কুরআন শুধু পূর্ববর্তী কিতাবসমূহকে সত্যায়নই করেনি, বরং সেগুলোকে তার সার্বজনীন ও সর্বকালীন বিধান দ্বারা রহিত (নাসখ) করেছে – এমন একটি ধারনা রয়েছে। যদিও কুরআন সরাসরি 'পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ রহিত করা হয়েছে' এমন শব্দ ব্যবহার করে না, তবে একাধিক আয়াতের সম্মিলিত বিশ্লেষণ থেকে এই অনুধ্যানে আসে যে, কুরআনের আগমনের পর এই নতুন ও চূড়ান্ত (latest version) নিয়ে চলছে-চলবে...।
১. কুরআনকে 'মুহাইমিন' (কর্তৃত্বকারী/ সংরক্ষক/ সর্বোপরি বিচারক) হিসেবে ঘোষণা:
সূরা আল-মায়িদাহ (5:48):
"আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সত্য সহকারে, তার পূর্বের কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী ও সেগুলোর সংরক্ষক রূপে। সুতরাং তুমি তাদের মধ্যে ফয়সালা করো আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী, আর তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যা তোমার কাছে সত্য এসেছে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে..."
অনুধাবন: এই আয়াতের 'মুহাইমিন' শব্দটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 'তত্ত্বাবধায়ক', 'সংরক্ষক', 'চূড়ান্ত বিচারক' এবং 'সার্বভৌম কর্তৃত্বকারী'। যখন কুরআনকে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের 'মুহাইমিন' বলা হয়, তখন এর অর্থ হয়:
কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যা সত্য ছিল, সেগুলোকে নিশ্চিত করে।
মানুষের হাতে যে বিকৃতি বা পরিবর্তন ঘটেছে, তা থেকে মূল সত্যকে রক্ষা করে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব স্থাপন করে। এটি কার্যত পূর্ববর্তী শরীয়তের বিধানকে রহিত করে দেয়। আয়াতের শেষাংশ "সুতরাং তুমি তাদের মধ্যে ফয়সালা করো আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী" – এই নির্দেশ স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে, এখন থেকে বিচার-ফয়সালার একমাত্র মানদণ্ড হলো কুরআন।
২. দ্বীনের পূর্ণতা ও নেয়ামতের সমাপ্তি:
সূরা আল-মায়িদাহ (5:3):
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।"
অনুধাবন: এটি দ্বীনের পূর্ণতা ঘোষণা করে। যখন দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায় এবং আল্লাহর নেয়ামত সম্পূর্ণ হয়, তখন এর অর্থ হলো, এখন থেকে আর নতুন কোনো বিধান বা শরীয়তের প্রয়োজন নেই। পূর্ববর্তী শরীয়তগুলো যে অপূর্ণ ছিল বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল, এই আয়াত তার ইঙ্গিত দেয়। কুরআনের মাধ্যমে সেই পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সকল বিধানকে রহিত করে দিয়েছে।
➤ আর তোমার রবের বাণী সত্যরূপে ও সুবিচারপ্রসূত পূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীসমূহের জন্য কোনো পরিবর্তনকারী নেই আর তিনি সর্বস্পন্দনগ্রাহী, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন-6:115
৩. সকল নবীদের কিতাব ও প্রজ্ঞার সত্যায়নকারী হিসাবে একজন রসূলে ঈমান ও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি আদায়:
সূরা আলে ইমরান (3:81):
"আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, যখন আমি তোমাদের কিতাব ও হেকমত দেব, অতঃপর তোমাদের কাছে এক রাসূল আসবে, যা তোমাদের কাছে আছে তার সত্যায়নকারী, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, 'তোমরা কি স্বীকার করলে এবং আমার এই অঙ্গীকার গ্রহণ করলে?' তারা বলল, 'আমরা স্বীকার করলাম।' তিনি বললেন, 'তবে তোমরা সাক্ষী থাকো, আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের মধ্যে রইলাম।'
৩. সকল নবীদের কিতাব ও প্রজ্ঞার সত্যায়নকারী হিসাবে একজন রসূলে ঈমান ও সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি আদায়:
"আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, যখন আমি তোমাদের কিতাব ও হেকমত দেব, অতঃপর তোমাদের কাছে এক রাসূল আসবে, যা তোমাদের কাছে আছে তার সত্যায়নকারী, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, 'তোমরা কি স্বীকার করলে এবং আমার এই অঙ্গীকার গ্রহণ করলে?' তারা বলল, 'আমরা স্বীকার করলাম।' তিনি বললেন, 'তবে তোমরা সাক্ষী থাকো, আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের মধ্যে রইলাম।'
অনুধাবন: এই আয়াতটি প্রকাশ করে যে, আল্লাহ সকল নবীর কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, শেষ নবী (মুহাম্মদ সা.) রসুল হিসাবে যখন আসবেন এবং তিনি তাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হবেন, তখন তারা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। যদি নবীরাই তাঁর অনুসরণ করতে বাধ্য হন, তাহলে তাদের উম্মতদের/কওমদের জন্য তাঁর আনীত কিতাব ও হেকমত (কুরআন) অনুসরণ করা আরও বেশি বাধ্যতামূলক। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন এবং তাঁর প্রতি কুরআন নাযিলের পর পূর্ববর্তী সকল শরীয়ত বাতিল হয়ে গেছে।
৪. সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে ঘোষণা:
সূরা আল-আ'রাফ (7:158): "বলো, হে মানবজাতি! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যিনি আসমান ও যমিনের রাজত্বের মালিক..."
অনুধাবন: মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে ঘোষণা করা মানে তাঁর আনীত বিধান (কুরআন) সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। এর বিপরীতে, পূর্ববর্তী নবীরা নির্দিষ্ট জাতি বা গোত্রের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। যখন একজন বিশ্বজনীন রাসূল এবং একটি বিশ্বজনীন কিতাব আসে, তখন নির্দিষ্ট জাতির জন্য প্রেরিত বিধানগুলো রহিত হয়ে যায়।
উপরোক্ত আয়াতগুলোর সম্মিলিত বিশ্লেষণ থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, কুরআন শুধু পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের মৌলিক সত্যকে সত্যায়নই করেনি, বরং সেগুলোকে তার সার্বজনীন ও সর্বকালীন বিধান দ্বারা রহিত করেছে। 'মুহাইমিন' হিসেবে কুরআনের অবস্থান, দ্বীনের পূর্ণতা ঘোষণা, পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে শেষ নবীর আনুগত্যের অঙ্গীকার এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর সার্বজনীন রিসালাত – এই সবই প্রমাণ করে যে, কুরআনের আগমনের পর পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের কার্যকারিতা নেই এবং এখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য একমাত্র প্রযোজ্য ও কার্যকরী বিধান হলো আল-কুরআন।
~*~*~*~ ~*~*~*~
৪. সালামুন আলা মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে ঘোষণা:
👉 আল-কুরআন: পূর্ববর্তী কিতাবের ধারাবাহিকতায় তাসদীদকৃত সর্বশেষ ও একমাত্র ঐশী গ্রন্থ:
👉তাসদীক (সত্যায়ন) এবং মুহাইমিন (সংরক্ষক ও কর্তৃত্বকারী) হিসেবে কুরআন:
🔗সার্বজনীনতা ও সর্বকালীনতা:
👉 পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের বিকৃতি ও পরিবর্তিত রূপ এবং আল-কুরআনের বিশুদ্ধতা/ স্থিতিশীলতা:
এই আয়াতেও ইহুদিদের দ্বারা কিতাবের শব্দ বিকৃত করার কথা বলা হয়েছে, যা তাদের চুক্তি ভঙ্গের একটি পরিণতি হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।
"সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজেদের হাতে কিতাব লেখে, তারপর বলে, 'এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে', যাতে এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যা তাদের হাত লিখেছে এবং দুর্ভোগ তাদের জন্য যা তারা উপার্জন করেছে।"
এই আয়াতগুলোতে সত্য গোপন করার কথা বলা হয়েছে, যা কিতাবের বিকৃতিরই একটি রূপ। তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে যে সত্য তাদের কিতাবে ছিল, তা প্রকাশ করত না।
আল-কুরআনের বিশুদ্ধতা/ স্থিতিশীলতা:
কুরআনের উপরোক্ত আয়াতসমূহ থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে,
এর বিপরীতে, আল্লাহ তা'আলা কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং গ্রহণ করেছেন।
কুরআনের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশুদ্ধতা ও অবিকৃত অবস্থা। আল্লাহ তা'আলা নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা অন্য কোনো আসমানী কিতাবের ক্ষেত্রে এভাবে বলা হয়নি।
সূরা আল-হিজর (15:9): "নিশ্চয় আমিই কুরআন নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমিই তার সংরক্ষণকারী।"
এই আয়াতটি কুরআনের বিশুদ্ধতার চূড়ান্ত গ্যারান্টি। আল্লাহ নিজেই যেহেতু এর সংরক্ষক, তাই এটি মানুষের হস্তক্ষেপ, বিকৃতি বা পরিবর্তন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। চৌদ্দশ বছর ধরে এর একটি অক্ষরও পরিবর্তন হয়নি, যা মানব ইতিহাসে আর কোনো ধর্মগ্রন্থের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। এটি তার "লেটেস্ট ভার্সন" হওয়ার এবং ১০০% বিশুদ্ধ হওয়ার দাবির প্রধান ভিত্তি।
🔗দ্বীনের পূর্ণতা:
👉 নাযিলকৃত কিতাবের লেটেষ্ট ভার্সন: ১০০% বিশুদ্ধতার সহিত নাযিলকৃত আল-কোরআন:
সূরা আন নামল 27:6
আর নিশ্চয় তুমি, প্রজ্ঞাময়, বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন—এর কাছ থেকে অবশ্যই তোমাকে দেয়া হয়েছে কুরআন- (আরও দ্র: আয়াত 28:85, 24:1)
আর বলো, হক এসেছে এবং বাতিল বিলীন হয়েছে। নিশ্চয় বাতিল হলো বিলীন। আর আমরা কুরআন থেকে যা নাযিল করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত। আর তা জালিমদের ক্ষতি ছাড়া বৃদ্ধি করে না-বনি ইসরাইল 17:81-82
সূরা ইউনুস (10:37):
"আর এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া কারো দ্বারা রচিত নয়। বরং এটি তার পূর্বের কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে।"
সূরা ইউনুস (10:38-39):
"নাকি তারা বলে, সে এটি রচনা করেছে? বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা আনো এবং আল্লাহ ব্যতীত যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বরং তারা এমন বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করেছে, যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা এখনো তাদের কাছে আসেনি।"
সূরা ফুসসিলাত (41:41-42):
নিশ্চয় যারা উপদেশবাণীকে (যিকর-কুরআন) ) অস্বীকার করেছে, যখন তা তাদের কাছে এসেছে। আর নিশ্চয় সেটা অবশ্যই এক শক্তিশালী কিতাব। অসত্য তার কাছে আসতে পারবে না, তার সামনে থেকে আর না তার পিছন থেকে। প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত—এর পক্ষ থেকে অবতরণ।
আল্লাহ কর্তৃক ওহীকে ত্রুটিমুক্ত রাখা:
আল্লাহ নবীদেরকে ভুলত্রুটি থেকে রক্ষা করেন, বিশেষ করে ওহী প্রচারের ক্ষেত্রে।
সূরা জিন (72:26-28):
"(তিনিই) অদৃশ্য জগতের জ্ঞানী; তিনি তাঁর অদৃশ্য জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না, তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া। তখন তিনি তার সামনে ও পিছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন। যেন তিনি জেনে নেন যে, তারা তাদের রবের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আর তাঁর কাছে যা আছে, তা তিনি বেষ্টন করে রাখেন এবং প্রতিটি জিনিস তিনি সংখ্যায় পরিবেষ্টিত রাখেন।"
অনুধাবন: এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূলদের প্রতি ওহী প্রেরণের সময় তাদের চতুর্দিকে প্রহরী (ফেরেশতা) নিযুক্ত করেন, যাতে ওহী সম্পূর্ণরূপে পৌঁছে যায় এবং কোনো প্রকার ভুল বা মিথ্যা তাতে প্রবেশ করতে না পারে। এটিই নিশ্চিত করে যে, কোনো নবী বা রাসূল শয়তানের প্ররোচনায় ওহীর সাথে কিছু যোগ করতে পারতেন না, কারণ আল্লাহ নিজেই ওহীর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতেন।
✉ সরাসরি আল্লাহ কতৃক ফাইনাল এডিট করে আয়াত প্রকাশ:
আর তোমার পূর্বে আমরা কোনো রসূল পাঠাই নাই আর না কোনো নবী, কিন্তু যখনই সে আকাঙ্ক্ষা করেছে, শয়তান তার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিশ্রণ ঘটিয়েছে। এরপর শয়তান যা মিশ্রিত করে আল্লাহ তা দূর করেন। তারপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে প্রজ্ঞাপূর্ণ করেন। আর আল্লাহ বিস্তৃত জ্ঞানসম্পন্ন, প্রজ্ঞাময়-22:52-53
~*~*~*~
সালামুন আলা মুহাম্মদ সর্বশেষ নবী, এবং তাঁর প্রতি নাযিলকৃত কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাব। যেহেতু নবুওয়াতের সিলসিলা সালামুন আলা মুহাম্মদ--এর মাধ্যমে শেষ হয়েছে, তাই কিতাবের সিলসিলাও কুরআনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
মুহাম্মদ (সা.)-কে সমগ্র মানবজাতির জন্য রাসূল হিসেবে ঘোষণা:
➥ নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও যারা ইহুদি হয়েছে আর সাবেয়ীরা ও নাসারারা- যারা আল্লাহর ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমলে সলেহ করেছে, তাহলে তাদের ওপর কোনো ভয় নেই আর না তারা দুঃখিত হবে-2:62 (5:69, 5:64-68)
