➤ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত?
➤ সংখ্যালঘু কে বা কারা?
➤ আমি কেন সংখ্যালঘুদের একজন হতে চাই?
আল-কোরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা স্পষ্টভাবে বোঝায় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত সবসময় সব বিষয়ে সঠিক নয়। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ:
■ সূরা আন'আম (৬:১১৬): আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরণ করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। তারা তো শুধু ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা শুধু অনুমান করে।
■ সূরা ইউনুস (১০:৩৬): আর তাদের অধিকাংশই শুধু অনুমান / ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয়ই ধারণা সত্যের মোকাবেলায় কোনো কাজে আসে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোভাবে জানেন যা তারা করে।(১০:৩৫-৩৬, ১০:৬৬,১৭:৮১)
■ সূরা মায়িদা (৫:১০০): বলো! 'পবিত্র/ভাল/খাঁটি/ভেজালহীন (ত্বায়্যিব) ও অপবিত্র (খাবিস) সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে মুগ্ধ করে।' সুতরাং হে বুদ্ধিমানগণ! আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
এই আয়াতগুলো জোরালোভাবে ইঙ্গিত করে যে, সত্যের মানদণ্ড সংখ্যাধিক্য নয়, বরং মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথই (কেবলমাত্র আল-কোরআনে উল্লেখিত পথ) প্রকৃত সত্যের মানদণ্ড।
১. ❌
➥ অধিকাংশই ঈমানদার অথচ মুশরিক: (১২:১০৬)➥ অধিকাংশ মানুষ মুমিন নয়: (১২:১০৩, ২৬:১২১, ২৬:১৩৯, ২৬:১৫৮, ২৬:১৭৪, ২৬:১৯০)
➥ অধিকাংশই কুফর করে:
২. 📖
➥ অধিকাংশ মানুষ কোরআন বিশ্বাস করে না: (11:17)
➥ অধিকাংশ মানুষ কেবল অস্বীকারহেতু কোরআন ও এর দৃষ্টান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে: (17:89)
➥ অধিকাংশ লোক কোরআন নিয়ে বিতর্ক/ঝগড়া করে: (18:54)
➥ অধিকাংশ মানুষ সত্যের প্রতি বিমুখ: (76:27)
৩. 📉
➥ অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট ও পশুর মতো: (7:179)
➥ অধিকাংশ জাহান্নামী কারণ তারা উপলব্ধি করে না: (7:179)
৪. 😴
➥ অধিকাংশ মানুষ দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন: (30:7, 21:24)
➥ অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না (ungrateful): (40:61, 7:17, 10:60, 27:73)
৫. 🚫
➥ অধিকাংশই সীমালঙ্ঘনকারী: (5:32)
➥ অধিকাংশ নিকৃষ্ট আমল করে/কর্ম করে: (5:66)
➥ অধিকাংশ মানুষ মন্দ কাজে, সীমা লঙ্ঘন ও অবৈধ উপার্জনে দ্রুত ধাবিত হয়: (5:62)
➥ অধিকাংশ মানুষ মন্দ কাজ করে/নিকৃষ্ট কাজ করে: (3:110, 5:59, 5:62, 5:81, 9:8, 33:72, 5:66)
৬.
🔖 অধিকাংশ মানুষ: সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য জানে না/ জ্ঞানহীন /অধিকাংশই আসলে জানে না/ অনুধাবনহীন ও অনুমাননির্ভর/ বোঝে না/আকল খাটায় না/ কমনসেন্স ব্যবহার করে না/ যারা জ্ঞান ব্যবহার করে না বা অনুধাবন করে না/ উপলব্ধি করে না, কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না:
দ্র: আয়াত: ২৯:৬৩, ৫:১০৩, ১২:৬৮, ১৬:৩৮, ২৮:১৩, ২৮:৫৭, ৩০:৩০, ৩০:৬, ৬:৩৭, ৬:১১১, ৩৪:২৬, ৩১:২৫, ৩৩:৭২, ৩৯:৪৯, ৪০:৫৭, ৪৪:৩৯, ৪৫:২৬, ৫২:৪৭, ২১:৪৭, ৭:১৩১, ৭:১৮৭, ৮:৩৪, ১০:৫৫, ১২:২১, ১২:৪০, ১২:৬৭, ১৬:৩৮, ১৬:৭৫, ১৬:১০১, ২৮:১৩, ২৮:৫৭, ৩৪:২৮, ১৬:১১, ৪৭:২৪, ২৯:৬৩
🔖 অধিকাংশ মানুষ জাহেল/মূর্খ থেকে যায়: (6:111)
🔖 অধিকাংশ মানুষ বধির ও অন্ধ: (5:71, 7:179)
৭. ⚠️
➥ অধিকাংশ মানুষ জিনদের সেবা করে: (34:41)
অল্পসংখ্যক/ সংখ্যালঘু (Minority)
আল-কোরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, সত্যের অনুসারী, বিশ্বাসী এবং কৃতজ্ঞ মানুষের সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রে কম হয়। এই "অল্পসংখ্যক" বা সংখ্যালঘু মানুষেরাই আল্লাহ তায়ালার কাছে বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে।
১. অল্পকিছু : ঈমান ও বিশ্বাস:
➥ সুতরাং অল্পকিছু লোক ছাড়া তারা ঈমান আনে না: (4:155)➥ আর আমরা তো সেখানে মুসলিমদের একটি পরিবার ছাড়া কাউকে পাইনি: (51:36)
➥ খুব অল্পই তোমরা ঈমান আনো: (69:41, 2:88)
➥ আর তাদের মধ্যে খুব কম লোকই ঈমান এনেছিল: (10:83)
➥ যদি না তাদের মধ্য থেকে অল্প কিছু লোক যারা ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল: (34:41)
➥ তবে মূসার প্রতি তার কওমের মধ্য থেকে কতক সন্তান—সন্ততি ছাড়া ঈমান আনল না: (10:83)
তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে এবং আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করার কারণে এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির কারণে যে, আমাদের অন্তরগুলো আবৃত। বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোকে সীল করে দিয়েছেন। সুতরাং অল্পকিছু লোক ছাড়া তারা ঈমান আনে না: (4:155)
আর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, তারা অল্পই: (4:46) কিন্তু তারা অল্পই বিশ্বাস করে: (2:88)
২. বিপদ ও পরীক্ষা- অল্পসংখ্যক:
অল্পসংখ্যকই টিকে থাকে: (2:249)আর তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই ধৈর্যধারণকারী: (2:249)
৩. অল্পসংখ্যক: আল্লাহর সাহায্য:
আর আল্লাহর সাহায্য অল্পসংখ্যক মানুষের সাথেই থাকে: (2:249)৪. জ্ঞান ও প্রজ্ঞা:
৫. আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃতজ্ঞতা:
অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো/ আর তাদের মধ্যে অল্প কিছু লোকই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে: (67:23, 23:18, 23:78, 7:10)
৬. আল্লাহর নিদর্শনাবলী:
সূরা আল-ওয়াকি'আহ (৫৬:১০-১৪): "আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামীই! তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা থাকবে জান্নাতুল নাঈমে। (তাদের) একদল হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, আর অল্প কয়েকজন হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।"
আয়াতগুলোর মূল বার্তা হলো:
সংখ্যাগত বিভাজন: এই অগ্রগামীদের মধ্যে "একদল" (ثُلَّةٌ) হবেন পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে, আর "অল্প কয়েকজন" (قَلِيلٌ) হবেন পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এখানে "অল্প কয়েকজন" শব্দটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, পরবর্তীদের মধ্যে যারা অগ্রগামী হয়ে জান্নাতুল নাঈমের মতো উচ্চ মর্যাদা লাভ করবেন, তাদের সংখ্যা কম হবে। এর থেকে বোঝা যায় যে, জান্নাতের উচ্চ স্তরগুলো অর্জন করা এবং সামগ্রিকভাবে জান্নাতের অধিকারী হওয়া সহজলভ্য নয়, বরং এটি একটি সীমিত সংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষের জন্য নির্ধারিত।
