কেবলমাত্র আল-কুরআনের আয়াত অনুধ্যানে রিবার সংজ্ঞা:
"রিবা" শব্দের উদাহরণ ও সাদৃশ্য:
"রিবা"
(ر-ب-ا)
শব্দের আদিমূল থেকে "শ্বাসরোধ/শ্বাসকষ্ট" এবং "অতিমূল্যায়ন" অর্থ
কীভাবে উৎসারিত হয়েছে এবং কীভাবে এটি "আর-রাবু" (Bronchial Asthma) শব্দের
সাথে সম্পর্কিত, সেই উদাহরণটি বিশ্লেষণকে শক্তিশালী করে। এটি দেখায় যে কীভাবে একটি
মূল অর্থ থেকে নতুন শব্দ গঠিত হয়, যা সেই মূল অর্থের সাথে সম্পর্কিত থাকে।
কুরআনের আয়াত অনুযায়ী, রিবা হলো কোনো ঋণের বিপরীতে মূলধনের উপর শর্তযুক্ত ও পূর্বনির্ধারিত যেকোনো অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করা।
১. মূলধন বনাম অতিরিক্ত:
...কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও জুলুম করা হবে না। সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৯:
(فَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ)
২. ব্যবসা থেকে পার্থক্য:
...এটা এজন্য যে, তারা বলে, ‘ব্যবসা তো সুদের মতোই।’ অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৫
(ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا)
৩. রিবার একটি রূপ:
হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না...
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً)
এই আয়াতে রিবার একটি ভয়াবহ রূপের কথা বলা হয়েছে—
সারসংক্ষেপ: কুরআনের আয়াত থেকে রিবার সংজ্ঞা:
প্রথম প্রশ্ন: আমানতের উপর ব্যাংক লাভ দিলে তা কি রিবা?
দ্বিতীয় প্রশ্ন: রিবা-মুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থা হলে অর্থনীতি ভেঙে পড়বে না?
"আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন।" — সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৬
রিবা: এটি সমাজে অর্থপ্রবাহকে সংকুচিত করে এবং সম্পদ ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত করে। ঋণের ভারে ব্যবসা ও সাধারণ মানুষ জর্জরিত হয়, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সংকট তৈরি করে।সদকা ও যাকাত (দান): এটি সমাজে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং একটি গতিশীল অর্থনীতি তৈরি করে। এটি নিচ থেকে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
রিবা-ভিত্তিক সিস্টেমে টাকা নিজেই পণ্যে পরিণত হয়। রিবা-মুক্ত সিস্টেমে টাকা হয় বিনিয়োগের মাধ্যম। এর ফলে নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটে।
"...তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও জুলুম করা হবে না।" -সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৯
📖 রিবা সংক্্রান্ত আয়াতসমূহ:
📌যারা রিবাখোর [অবৈধভাবে/ (যার বৈধতা আয়াত মতে নাই) মাল-দৌলত খাওয়া] তারা শয়তান যাকে স্পর্শ দিয়ে পাগল করেছে তার দাঁড়ানোর মতো ছাড়া দাঁড়ায় না। সেটা এ কারণে যে তারা বলে, মূলত ক্রয়-বিক্রয় রিবার মতোই। আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং রিবাকে করেছেন হারাম। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে, এরপর সে বিরত থেকেছে, তাহলে যা হয়ে গেছে সেটা তার। আর তার বিষয় আল্লাহর কাছে। আর যারা পুনরাবৃত্তি করে তাহলে ওরাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরস্থায়ী-২:২৭৫, (২:১৮৮)।
📌আল্লাহ রিবাকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সাদাকাকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো পাপী কাফিরকে পছন্দ করেন না। (২:২৭৬)
📌নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও আমলে সলেহ করে আর সলাত প্রতিষ্ঠা করে এবং পরিশুদ্ধ (যাকাত) করে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার। আর তাদের ওপর কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। (২:২৭৭)
📌ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিবার মধ্য থেকে যা বাকি রয়েছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও! (২:২৭৮) তবে যদি তোমরা না করো তাহলে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও। আর যদি তোমরা তওবা করো তাহলে তোমাদের সম্পদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা জুলুম করবে না আর তোমরা জুলুমের শিকার হবে না। (২:২৭৯)
📌আর যদি সে অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে সুযোগ সচ্ছলতা পর্যন্ত। আর সাদাকা করা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে! (২:২৮০)
📌আর তোমরা সেদিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর প্রত্যেক প্রাণকে তা প্রদান করা হবে, যা সে অর্জন করেছে। আর তারা জুলুমের শিকার হবে না। (২:২৮১)
📌আর মানুষের সম্পদের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সৃষ্টির উদ্দেশে তোমরা রিবা থেকে যা প্রদান করো, অনন্তর সেটা আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় তোমরা যাকাত থেকে যা আদায় করো, সুতরাং ওরাই বহুগুণ সমৃদ্ধিশালী-৩০:৩৯
📌ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ক্রমবর্ধমান হারে রিবা খেও না। আর তোমরা ভয় করো আল্লাহকে, যেন তোমরা সফল হও-৩:১৩০
সুতরাং যারা ইহুদি হয়েেছ তাদরে মধ্যকার জুলুমরে কারণে আমরা তাদরে ওপর এমন উপযোগী বস্তুসমূহ হারাম করছেলিাম, যা তাদরে জন্য হালাল করা হয়ছেলি এবং আল্লাহর পথরে ক্ষত্েের অনকেকে তাদরে বাধা দযে়ার কারণ;ে আর তাদের রিবা গ্রহণ করার কারণে, অথচ সেটা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার কারণে। আর আমরা তাদের মধ্যকার কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি-৪:১৬০-১৬১ (২:১৮৮)
তবে, রিবার ধারণা কেবলমাত্র সুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন সব লেনদেনকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে যেখানে এক পক্ষ অন্য পক্ষের উপর শোষণ করে বা অন্যায্য সুবিধা গ্রহণ করে।
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
📍ওয়াল্লাহু ইয়া'লামু ওয়া আন্তুম লা তা'লামুন
"...আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।" (আয়াত ২:২১৬, ২:২৩১, ৩:৬৬)
📍সদাকাল্লাহু ওয়া রাসূলুহ !
(আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই বলেছেন’)
-সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২২
🕊 আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন! (10:10)
