহার করলে শাস্তি কি দিয়েছেন আল্লাহ? একটা দাস মুক্ত করতে হবে । সূরা বালাদের ১৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহর পথে সংগ্রামের যতগুলো খাতের কথা আল্লাহ বলেছেন তার মধ্যে একটা হচ্ছে- দাসমুক্ত করা। দাস মুক্ত করার কথা অজস্রবার কোরআনে আছে- সেখানে এই দাস‑দাসীর সাথে সেক্স করতে হবে ? মামালাকাত এর অর্থ বানিয়েছে দাস দাসী? সেক্স করো, অবাধ যৌনাচার করো ? এভাবে নবীদের নামে- রাসূলদের নামে ‑সাহাবীদের নামে তারা অসভ্য জঘণ্য গল্প সাজিয়েছে,কুরআনে যার অস্তিত্ব নেই।তাদের নাকি ডজন ডজন হালি হালি দাস‑দাসী ছিল তারা এসব নোংরামি করে বেড়াতো । এরকম ভুয়া গাল গল্প জালিয়াতির হাদিস বানিয়ে পুরো ইসলাম ধর্মটাকে কলুষিত করে ফেলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুন এবং যে শব্দের অর্থ আমরা বুঝতে চাই সেটার পারিপার্ষিক কুরআনে বর্ণিত অন্যান্য যে সকল জায়গায় এই শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে ঠান্ডা মাথায় সেগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার তৌফিক দান করুন। যেমনটা সূরা মোহাম্মদের ২৪ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন। “তারা কি কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করে না নাকি তাদের অন্তরগুলো তালাবদ্ধ?” আমাদের অন্তর যেন তালাবদ্ধ না হয় আমরা যেন কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করতে পারি এবং যে সমস্ত আলেম নামের জালেমরা এই বুখারী তিরমিজিদের উম্মতেরা কোরআনকে বিকৃত করার জন্য আল্লাহর ওহীকে বিতর্কিত করার জন্য ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য এই কোরআন বিরোধী শত শত লক্ষ লক্ষ হাদিস বানিয়ে নবীকে অপমান অপদস্ত করেছে লাঞ্ছিত কলঙ্কিত করেছে আল্লাহর নামে আল্লাহর শানে চরম বেয়াদবি ও চরম ঘৃণা ছড়িয়েছে তাদের কবল থেকে নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারকে হেফাজত করার তৌফিক দান করুন! রব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ।